Friday, September 25, 2026

যাত্রাবাড়ীতে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

যাত্রাবাড়ীতে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি:

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ০৪

ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাকায় প্রায় হাজার কোটি টাকার চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অস্ত্রের মহড়া, সহিংসতা ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতি হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী-ডেমরা ও কদমতলীর একাংশে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই গোলাগুলি, হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির ভাগ না পেয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়েছেন স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা। এ ধরনের নানা অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় দুই লাখ টাকা চাঁদাবাজির বিরোধকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক সাগর খান ওরফে ইমরানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের স্ত্রী যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা করেন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ২৩ জুলাই ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন বানচাল করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে তিনটি ফাঁকা গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় পাল্টাপাল্টি মিছিল ও বিক্ষোভ করে জামায়াত-বিএনপি।

এরপর ২৮ আগস্ট ভোরে সারুলিয়ায় ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৮-৯ জন হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রেজা চৌধুরীর। এ ঘটনায় তিনি ডেমরা থানায় মামলা করেন।

রেজা চৌধুরী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আমার বাসায় গুলি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে যারা মাদক সিন্ডিকেট চালাতেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন ছাত্রদল নেতা মাসুদ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে এ বিষয়ে কথা বলতে আমাকে নিষেধ করে।

স্থানীয়দের মতে, অপরাধী গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় এবং পরবর্তীতে বিএনপি ও অন্যান্য দলের তৃণমূল কর্মীদের কোন্দলে এই এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে (যাত্রাবাড়ী) একাধিক অপরাধী চক্র সক্রিয়। তারা স্থানীয় রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় নানা অপরাধ করছে। অপরাধী গ্রুপগুলো চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিনিয়ত অস্ত্রের ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহন থেকে মাসোহারা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে। এতে পরিবহন শ্রমিক, চালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চাপ ও আতঙ্ক।

যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রাবাড়ীতে ব্যাপক চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন পরিবহন থেকে এককালীন এবং প্রতিদিন চাঁদা আদায় করা হয়। ‘শরীয়তপুর সুপার’ বাস থেকে এককালীন ছয় লাখ ও প্রতিদিন এক হাজার টাকা, ‘পদ্মা সুপার’ থেকে এককালীন তিন লাখ এবং দৈনিক তিন হাজার টাকা, ‘ফেম পরিবহন’ থেকে এককালীন আড়াই লাখ এবং প্রতিদিন দুই হাজার টাকা এবং ‘ডিএম পরিবহন’ থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা নেন তারেক।

এছাড়া ‘নড়িয়া সুপার’ থেকে এককালীন আড়াই লাখ এবং প্রতিদিন ২০০০ টাকা চাঁদা নেন কাব্য খন্দকার। ‘পদ্মা এসি পরিবহন’ থেকে এককালীন দুই লাখ এবং দৈনিক ২০০০ টাকা নেন শাকিল মোল্লা। সোনালী, সার্বিক ও গোল্ডেন লাইন পরিবহন থেকে এককালীন চার লাখ এবং দৈনিক ৬০০০ টাকা চাঁদাবাজি করেন দ্বীন ইসলাম দিনা। রাজিব ও সাধ পরিবহন থেকে দৈনিক গাড়িপ্রতি ১০০০ টাকা নেন জাহিদুল ইসলাম অপু ও তারেক। হটলাইন কাউন্টার থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করেন চান্দি রতন ও অপু । গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রত্যেকে গাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন শ্রমিকদলের খন্দকার রানা ও শাকিল।

ডেমরা-যাত্রাবাড়ী লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা তোলা হয়, এর দায়িত্বে জামাই রনি। সিটি করপোরেশন মার্কেট শাকপট্টি থেকে দৈনিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেন বিএনপি নেতা নবী উল্লাহর ভাগ্নে আওলাদ। সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে দৈনিক দুই লাখ টাকা তোলেন নবীউল্লাহর ছোট মেয়ের জামাই রনি। যাত্রাবাড়ী-জুরাইন লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে দৈনিক ১০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি, ৫০নং ওয়ার্ডে মাদক কারবার থেকে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা এবং যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা নেন ভাগিনা দীপু। অভিযোগ রয়েছে, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরাসহ ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ডেমরা-স্টাফ কোয়ার্টার লেগুনা স্ট্যান্ড থেকে শিপন ও ফেরদৌস হোসেনের মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বাহাদুর শাহ পরিবহন থেকে শিপন, আসমানী ও আলিফ পরিবহন থেকে রফিক, রাজধানী পরিবহন থেকে মাসুদ রানা, অছিম পরিবহন থেকে প্রকাশ ও ফেরদৌস হোসেন রনির মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে স্টাফ কোয়ার্টার ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে রফিক এবং সাইনবোর্ড ফুটপাত থেকে আজিজ, ফারুক আহমেদ সাদু ও রনির মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়।

মাটি ভরাট ও জমি দখল

শীতলক্ষ্যা নদীতে হজরত আলী ও রনির মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ৬৭নং ওয়ার্ডে মাসুদ রানা ও রনির মাধ্যমে জায়গা-জমি দখল ও চাঁদাবাজি করা হয়। ৬৯নং ওয়ার্ডে প্রকাশ ও রনির মাধ্যমে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ভরাট এবং অবৈধ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর ৭০নং ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা সম্রাটের সহযোগী মোফাজ্জল হোসেন ভুঁইয়ার মাধ্যমে জমিতে মাটি ভরাট ও দখল করা হয়। পরবর্তীতে আজিজ ও রনির মাধ্যমে চাঁদা আদায় করা হয়।

মাদক কারবার থেকে চাঁদা

বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬৬নং ওয়ার্ডে হেলাল, ৬৭নং ওয়ার্ডে মাসুদ রানা ও রনি এবং ৬৯নং ওয়ার্ডে প্রকাশ, আল-আমিন ও তোফাজ্জলের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরো কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাস্তুহারা লীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি শাহীনের ভাই সাবেক যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিম যাত্রাবাড়ীতে কয়েকটি কাউন্টারে চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তার টর্চার সেলে যুবককে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সম্প্রতি সে আবার জেল থেকে বের হয়ে নতুন করে প্রবাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে ফের চাঁদাবাজি শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে নবী উল্লাহ নবী আমার দেশকে বলেন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি সংসদে যে চাঁদাবাজির কথা বলেছেন, সেটা স্পেসিফিক আমার কথা বলেননি। তিনি চাঁদাবাজির কথা বলেছেন, সেটা বহিরাগতরা হতে পারে, আওয়ামী লীগের গুপ্তবাহিনী বা যে কেউ হতে পারে। যাত্রাবাড়ীতে রাজনৈতিক কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তার বলতে কিছু নেই। স্থানীয় জনগণ বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন বলে হাইকমান্ড কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। এজন্য ওই গ্রুপ রাগ করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। কোন্দল বলে কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলাম, এখনো সোচ্চার রয়েছি। চাঁদাবাজির ভাগ পাচ্ছি না— সংবাদ সম্মেলনে এমন বক্তব্যের ব্যাপারে নবী উল্লাহ নবী বলেন, ওরা ফেক আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এগুলো সত্য নয়।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু আমার দেশকে বলেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে কেউ মাসোহারা নিচ্ছে— এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। গাড়িপার্কিং নিয়ে চাঁদাবাজির ব্যাপারে তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগ বিষয়টা দেখছে। তবুও আমি কাজ করছি, যাতে যাত্রাবাড়ীতে কোনো যানজট না থাকে।

ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, নবী উল্লাহ নবী কিছুদিন আগে নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে, কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে, তাকে ভাগ দেওয়া হচ্ছে না। সব জায়গায় থেকে অভিযোগ আসছে চাঁদাবাজির।

সূত্র: আমার দেশ

Thursday, September 24, 2026

আর্থিক দুর্দশায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

আর্থিক দুর্দশায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩৩

সরকারের সব দপ্তরে চিঠি চালাচালি হয়েছে। হয়েছে একাধিক বৈঠক। অর্থসংকটের বিষয়টি উঠেছে জাতীয় সংসদেও। তবুও অর্থের দেখা মিলছে না জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের। ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মেলেনি ঈদ বোনাসও। নিম্নস্তরের কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজের ওভারটাইম বিলও বকেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২ লাখ টাকা।

অফিস ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে বকেয়া রয়েছে আরো ৪১ লাখ টাকা। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে ৭০ লাখ টাকা ঋণ। এর বাইরে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া প্রতিশ্রুত সহায়তা দিতে প্রয়োজন আরো ২৬৩ কোটি টাকা।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আর্থিক সহায়তার আশায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় সাক্ষাৎ ও একাধিক বৈঠকও করেছেন। এর বাইরে সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চেয়েও তিনবার আবেদন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের থেকে অনুদান পেতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দ্বারস্থ হলে তার পরামর্শে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনও করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের দাবি, এসব উদ্যোগের পরও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি।

ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর আমার দেশকে বলেন, জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করতে পারছেন না তারা। তার আশঙ্কা, সরকার হয়তো ফাউন্ডেশনটিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘনিষ্ঠ মনে করছে। সেজন্যই দূরে ঠেলছে ফাউন্ডেশনকে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের তরফ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ ফাউন্ডেশনকে ‘এনজিও’ বলে আখ্যায়িত করেছে। বেতন বকেয়া ৯২ লাখ চলতি বছরের মার্চ থেকে বেতন পাচ্ছেন না জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ওভারটাইমের টাকা ও ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়নি। ছয় মাসে তাদের মোট বকেয়া প্রায় ৯২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন ৭৮ লাখ টাকা, ঈদ বোনাস সাড়ে ছয় লাখ এবং বোনাস সাত লাখ ৮০ হাজার টাকা। বোনাসের পরিমাণ বেতনের অন্তত ১০ শতাংশ।

অফিস ভাড়া-রক্ষণাবেক্ষণ বকেয়া ৪১ লাখ

অফিস ভাড়া, মেইনটেন্যান্স ফি, ইউটিলিটি বিল ও বিভিন্ন পণ্য-সেবা সরবরাহকারীর পাওনা মিলিয়ে ফাউন্ডেশনের বকেয়া হয়েছে প্রায় ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অফিস ভাড়া ৩৩ লাখ, ইউটিলিটি বিল চার লাখ এবং ভেন্ডর পেমেন্ট দেড় লাখ টাকা।

এছাড়া আড়াই লাখ টাকা বকেয়া থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারটির নবায়ন করাও সম্ভব হয়নি। ফলে এখন বিভিন্ন বিনামূল্যের সফটওয়্যার ব্যবহার করে কাজ চালানো হচ্ছে।

দৈনন্দিন ন্যূনতম খরচ মেটাতেও প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ করতে হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফাউন্ডেশনের মূল তহবিল থেকে গভর্নিং বডির অনুমোদন নিয়ে ৬০ লাখ টাকা এবং সিইও কামাল আকবর ব্যক্তিগতভাবে ১০ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছেন। দিনদিন প্রতিটি খাতের বকেয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।

ওয়াদা রক্ষায় প্রয়োজন আরো ২৬৩ কোটি

জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। এ জন্য মোট প্রয়োজন ছিল ৩৬৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অন্তর্বর্তী সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন উৎসের অনুদান মিলিয়ে ফাউন্ডেশন পেয়েছে মোট ১২৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ৮৩১ শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ৪২ কোটি টাকা এবং ৬,১২৭ আহত জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মোট ৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে আর্থিক সংকটে থাকা ফাউন্ডেশনের জরুরি ব্যয় মেটাতে গভর্নিং বডির অনুমোদনে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট শহীদ পরিবার এবং ৯,৭৭৬ আহত জুলাই যোদ্ধাকে সহায়তা দিতে আরো ২৬৩ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানান সিইও কামাল আকবর।

অন্তত তিনবার নির্ধারিত ব্রিফিং বাতিল

ফাউন্ডেশনের বর্তমান অবস্থা ও কার্যক্রম তুলে ধরে অর্থসহায়তা চাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্রিফিংয়ের সময় চাওয়া হয়। অন্তত তিনবার সময় নির্ধারণ হলেও সবারই ব্রিফিং বাতিল হয় বলে দাবি ফাউন্ডেশনের।

কামাল আকবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ১৫টির বেশি চিঠি চালাচালি এবং প্রায় সাত-আটবার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। গত ছয় মাসে অন্তত পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি মন্ত্রীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঁচ চিঠি

ফাউন্ডেশনের দাবি, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ছয় মাসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অন্তত চারটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়েও সহায়তা চেয়ে গত ২০ জুলাই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠির অগ্রগতি জানতে নিয়মিত যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে জানান কামাল আকবর।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক একাধিক বৈঠক ও যোগাযোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবারই বকেয়া ও অন্যান্য সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি বৈঠকেই তিনি বলছিলেন, দেখছি, আচ্ছা। ফাউন্ডেশনের রিইমবার্সমেন্টের বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী অবগত ছিলেন। বিষয়টি তিনি তার কাছে দিতে বলেছিলেন। এই সংক্রান্ত চিঠিটি আমি নিজে তার হাতে দিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরে তার কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি সাড়া

ফাউন্ডেশনের বর্তমান অবস্থা ও অর্থসহায়তার প্রয়োজন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২৯ জুলাই, ৩ আগস্ট ও ১০ আগস্ট- তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি বলে জানান কামাল আকবর।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয় ও সচিবালয়ে গিয়েছি। কিন্তু সেখানে আমলাতান্ত্রিক বলয়ের কারণে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। নানা মাধ্যমে নানাভাবে আমাদের কথা জানানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সাক্ষাৎ বা সহায়তা কোনোটিই পাইনি। এমনকি আমাদের প্রোগ্রামে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীকে অতিথি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্পর্কে জানবেন, আমাদের প্রয়োজনটুকু বুঝবেন।

সংসদে উত্থাপন করেও মেলেনি সহায়তা

অর্থসংকটের বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করিয়েও কোনো সুফল পায়নি ফাউন্ডেশন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে চিঠি দেওয়ার পর তিনি সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপনের পরামর্শ দেন। পরে জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে তা আলোচনায় আসে। এ সময় তিনি ফাউন্ডেশনটিকে সমাজকল্যাণ অথবা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তার বক্তব্যকে সমর্থন করে উত্থাপিত প্রত্যেকটি দাবিকে নিজেদের দাবি বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সিইও কামাল আকবর বলেন, এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বিষয়টি সমর্থন করেন এবং সরকারদলীয় পর্যায় থেকেও প্রয়োজন মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে সিইওর আশঙ্কা

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল আকবর আক্ষেপ করে বলেন, সংসদে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়—সব পর্যায় থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার পরও অর্থ সহায়তা না পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ থাকতে পারে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে যাচ্ছে। এখানে তো মাত্র সামান্য কিছুর বিষয়।

তার ভাষায়, ফাউন্ডেশনটি এনসিপি-ঘেঁষা—এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন ছাত্রনেতা পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ায় এ ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তবে তার দাবি, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত গঠনতন্ত্রের প্রথমেই ফাউন্ডেশনকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিতে যোগ দিলে তিনি ফাউন্ডেশন থেকে অব্যাহতি নেবেন। রাজনীতিতে যাওয়া ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে অব্যাহতি নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সুতরাং কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই জুলাই-আগস্টের সব শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য এটি একটি অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম। সবার উচিৎ এটির কল্যাণে এগিয়ে আসা।

কামাল আকবর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। অর্থসংকটের মধ্যেও সেই দায়িত্ব পালন করে যেতে চান তারা।

মন্তব্য করতে চায় না সরকার

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করছে। এ কারণে সহায়তার আশায় বারবার এ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

তবে বারবার যোগাযোগের পরও কেন ফাউন্ডেশনকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং নির্ধারিত ব্রিফিং বাতিল হয়েছে এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামানের মাধ্যমে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি অফিসে আছেন। বিষয়টি তার একান্ত সচিব শেখ আরিফুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি প্রশ্ন পাঠাতে বলেন। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। এ সময় শেখ আরিফুল ইসলাম বলেন, আগের সরকার কাকে কী দিয়েছে, না দিয়েছে— সেটা তো আর এই সরকারের বিষয় না। এটা (ফাউন্ডেশন) একটা এনজিও। এটা নিয়ে তিনি কোনো কমেন্ট করবেন না।

সূত্র: আমার দেশ

Monday, September 21, 2026

২৩ হাজার কারবারির কাছে জিম্মি দেশ। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

২৩ হাজার কারবারির কাছে জিম্মি দেশ:

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ৩১

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মাদক কারবারির কাছে একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছে জনগণ। এই অবৈধ কারবারের বিস্তার ঠেকাতে সম্প্রতি ২৩ হাজার ৩৬ মাদক কারবারির তালিকা তৈরি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তালিকাটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ, হেরোইন, কোকেন, এলএসডি, ক্যানাবিস ব্রাউনি, খাত, ফেনইথাইল্যামিন, সিসা, গাঁজা ও ম্যাজিক মাশরুমসহ বিভিন্ন মাদকের চোরাচালান আর কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে ইয়াবার বিস্তার।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা তালিকায় সবচেয়ে বেশি মাদক কারবারি রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৪,৮৩৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ৪,৭৬৬, রাজশাহী বিভাগে ৪,২৩৫, খুলনায় ৩,১৮৪, রংপুরে ১,৯৬৯, ময়মনসিংহে ১,৬০৯, বরিশালে ১,২৩৭ এবং সিলেটে ১,১৯৭ জন। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখের মধ্যে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। শতকরা হিসাবে এটা মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ। দেশে একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি মাদক কারবারির বসবাস কক্সবাজারে। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

ইয়াবা আসছে সীমান্তপথে

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ইয়াবা আসক্তির হার বেশি। ইয়াবার বড় অংশ মিয়ানমার থেকে এলেও ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ইয়াবা উৎপাদনের কয়েকটি কারখানার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এসব কারখানা থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফেনসিডিল ও গাঁজার প্রায় পুরোটাই চোরাচালান হয় ভারত থেকে।

কোটি কোটি পিস ইয়াবা জব্দ

পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে ইয়াবাই সবচেয়ে বেশি জব্দ করা হচ্ছে। পুলিশ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এক কোটি ৩৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে।

বিজিবি ২০২৫ সালে এক কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার পিস ইয়াবা, সাড়ে ১০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, এক লাখ ৩৫ হাজার বোতল ফেনসিডিল, ২৩ হাজার কেজি গাঁজা, ৫৬ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন এবং প্রায় ১৪ কেজি কোকেন জব্দ করেছে।

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম আমার দেশকে বলেন, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু ইয়াবা ও ফেনসিডিল কারখানা স্থাপনের তথ্য পাওয়ার বিষয়টি সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকারের আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করে বা প্রতিফলন ঘটায় সেটা আমরা জানতে পারি না।

বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহকারী ও চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধেও বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

কারবারিদের সম্পদের হিসাব নিচ্ছে সিআইডি

মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকায় মাদক কারবারে জড়িত ৪০৬ কারবারি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকের অবৈধ সম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে সিআইডির মানিলন্ডারিং ইউনিট।

তদন্তের অংশ হিসেবে মাদক কারবারিদের নিজেদের ও স্বজনদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

তালিকাভুক্তদের মধ্যে রাজধানীর ভাটারা এলাকার রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ৪৭, ভাসানটেকের রূপচানের বিরুদ্ধে ৪৩ এবং শাহজাহানপুরের সোহেলের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা রয়েছে। খিলগাঁওয়ের খালেদ মিয়ার বিরুদ্ধে ২১ এবং মুগদার লালনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য মাদক কারবারির প্রত্যেকে এক ডজন বা তারও বেশি মামলার আসামি।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন বলেন, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অনেকে দ্রুত বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হচ্ছে। মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের উৎস শনাক্ত করা এবং অর্থ পাচারের বিষয়টি তদন্ত করছে সিআইডি। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারির সম্পদের উৎস ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ খতিয়ে দেখা হবে।

‘বাকিতে’ জামিনের অভিযোগ

মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আবার একই কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘বাকিতে’ বা পরে টাকা পরিশোধের শর্তে মাদক মামলার আসামিদের জামিন করানোর তথ্যও তারা পেয়েছেন।

এর উদাহরণ হিসেবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের মাদক কারবারি সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমের কথা উল্লেখ করেছে র‌্যাব। গত ১১ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তারের সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১১০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান জানান, চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান সেলিম আশরাফকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ে সে। গত ১৯ আগস্ট তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

সে সময় জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম জানিয়েছে, আইনজীবীর টাকা বাকি রেখে সে জামিনে বের হয়েছিল। শর্ত ছিল, বের হওয়ার পর মাদক কারবার করে কদিনের মধ্যেই টাকা ফেরত দেবে। পরে ঠিকই জামিনে মুক্তির পর মাদক কারবার করে সে টাকা পরিশোধ করে চুয়া সেলিম। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এভাবে মাদক কারবারিরা জামিনে বেরিয়ে পুনরায় কারবারে জড়িয়ে পড়লে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মাদকের চতুর্মুখী জাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক আমার দেশকে বলেন, দেশে মাদককে কেন্দ্র করে একটি চতুর্মুখী জাল তৈরি হয়েছে। মাদক কারবার একটি ভয়ানক অপরাধমূলক বাণিজ্য। এর কারবারিদের কাছে দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। মাদক কারবারে অল্প বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়ায় নতুন নতুন মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছে। নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকাদের কেউ কেউ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মাদক কারবারিদের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

তিনি বলেন, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে সেবনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন।

তার মতে, মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে আবার একই কাজে জড়ালে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নির্মোহভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ওই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক পাচারের স্থল ও জলপথ চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন এবং নৌপথে টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক বহনের সঙ্গে যুক্তদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

সূত্র: আমার দেশ

সেই আগুন সন্ত্রাসেই ভরসা আ.লীগের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

সেই আগুন সন্ত্রাসেই ভরসা আ.লীগের:

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৫৪

আগুন সন্ত্রাস আর বোমাবাজিতেই ভর করে ফিরে আসার চেষ্টা করছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দলটির সভাপতি ও স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা আর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন পলাতক নেতাকর্মীদের কেউ কেউ। দিল্লির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা হাসিনার অডিও বার্তায় আগুন সন্ত্রাস ও বোমাবাজির পাশাপাশি সরাসরি হত্যাকাণ্ডের নির্দেশনা দিতেও শোনা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদদের মতে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও সন্ত্রাস করে; আবার ক্ষমতাচ্যুত হলেও সন্ত্রাস করে। তবে এসব সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য আছে বলেও জানান রাজনীতিকরা।

বর্তমান ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতারা জানান, ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং জনগণকে দমিয়ে রাখতে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলেও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা যানবাহন পুড়িয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ব্যাকরণে রিকনসিলিয়েশন বা আত্মসমালোচনা করে পরিশুদ্ধ হওয়ার অধ্যায় নেই। জবরদস্তিমূলক রাজনীতি দিয়েই সব সময় এ দলটি জনগণের ঘাড়ে সাওয়ার হওয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সিরাজ শিকদারকে হত্যার মাধ্যমে এই দলটি জিঘাংমূলক রাজনীতির জানান দেয়।

১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ১৭৩ দিন হরতালসহ অবরোধ, ভাঙচুর ও আগুন সন্ত্রাস করে। বিরোধী দলে থেকেও ২০০৪ সাল থেকে টানা ধ্বংসাত্মক রাজনীতি এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ গত কদিনে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্থানে চোরাগোপ্তা ককটেল নিক্ষেপ ও বাসে আগুন দিয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-১ এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরি ও ঝটিকা মিছিলের চেষ্টাকালে বাধা দিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ এবং অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।

১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় আবারও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মের নির্জন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। রাতে কাফরুল থানার সামনে মিরপুর সুপার লিংক পরিবহনের একটি ফাঁকা বাসে আগুন দেওয়া হয়।

গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর পল্লবীর ১২ নম্বর সিরামিক রোডে পরিস্থান পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়। একইদিন দুপুরে হাইকোর্টের সামনের সড়কে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে।

এছাড়াও প্রায় একই সময় শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে সেখানে কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং রাত ৯টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরো তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোচালক আহত হন।

এছাড়া রাত ১১টার দিকে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনে দুটি এবং ১২টার দিকে নিউ মার্কেট এলাকার ঢাকা কলেজের সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

গত মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওইদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর সদরের করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি পুলিশের হেফাজতে ছিল। আগুনে বাসটির অধিকাংশই পুড়ে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

২০ সেপ্টেম্বর ভোরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকারের বাড়ির সামনে, গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এবং বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের সড়কে বিস্ফোরণগুলো ঘটে।

স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা গেছে।

আ.লীগ নেতাদের নির্দেশেই আগুন

বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বংশাল এলাকার একটি ইউনিটের দপ্তর সম্পাদকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিন বংশাল এলাকার ৬ নম্বর ইউনিট আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল খান ও আব্দুল্লাহ।

ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন বলেন, গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে রায়হান উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার রাতে লালবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের তাগিদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মূলোৎপাটনে জুলাইয়ের মতো দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। তার দলের অধিকাংশ নেতাও সম্প্রসারণবাদি ওই দেশটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, কখনোই আওয়ামী লীগের নিজস্ব কোনো রাজনীতি ছিলো না, এখনো নেই। ভারতের রাজনীতিটাই তারা সবসময় করে আসছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসিনার অবৈধ সরকার ভারতের প্রতি আশীর্বাদপুষ্ট থেকে তাদের সব হুকুম মেনে কাজ করেছে।

ড. মাহবুব উল্লাহ আরো বলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ থাকুক, এটা ভারত কখনোই চায়নি। আর এ কাজগুলো তারা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই করে চলেছে। জুলাই বিপ্লবে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে হাসিনার পতন ও পলায়ন নিশ্চিত করেছে, ঠিক সেভাবেই আবার নতুন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব বেশি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দলটিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাকে আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করে রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া শক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের অন্ধকারে দুয়েকটি জায়গায় ককটেলবাজি করেছে। এছাড়া চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় কযেকটি জায়গায় পার্ক করে রাখা পরিত্যক্ত কিছু বাসে আগুন দিয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিছু সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আমার দেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ তাদের পুরোনো চরিত্রে ফিরে আসছে। তারা যেভাবে ১৭ বছর গুম-খুনের রাজনীতি করেছে, এখন আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে আবার মানুষকে জিম্মি করতে চায়।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে গতকাল রোববার উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এ লক্ষ্যে ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরীর নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে।

এতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে আলোচনায় তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টা রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির সব নেতাকর্মীকে শক্ত অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৬-১৭ বছরে পুরো দেশকে একটি কারাগার বানিয়েছিল। তারা সবসময় ফ্যাসিস্টের আচরণ প্রকাশ করেছে। একপর্যায়ে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেত্রীসহ তাদের নেতারা পাশের দেশসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য, জ্বালাও-পোড়াওসহ ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্র পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এখন আবার জনগণের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির জন্য যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছেন। কিন্তু জনগণ তাদের আগে যেভাবে প্রতিরোধ করেছে, এখনো করবে।

তিনি বলেন, এ দেশে ফ্যাসিস্টের কোনো ঠাঁই হবে না। তারা চব্বিশের আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর কারণে জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এখনো জনগণ সোচ্চার আছে, আমরা সবাইকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করব।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সবসময় জ্বালাও-পোড়াও, নৃসংশতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই রাজনীতি করে আসছে। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর উল্লাস থেকে শুরু করে এরকম অনেক উদাহরণ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফের দেশকে অস্থিতিশীল করতে জ্বালাও-পোড়াও করছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের এ ধরনের তৎপরতা যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে মোকাবিলা করে। রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে, এনসিপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।

এনসিপির পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য এবং মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের আর কোনো রাজনৈতিক চরিত্র অক্ষুণ্ণ নেই। এটি এখন আগাগোড়া একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা পাশের দেশের আশ্রয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। তবে জ্বালাও-পোড়াও, নাশকতা সৃষ্টি করে রাজনীতিতে ফেরার শেষ সম্ভাবনাও তারা শেষ করেছে। এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার সময় হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ

Friday, September 18, 2026

জিয়াউলের নেতৃত্বে ২২ হত্যা, জানতেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি: প্রকাশ। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

জিয়াউলের নেতৃত্বে ২২ হত্যা, জানতেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি:

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ১৭

র‍্যাবে থাকাকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি অভিযানে অংশ নিয়েছেন মেজর সাব্বির। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত কয়েকটি অভিযানে জিয়াউলের নেতৃত্বে ২২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ‘রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ জানতেন বলে জিয়াউল তখন উল্লেখ করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এসব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দেন প্রত্যক্ষদর্শী মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দেড় দশকের দুঃশাসনের সময় শতাধিক মানুষকে গুম, নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউলের বিরুদ্ধে ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মেজর (অব) সাব্বির বলেন, আমি ১৯৯৩ সালের ১৮ জুন ২৮তম বিএমএ লং কোর্সে সাঁজোয়া কোরে কমিশন লাভ করি। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে র‌্যাবে বদলি হই। তখন মেজর ছিলাম। প্রথমে র‍্যাব-২-এ ধানমন্ডি কোম্পানি কমান্ডার হিসাবে যোগ দেই। পরে অক্টোবরে র‍্যাব-৮-এর উপ-অধিনায়ক হিসাবে যোগ দেই। তখন র‍্যাবের ডাইরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) ছিলেন লে. কর্ণেল জিয়াউল আহসান । ২০১০ সালের জানুয়ারিতে একদিন রাতে জিয়া স্যার মাইক্রোবাস নিয়ে র‌্যাব-৮ ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। পরে তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে বের হন। তার গাড়ি চলতে শুরু করলে ঢাকা র‍্যাবের (ইন্ট উইং) থেকে আসা মাইক্রোবাসটিও ফলো করতে থাকে। একসময় আমরা পাথরঘাটার চরদুয়ানী ঘাটে গিয়ে পৌঁছাই। সেখানে আগে থেকেই র‍্যাবের ইন্ট উইংয়ের র‍্যাব-৮-এ সংযুক্ত সদস্যরা একটি ট্রলার প্রস্তুত করে রেখেছিল। প্রথমে মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে আসা ইন্ট উইংয়ের সদস্যরা নেমে ট্রলারে উঠতে থাকে। তখন হাত বাঁধা এবং মাথায় কালো টুপি পরা একব্যক্তিকেও ট্রলারে ওঠাতে দেখি। তাকে ট্রলারের মাছ সংরক্ষণের খোলের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়। আনুমানিক তিন ঘণ্টা ট্রলার চালানোর পর জিয়া স্যার লোকটিকে বের করে আনতে বলেন। তাকে বোটের বাইরে আনার পর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের চারজন সদস্য তাকে ঘিরে ফেলে। প্রথম সদস্য হাত বাঁধা ব্যক্তির গলা এবং পায়ে দুটি সিমেন্টের বস্তা বেঁধে ফেলে। দ্বিতীয় র‍্যাব সদস্য মাথা ও কানে ছোট বালিশ ঠেকিয়ে পিস্তল দিয়ে ফায়ার করে। তৃতীয় র‍্যাব সদস্য ওই ব্যক্তির পেট কেটে ফেলে। চতুর্থ র‍্যাব সদস্য গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির কাটা পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে পেট কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর জিয়া স্যারের নির্দেশে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে জিয়া স্যার আমাকে বলেন, দুশ্চিন্তা করার কিছু নাই, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় এই বিষয়ে জানেন।

বিডিআর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীসহ চারজনকে হত্যা

জবানবন্দিতে মেজর (অব) সাব্বির বলেন, ২০১০ সালের মে মাসের একদিন সন্ধ্যায় আমাকে জানানো হয়, জিয়া স্যার ঢাকা থেকে বরিশালে আসছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়া স্যার তার সরকারি গাড়ি ও দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। আনুমানিক ৩০ মিনিট পর আমি এবং আমার অধিনায়ক জিয়া স্যারের সঙ্গে অভিযানে বের হই। ঢাকা থেকে আসা ইন্ট উইংয়ের মাইক্রোবাস দুটিও ছিল। আনুমানিক দুই ঘণ্টা চলার পর চরদুয়ানী ঘাটে পৌঁছাই। এখানেও আগের মতো মাইক্রোবাস থেকে চারজন ব্যক্তিকে মাথায় কালো টুপি পরা এবং হাত পিছনে বাঁধা অবস্থায় ট্রলারে ওঠাতে দেখি। দেড় ঘণ্টা চলার পর এক ব্যক্তিকে মাথায় বালিশ ঠেকিয়ে পিস্তল দিয়ে গুলি করে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে ফেলে দেয়। এভাবে একে একে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলা হয়। ঘটনার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে হঠাৎ গোয়েন্দাসূত্রে জানতে পারি, শরণখোলা রেঞ্জের বলেশ্বর নদীতে মুখ ঢাকা, পেট কাটা এবং শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা লাশ ভেসে উঠেছে। পরে বিডিআর গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে লাশটির ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যায়, লাশটি বিডিআরের প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলামের।

আলকাছ মাঝির খোঁজ মেলেনি

জবানবন্দিতে মেজর (অব) সাব্বির বলেন, ২০১১ সালের জুনে একদিন জিয়া স্যারের ফোন পাই। তিনি গলফ (হত্যা) কাজে নিয়োগপ্রাপ্ত মাঝিদের মধ্যে অন্যতম আলকাছ মাঝির ব্যপারে আমার কাছে জানতে চান। আমি তার ব্যাপারে কিছু জানি না বলে জানাই। এরপর জিয়া স্যার বলেন, আলকাছ মাঝি গলফ অপারেশনের বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছে, যা র‍্যাবের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তখন জিয়া স্যার আলকাছ মাঝিকে এলিমিনেট (হত্যার) করার নির্দেশ দেন আমাকে। বিষয়টি শোনার পর শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দায়িত্ব পালনে অব্যহতি চেয়ে কাকুতি-মিনতি করতে থাকি। তখন জিয়া স্যার বলেন, থাক লাগবে না। এর কয়েকদিন পর আলকাছ মাঝির পরিবারের পক্ষে থেকে বলা হয়, জিয়া স্যারের কথা বলে ফোনে আলকাছ মাঝিকে দেখা করার কথা বলা হয়। পরে দেখা করতে গেলে আর কখনো আলকাছ মাঝির খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবনের নিশানখালীতে ৬ হত্যা

জবানবন্দিতে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, জিয়া স্যারের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক তিনটি তথাকথিত এনকাউন্টার অভিযান করতে দেখেছি। আনুমানিক ২০১১ সালের নভেম্বরে নিশানখালী খাল সংলগ্ন বনে তৎকালীন সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় বনদস্যু বাহিনী রাজুর গোপন আস্তানায় তথাকথিত এনকাউন্টার অভিযান চালানো হয়েছিল। এই অভিযানের আগের দিন রাতে ইন্টলিজেন্সে উইংয়ের একদল সদস্য সেখানে চলে যায়। মূল অভিযান চালানোর দিন ভোরে আভিযানিক দল পৌঁছালে এলাকাটি ঘিরে ফেলার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ বনের ভিতর থেকে হুইসেলের শব্দ পাওয়া যায়। হুইসেলটি ছিল অগ্রগামী ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যদের সিগন্যাল। সিগন্যাল শোনামাত্রই জিয়া স্যার মূল আভিযানিক দলকে ঘিরে থাকা বন লক্ষ্য করে ফায়ার করার নির্দেশ দেন। বেশ কিছুটা সময় ধরে বন লক্ষ্য করে ফায়ার করার পর ফায়ার থামানো হয়। পরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং দুটি লাশ উদ্ধার দেখানো হয়। পরবর্তীতে মামলার প্রক্রিয়াকালে ব্যাটালিয়ন সদরকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলে ছয়টি লাশ পাওয়া গেছে।

সুন্দরবনের দ্বিতীয় অভিযানে ৫ হত্যা

জবানবন্দিতে মেজর (অব) সাব্বির বলেন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কটকা ফরেস্ট স্টেশন থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে জিয়া স্যারের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনায় র‍্যাব-৮ এবং র‍্যাব-৬ যৌথভাবে অভিযান চালায়। মূল অভিযান চালানোর আগের দিন রাতে জিয়া স্যার ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যদের নিয়ে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওনার আগে আমাকে তার সঙ্গে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এখানেও মাথায় টুপি পড়ানো ও হাত বাঁধা অবস্থায় পাঁচ ব্যক্তিকে ট্রলারের খোলের ভিতরে ঢুকানো হয়। যথারীতি সিমেন্টের বস্তা বেঁধে মাথায় গুলি করে, পেট কেটে সিমেন্টের বস্তাসহ চারজনকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরে আমরা ট্রলার ঘুরিয়ে মূল অভিযান এলাকার দিকে রওনা দেই। ভোরে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই র‍্যাব-৬ এবং র‍্যাব-৮ এর আভিযানিক দলটি পৌঁছে গিয়েছিলো। জিয়া স্যারের ট্রলারটি পৌঁছানো মাত্রই তার নির্দেশে ফায়ার শুরু হয়। কিছু সময় ফায়ারের পর এলাকাটি ঘিরে রেখে স্থানীয় পুলিশ আসার অপেক্ষায় ছিলাম। স্যার ট্রলারের খোলের ভিতর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় পঞ্চম ব্যক্তিকে বের করে আনান। পরে বনের ভিতরে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

সুন্দরবনে আরো পাঁচজনকে হত্যা

জবানবন্দিতে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সালের মার্চে জিয়া স্যারের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সুন্দরবনের ভোলা নদী সংলগ্ন মরা ভোলা এলাকায় ত্রিমাত্রিক অভিযান চালানো হয়েছিল। এখানেও মূল অভিযানের আগে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের একদল সদস্য আগেই চলে যায়। মূল দল ঘটনাস্থলে গেলে বন লক্ষ্য করে ফায়ার শুরু করে। আনুমানিক ৩০ মিনিট ফায়ারের পর স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে বন তল্লাশী করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও পাঁচটি লাশ উদ্ধার দেখানো হয়।

মেজর (অব.) সাব্বির আরো বলেন, এই তিনটি এনকাউন্টার অভিযান আলাদাভাবে উল্লেখ করার কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, অভিযানগুলো ছিল সাজানো। এর পিছনে আমার যুক্তি ছিল প্রতিটি অভিযানের আগে ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের একদল চলে যেতো, যেটা যাওয়ার কথা নয়। বনের ভিতর থেকে বনদস্যুদের ফায়ার আসলে সেটি আসার কথা একনলা বা দোনলা বন্দুক থেকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা কখনও হুঁইসেলের শব্দ পেয়েছি। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অটোমেটিক অস্ত্র ফায়ারের শব্দ পেয়েছি। এই ধরনের অটোমেটিক অস্ত্র কোনো অবস্থাতেই কোনো দস্যু বাহিনীর কাছে ছিল না। ঘটনার সময় ধারণকৃত বিভিন্ন সাংবাদিকের আলোকচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ দেখার পর আমার মনে হয়েছে, মূল আভিযানিক দল যখন অভিযানস্থলে গোলাগুলিতে ব্যস্ত, তখন র‍্যাব সদর দপ্তর থেকে আসা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সদস্য কোনো ধরণের অস্ত্র, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট ছাড়াই সাধারণ পোশাকে ঘটনাস্থলে চলাফেরা করছেন। যা স্টেইজড অপারেশন ছাড়া কোনোভাবেই নিরাপত্তার ঝুঁকিকে কম্প্রোমাইজ করে অভিযান চালানো সম্ভব না। র‍্যাবের দায়িত্ব পালনকালে আমার জানামতে জিয়া স্যার ১৫-২০ বার বরিশাল অঞ্চল ব্যবহার করে গলফ অপারেশন চালিয়েছেন।

সূত্র: আমার দেশ

Thursday, September 17, 2026

ওসি-এসপির ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটকে’ পঙ্গুত্ব বরণ করেন দুই শিবির নেতা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

ওসি-এসপির ‘বন্দুকযুদ্ধের নাটকে’ পঙ্গুত্ব বরণ করেন দুই শিবির নেতা:

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৪

যশোর জেলার চৌগাছায় ২০১৬ সালে পুলিশ দুই শিবির নেতাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাদের থানা হাজতে আটক রাখে। পরে ওসি ও এসপি ষড়যন্ত্র করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুই শিবির নেতার পায়ে গুলি করে চিকিৎসাহীন অবস্থায় রেখে দেয়। পায়ে পচন ধরলে দুজনেরই এক পা কেটে ফেলতে হয়। পুলিশি নির্মমতার শিকার হয়ে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে হয় শিবির নেতা ইসরাফিল ও রুহুল আমিনকে।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে আসে। ঘটনার সময় চৌগাছা থানায় কর্মরত এসআই মমিনুল ইসলাম তার জবানবন্দিতে এসব তথ্য দেন।

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে এসআই মমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৩ বছর। আমি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যশোর জেলার চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলাম। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট এসআই মোখলেছুর রহমান, জামাল হোসেন, আকিকুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম এবং এএসআই সিরাজুল ইসলাম দুজনকে গ্রেপ্তার করে ডিউটি অফিসারের রুমে নিয়ে আসেন। আমি তাদের নাম জিজ্ঞাসা করলে একজনের নাম ইসরাফিল এবং অপরজনের নাম রুহুল আমিন বলে জানায়। তখন আমি তাদের নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে লিখতে গেলে তারা নিষেধ করে বলে, দুজনকে থানা হাজতে রাখেন। তাদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, পরে ওসি স্যারকে বলি, আমি ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছি। তাদের নাম রেজিস্টারে না লিখে হাজতখানায় রাখতে পারব না। তখন ওসি স্যার আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, আমি যা বলি তাই কর। পরে আমি বাধ্য হয়ে তাদের হাজতখানায় পাঠাই। ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দুজনকে ওসি স্যারের রুমে নিয়ে মারধর করা হয়।

জবানবন্দিতে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরদিন রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার দিকে একজন কনস্টেবল এসে জানায়, বন্দুলীতলায় বন্দুকযুদ্ধে আমাদের দুইজন কনস্টেবল আহত হয়েছে। আমি ডিউটি অফিসারের রুমে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয়, গতকাল যে দুইজনকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। পরে জানতে পারি, এটা ছিল পরিকল্পিত নাটক।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে জানতে পারি, ওই দুইজনের পায়ে পচন ধরলে তাদের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়। তাদের অবৈধভাবে গ্রেপ্তার, মারপিট ও পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার ঘটনায় এসপি আনিসুর রহমান, ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছুর রহমান, এসআই জামাল উদ্দিন, এসআই আকিকুল ইসলাম, এএসআই মাজেদুল ইসলাম, কনস্টেবল জহুরুল এবং কনস্টেবল সাজ্জাদ সরাসরি জড়িত।

এসপি আনিসুর রহমান স্যারের সময় যশোর জেলায় আনুমানিক ৫০ জনের অধিক ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও অন্যান্য ভিন্ন মতাবলম্বী যুবককে এভাবে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তাদের কেউ কেউ চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায়।

উক্ত প্রতিবেদন পড়ার পর পাঠকবৃন্দ সমালোচনা করেন যে, আওয়ামী দুঃশাসনামলে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যে মামলা দেয়া হয়েছে, হাজার হাজার নেতা কর্মীদের তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে, অপহরণ, গুম ও খুন করা হয়েছে। আলেম ও তরুণদের টার্গেট করে ক্রসফায়ার এর নাটক সাজিয়ে খুন করা হয়েছে। হাজার হাজার লোককে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। এসবের সাথে অতিউৎসাহী পুলিশ, ৱ্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোক জড়িত। জনগন দাবী করছেন যে, জড়িত ঐসব প্রশাসনের লোকদের ধরে ফাঁসি দিতে হবে, মামলার নথি ধরে যারা মামলার IO তাদেরকে ধরতে হবে, এমনকি যারা মিথ্যে সাক্ষ্য দিয়েছে তাদেরকেও ধরতে হবে। সেই সাথে আওয়ামী উকিল ও বিচারকদেরও ধরা প্রয়োজন। অনেকে বলছেন, যাদের ফাঁসির রায় হয়েছে এবং যারা বন্দী আছে আপাতত তাদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক। 

সূত্র: আমার দেশ

Tuesday, September 15, 2026

জুলাই গণহত্যা-ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

জুলাই গণহত্যা-ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড:

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৩০

জুলাই বিপ্লবে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

এছাড়া ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রয় করে পাওয়া টাকা জুলাই/আগস্ট ২০২৪ সময়কালে শহীদ ও আহত সব ব্যক্তি বা তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্যকোন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিচার প্রক্রিয়া: এই মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয় গত বছরের ১৮ জুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনা হয়। ওই দিনই অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।

সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। যুক্তিতর্ক শুরু ৪ আগস্ট এবং শেষ হয় ১৭ আগস্ট। ওই দিনই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

সূত্র: আমার দেশ

Sunday, September 13, 2026

মাদক মামলায় সাজা কম, খালাস বেশি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

মাদক মামলায় সাজা কম, খালাস বেশি:

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 


দেশে মাদক মামলায় আসামিদের সাজার চেয়ে খালাসের হার বেশি। তদন্তের দুর্বলতা, আলামত সংরক্ষণে গাফিলতি, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং রাসায়নিক প্রতিবেদনের অসংগতিসহ নানা আইনি ফাঁক গলিয়ে চিহ্নিত আসামিদের বড় অংশই পার পেয়ে যাচ্ছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে দেশে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ধরা পড়ছে। কখনো ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইনসহ হাতেনাতে, আবার কখনো ট্রাকভর্তি বড় চালানসহ আটক করা হচ্ছে মাদক কারবারিদের। থানায় মামলা হচ্ছে, আসামিকে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে। কিন্তু তাদের কতজন আদালতে সাজা পাচ্ছে?

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সবশেষ হিসাব বলছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটি একাই এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৩১টি মামলা করেছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৪২৫ জনকে। অথচ গত জুন পর্যন্ত সাজা হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৪৩৮ জনের। একই সময়ে মোবাইল কোর্টে আলাদাভাবে মামলা হয়েছে আরো এক লাখ ৩,৮৬৮টি। পৌনে দুই লাখের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও সাজা পাওয়ার চেয়ে খালাসের হার বেশি। এর মূল কারণ তদন্তের দুর্বলতা, আলামত সংরক্ষণে গাফিলতি, সাক্ষীর অনুপস্থিতি ও রাসায়নিক প্রতিবেদনের অসংগতি। এছাড়া আইনি নানা ফাঁক কাজে লাগিয়ে চিহ্নিত আসামিদের বড় অংশই পার পেয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সমীক্ষার তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিএনসি সূত্র বলছে, ঢাকাসহ দেশের ২৬ জেলার আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া ৫০০ মাদক মামলার রায় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০৪ মামলায় সাজা এবং ২৯৬ মামলায় সব আসামি খালাস পেয়েছে। অর্থাৎ সাজার হার ৪১ শতাংশ, খালাস ৫৯ শতাংশ। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দেওয়া রায় পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদক নিয়ে শুধু ডিএনসি একাই কাজ করে না। পাশাপাশি পুলিশ ও বিভিন্ন ইউনিট, যেমন র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ডও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসব বাহিনীর অভিযানে প্রতিনিয়ত মাদক উদ্ধার এবং মাদক কারবারে জড়িতরা গ্রেপ্তারও হয়েছে।

একের পর এক রেকর্ড জব্দ

সম্প্রতি জব্দ করা বড় চালানগুলো থেকেই মাদক বিস্তারের ভয়াবহতা আঁচ করা যায়। গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ ও রামুতে পৃথক অভিযানে এক দিনে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। হ্নীলার নাফ নদীসংলগ্ন স্থান থেকে আট লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ এবং রামুর তুলাবাগান থেকে

আরো দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গত ৮ এপ্রিল টেকনাফ থেকে ঢাকাগামী মাছবাহী পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে এক লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাছের ড্রামে লুকিয়ে নেওয়া হচ্ছিল এসব ইয়াবা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চালানটি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিল বলে বিজিবি জানায়।

এরপর ২৩ জুলাই নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে নৌকায় বড় চালান ঢোকার সময় এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি। ওই সময় গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে। গত ১৭ আগস্ট কুমিল্লার জাগুরজুলি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টয়োটা প্রাডো থামিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। চালানটির মূল্য ১৫ কোটি টাকা। গাড়িটি কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এর আগে জুনে এক লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাভর্তি একটি গাড়ি জব্দ হয়। ২০২৫ সালের মার্চে হাতিরঝিল থেকে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের এক লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। একই বছর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নারী বাহকসহ চারজনকে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের তথ্যও রয়েছে। এসব চালানের অর্থদাতা, সংগ্রহকারী, মজুতদার ও চূড়ান্ত ক্রেতা নেটওয়ার্কের কতজন মামলায় এসেছে সে প্রশ্নই বড়।

ধরা পড়ে বাহক, আড়ালে হোতা

বড় মাদকচক্র নির্মূলে অন্যতম দুর্বলতা হলো চালান বহনকারীকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত অনেক সময় থেমে যায়। অথচ ১০ লাখের বেশি, তিন লাখ কিংবা এক লাখ ৭২ হাজার ইয়াবার চালান কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির পক্ষে সংগ্রহ ও পরিবহন করা কঠিন। এর পেছনে অর্থ, যোগাযোগ, পরিবহন, মজুত ও বিতরণের নেটওয়ার্ক থাকার কথা। ৫০০ মামলার রায় বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বাইরে অর্থের জোগানদাতা, পৃষ্ঠপোষক বা বড় কারবারিদের বিষয়ে অভিযোগপত্রে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ফলে চালানটি কে পাঠিয়েছে, টাকা কে দিয়েছে, কোথায় মজুত হওয়ার কথা ছিল কিংবা কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল সেসব প্রশ্নে অনেক সময় তদন্ত এগোয় না।

চাঞ্চল্যকর মামলায় খালাস, দীর্ঘসূত্রতা

মাদকের বড় চালান জব্দ এবং কারবারে জড়িত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও ওই সব মামলা বিচারে গিয়ে দুর্বল হওয়ার নজিরও আছে। ২০২১ সালের আগস্টে বারিধারার বাসা থেকে ইয়াবা, মদ ও বিয়ারসহ গ্রেপ্তার হন মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর মামলা চলার পর ২০২৫ সালের মার্চে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে টেকনাফে শতাধিক আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি অস্ত্র ও মাদকসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন। প্রায় তিন বছর পর আদালত তাদের দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং অস্ত্র মামলা থেকে খালাস দেয়।

চট্টগ্রামে ২০১৬ সালের একটি মাদক মামলায় রমজান আলীর বিচারিক সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে মামলা ঝুলে ছিল প্রায় ১০ বছর। চলতি বছরের ৫ জুন আলামত ও প্রমাণের অভাবে তাকে খালাস দেওয়া হয়। অন্যদিকে, কক্সবাজারের ‘ইয়াবা গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ২০২৪ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হন। তার মামলার বিচার এখনো চলমান।

খালাস পাওয়ার নেপথ্যে

বিশ্লেষণে মাদক মামলা থেকে আসামিদের খালাসের পেছনে নানা ত্রুটি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑএজাহার ও জব্দ তালিকায় আলামত উদ্ধারের সময়, স্থান ও পরিমাণে অমিল; দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত; নিরপেক্ষ সাক্ষীর অনুপস্থিতি; জব্দ তালিকায় গরমিল; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য; রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে অসংগতি। এছাড়া বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে সাক্ষ্য না দেওয়া, আসামির ঠিকানা যাচাই না করা, এক থানার ঘটনায় অন্য থানায় মামলা, জব্দ আলামত আদালতে উপস্থাপন না করা, কোনো সাক্ষী না পাওয়া, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য না দেওয়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তদারকির অভাব এবং রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতিও রয়েছে। সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অভিযানের সময় ভিডিও ও ডিজিটাল আলামত বাধ্যতামূলক না করা। কারণ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে (সংশোধিত) ডিজিটাল আলামতও আদালতে ডকুমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সীমান্ত থেকে মহানগর মাদকের বাজার

মাদকাসক্তের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। দেশে প্রায় ৮২ লাখ মাদকাসক্ত এবং বছরে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা মাদকের পেছনে ব্যয় হয় বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ডিএনসির সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষণায় বলা হয়, দেশে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮২ লাখের বেশি এবং মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ এর সঙ্গে যুক্ত।

আইন মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩টি। এর মধ্যে আট মহানগরে রয়েছে ৪৭ হাজার ৯৪৮টি। শুধু ঢাকা মহানগরে ২১ হাজার ৯২০ এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ১৫ হাজার ৪৪টি।

আইনে কঠোর সাজা, বাস্তবে দীর্ঘ বিচার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ ধারায় মাদকের ধরন ও পরিমাণভেদে কঠোর সাজা রয়েছে। হেরোইন ও কোকেনের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি এবং ইয়াবা বা অ্যামফিটামিনের ক্ষেত্রে ৪০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রয়েছে। পরিমাণভেদে এক থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও আছে। আইনে গুরুতর মাদক মামলার বিচার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার বিধান থাকলেও বাস্তবে মামলা শেষ হতে ১০ বছর পর্যন্ত লাগছে।

২০১৯ সালে যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ থেকে ১১৮ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের মামলায় গত ১৩ এপ্রিল ঢাকার আদালত দুজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেয়। এ মামলায় পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রমাণের কাঠামো শক্ত হলে পুরোনো মামলায়ও সাজা সম্ভব, আবার ঘাটতি থাকলে খালাসও হতে পারে।

মামলাজট কমাতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

মামলার দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে সরকার গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য গুরুতর মাদক মামলার দ্রুত বিচারই এর লক্ষ্য। ঢাকায় জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি মহানগরের জন্য চারটি, চট্টগ্রাম মহানগরে তিনটি এবং কক্সবাজারে তিনটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম বলেন, শুধু ট্রাইব্যুনাল বা বিচারক বাড়ালেই খালাস কমবে না। অভিযানের সময় ডিজিটাল আলামত ও ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ, নিরপেক্ষ সাক্ষী নিশ্চিত করা, বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে যথাযথ ভারসাম্য, রাসায়নিক পরীক্ষার নির্ভুলতা এবং তদন্তকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তদন্ত কর্মকর্তার জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা। কারণ, দীর্ঘ সময় পর যখন আসামি খালাস পেয়ে যায়, তখন তদন্তের গভীরতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। আসামি খালাস পেলেও তদন্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হয় না। কারণ, মাদক উদ্ধারের বিষয়টিকে সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের ক্ষেত্রে সেই গুরত্বটা খুব বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। তাছাড়া মাদকসহ একজন বাহককে গ্রেপ্তার করেই অভিযান শেষ না করে চালানটি কে পাঠিয়েছে, কে অর্থ দিয়েছে, কোথায় মজুত হয়েছে এবং কার মাধ্যমে বাজারে ছড়ানোর কথা ছিল পুরো নেটওয়ার্ককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

সূত্র: আমার দেশ

Wednesday, August 19, 2026

প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণেরঃ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩৪

 


ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠনের অঙ্গীকার। প্রশাসনকে রাজনীতিকীকরণের বাইরে রাখতে প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের আমলাতন্ত্রের খোলনলচে বদলাতে ইশতেহারে দলটি ‘মেরিটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এর মাধ্যমে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির মাপকাঠি ঘোষণা করা হয়। ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে কাউকে বঞ্চিত না করার প্রতিশ্রুতিও দেয় দলটি। একই অঙ্গীকার রয়েছে বিএনপির ৩১ দফার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখাতেও।

তবে গত ছয় মাসে নির্বাচনি এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে নিয়োগের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। হতাশা ব্যক্ত করে তারা বলেন, প্রশাসনে বহু প্রত্যাশার সংস্কার কার্যক্রম সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। সবকিছু চলছে আগের মতোই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবারও মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরো বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের অবস্থানের পরও রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুস, দুর্নীতি, ফাইল জিম্মি করে টাকা আদায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শতাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। তাদের অধিকাংশই বলেছেন, সেবা পেতে ঘুস দিতে হয়েছে। সুশাসন ও নাগরিক সেবা নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থার প্রধানদের মতেÑ সরকারি দপ্তরগুলোতে জনগণের হয়রানি ও অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার প্রবণতা আগের মতোই চলছে।

শিক্ষা খাতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসে ২৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ হয়। তাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দল এবং এর বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে। তাদের দাবি, রীতি অনুযায়ী এসব পদে সাধারণত অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে এসবের কোনো কোনোটিতে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে। তবে এবারই ঢালাওভাবে একযোগে ১১টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে সরকার দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। নিয়োগপ্রাপ্তদের কারো কারো দলের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, যার কাজ তাকে দিয়ে করানোই উচিত। আমার দেশকে তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়, ঠিক তেমন প্রশাসনের পদগুলোতেও ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া ঠিক নয়। এটি প্রশাসনকে আরো বেশি করে বিতর্কিত করে তুলবে। এমনিতেই আমাদের জনপ্রশাসন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় আসে, প্রশাসন তার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল আশঙ্কা কাজ করে। এ অবস্থায় প্রশাসনকে রাজনীতির বাইরে রেখে সত্যিকারের জনবান্ধব করে গড়ে তোলা আবশ্যক।

ঢালাওভাবে একসঙ্গে এতগুলো সরকারি সংস্থার নেতৃত্বস্থানীয় পদে দলীয় ব‍্যক্তিদের নিয়োগ উদ্বেগজনক, তবে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু নয়, বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয়ও নয়Ñএমন মন্তব্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের। আমার দেশকে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো নজরদারি সংস্থার শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ যত নিয়োগ দেওয়া বা অপসারণ করা হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ আমলের মতো রাষ্ট্র-কাঠামোতে দলীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের সংস্কৃতি অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছিল। অথচ বাস্তবে তার প্রয়োগে বড় ধরনের সদিচ্ছার ঘাটতি ও বিপরীতমুখী চর্চা দেখা যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদের পতন হয়েছে, কর্তৃত্ববাদী দলীয়করণের পরিবর্তন হয়নি। শুধু ‘উইনার টেইকস অল’ চর্চার পালাবদল হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, সরকার বদলালেও ঘুস, দুর্নীতি, অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হয়নি। ফাইল আটকে টাকা আদায় চলছে সেই আগের মতোই। ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া তো দূরের কথা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলাও মুশকিল। তাদের মতে, রাজউক, সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ভূমি অফিস, বিআরটিএ পাসপোর্ট অফিসগুলোসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এমন চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি জেলায় বিভাগীয় শহরের সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একজন সেবাগ্রহীতা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ভূমি অফিস থেকে ঘুস ছাড়া কেউ কোনো নথি নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন, এমন নজির নেই। রিয়েল স্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে আমার দেশ। ঘুস ছাড়া রাজউক থেকে রিহ্যাবের (রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন) সদস্যরা কোনো নকশা অনুমোদন করতে পেরেছেন, এমন একটি উদাহরণও নেই বলে দাবি করেন তারা।

মেধার মূল্যায়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক, আইনগত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন করা হবে বলে অঙ্গীকার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের আগে সংসদীয় কমিটির শুনানি ও ভেটিং প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।

১১ নম্বর দফায় প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি প্রশাসন ও পুলিশের সংস্কার হবে। বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে একমাত্র যোগ্যতাকে মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত যোগ্য জনবল নিশ্চিত হয়।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাইযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ ও শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। আর সেটি হলোÑএকটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ইশতেহারে গুরুত্বসহকারে এ-ও বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে রাজনীতিকীকরণ

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নগ্ন দলীয়করণের রেকর্ড হয়েছিল পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণহত্যায় সহযোগী উপাচার্যদের (ভিসি) সরিয়ে বা তাদের পদত্যাগের কারণে শূন্যপদে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও এসব উপাচার্যের দুয়েকজন জামায়াতপন্থি বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়হীন থাকলেও বাকি সবাই ছিলেন বিএনপির অনুসারী বা সক্রিয় সদস্য।

চার বছরের জন্য এসব উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুই বছর মেয়াদ পূরণেরও সুযোগ পাননি তারা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় শুরু হয় উপাচার্য পরিবর্তন। ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ২৮টিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে জড়িত, বাকিরা বিএনপির পেশাজীবী সংগঠনÑ জিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ বা শিক্ষক সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারার পদেও পছন্দসই লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ । এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবিসহ ভিন্ন বিভাগের শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগ পাচ্ছেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব কারণে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া কিছু বিতর্কিত শিক্ষকও নিয়োগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের এক ঘণ্টার মাথায় তা বাতিল করা হয়। একই ধরনের অভিযোগে ২৩ দিনের মাথায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে।

একযোগে আট ভিসি পরিবর্তন

বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো একযোগে ঢাবিসহ আট পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়। একই দিনে পরিবর্তন করা হয় ইউজিসি চেয়ারম্যানও। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন করা ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্যদের মেয়াদ মাত্র দেড় বছর না যেতেই তা অনেকটা গণহারে পরিবর্তন হওয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহল ব্যাপক সমালোচনা করেছে। দলীয় লোকদের বসাতেই কোনো কারণ ছাড়া আগের ভিসিদের সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়োগের সংস্কৃতির বিষয়ে বিশ্লেষক সাবিনা আহমেদ আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানগুলোতে দলীয় লোক নিয়োগের যে ধারা চলে আসছে, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংস্কৃতিÑ যাকে ‘বিজয়ীর সবকিছু দখল’ নীতির ক্লাসিক প্রকাশ বলা চলে। এটি নিছক ক্ষমতার অভ্যাস, যা ক্রমে প্রতিষ্ঠানকে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনেও দলীয়করণ

দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলো পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিংবডি গঠনে ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের নিয়ম আছে। তবে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে সেই নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। দলীয়করণের মাধ্যমে একের পর এক গঠন করা হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি। এমনকি জরুরি অবস্থার নিয়ম কাজে লাগিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে বিশেষ পরিস্থিতি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে গভর্নিংবডি নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও দলীয়করণসহ নানা জটিলতা বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দেশের সব দাখিল ও আলিম মাদরাসার মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জানানো হয়েছে। নিয়মিত কমিটির পরিবর্তে এভাবে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক গতি বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্যাকেটবন্দি প্রশাসনিক সংস্কারের সুপারিশ

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত আমলা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন আমলাতন্ত্রের ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা ও কাঠামো ভেঙে দেশপ্রেমিক, জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দক্ষ প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করে। এতে জনপ্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, শৃঙ্খলা বিধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশ তৈরির আগে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নাগরিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিমত নেয় মুয়ীদ কমিশন। রাজনৈতিক প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তির বাইরে থেকে সবক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও দক্ষতা যাচাইয়ের কথা বলা হয় কমিশনের প্রতিবেদনে। এ জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া, জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কমিশন গঠন করারও সুপারিশ করে এ কমিশন। কমিশনের ওই সুপারিশ এখনো প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে গবেষক ও জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অসংখ্য বইয়ের লেখক ফিরোজ মিয়া আমার দেশকে বলেন, দেশে বর্তমানে যে প্রশাসন রয়েছে সেটা জনবান্ধব নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সর্বনিম্ন স্তরে নামানো হয়েছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানুষকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে এটি করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনকে আওয়ামী ধারা থেকে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনো ওই প্রশাসনিক কাঠামোই রয়ে গেছে। প্রশাসনকে দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে বের করে সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসন হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না ।

সূত্রঃ আমার দেশ

Saturday, August 8, 2026

নাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

নাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনাঃ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ০৭ 

ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। দিল্লির লুটিয়েন্স জোনের সুরক্ষিত এলাকায় ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।

গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দিল্লিতে তার বাসায় দুই দফা বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এই চক্রান্তে যুক্ত করা হয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশাদার অপরাধী ও ভাড়াটে কিলারদের। মাঠে নামানো হচ্ছে ভারতনিয়ন্ত্রিত ছদ্মবেশী জঙ্গি নেটওয়ার্ক; বিশেষ করে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি)। ভারতে থেকে এই জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আযমের ভাগ্নে।

এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের বিরোধকে উসকে দিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা। এতে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য পরিচয় গোপন করে সংঘর্ষে ঢুকে প্রাণহানি ঘটিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর ছক রয়েছে। তবে স্বধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি আমার দেশ।

কোনো ক্যাম্পাস বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে তার অভিঘাত শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় জমায়েত ঘটিয়ে তাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। গোয়েন্দা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং। তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানো। আর চতুর্থ স্তরে রয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা।

দিল্লির বাসভবনে গোপন বৈঠক

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দুই দফায় দিল্লির বাসভবনে হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে পলাতক আওয়ামী নেতা ও ঢাকার কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন এবং ঢাকা মহানগরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর।

প্রথম দফায় ১২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডের মোস্তফা জামান (পপি), ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ (২৪ নং ওয়ার্ড), মো. মারুফ আহমেদ মনসুর (১০ নং ওয়ার্ড), মো. আনিসুর রহমান (২ নং ওয়ার্ড), সালাউদ্দিন আহমেদ (৭০ নং ওয়ার্ড), আহমেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি (৩৮ নং ওয়ার্ড), বিপ্লব বড়ুয়া (আ. লীগের দপ্তর সম্পাদক), রঞ্জন সেন (কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি)।

দ্বিতীয় বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটির অন্যতম কিলার হিসেবে পরিচিত এবং জুলাইবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আলোচিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (৬ নং ওয়ার্ড), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নাঈম (৪৯ নং ওয়ার্ড), মো. শরিফুর রহমান (৫১ নং ওয়ার্ড), মো. জাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৬ নং ওয়ার্ড), সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম (৩২ নং ওয়ার্ড), শেখ সেলিম (৩৮ নং ওয়ার্ড), মো. ইসহাক মিয়া (১৭ নং ওয়ার্ড), ডিএম শামীম (৫০ নং ওয়ার্ড), জাকির হোসেন বাবুল (১৮ নং ওয়ার্ড) ও মো. জনির অংশ নেওয়ার কথা জানা গেছে।

জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দিয়েছে। জানা গেছে, হাসিনার সঙ্গে দুটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজির বিরোধের আবহে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আতঙ্ক বাড়ানো এবং পরে এর দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। পাশাপাশি জুলাইবিপ্লবের নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা। সার্বিকভাবে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আতঙ্কিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই— পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে বয়ান তৈরি করা হবে কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে।

জেএমবিকে ঘিরে উগ্রবাদের নতুন ছক

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবিকে নতুন করে সক্রিয় করার চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক জেএমবিকে কাজে লাগানোর ছক রয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল দায়িত্বে বসানো হয়েছে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক এমপি মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে নকল চাবি বানিয়ে কুমিল্লা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এই তরুণ জঙ্গি নেতা পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হলেও মামা মির্জা আজমের প্রভাবে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জামিনে বের হয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। গত তিন মাস ধরে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করে সে অনলাইনে তরুণদের মোটিভেশনের মাধ্যমে সংগঠিত করছে।

এই ‘জেএমবি কার্ড’ খেলার প্রধান রূপকার হিসেবে কাজ করছেন ভারতে থাকা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। উগ্রবাদের জাঁকজমকপূর্ণ বয়ান তৈরি, ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার সখ্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাকেই মূল সমন্বয়কের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে ছাতা বোমা এবং আশুলিয়ায় প্রেসার কুকার বোমায় উগ্রবাদীদের ব্যবহারের নেপথ্যে চক্রের যোগসূত্র দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে হঠাৎ র‌্যালি বা ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত বক্তব্যের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে এই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ‘লাশ’ ফেলার নীল নকশা

রাজনৈতিক মহলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি বিনষ্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক ছকটি করা হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সূত্রপাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ছাত্রলীগের বাছাই করা একটি ক্যাডার বাহিনীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছদ্মবেশে ইন্ধন জুগিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুযোগ বুঝে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ‘লাশ ফেলা’র মাধ্যমে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির মধ্যে চরম বিভেদ তৈরি করার নির্দেশনা রয়েছে। এই রক্তাক্ত নীলনকশা বাস্তবায়নে অর্থের বিপুল জোগানের প্রধান উৎস হিসেবে নাম এসেছে ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের রুট হিসেবে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বসবাসরত যুবলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী কোটিপতি নেতাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের সুযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব সংঘর্ষে ঢোকার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাশকতার ছক

মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন সেলগুলো সুনির্দিষ্ট ‘আগস্ট ক্যালেন্ডার’ মেনে মাঠে নেমেছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল হামলা, যানবাহনে আগুন ও ভাংচুরের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের নির্দেশনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১১-১৩ আগস্ট জনসমাগমস্থলে কুশলবিনিময়ের অজুহাতে ক্যাডার জড়ো করে ১৫ আগস্টে ধানমন্ডি ৩২ ও টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হতে পারে।

পেশাজীবী আন্দোলন ঘিরে চক্রান্ত

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, কেবল ক্যাডার বা জঙ্গি নেটওয়ার্কই নয়, পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকেও সরকার ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চলছে। গত ছয় মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামীপন্থি একটি শিক্ষক চক্র সাধারণ শিক্ষকদের খ্যাপিয়ে তুলে রাজপথে নামানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। দেশব্যাপী আটটি বিভাগে পাঁচজন করে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢাকায় এনে রাজপথ অচল করার এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করছেন শাহানা নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রী, যার লক্ষ্য শিক্ষক আন্দোলনকে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মতো সরকার পতনের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া।

৪০৪ শিক্ষকের টেলিগ্রাম বিপ্লব

সূত্রে আরো জানা গেছে, শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি গোপন গ্রুপ থেকে। হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ শিক্ষক গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সাবেক ভিসি ও বিভাগের শীর্ষ পদে থাকা এই শিক্ষকরা ‘সিস্টেম আপডেট’ ও ‘মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে’র মতো সংকেত ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন সভা করছেন, যার স্ক্রিনশট ও তথ্য ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের হাতে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলার, পুনর্গঠিত জঙ্গি সংগঠন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং ছদ্মবেশী শিক্ষকদের চতুর্মুখী নাশকতার ছক বানচাল করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো সারা দেশে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে উগ্রবাদী ও দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে ব্যবহৃত সরকারি যানবাহনের সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ আগস্ট পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, জিপ, পিকআপ, বাসসহ পুলিশের যে কোনো যানবাহনের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। ডিউটির সময় বা ডিউটি শেষে গাড়ি কোনোভাবেই অরক্ষিত রাখা যাবে না এবং সাময়িকভাবে থামলেও তা নিরাপদ স্থানে পার্ক করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

এছাড়া থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস কম্পাউন্ডে পার্ক করা যানবাহনের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় সদর দপ্তর।

পুলিশের মুখপাত্র, সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে ও কিছু সময়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

সূত্রঃ আমার দেশ

যাত্রাবাড়ীতে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24  যাত্রাবাড়ীতে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ০৪ ঢাকা-৫ নির্বাচনি এলাক...