Tuesday, February 3, 2026

বিএনপির প্রার্থীগণ ইসিতে তথ্য গোপন করায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

বিএনপির প্রার্থীগণ ইসিতে তথ্য গোপন করায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি:

(নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দল ও অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনের ওপর,

ঢাকা-১১ আসন-কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে যা বললেন নাহিদ ইসলাম)

 প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিএনপি প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের কারণে দল বিপদে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরমভাবে। খেলাপি ঋণ ও দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নানা তথ্য গোপন করেছিলেন দলটির অনেক প্রার্থী। এর ফলে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে বিএনপিকে।

নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দল ও দলের অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনের ওপরও। দুটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে। অপর একটি আসনে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের অনুমতি দিলেও সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিজয়ী হলেও শপথ নিতে পারবেন না বলে শর্তারোপ করা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালত থেকে।

জানা যায়, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে খেলাপি ঋণের কারণে।

উচ্চ আদালতে আপিল করেও ফেরত পাননি প্রার্থিতা। বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের একাধিক সদস্যের মতে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী যদি এসব ঋণের তথ্য গোপন না করে দলকে অবহিত করে রাখতেন, তাহলে সেখানে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী রাখা যেত। সেটি না করায় আসনটিতে এখন বিএনপির প্রার্থীবিহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির গফুর ভূঁইয়াকে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজী নুরে আলম সিদ্দিকী।

১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তাঁর করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। গফুর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তবে একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

হাই কোর্টের আদেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দসহ তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলে। হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন আদালত বলেন, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় হাসান আহমেদ আপিল করবেন। এ আপিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মোবাশ্বেরের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত (প্রার্থিতা বৈধ-অবৈধ) হবে। এ ছাড়া বিএনপির দুই ডজনেরও বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্রে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন। গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিলের অভিযোগ ওঠে।

ঋণখেলাপির তালিকায় আরও যাদের নাম ছিল : কয়েকটি ব্যাংক থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া বেশ কয়েকজনের ঋণখেলাপির তথ্য মেলে। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার তালহা শাহরিয়ার আইয়ুব (টি এস আইয়ুব)। তিনি সরকারি-বেসরকারি খাতের অন্তত চার ব্যাংকে ১৩৮ কোটি টাকার ঋণখেলাপি ছিলেন। তিনি দলের কাছে এ তথ্য গোপন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়। গাজীপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার খেলাপি। তিনি এ তথ্য দলের কাছে প্রথম দিকে গোপন করেছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের খন্দকার আবু আশফাক, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় থাকা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীরসহ আরও বেশ কজন প্রার্থী খেলাপি ঋণ ও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন।

ঢাকা-১১ আসন-কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে যা বললেন নাহিদ ইসলাম:

ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়েরের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'কেউ যদি সংবিধান ও আইন লঙ্ঘন করে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, সেটা আমরা মেনে নিতে পারি না। এ কারণেই আদালতে যাওয়া হয়েছে। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে। '

সোমবার রাজধানীর রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন নাহিদ।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী এবং বিষয়টি গোপন করে নির্বাচন কমিশনে তথ্য দিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, 'একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। এখন আইনের সিদ্ধান্ত আইনই নেবে। '

এইদিন নাহিদ ইসলাম পূর্ব রামপুরা এলাকায় কুঞ্জবন, জাকের রোড ও হাইস্কুল রোডে গণসংযোগ করেন।

দুপুরে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, বিকেলে পূর্ব রামপুরা ভূঁইয়া গলি এলাকায় গণসংযোগ এবং সন্ধ্যার পর ওমর ও ব্যাংক কলোনিতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাতের শেষ পর্যায়ে তিনি তিতাস রোড থেকে টিভি সেন্টার পর্যন্ত গণমিছিলে অংশ নেন। এসব কর্মসূচিতে এনসিপি ও জামায়াত-শিবিরের স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

Monday, February 2, 2026

যমটুপি পরানোর পরও ডিজিএফআই কর্মকর্তা মকছুরুলকে চিনতে পারি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

যমটুপি পরানোর পরও ডিজিএফআই কর্মকর্তা মকছুরুলকে চিনতে পারি:

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩৩

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট গুম করা হয়। মগবাজারের বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সময় তাকে হাতকড়া পরিয়ে এবং চোখ বাঁধা হয়। এরপর যমটুপি পরানো হলে চোখের বাঁধন খানিকটা নিচে নেমে যায়। এ সময় তিনি অপহরণকারীদের একজন ডিজিএফআই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মকছুরুলকে চিনতে পারেন। তবে তিনি তাদের তা বুঝতে দেননি।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বা আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক-বর্তমান ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিতে তিনি এসব কথা বলেন।

জবানবন্দিতে আমান আযমী বলেন, আমি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। ১৯৮১ সালে আমি সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করি। ২০০৯ সালের ২৪ জুন আওয়ামী লীগ সরকার বিনা অপরাধে, বিনা তদন্তে, বিনা বিচারে সেনাবাহিনীর সব রীতিনীতি ভঙ্গ করে নজিরবিহীনভাবে পেনশনের সব সুবিধা হরণ করে আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। এরপর সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। আমাকে অপহরণের আগ পর্যন্ত সাত বছর দুই মাস গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে তৎকালীন সরকার নানাভাবে হয়রানি করে। ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে আমাকে অবসরে পাঠায়।

জবানবন্দিতে আযমী বলেন, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আমার বড় মগবাজারের বাসায় অনেকগুলো মাইক্রোবাসে করে ৫০-৬০ জন সাধারণ পোশাকধারী লোক আসে। বাসার ভেতরে বেশ কিছু লোক প্রবেশ করে। তারা আমাকে হাতকড়া পরানোর জন্য হাত এগিয়ে দিতে বলে। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে আমি দুই হাত এগিয়ে দিই । তারা প্রথমে আমার হাতে হাতকড়া পরায় ও চোখ বাঁধে। লিফটে করে নিচে নামিয়ে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে মাথা ও মুখের ওপর যমটুপি পরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর তারা আমাকে নিয়ে রওনা করে।

তিনি বলেন, আমার চোখের বাঁধন খানিকটা সরে যাওয়ায় আবছা দেখতে পাই। তাই কোন রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তা আমি বুঝতে পারি। তারা মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে মহাখালী ব্রিজের নিচ দিয়ে এয়ারপোর্টের পূর্বদিকের রাস্তা দিয়ে র‍্যাব-১-এর দক্ষিণ গেট দিয়ে ঢোকে এবং উত্তর দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর মূল রাস্তা পার হয়ে পশ্চিম দিকে র‍্যাব সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে এয়ারপোর্টের পূর্বদিক দিয়ে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করে। তারা কচুক্ষেতে অবস্থিত ডিজিএফআই কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে। গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাকে ধরে ধরে একটি সেলের ভেতরে ঢুকিয়ে আমার যমটুপি, চোখের বাঁধন ও হাতকড়া খুলে দেয়।

আমান আযমী বলেন, পরদিন ২৩ আগস্ট ভোরের আলো হলে সেলের দক্ষিণ দিকে দুটো ভেন্টিলেটর দিয়ে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত ঢাকা স্টেশন অফিসার্স মেস-বি চিনতে পারি। এ মেসটি ১৯৮২ সালে নির্মিত হয়েছিল। আমি তখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে চাকরিরত ছিলাম এবং আমি ওই মেসের প্রথম বাসিন্দাদের মধ্যে একজন। ১৯৮২-৮৩ সালে আমি ওই মেসে থেকেছি। তখন থেকেই আমি জানতাম মেসের উত্তর দিকে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের সর্বদক্ষিণে যে ভবনটি অবস্থিত সেটা জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল)। তাই আমি বুঝতে পারি আমাকে জেআইসিতে আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত আমাকে ওই সেলে রাখা হয়েছিল। তবে মাঝে দুবার কয়েকদিনের জন্য অন্য সেলে নিলেও পরে আবার নিয়ে আসা হয়। এ সেলটি ১১ নম্বর সেল হিসেবে চিহ্নিত এবং চাবির রিংয়ে আমি ১১ ও ভিআইপি লেখা দেখতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি যে ডিজিএফআইয়ের কচুক্ষেত কমপ্লেক্সের জেআইসিতে ছিলাম তা আমি আরো অন্যভাবে নিশ্চিত হয়েছিলাম। প্রথমত, আমি নিয়মিত আমার সেল থেকে দুটো আজান শুনতে পেতামÑএকটি ছিল বিএনএস হাজী মুহসীন থেকে। আরেকটি ছিল মেসের দক্ষিণে অবস্থিত অফিসারদের বাসভবন এলাকার মসজিদ থেকে।

অন্য যেসব আলামত দিয়ে আমি আমার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলাম সেগুলো হচ্ছেÑহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান উড্ডয়নের সময় কচুক্ষেতের ওপর দিয়ে যেত। এছাড়া কচুক্ষেত কমপ্লেক্সের পশ্চিম দিকে একটি হাসপাতাল রয়েছে। আমি মাঝেমধ্যেই সে এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের আওয়াজ পেতাম। স্টেশন মেস-বিতে সেনাবাহিনীর প্রথা অনুযায়ী বিভিন্ন পার্টিতে যে ধরনের ব্যান্ড বাজানো হয়, সে ব্যান্ডের আওয়াজও আমি শুনতে পেতাম।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮২-৮৩ সালে আমি মেস-বিতে থাকাকালীন পূর্বদিকে বনানী এমপি চেকপোস্টের পাশ দিয়ে নিয়মিত যে ট্রেন চলাচলের আওয়াজ পেতাম, সেলে থাকাকালীন অবস্থাতেও ঠিক একই দিক থেকে আমি নিয়মিত সে আওয়াজ পেতাম। এছাড়াও সেলে যারা ডিউটি করতে আসতো, এমওডিসির (মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স কনস্ট্যাবুলারি) সিপাহি, তাদের মধ্যে থেকেও কয়েকজন নিশ্চিত করেছে আমাকে কচুক্ষেতে অবস্থিত ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের ভেতরে জেআইসিতে রাখা হয়েছে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমি আটক থাকাকালীন খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেলে কোনো প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ছিল না। দুই হাজার ৯০৮ দিন আমি আকাশ দেখিনি, চাঁদ-সূর্য দেখিনি, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি, গাছ-মাটি দেখিনি। দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করার তো নয়।

এছাড়াও সেলের চারদিকে ২৪ ঘণ্টা নানারকমের আওয়াজ হতো, যার ফলে আমার সার্বক্ষণিক মাথাব্যথা নিয়ে থাকতে হয়েছে। যখন মসজিদে আজান দিত অথবা মসজিদ থেকে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হতো, তখন নানারকম মেশিন দিয়ে আরো আওয়াজ করা হতো। আমি জানতে পেরেছি এ আওয়াজ করার উদ্দেশ্য বাইরে থেকে কোনো শব্দ যেন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, কিংবা সেলে কাউকে নির্যাতন করা হলে তার আর্তনাদের আওয়াজ যেন বাইরে না যায়।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সেখানের খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। এজন্য ছয় বছর চার মাস পর্যন্ত আমি কখনো তিন বেলা খাবার খেতে পারিনি। ডিজিএফআইয়ের ডাক্তারের অব্যাহত চাপের ফলে ২০২৩ সালের শুরু থেকে আমি তিন বেলা খাবার শুরু করি। এ দীর্ঘ আট বছর কোনোদিন তৃপ্তি করে পেট ভরে খেতে পারিনি। কখনো এক বেলা খেয়েছি, কখনো দুই বেলা। খাবার এতো নিম্ন মানের ছিল কখনো কখনো সামান্য ভাত খেয়েই থেকেছি।

চিকিৎসা সেখানে অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। আমার চোখ, কান, দাঁতের সমস্যাসহ চর্মরোগ ও পেটের পীড়ায় সম্পূর্ণ সময় আমাকে ভুগতে হয়েছে। আমি মোট চারবার অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। আমার একিউট কিডনি ইনফেকশন হয়, করোনা হয় ও দুটো দাঁত ভেঙে যায়। ওখানে যে টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল তা আমার সেল থেকে আনুমানিক ৪০-৪৫ কদম হবে। টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তারা আমাকে হাতকড়া পরাত, চোখ বাঁধতো এবং যমটুপি পরিয়ে নিয়ে যেত। কোনো কোনো সময় চোখ এতো জোরে বাঁধতো আমার চোখের মণিতে প্রচণ্ড ব্যথা করত এবং নাকে এতো চাপ লাগত যে শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হতো।

তিনি আরো বলেন, আমি উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়ি। একসময় শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাতাম। কখনো কখনো অবস্থা এতো খারাপ হয় আমাকে একজন বা কখনো দুজন ধরে বিছানা থেকে উঠানো হতো। খাবার সময় আমার চেয়ারের পাশে একজন দাঁড়িয়ে থাকত যেন দুর্বলতার কারণে আমি যেন মাটিতে পড়ে না যাই। সেলটি গরমের সময় অত্যন্ত গরম এবং শীতের সময় প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকত। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘামানোর ফলে ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হতো। লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য কখনো কখনো আমাকে তিন বেলা খাবারের সঙ্গে তিনটা করে লবণের ট্যাবলেট (সোডিক্লোর) খাওনো হতো। ডাক্তার খাবারের সময় কাঁচা লবণও খেতে বলেছিল। সোডিয়াম ঘাটতির জন্য প্রথম ১৩ মাসে রমজান মাস ছাড়া প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচদিন স্যালাইন লাগানো হতো। চোখ বেঁধে রাখার ফলে দুচোখের দুই ধারে এবং গালে ঘা হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, January 28, 2026

ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিক সব ভবিষ্যৎ আইনপ্রণেতা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিক সব ভবিষ্যৎ আইনপ্রণেতা:

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩০

শতাধিক ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিক সম্ভাব্য আইনপ্রণেতাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গত সপ্তাহে পরপর কদিনের নাটক শেষে দু-একজন নিতান্তই হতভাগ্য ছাড়া সবারই মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এক বিশাল অঙ্কের ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ করে দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্বখেদে মন্তব্য করেছেন, ‘মনোনয়ন বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা এবার দিয়ে দিয়েন।

টাকাটা না দিলে কিন্তু জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে এটা আপনাকে বললাম।’ যে প্রার্থীকে উদ্দেশ করে নির্বাচন কমিশনার শুধু একজন মানুষ হিসেবে নিতান্ত অসহায় মন্তব্যটি করেছেন, তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ নাকি হাজার কোটি টাকার বেশি! এই পরিমাণ টাকা কারা এবং কেন একজনকে ঋণ দেন সেটাও এক রহস্য।

পাঠক ধরে নিন, উপরোক্ত প্রার্থী নির্বাচনে জিতলেন এবং তার দল সরকার গঠন করল। সেক্ষেত্রে, পাওনাদারদের (ব্যক্তি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান) ঘাড়ে মাথা কয়টা থাকবে যে, পাওনা আদায় করতে তারা ভবিষ্যৎ সরকারি দলের ঋণখেলাপি সংসদ সদস্যের চৌহদ্দিতে পা দেওয়ার সাহস করবেন? তাছাড়া যে ব্যক্তি প্রায় দুই দশক বিরোধী দলে থেকেও এই বিপুল অঙ্কের টাকা ঋণ নিতে পেরেছেন, তার ক্ষমতাটাও তো আন্দাজ করতে হবে।

তিনি এখনই এতখানি ক্ষমতাবান যে, একজন নির্বাচন কমিশনার তাকে ঋণখেলাপি জেনেও মনোনয়নের বৈধতা দিতে বাধ্য হয়েছেন। এমন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিশ্চয়ই পূর্ণ মন্ত্রী না হয়ে ছাড়বেন না। বলা যায় না, হয়তো অর্থমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন। কাজেই মানুষ হিসেবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বলা সদুপদেশের বাস্তবে কানাকড়ি মূল্য নেই।

কোটি টাকার প্রশ্ন হলো, আসলেই কি ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার এবং এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন ঋণখেলাপিদের নির্বাচন থেকে আটকাতে চেয়েছে? আমার এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। প্রতিবার সংসদে দলে দলে ঋণখেলাপি পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেই যাবতীয় বন্দোবস্ত করে রাখা হয়েছে। একটা উদাহরণ দিলেই পাঠক শুভংকরের ফাঁকি ধরতে পারবেন।

ধরুন, মিস্টার ‘এক্স’ একজন বিশাল শিল্পপতি, যার প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং তিতাস গ্যাস কোটি কোটি টাকা পাবে। ‘এক্স’ সাহেব তার শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালিয়ে শতকোটি টাকা আয় করলেও বছরের পর বছর গ্যাস আর বিদ্যুৎ বিল বাকি রেখে দিয়েছেন। এই কাজের জন্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলোতে মাসে মাসে ভালোই খরচাপাতি করতে হয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার সাহেবদের সততার আবার তেমন একটা সুনাম নেই। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এসব কোটি টাকার বিলখেলাপিদের মনোনয়ন অবৈধ বলা যাবে না। কারণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির তিনি চেয়ারম্যান কিংবা ম্যানেজিং ডিরেক্টর হলেও বকেয়ার দায় কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের, তার মালিকের নয়।

প্রতিষ্ঠান তো আর নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে না, তাই কোম্পানি দায়গ্রস্ত হলেও মালিকের মনোনয়ন বৈধ হতে কোনো বাধা নেই। কী চমৎকার বন্দোবস্ত! এখন নির্বাচন কমিশনের কর্তাব্যক্তিরা যদি বলেন যে তারা আইনের এসব ফাঁকফোকরের কথা জানতেন না, তাহলে আমরা আমজনতা আর কীইবা করতে পারি! আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের মধ্যে অধিকাংশের এ-জাতীয় বিপুল অঙ্কের দায়দেনা রয়েছে।

বিগত দেড় বছরে আইনের সঠিক সংস্কার হলে গ্যাসবিল আর বিদ্যুৎবিল মেরে দেওয়া এসব তথাকথিত ধনী ব্যক্তি আজ নির্বাচনে অযোগ্য হতেন। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর যেসব উপদেষ্টার সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারটি গঠিত হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত তাদের অধিকাংশেরই এসব বিষয়ে কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং এনজিও চালানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা যতটুকু পেরেছেন, সেটাই মোটামুটি সততার সঙ্গে করার চেষ্টা করেছেন। তাদের সেই প্রচেষ্টা যথেষ্ট ছিল না বলেই মনে হচ্ছে।

আচ্ছা, অপরাধ কি শুধুই সরকারের উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশন, কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের? ভোটারদের কি এতে কোনো দায় নেই? এই ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি রাজনীতিবিদরা সবাই যার যার নির্বাচনি এলাকায় একেকজন বিরাট দানবীর। সরকার এবং ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে তারা এলাকার লোকজনকে বেশ উদার হাতেই সাহায্য করে থাকেন। আর নির্বাচনের মৌসুমে তো একেবারে বেহিসাব খরচ। প্রতিদিন টাকা ওড়ে।

ভোটাররা এতেই খুশি। ফেলো কড়ি মাখো তেল। হাতে টাকা, বাক্সে ভোট। এলাকার লোকজন অর্থাৎ ভোটাররা ব্যাংকের কিংবা সরকারের টাকা মেরে দেওয়াকে কোনো অপরাধ বলেই মনে করেন না। বরং এটা একটা অহংকার করার মতো বিষয়। সাহেবের ক্ষমতা আছে বলেই না হাজার কোটি টাকা মেরে দিতে পেরেছেন। সবাই কি পারে? এই মেরে দেওয়া টাকা যে আসলে জনগণের এবং ভোটাররা সেই জনগণের অংশ, সেটা আজ পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়নি। এ জন্যই বর্তমান নির্বাচনের তরুণ প্রার্থীরা টাকার অভাবে নির্বাচনের আগেই হেরে বসে আছেন। এলাকায় কান পাতলে চারদিকে শুধু টাকার জন্য হাহাকার শুনতে পাবেন। ড. ইউনূস নির্বাচনের কলুষিত ‘সিস্টেম’ বদলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে আগামী সংসদের চরিত্রের তেমন একটা পরিবর্তনের আশা আমাদের না করাই ভালো।

এবার দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীদের বিষয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক। বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় আর কেউবা বাধ্য হয়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের মধ্যে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী, সামরিক ও বেসামরিক আমলা, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, আইনজীবী ও অন্যান্য পেশাজীবী, বিদেশে পড়তে গিয়ে সে দেশে সফল ও প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী, জন্মসূত্রে বিদেশি নাগরিক, আমেরিকায় ডিভি-ওয়ানসহ অন্যান্য বিশেষ স্কিমপ্রাপ্ত ভাগ্যবান ব্যক্তি এবং কাজের খোঁজে বিদেশে গিয়ে নানা উপায়ে নাগরিকত্ব গ্রহণকারীরা রয়েছেন। এর বাইরে একটি শ্রেণি রয়েছে যারা রাজনৈতিক কারণে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং ‘অ্যাসাইলাম’ ও অন্যান্য উপায়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমার সহকর্মী অলিউল্লাহ নোমানের কাহিনি বলি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে আমার দেশ পত্রিকায় স্কাইপ কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হলে অলিউল্লাহ নোমানের জীবনের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে আমি তাকে কয়েক ঘণ্টার নোটিসে লন্ডনে পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেই সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান অ্যামনেস্টির বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে আমার বেশ বন্ধুত্ব ছিল। আমি তাকে নোমানের ‘অ্যাসাইলামের’ ব্যাপারে সহায়তা করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম।

তিনি অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। এ ছাড়া তখন লন্ডনে একজন বাংলাদেশি নবীন ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজের সহায়তাও চেয়েছিলাম। আমার ছোট ভাইয়ের সমতুল্য ইঞ্জিনিয়ার তারিক বুয়েটের ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট এবং ভিপি ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার তারিক লন্ডনে গিয়ে পেশা পরিবর্তন করে আইনজীবী হয়ে গেছেন। নোমান লন্ডনে গিয়ে অমানুষিক কষ্ট করেছেন। কয়েক বছর একা থেকে তারপর পরিবার নিতে পেরেছিলেন। এখন তারা সপরিবারে ব্রিটিশ নাগরিক। জামায়াত এবারের নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে নোমানকে প্রথমে প্রার্থী ঘোষণা করেও জোটের স্বার্থে খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি আহমেদ আবদুল কাদেরকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে। আমি নোমানের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দ করিনি। সহকর্মীরা জানেন যে, কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমি কখনো বাধা হই না। তাই আমার অপছন্দের বিষয়টি আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেও নোমানের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছিলাম।

শেষ পর্যন্ত নোমানের প্রার্থিতা চলে যাওয়ায়, আমি মনে করি তার ভাগ্য ভালো যে, তাকেও অন্যদের মতো আজ দ্বৈত নাগরিক বিতর্কে পড়তে হয়নি। আমি নিজেও প্রায় নাগরিকহীন অবস্থায় আল্লাহর রহমতে ২০২০ সালে তুরস্কের নাগরিকত্ব পেয়েছিলাম। কাকতালীয়ভাবে আজকের মন্তব্য প্রতিবেদন আমি তুরস্কে বসেই লিখছি। আমার এই তুর্কি নাগরিকত্ব নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করছিল, তখন তারা একবারও তাদের দলের দ্বৈত নাগরিকত্বধারী নেতাদের আসন্ন মহাবিপদ নিয়ে কোনোরকম চিন্তা করেনি।

মূর্খ বন্ধুরা এভাবেই বিপদে ফেলে। শুধু তা-ই নয়, বিএনপির মিডিয়া সেলের সেই সব সদস্যও কিন্তু নানা উপায়ে বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন অথবা কোনো বৈধ-অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে সেসব দেশে আশ্রয় পেয়েছেন। এই শ্রেণির লোকেরা কখনো আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন না। কাচের ঘরে বসে তারা অবলীলাক্রমে অন্যের ঘরে ঢিল ছুড়ে যায়। এরা এতটাই নির্বোধ যে, এই সামান্য বিষয়টি বুঝতে পারল না। আমার যেহেতু নির্বাচনে দাঁড়ানোর কোনোরকম ইচ্ছা নেই, কাজেই আমার দ্বৈত নাগরিকত্বে কিছু যায় আসে না। আমার বিরুদ্ধে তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা এখন বুমেরাং হয়ে দলের নেতাদেরই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

পুনরায় ইউনূস সরকার এবং নাসির উদ্দিন কমিশনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলতে হচ্ছে। তারা কি জানতেন না যে, বিদ্যমান আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে বেশ ঝামেলা আছে? আমি যতদূর জানি, আইনে বলা আছেÑকোনো দ্বৈত নাগরিক বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। অধিকাংশ রাজনীতিবিদ এই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এতদিন ধরে একটা চালাকি করে এসেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীপদ জমা দেওয়ার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের একটা ঘোষণা দিয়েই কাজ সেরেছেন। পরবর্তী সময়ে সেই ঘোষণা আদৌ কার্যকর হয়েছে কি না, সেই খবর আর কেউ রাখেনি। অনেকে আবার নিজেদের বিদেশি নাগরিকত্বের ব্যাপারটি বেমালুম গোপন করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হয়েছেন।

হাসিনার মন্ত্রিসভার এক বিপুল অংশ তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েই বাংলাদেশে বছরের পর বছর মন্ত্রিত্ব করে গেছেন। কথায় আছে না, চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ে ধরা! অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ করে বিএনপির সব প্রভাবশালী নেতা এবং দলবাজ টকশো স্টাররা দিনের পর দিন ঝড় তুলেছেন। তারা বিশেষ করে আমার কলেজ জীবনের বন্ধু, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ নানারকম অরুচিকর অভিযোগ করেছেন।

ইদানীং শুনতে পাচ্ছি, খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিএনপির পুরোনো বন্ধুত্ব ঝালাই হয়েছে। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালনকালে খলিলুর রহমান বিএনপির যথেষ্ট উপকার করেছিলেন। মোদ্দা কথা, দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু তুলে এখন বিএনপি বেশ ফেঁসে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। জনগণের জেনে রাখা দরকার যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের ঝামেলা কেবল বিএনপি নয়, জামায়াতের মধ্যেও রয়েছে। দ্বৈত নাগরিক হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়, কোনো বেআইনি কাজও নয়।

অপরাধ হলো, দ্বৈত নাগরিক হয়ে সেটা লুকিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের মিথ্যা হলফনামা পেশ করা। আমার ধারণা, মনোনয়ন বৈধ হয়ে যাওয়া অনেক প্রার্থীর সঠিক খোঁজখবর নিলে মিথ্যা হলফনামা দেওয়া সম্ভাব্য সংসদ সদস্যদের দেখা এখনো মিলবে। জনগণের উচিত নির্বাচনের পরও এই খোঁজ অব্যাহত রাখা। সংসদ সদস্য বনে যাওয়ার পর যদি সেই ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে প্রথমে অবশ্যই আদালতে যেতে হবে। সেখানে ন্যায়বিচার না পাওয়া গেলে রাজপথ তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। যে পরিবর্তনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে আবু সাঈদ, আনাস, মুগ্ধরা মহান জুলাই বিপ্লবে জীবন দিয়েছিল সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সূত্র: আমার দেশ 

হ্যাঁ ভোট নিয়ে বিভ্রান্তিতে বিএনপির তৃণমূল, সমর্থন জামায়াত-এনসিপির। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

হ্যাঁ ভোট নিয়ে বিভ্রান্তিতে বিএনপির তৃণমূল, সমর্থন জামায়াত-এনসিপির:

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪০

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। তবে মাঠে দুই ভোটের প্রচারে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর জোরালো প্রচারের বিপরীতে গণভোট অনেক দলের কাছেই যেন উপেক্ষিত। বিশেষ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আনুষ্ঠানিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও প্রচারের ক্ষেত্রে বিএনপির নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিপরীতে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট গণভোটকে সামনে রেখে জোরালো প্রচার চালাচ্ছে।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকার ঘোষণা দেওয়ার পরও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিভ্রান্তিতে। সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’Ñকোন অবস্থান নেবেন, তা স্পষ্ট করতে না পারায় ভোটারদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।

বিএনপির কয়েকজন তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না পেলেও ভোটাররা জানতে চাইলে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই কথা বলছেন। তবে অনেক এলাকায় কেবল ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে, গণভোটের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে গণভোট নিয়ে জোরালো প্রচারে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। প্রতিটি নির্বাচনি সভায় তারা সংসদ নির্বাচনের প্রচারের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাচ্ছে। জোটের অনেক প্রার্থী তাদের ব্যানার-লিফলেটে গণভোটের কথাও লিখেছেন। তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে অনুরোধ করেছেন।

এদিকে, গণভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটের পক্ষে সচেতনতা বাড়াতে সরকারের উপদেষ্টারা সারা দেশ সফর করছেন। সরকারের সব দপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে। সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক ও তথ্য মন্ত্রণালয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোটারদের সচেতন করতে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চালানো হচ্ছে প্রচার। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ প্রণয়ন করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ওই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করে। ওই অধ্যাদেশের আলোকে গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গণভোটেরও তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের দিনেই একই সঙ্গে গণভোট হবে। সংসদ নির্বাচনের ভোটাররাই গণভোটের ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

তফসিল ঘোষণার পর সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বিধিনিষেধ থাকলেও গণভোটের প্রচারে আইনত কোনো বাধা ছিল না। এ সময় জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালালেও নীরব দেখা গেছে বিএনপিকে। গত ২২ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালানো শুরু করে। তবে গণভোট প্রশ্নে বিএনপির কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচার শুরুর দিন দেশের সাতটি জেলায় জনসভায় বক্তব্য দিলেও কোথাও গণভোটের প্রসঙ্গ তোলেননি। গতকাল মঙ্গলবারসহ ছয় দিনে আরো অন্তত ১০টি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিলেও কোথাও গণভোট প্রসঙ্গে নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সারা দেশে বিএনপির প্রার্থীদেরও নির্বাচনি প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়নি।

তবে কয়েক জেলার বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নির্বাচনি এলাকার একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তার দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলে জানান। তবে সেখানে তিনি ‘হ্যা’তে ভোট দেওয়া না দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

জানা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘নাঁ’-এর বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের তৃণমূলে কোনো ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দলটির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতাদেরও প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাতে দেখা যায়নি। বিপরীতে কোনো কোনো জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি সমর্থিতদের চুপিসারে ‘না’ ভোটের প্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এটি দলের সিদ্ধান্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও গণভোটের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় বিএনপির তৃণমূলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

গত ১৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সমর্থন দেওয়াই আমাদের সিদ্ধান্ত। একই ভাবে দলের মুখপাত্র মাহদী আমিন আমার দেশকে বলেন, বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রয়েছে, প্রচারও চলছে।

এর আগে গণভোটে ‘না’ দেওয়ার সুযোগ নেই মন্তব্য করে গত ৯ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নির্বাচনি এলাকার এক অনুষ্ঠানে বলেন, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আমরা চেয়েছিলাম, সেভাবেই হয়েছে। সংস্কারের বিষয়ে যে গণভোট হচ্ছে, সেগুলো আমরা বহু আগেই জাতির সামনে তুলে ধরেছিলাম। সেখানে ‘না’ বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তারা গণভোটের পক্ষে হলেও এর বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের অসন্তোষ রয়েছে। দলটির দাবি, তারা যে জুলাই সনদে সই করেছিল, গণভোটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বিশেষ করে তারা যেসব নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, তা গণভোটে আমলে নেওয়া হয়নি। গণভোটের প্রশ্নগুলো নিয়েও দলটির এক ধরনের আপত্তি রয়েছে, যে কারণে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ইঙ্গিতে মুখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও প্রচারের ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

হতিরঝিল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম হোসেন টুটুল আমার দেশকে জানান, গণভোটের বিষয়ে তারা এখনো কেন্দ্র থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন আমার দেশকে বলেন, জেলা ও কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত গণভোটের ‘হ্যা’ বা ‘না’ কোনোটির পক্ষেই প্রচারের নির্দেশনা তারা পাননি। তারা শুধু ধানের শীষ প্রতীকের জন্য সাধারণ জনগণের কাছে ভোট চাচ্ছেন। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলে গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের অবহিত করবেন। তবে জেলার হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দাবি করেন, তাদের দলের মহাসচিব ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে বলে দিয়েছেন। এজন্য তারা ধানের শীষের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছি। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ পরে পরিবর্তন করে এতে অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া দলের এই প্রভাবশালী নেতা।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনি মাঠে বেশ সরব জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনি প্রচার, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছের দলগুলো নেতারা। দলীয় নেতা ও প্রার্থীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। দলীয়ভাবে প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমেও চলছে প্রচার কার্যক্রম।

সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য না হওয়ায় এ বিষয়ে আগে থেকেই গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছিল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সমমনা দলগুলো। সে অনুযায়ী ভোটের সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ব্যাপক প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দলগুলো। তারই অংশ হিসেবে এখন দেশজুড়ে প্রচার কার্যক্রম চলছে।

গত ১৫ জানুয়ারি ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য ঘোষণার দিন জোটের ঘোষণাপত্রে তিন দফা উদ্দেশ্যের মধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গঠনের কথাও বলা হয়। সে অনুযায়ী এর পক্ষে প্রচারসহ ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে জোটটি। জোটভুক্ত কোনো কোনো দল তাদের দলীয় প্রতীকে ভোট না দিলেও যেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়া হয় এমন আহ্বান জানাচ্ছে ভোটারদের প্রতি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই বিপ্লবের গণআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’-এর বিজয়ের জন্য প্রচার চালাচ্ছে ফ্যাসিবাদবিরোধী ১১ দল নিয়ে গঠিত নির্বাচনি ঐক্য ।

সূত্রমতে, গত ২২ জানুয়ারি থেকে সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলো। সেদিন থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রতিটি দলের সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছেন প্রার্থীরা। এছাড়া ডিজিটাল ও সামাজিক মাধ্যমগুলোয়ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রচার ও ফটোকার্ড পোস্ট করা হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার প্রতিটি নির্বাচনি জনসভায় দলীয় প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। প্রথম নির্বাচনি জনসভায়ই ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেবেন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখানোর নামই ‘হ্যাঁ’। গতকাল যশোরে নির্বাচনি জনসভায়ও তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, ‘না’ জিতলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা মামুনুল হক তার নির্বাচনি জনসভায় বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বলতে চাইÑশহীদদের প্রতি যদি ন্যূনতম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তবে মন থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকুন। উপরে উপরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলবেন আর ভেতরে ভেতরে ‘না’ ভোটের প্রচার করবেনÑএ ধরনের মুনাফিকির রাজনীতি আর চলবে না।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ত্রিমাত্রিক প্রচারে নেমেছে। তারা জনসচেতনতা তৈরিতে সামাজিকমাধ্যমে ভিডিও ও ফটোকার্ড প্রকাশ, লিফলেটসহ নানা ধরনের প্রচারপত্র বিতরণ এবং বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার করছে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে শক্ত বার্তা দিয়ে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হচ্ছে। গণভোটকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার চালাতে এনসিপি ২৭০ আসনে প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। তাদের নেতৃত্বে লিফলেট বিতরণ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের পাশাপাশি কার্যক্রম গতিশীল করতে কার্যপরিধিভিত্তিক গণভোট উপকমিটি গঠন করেছে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হককে প্রধান এবং দলটির আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব আরমান হোসাইনকে সেক্রেটারি করে ২২ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলটি যে ২৭০টি আসনে প্রার্থী দেয়নি, সেখানে ‘গণভোটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বসেডর’ ঘোষণা করেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম থেকে সোমবার নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু করেছে এনসিপি। এ পদযাত্রায় দলটির প্রতীক শাপলা কলিতে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। পদযাত্রার গাড়িতেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগান লেখা হয়েছে। দলটির ফেসবুক পেজের পোস্টে বলা হয়েছে, ‘নতুন চোখে বাংলাদেশ দেখতে গণভোটে হ্যাঁ বলি, মার্কা এবার শাপলা কলি’।

এদিকে নির্বাচনি পদযাত্রার আগে ভিডিও বার্তায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আমরা সংস্কার, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার জন্য নির্বাচনি পদযাত্রা শুরু করেছি। চট্টগ্রাম থেকে সারা দেশ ঘুরে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে সচেতনতার কাজ করব। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সুন্দর একটি রূপান্তর ঘটবে বলে আশা করি।

১১ দলীয় জোট ছাড়াও ওই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরো কিছু দলও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব। তবে সরাসরি ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিগত সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের সুবিধাভোগী জাতীয় পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপর এক সঙ্গী ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশও ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল দাবি করে গণভোটে ‘না’ চিহ্ন দেওয়ার কথা বলেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের একটি অংশের প্রচারে গণভোটের বিষয় উপেক্ষিত হচ্ছে। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এটা কাম্য নয়। যেসব দলকে আমরা গণভোটের বিষয়ে সিরিয়াস দেখেছিলাম তাদের মধ্যেও গণভোটের প্রচার দেখা যাচ্ছে না। তারা গণভোটের চেয়ে দলীয় প্রতীকের পক্ষেই ভোটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, প্রচার কার্যক্রম চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে গণভোট তথা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা। পাশাপাশি জনগণকে গণভোট প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করা। রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের বিষয়ে নীরব থাকলে তরুণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেবে।

সূত্র: আমার দেশ 

Monday, January 26, 2026

ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড:

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৩৪

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় শাহরিয়ার খান আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করে। এ মামলায় মোট আসামি আটজন। কারাগারে থাকা চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও সাবেক এডিসি (রমনা) শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম।

এছাড়া এ মামলায় অন্য আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রমনা জোনের সাবেক এসি মোহাম্মদ ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর, কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক রয়েছেন।

এর আগে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণর কথা থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেছিল।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দুই শীর্ষ সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসি এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

সূত্র: আমার দেশ 

Saturday, January 24, 2026

প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো অন্তরীণ আলেমরা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো অন্তরীণ আলেমরা:

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভার পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার নাটকে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে এখনো জেলে বছরের পর বছর বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন বহু আলেম। এ মামলার প্রথম চার্জশিটে এসব আলেমের নাম ছিল না। বিতর্কিত এ মামলা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পরও দলকানা বিচারকরা হাসিনাকে খুশি করতে আলেমদের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে নিজেরা পুরস্কৃত হন।

মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা আলেমরা হলেন—মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আমিরুল ইসলাম, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা আব্দুর রউফ ও মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। বিচার চলাকালে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা ইয়াহিয়ার কারাগারে নির্যাতনে মৃত্যু হয়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় প্রথম চার্জশিটে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল। সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান সেটির চার্জশিট দিয়েছিলেন। সেখানে এসব আলেমের নাম ছিল না। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম তখনকার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আলেমদের এই মামলায় ঢুকিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই ২০১৭ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি মমতাজ বেগম এ আলেমদের ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রায় দেয় । আর আওয়ামী লীগের শাসনামলের সময় ২০২১ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোহাম্মদ বদরুজ্জামান নিম্ন আদালতের সে বিতর্কিত রায় বহাল রাখেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অন্য একটি মামলার আসামি মুফতি হান্নানের জোরপূর্বক নেওয়া জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে এসব আলেমের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। উচ্চ আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে মুফতি হান্নানের জবানবন্দিগুলোকে ‘আইনের চোখে অবিশ্বাসযোগ্য’ ঘোষণা করে বাতিল করে। জবানবন্দিগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছিল বলে আদালত এ রায় দেয় । যদিও মুফতি হান্নানের সেই সাজানো জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই, শেখ ফরিদ, আবু তাহের, ইয়াহিয়া, আব্দুর রউফসহ অনেক আলেমকে ২১ আগস্টের মামলাতেও আসামি করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চ আদালত এই মামলায় সবাইকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেয়।

কোটালীপাড়ায় হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় এসব আলেমের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অথবা সমর্থনমূলক সাক্ষ্য প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে না পারলেও তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল আদালত। যদিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বা সমর্থনমূলক প্রমাণ ছাড়া শুধু একজনের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অন্য কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। কিন্তু এ মামলায় আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে রায় দেয় তৎকালীন আওয়ামী বিচারকরা।

মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বদরুজ্জামান লিখেনÑ‘যেহেতু ষড়যন্ত্র আকারে ইঙ্গিতে কিংবা নীরবতার মাধ্যমেও হতে পারে, তাই সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো একজনের জবানবন্দির ভিত্তিতেই বাকিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে বাড়তি সাক্ষ্যের কিংবা সমর্থনমূলক সাক্ষ্যে কিংবা অন্য কোনো প্রমাণের দরকার নেই।’

হাসিনার আজ্ঞাবহ বিচারকরা যে, এ রায় লিখেছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় মামলার পেপারবুকে। রায়ের এক জায়গায় বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বদরুজ্জামান লিখেছেনÑ‘কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা সফল হলে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিভীষিকাময় ঘটনার মধ্য দিয়ে শহীদ হওয়ার কারণে এ সার্বভৌম দেশটি যতটুকু পিছিয়ে গিয়েছিল, ঠিক আবারও অনুরূপ একটি ঘটনার অবতারণা হতো। আদতে এ দেশটি দুর্ভাগা এ কারণে, জাতির পিতাকে সপরিবারে বিনা দোষে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল ঘাতকের দল। দুনিয়ার কোনো সভ্য দেশে এমনিভাবে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার ঘটনা বিরল। কাজেই এ মামলায় সংঘটিত ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার অবকাশ নেই।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এলে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্নভাবে তাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

পর্যবেক্ষণে বিচারক আরো বলেন, ‘মুফতি হান্নানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী ২০০০ সালের জুলাই মাসে হুজির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বৈধ সরকারকে উৎখাতের জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ওই বছরই কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলে ও হেলিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ও ৪০ কেজি ওজনের শক্তিশালী বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। সমাবেশের আগে চায়ের দোকানে বদিউজ্জামানের মাধ্যমে পুলিশ তা উদ্ধার করে। বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রথম ঘটনা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই, দ্বিতীয় ঘটনা ২০০১ সালে খুলনায়, তৃতীয় ঘটনা ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটে, চতুর্থ ঘটনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায়। এ কারণে হুজি ও জেএমবিসহ বিভিন্ন জঙ্গি ও আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লিখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

বিচারকদের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা

সাজানো এ মামলায় প্রহসনের রায় দেওয়া বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক থাকাকালে হাসিনার নির্দেশে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী এবং এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির আদেশ দেন। শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা এবং যুদ্ধাপরাধ মামলায় প্রহসনের বিচারের পুরস্কারস্বরূপ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ পান। জুলাই বিপ্লবে হাসিনার পতনের পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিচারপতি বদরুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপার স্বামী। দুর্নীতি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৯ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রুপার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। হাসিনার পলায়নের পর বদরুজ্জামানকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফুর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে শেখ হাসিনার জনসভার প্যান্ডেল প্রস্তুতকালীন ২০ জুলাই ৭৬ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধারের একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। তার তিনদিন পর ২৩ জুলাই শেখ হাসিনার হ্যালিকপ্টার নামার জন্য তৈরি হ্যালিপ্যাডের কাছ থেকে আরো ৪০ কেজি ওজনের বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা হয়েছিল।

একই রকম ঘটনা, কিন্তু মামলায় আসামি ভিন্ন ভিন্ন। ২০ জুলাই উদ্ধার হওয়া বোমা মামলায় যাদের আসামি করা হয়, ২৩ তারিখে উদ্ধার হওয়া বোমা মামলায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, রাষ্ট্রদ্রোহ ও হত্যা ষড়যন্ত্র আইনে আসামি করা হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন ১৪ জনকে। এ ১৪ জনের বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আসামি ভিন্ন ভিন্ন হয় কীভাবে সেটা রহস্যজনক। তর্কের স্বার্থে যদি যেকোনো এক মামলার আসামিদের দোষী ধরে নেওয়া হয়, তাহলে অন্য মামলার আসামিরা নিরপরাধ। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনার ক্যাঙ্গারু কোর্ট এক মামলায় ১০ জন ও অন্য মামলায় ভিন্ন ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। প্রশ্ন ওঠে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিয়ে। বাস্তবিকভাবে একই ঘটনার আসামি ভিন্ন হতে পারে না ।

উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়

হাসিনা হত্যাচেষ্টার মামলার নিম্ন আদালতের রায়সহ সব নথি ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এরই মধ্যে পেপারবুক তৈরি হলে হাইকোর্টে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। কিন্তু হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কয়েকবার পুনর্গঠন হওয়ায় মামলাটি শুনানিতে আসেনি। জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মামলাটি শুনানির জন্য বারবার তোলার কথা বলা হলেও তা এখনো হয়নি। ফলে এ আলেমদের বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে।

হাসিনা পরিবারের নিরাপত্তা আইন পাস করতে বোমা নাটক

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আমিরুল ইসলামের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ২০০০ সালে খুনি হাসিনা ও তার পরিবারের আজীবন নিরাপত্তা বিল পাস করার জন্য কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা মামলার নাটক সাজানো হয়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা অনেক জঙ্গিনাটক সাজিয়ে পাইকারি হারে দেশের বড় বড় আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদকে আসামি করে জেলখানায় পাঠায়। তাদের বন্দির কারণ এসব আলেমরা ভারতের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। হাসিনার অন্যায়, জুলুমের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এসব বোমার নাটক সাজিয়ে হাসিনা নিজ পরিবারের আজীবন নিরাপত্তা বিল পাস করে ও বিদেশি প্রভুদের খুশির ক্ষেত্রে সফল হয়।

তিনি বলেন, আমার বাবা ৭০ বছর বয়সি একজন প্রখ্যাত আলেম। লেখালেখি, তালিম, তাজকিয়া নিয়েই তিনি ব্যস্ত থাকতেন। তাকেসহ বহু আলেমকে হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলায় জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে বিশ্বাস করে আজও অপেক্ষায় আছি।

আরেক কারাবন্দি মুফতি শফিকুর রহমানের জামাতা গিয়াস উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, আমার শ্বশুর ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোট গঠনের অন্যতম কারিগর। এতেই শেখ হাসিনার টার্গেটে পরিণত হন তিনি। ৭৬ কেজি বোমার ঘটনা সম্পূর্ণ একটি সাজানো নাটক । যে বোমার না বিস্ফোরণ হলো, না সেখানে কেউ হতাহত হলো। এ রকম একটা বানোয়াট ঘটনায় কাউকে ২০ বছর, কাউকে ২৫ বছর যাবৎ কারাগারে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে। আইনি জটিলতায় মামলার শুনানি হচ্ছে না, আমরা রায়ও পাচ্ছি না।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে আলেমদের এ মামলায় জড়ানো হয়: দাবি আইনজীবীদের

এ ব্যাপারে মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান এবং মাওলানা শেখ ফরিদের আইনজীবীরা জানান, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং রায়সহ প্রতিটি বিষয়ে আলেমরা নির্দোষ প্রমাণিত হন। অন্য মামলায় আদালত রায়ে বলেছে, সাজানো স্বীকারোক্তিতে এ মামলায় আলেমদের সাজা দেওয়া হয়। মামলার দীর্ঘসূত্রতার জেরে তাদের এখনো জেলে অন্তরীণ রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন লাইট হাউসের সদস্য সচিব এবিএম সাইফুল্লাহ আমার দেশকে বলেন, স্বনামধন্য আলেমদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হাসিনার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। এভাবে বিভিন্ন এজেন্ডায় আলেমদের জঙ্গি হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে স্বৈরাচার হাসিনা।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, January 22, 2026

নির্বাচন সামনে রেখে দিল্লিতে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

নির্বাচন সামনে রেখে দিল্লিতে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র:

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ২৪

জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লি।

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি মৌলবাদ তকমা দিয়ে চাপে ফেলতে চাইছেন দিল্লির নীতিনির্ধারকরা। শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগকে মাঠে নামানোর পাশাপাশি দিল্লিভিত্তিক বিভিন্ন ‘থিংক ট্যাংক’ মাঠে নেমেছে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায়।

গত কয়েক দিনে দিল্লিতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া, বাংলাদেশে ইসলামি মৌলবাদের কল্পিত উত্থান নিয়ে দিল্লিতে সেমিনারের আয়োজন এবং সর্বোপরি আগামীকাল (শুক্রবার) দিল্লিতে কর্মরত ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে শেখ হাসিনার মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লিতে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী এ তৎপরতা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির ওপর পুরোপুরি আস্থা না রাখার পাশাপাশি ইসলামি দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দিল্লি।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি সর্বাত্মক বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় নেমেছে। এখন মোদি সরকারের প্রধান টার্গেট বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে চাপে ফেলার পাশাপাশি দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। এ সময় দিল্লির বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লি প্রেস ক্লাবে ভারতের ডিপস্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না।

তারা আরো বলেন, আমরা শিগগির শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেশে ফিরব এবং ক্ষমতায় যাব।

ওই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করছে মোদি সরকার। ওই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র দুদিন পর গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ‘সিডস অব হেট : বাংলাদেশ’স এক্সিমিস্ট সার্জ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার র‌্যাডিক্যাল অর্গানাইজেশনস’ শীর্ষক বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও ভারতীয় সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর যৌথভাবে সম্পাদিত এ বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী এমজে আকবর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পংকজ সরণ, ড. অনির্বাণ গাঙ্গুলী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, শ্রুতি পাট্টানায়েক প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকরা বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের দাবিÑকথিত এ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে, যা দেশটির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করবে।

পঙ্কজ সরণ তার বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এখন বড় প্রশ্ন হলোÑবাংলাদেশ তার অতীত থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করতে পারবে কি না।

এমজে আকবর বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন যারা সরকারে আছে, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক নয়। এ পরিবর্তন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে হতো, তাহলে আজ এই বইয়ের প্রকাশনা বা এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ত না।

অন্য বক্তারা বাংলাদেশে কথিত মৌলবাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোর পাশাপাশি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনাকে ক্যামেরার সামনে দেখা যেতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পালিয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে হাসিনা এখনো ক্যামেরার মুখোমুখি হননি। দিল্লির অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ‘ফরেন করেসপনডেন্স ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাব’।

দিল্লির একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করার কথা রয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ সরণের। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার। আমন্ত্রণপত্রে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির ব্যাপারে ঢাকার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেয়নি দিল্লি।

কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই সময় এ ব্যাপারে ঢাকার পক্ষ থেকে আপত্তি জানানোর পর সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি রীতিমতো উসকানিমূলক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বারবার দাবি জানালেও বিষয়টি প্রতিবারই এড়িয়ে গেছে দিল্লি। এ পরিস্থিতিতে দিল্লিতে শেখ হাসিনার কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে হাসিনার পাশে থাকা এবং ঢাকার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়ারই বার্তা দেয়।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ দিল্লির এ ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপে বলেন, সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে এমন একটি সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়ছে, যখন বাংলাদেশ আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত যা করছে তা অপ্রত্যাশিত নয়, তারা বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েই আসছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত তার কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা বড় ধরনের একটি বার্তা দেয়। ভারত আসলে বাংলাদেশ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষকে দিল্লির তৎপরতার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে ইউনূস সরকারকে আরো বেশি চাপে ফেলতে চাচ্ছে দিল্লি। মোদি সরকার কোনোভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ইউনূস সরকারকে মেনে নেয়নি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াত নেতৃত্বের ইসলামি দলগুলোর জোটের ভালো ফল করার আভাস মিলছে। বিষয়টিকে সামনে এনে ভারতের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য- বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এ তৎপরতার বিরুদ্ধে তেমন কেউ কিছু বলছেন না। একটি মৌলবাদী শক্তি এখন ভারত শাসন করছে। অথচ তারাই আবার কল্পিত মৌলবাদের ইস্যু সামনে এনে বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলছে।

সূত্র: আমার দেশ 

Friday, January 16, 2026

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কুশীলবেরা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কুশীলবেরা:

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ০৫

ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়। স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি, ইতিহাস, সামষ্টিক নিরাপত্তা, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত মর্যাদার সঙ্গে জড়িত ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ছিল খালেদা জিয়ার জন্য অত্যন্ত বেদনাপূর্ণ আঘাত। উচ্ছেদের সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযানে যাওয়া এক সেনা কর্মকর্তা খালেদা জিয়াকে বলছিলেন, ‘আপনি (খালেদা) বের হয়ে আসেন। না এলে আমরা জোর করে নিয়ে আসব।’ খালেদা জিয়া তখন বেডরুমে বসে ছিলেন।

ওই সময় খালেদা জিয়া বলছিলেন, ‘আমি কেন বের হয়ে আসব? এটা আমার বাড়ি। আমাকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’ বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পরই খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। চোখের পানি মুছছিলেন আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘আমাকে এক কাপড়েই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ স্মৃতিবিজড়িত ওই বাড়ি থেকে তিনি উঠেছিলেন গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য়।

আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন— ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা, তার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও এস কে সিনহা, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোজাম্মেল হক, সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, এডিজি মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, অভিযানে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী আমেরিকা-প্রবাসী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান, বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ, মদ উদ্ধার নাটক মঞ্চস্থকারী সাংবাদিক জ ই মামুন এবং গণমাধ্যমে কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরিকারী সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর।

উচ্ছেদের মামলা

২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাড়িটির ইজারা বাতিল করে। ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল এবং সেনানিবাস এলাকার নিয়মানুযায়ী বাড়িটি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া ছিল নিয়মবহির্ভূত— আওয়ামী লীগ সরকার এমন প্রোপাগান্ডা শুরু করে। ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে বিচার বিভাগে ভূমিকা ছিল খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার। খায়রুল হকের নেতৃত্বে এই তিনজনের আপিল বিভাগের বেঞ্চেই শুনানি ছাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি ছাড়াই তারা একতরফা রায় দিয়েছিলেন। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়িটি খালি করার কাজ শুরু হয়। ওই দিন খালেদা জিয়াকে অনেকটা জোর করে বাড়ি থেকে বাইরে এনে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদের কুশীলব যারা

শেখ হাসিনা : ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্যে সেটি তুলে ধরেছিলেন। শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত আইভি রহমানকে দেখতে সেনানিবাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তাকে সেনানিবাসের এই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করব। তাই একেবারেই উচ্ছেদ করে দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছিলেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তিনি তার বিভিন্ন বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে তুচ্ছতাচ্ছিল করে বক্তব্য দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

তারিক আহমেদ সিদ্দিক

শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব। ওই বাড়ি থেকে তাকে কোন প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা হবে, সেখানে কোন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, বাড়ি থেকে বের করা হলে সেনাবাহিনীর মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে এবং হলে কীভাবে সেটি সামাল দেওয়া হবে, তার পরিকল্পনা করেছিলেন তারিক। ওই সময় তিনি ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারপতনের পর তিনি হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যান।

খায়রুল হক

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ পতিত স্বৈরাচারের দল আওয়ামী লীগের দলদাস বিচারপতি বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়। খায়রুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চেই শুনানি ছাড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল। খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি ছাড়াই তারা একতরফা রায় দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন কাজে সমালোচিত ছিলেন খায়রুল। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েক দিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন, যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান থাকাকালে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এই বিচারপতি বর্তমানে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এস কে সিনহা

আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের মামলা নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পেছনে তিনি অন্যতম কুশীলব।

বিচারপতি মোজাম্মেল হক

ওই সময়ের আপিল বিভাগের বিচারপতি এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান বিচারপতি হওয়া মোজাম্মেল হকও ছিলেন খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা

আওয়ামী লীগের দলদাস বিচারপতি ছিলেন নাজমুন আরা সুলতানা। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব ছিলেন তিনি। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের আদালত অবমাননার মামলাটি তিনি শুনানি হতে দেননি। শুধু তাই নয়, তিনি হাইকোর্টে কর্মরত থাকাকালীন উদ্দেশ্যমূলক ও অতি উৎসাহী হয়ে অনেক রায় দেন। এর মধ্যে ফতোয়া অবৈধবিষয়ক রায়টি ছিল বেশি আলোচিত। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি ফতোয়াকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন তিনি। এছাড়া তার দেওয়া উল্লেখযোগ্য রায়গুলো হলো—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাদ পড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এবং উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণবিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়।

সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন

খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পেছনে অন্যতম কুশীলব ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীন। তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পর সেনাবাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়, সেজন্য তিনি শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়েছিলেন। আবদুল মুবীন বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর

খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় সামরিক বাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়, সেজন্য আগে থেকেই ডিজিএফআইকে দিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন মোল্লা ফজলে আকবর। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পুরো অপারেশনের দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। অপারেশনের জন্য আকবর তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেছিলেন।

ডিজিএফআইয়ের সাবেক এডিজি শেখ মামুন খালেদ

বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় ডিজিএফআইয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন শেখ মামুন খালেদ। মোল্লা ফজলে আকবরের মেয়াদের পর তাকে মহাপরিচালক করা হয়েছিল। ওই উচ্ছেদ অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী লে. কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান

খালেদা জিয়াকে বাড়ি উচ্ছেদের অভিযানে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান। খালেদা জিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে না এলে তিনি তাকে জোর করে ধরে আনার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব তিনি।

বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের অন্যতম কুশীলব ছিলেন বিটিআরসির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ। তিনি ওই সময় রাওয়া ক্লাবে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পক্ষে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের জড়ো করে সভা-সমাবেশ করেছিলেন। জানা গেছে, সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল খালেদাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হলে সেনাবাহিনীতে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়। সে উদ্দেশ্যেই তিনি রাওয়া ক্লাবে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের জড়ো করতেন।

মদ উদ্ধার নাটকের প্রতিবেদনকারী সাংবাদিক জ ই মামুন

সেনানিবাসের বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের পর মিডিয়ায় মদ উদ্ধার নাটকের মিথ্যা প্রতিবেদন করে প্রোপাগান্ডা তৈরি করেছিলেন সাংবাদিক জ ই মামুন। শুধু মদ উদ্ধার নয়; বাড়ি থেকে খালেদাকে কেন বের করা হলো, তা নিয়ে সাজানো প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন তিনি।

পত্রিকায় কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরি করেন সাংবাদিক বোরহান কবীর

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পক্ষে পত্রিকায় কলাম লিখে প্রোপাগান্ডা তৈরি করতেন সাংবাদিক সৈয়দ বোরহান কবীর। শেখ হাসিনার সাবেক প্রেস সচিব পলাতক সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের আমাদের সময় পত্রিকায় সৈয়দ বোরহান কবীরের একটি লেখা প্রকাশ করা হয়। বোরহান কবীর সেখানে লেখেন, ‘জিয়াউর রহমান পরিবার যে বিপুল রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য ও সহায়তা পেয়েছে, বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্রপতি, রাজনীতিবিদ বা সেনা কর্মকর্তা মৃত্যুর পর এর কানাকড়িও পাননি। সময় প্রবাহে বেগম জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসেছেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার সেই অনিশ্চিত অর্থনৈতিক অবস্থা এখন আর নেই। তার সন্তানরাও সফল ব্যবসায়ী। জেনারেল জিয়াউর রহমানের সমসাময়িক কর্মকর্তাদের তুলনায় শিক্ষায় না হোক, বিত্তের দিক থেকে তার সন্তানরা অনেক এগিয়ে। তারা এখন বিত্তবান।’

তিনি আরো লেখেন, ‘তাদের এ বিত্তের প্রসার ঘটুক, আমাদের আপত্তি নেই। বেগম জিয়া আজ সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন। আমার বিশ্বাস, আজ শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ১৯৮১ সালে তার অবস্থার স্মৃতি রোমন্থন করছেন। মাননীয় বিরোধী দলের নেত্রী, তাই আপনার কাছে একটি বিনীত প্রস্তাব রাখতে চাই। আপনি বাংলাদেশে একজন জননন্দিত নেত্রী। যে দেশের ৬২ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন, সে দেশে দুটি প্রাসাদোপম বাড়ি রাষ্ট্রের কাছ থেকে গ্রহণ কি আপনার করা উচিত?’

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করীম ভুঁইয়াকে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। একাধিকবার ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।

সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুল মুবীনের সঙ্গে যোগাযোগেরর চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

মঈনুল রোডের বাড়িটি ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের কাছে আবেগ, ইতিহাস ও স্মৃতির আঁতুড়ঘর। ওই বাড়িতে বেড়ে উঠেছেন তার সন্তানরা। ১৯৭২ সালে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হওয়ার পর মঈনুল রোডের বাড়িটিতে বসবাস শুরু করেন। এরপর সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকাকালেও তিনি সেখানেই থাকতেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তে বছরে মাত্র এক টাকা খাজনার শর্তে বাড়িটি খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

গুমের পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলত ৱ্যাব। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

গুমের পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলত র‌্যাব:

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬: ০৭

গুম-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ২০১২-১৩ সালে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি সুসংগঠিত ও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানী থেকে বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ সাতজনকে গুম করা হয়। একই সময় শিবিরের একাধিক নেতাকর্মীও নিখোঁজ হন। এসব ঘটনায় র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের ভূমিকার পাশাপাশি তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে গুমসংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান, র‍্যাব-১–এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত হায়াত, র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল-আমিন নূর, তৎকালীন মেজর আবদুল্লাহ আল মোমেন, ক্যাপ্টেন এইচ এম সেলিমুজ্জামান, র‍্যাব-৭–এর তৎকালীন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ এবং টিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ।

পাশাপাশি কমান্ড পর্যায়ে দায়ভার ছিল তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক এআইজি মো. মোখলেসুর রহমান, এডিজি (অপস) কর্নেল মজিবুর রহমান এবং র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা কর্নেল জিয়াউল আহসানের ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সরকারি নথি ধ্বংস এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কমিশন বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে তদন্ত চালালেও বহু ভুক্তভোগীর পরিচয় আজও অজানা রয়ে গেছে। একাধিক ঘটনায় নদীতে নামহীন লাশ ফেলে দেওয়ার ধরনও চিহ্নিত হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে একজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেই কর্মকর্তা কমিশনকে বলেন, রাতে কর্নেল জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যদের সহায়তায় একটি ‘গলফ অভিযান’ পরিচালনা করা হয়। সেখানে নাম না জানা ৪ জন ব্যক্তিকে প্রথমে গুলি, পরবর্তীতে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়। সেই গলফ অপারেশনে আমি উপস্থিত ছিলাম।

‘গলফ অভিযান’ বলতে তারা গুলি করে ‘টার্গেট’ ব্যক্তিকে হত্যা করা বুঝাতেন।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন ও তার সাত সঙ্গীর ঘটনায় একাধিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে পিকআপটি যৌথভাবে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স ও র‍্যাব-১ পরিচালনা করেছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত হায়াত কমিশনের কাছে লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন যে, তিনি অপারেশন সহজতর করতে একটি পেট্রোল টিম পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে দাবি করেছেন, চূড়ান্ত পরিকল্পনা কিংবা ভুক্তভোগীদের পরবর্তী ভাগ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। পেট্রোল টিমের সদস্যরা পিকআপের সময় উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল-আমিন নূরকে চিহ্নিত করেছেন। যদিও মেজর মাহফুজ নূর পিকআপে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তার ভূমিকা কেবল মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

অনেক ভুক্তভোগীর পরবর্তী পরিণতি এখনো অজানা রয়ে গেছে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী এবং ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল শিবিরের সদস্য হাফেজ জাকির হোসেনের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কমিশন বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপহরণে জড়িত একজন সৈনিকের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের সাথে যুক্ত ছিলেন। মেজর আশরাফুল আবেদীন (মেজর নওশাদ) এবং তার দলের সঙ্গেও তিনি কাজ করছিলেন বলে কমিশনকে জানান।

হাফেজ জাকিরের অপহরণে একটি পিকআপ দলকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মেজর আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং ক্যাপ্টেন এইচ এম সেলিমুজ্জামান। এই দুই কর্মকর্তা পরবর্তীতে গুমে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম স্বীকার করেছেন যে, তিনি মেজর মোমেনের দলের একজন সদস্য ছিলেন। কমান্ড পর্যায়ে দায়ভার ছিল তৎকালীন এআইজি মোখলেসুর রহমান (র‍্যাব ডিজি), এডিজি (অপস) কর্নেল মজিবুর রহমান এবং র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক রাতজুড়ে অপারেশনে প্রায় পাঁচজনকে হত্যার তথ্য, নদীতে লাশ ফেলার পুনরাবৃত্তিমূলক ধরণ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিট ও কর্মকর্তাদের সনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। বেঁচে থাকা জয়নুল আবেদীনসহ অন্যান্য সাক্ষীদের তথ্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ এবং র‍্যাব–৭ এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।

কমিশন বলছে, এই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে পিকআপ ও হত্যাকাণ্ডে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স, র‍্যাব-১ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন সরাসরি জড়িত ছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

Monday, January 12, 2026

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট মনিরুলের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট মনিরুলের:

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৪

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান প্রায় শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের নভেম্বরে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল—এই দুটি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক হাজার কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এছাড়া তার স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালিকার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক বলছে, পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন মনিরুল।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই দুটি এনজিও রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের নামে বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ অনুদান আনে। কৌশলে ওই টাকা মনিরুল তার শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের প্রতিষ্ঠান এস এস এন্টার প্রাইজসহ নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করেন। এনজিও থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে স্ত্রী, শ্যালক ও শালিকা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সেই অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেন তিনি।

দুদক জানিয়েছে, মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে ওই টাকা মনিরুলের শ্যালক শাহীন, এস এস এন্টারপ্রাইজ, তানভীর ডেইরি ফার্মসহ বিভিন্ন নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ এবং মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন। ব্যাংকের নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে দুদক। শিগগিরই দুদক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে মামলা দায়ের করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন আমার দেশকে জানান, অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুসন্ধান শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

দুদক জানায়, এসবির প্রধান হওয়ার পর মনিরুল ইসলাম কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি এনজিও নিয়ন্ত্রণে নেন। এই দুই এনজিওতে জঙ্গি অর্থায়ন হয় অভিযোগ এনে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু, দায়িত্ব পালনকালীন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তিনি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন বলেও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ১১ বছরে এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে বড় অঙ্কের অনুদান এসেছে। এস এস এন্টারপ্রাইজের লেনদেনের ধরন এবং প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এনজিও দুটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ জমা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) প্রতিষ্ঠানটির নামে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. গাজী মো. জহিরুল ও প্রজেক্ট ইনচার্জ এ কে এম রফিকুল হক হিসাব পরিচালনাকারী বলে উল্লেখ আছে। এই হিসাবে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা এবং ৮৬৭ কোটি নয় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমান স্থিতি রয়েছে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির হিসাব হতে ড্রিম স্ট্রাকচার, মেসার্স এস এস এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স গোলাম রব্বানী অ্যান্ড কন্ট্রাক্টর, সাজা ট্রেডিং, সাদি এন্টারপ্রাইজ, রেক্সনা ট্রেডিং করপোরেশন এবং ডি ডি বিল্ডার্সের হিসাবে ছোট ছোট কিন্তু বারবার অর্থ পাঠানোর কথা উল্লেখ আছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেএসআর ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল হতে এস এস এন্টারপ্রাইজের একটি হিসাবে ২৩ কোটি টাকা এবং আরেকটি হিসাবে ১৬ কোটি জমার বিষয়টি দেখা গেছে।

স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ৩৫ ফ্ল্যাট

মনিরুলের স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা জুলাই বিপ্লবের পর সচিবালয়ে যান। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তোপের মুখে তিনি বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যান। সরকার তাকে ওএসডি করেছে। পরবর্তী সময়ে মনিরুলের স্ত্রী সায়লা ও শ্যালকের নামে ৩৫টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে দুদক। সায়লার নামে ২০২০ সালে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসির হিসেবে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা জমা হয় এবং প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলনও করা হয়। এছাড়াও তার সাড়ে ২৩ লাখ টাকার ৩টি ডিপিএস এবং সাড়ে ছয় কোটি টাকার দুটি এফডিআর তথ্য পেয়েছে দুদক।

শ্যালক-শ্যালিকার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন

মনিরুলের শ্যালক শাহীনের নামে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১১টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনে সাড়ে তিন কোটি টাকার দুটি এফডিআরসহ প্রায় সাত কোটি টাকার হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ২৮৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা জমা ও ২৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। তার শ্যালিকা টুম্পার নামে সাউথইস্ট ব্যাংকের মিরপুর শাখায় ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা হয়।

ধূর্ত মনিরুলের চালাকি

দুদকের হাত থেকে বাঁচার জন্য মনিরুল নিজের নামে অ্যাকাউন্ট না খুলে স্ত্রী ও শ্যালক-শালিকার নামে অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধভাবে টাকা স্থানান্তর করেছেন। এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে তার প্রভাবের কারণে দুদক তার আয় ও ব্যয় এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান চালাতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে কমিশন।

সস্ত্রীক মনিরুল ত্রিপুরায়, মেয়ে লন্ডনে

শেখ হাসিনার আমলে কর্মরত মনিরুলের একজন আস্থাভাজন এসপি (বর্তমানে পলাতক) জানান, ‘জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ সদর দপ্তরে আটকা পড়েন মনিরুল। ফলে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে বিমানবন্দরের ভেতরের সড়ক দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন। ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একটি প্রাইভেট কারে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যান। সেখান দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তিনি বর্তমানে ত্রিপুরার ধলাই জেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তবে তার মেয়ে লন্ডনে অধ্যয়নরত আছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ডিএমপিতে জঙ্গি নাটকের মূল হোতা ছিলেন মনিরুল। তার সময় কথিত ‘জঙ্গি অভিযান’ শুরু হয়। ভারতে পালিয়ে গিয়েও মনিরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। প্রায়ই তিনি দেশের সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে কটূক্তি করছেন। পাশাপাশি ভারতে পালিয়ে যাওয়া পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার প্রশংসায় মত্ত রয়েছেন।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, January 8, 2026

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়:

(গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩২

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ‘গুম’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। শুধু পুরুষ নয়, অনেক নারীও র‌্যাব ও অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার হন। গুম সম্পর্কিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তত ২৩ জন নারী গুমের শিকার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪ জানুয়ারি ‘জোরপূর্বক গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশন’ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী গুমের ঘটনা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের জন্য নয়, বরং নারীদের ওপর ভয় সৃষ্টি ও সামাজিক দমন প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। কমিশনের মতে, গুম হওয়া নারীর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। তবে ভয়, সামাজিক কলঙ্ক ও চাপের কারণে অনেক পরিবার গুমের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি।

গুমের প্রকৃতি ও নারীর উপস্থিতি

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম হওয়া নিখোঁজ নারীর সংখ্যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই কম ধরা হয়েছিল। পরিবারগুলো নারী গুমের রিপোর্টে কলঙ্ক, ভয় ও সামাজিক চাপের কথা উল্লেখ করে। অনেক নারী স্পষ্টভাবেই অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করেছিল। ফলে নথিভুক্ত সংখ্যা কম হলেও গুমের ঝুঁকিতে নারীদের উপস্থিতি ছিল বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

তদন্তে দেখা গেছে, গুম ছিল একটি সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার, যা মূলত র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কমিশনের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম শেখ হাসিনা ও তার চারপাশের উচ্চপর্যায়ের জ্ঞাতসার ও নির্দেশনার বাইরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারত না, যা রাজনৈতিক দমন এবং ভয় প্রতিষ্ঠার একটি সুসংহত প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এক তরুণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়, তাকে এমন স্থানে রাখা হয়েছিল যা পরে ব্যারিস্টার আরমানের সেলের বাইরের করিডোরে পরিণত হয়েছিল। তাকে প্রতিবেশী সেলের সঙ্গে সংযুক্ত টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আটক অবস্থায় তিনি একটি সেলে নারীর কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং সেখানে লম্বা চুলের গুচ্ছ দেখতে পান। ওই নারী কমপক্ষে একদিন সেখানে আটক ছিলেন বলে তিনি ধারণা করেন। তবে তাদের কথা কোনো সরকারি নথিতে পাওয়া যায়নি, যা গোপন আটক কেন্দ্র পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। এ উদাহরণে উঠে আসে, কীভাবে একটি গুম ঘটনা অনেক অজানা গুমের ঘটনাকে আড়াল করতে পারে।

ধাঁচ পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার

প্রতিবেদনে বলা হয়, সময়ের সঙ্গে গুমের ধরনে পরিবর্তন আসে। শুরুর দিকে গুমের পর মৃত্যু ও স্থায়ী অপহরণের হার বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে গুম প্রায়শই সীমাবদ্ধ হয়ে বন্দির পুনরাবির্ভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।

২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ পর্যায়ের সূচনা করে। পরের বছরগুলোতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশি তৎপরতার মধ্যে বিভাজন প্রায় অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। একই প্রতিষ্ঠান ও অনেক ক্ষেত্রে একই কর্মকর্তারা উভয় ক্ষেত্রেই যুক্ত ছিলেন, ফলে অবৈধ পদ্ধতিগুলোও স্থানান্তরিত হতে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গুমের মামলাগুলো ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে বেশি ছিল এবং পরে হ্রাস পায়। ২০১৬ সালে র‌্যাবের এডিজি (অপস) মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রস্থান স্থায়ী গুমের ধারাবাহিক হ্রাসের সঙ্গে মিলে যায়। এর মানে এই নয় যে গুম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, বরং এটি বিবর্তিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাতের অভিযানে আটক, চোখ বাঁধা, মুখ বন্ধ করা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো এবং পরবর্তী সময়ে নিহত হিসাবে ভুয়া রেকর্ড করার ঘটনা নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘ক্রসফায়ারে নিহত’, ‘মাদক কারবারি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সরকারি নথিতে দেখানো হতো।

উপসংহার

একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, যদিও আটকদের মুখ দেখা বা কথা বলা সম্ভব হয়নি, তবে কিছু শারীরিক নির্দেশক দীর্ঘস্থায়ী বন্দিত্বের ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণস্বরূপ, পায়ের নখ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল, পা নরম ও কড়া ত্বকবিহীন মনে হচ্ছিল। বিপরীতে যারা নিয়মিত সুন্দরবনে চলাফেরা করত, তাদের ঘন গোড়ালি ও লবণাক্ত কাদার সংস্পর্শে স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বিকশিত হয়েছিল। বেসামরিক সাক্ষীরাও একই পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে নিহত পুরুষদের মাদক পাচারকারী হিসেবে, নারায়ণগঞ্জে গ্যাং সদস্য হিসেবে লেবেল দেওয়া হতো। অন্যত্র দীর্ঘ দাড়িওয়ালা পুরুষদের ইসলামপন্থি চরমপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম কোনো বিচ্ছিন্ন বা দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা নয়। এর দীর্ঘ স্থায়িত্ব, ব্যাপ্তি ও অভিযোজিত রূপ প্রমাণ করে—উচ্চ রাজনৈতিক অনুমোদন ছাড়া এমন একটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে জোরপূর্বক গুম রাষ্ট্রীয় দমননীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের জ্ঞাতসারেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর ছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, January 7, 2026

সেনাকাঠামোর সব স্তর গুমে জড়িত ছিল। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

সেনাকাঠামোর সব স্তর গুমে জড়িত ছিল:

(গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩০

দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই অপরাধের দায় শুধু মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপারেশনাল ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ড, গোয়েন্দা নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা—সবার ওপর বর্তায় বলে কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

গত ৪ জানুয়ারি গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের প্রথম ধাপ ছিল চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই আটক রাখা। এসব কাজ মাঠ পর্যায়ের সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যরাই বাস্তবায়ন করেছেন। এই পর্যায়ের সদস্যরা নির্দ্বিধায় সরাসরি অপরাধে যুক্ত ছিলেন, কারণ তারা জানতেন যে, গ্রেপ্তারের কোনো আইনি কাগজ নেই, আটক ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে এবং পরিবার ও আদালতও অন্ধকারে ছিল। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দায় প্রাথমিক ও প্রত্যক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের দায়

কমিশন বলছে, গুমের অপরাধ কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউনিট কমান্ডার ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটক সেল সম্পর্কে জানতেন। এছাড়া নিয়মিত রোল কল ও প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন এবং পরিদর্শনের সময় আটক ব্যক্তিদের সেল দেখেছেন। সৈনিকদের সাক্ষ্যে এসেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের দিনও আটক সেল পরিদর্শনে গেছেন।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই স্তরের সেনা কর্মকর্তারা শুধু জানতেনই না, বরং অননুমোদিত আটক রাখার কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাই এটি ইচ্ছাকৃত সহায়তা ও অনুমোদনের দায়।

গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটে দায়

কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটে চোখ বাঁধার ধরন, আটক রাখার পরিবেশ, জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল ও মুক্তির পর মামলা দেওয়ার প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন ছিল। এক ইউনিট থেকে আরেক ইউনিটে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তরের সময়ও পদ্ধতিগত সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় এসেছে যে ডিজিএফআই এবং র‌্যাবের আলাদা সরঞ্জাম ও ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ছিল। এ ধরনের সমন্বয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়, যা গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রমাণ।

গ্যাসের সংকটে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় জ্বলছে না চুলাগ্যাসের সংকটে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় জ্বলছে না চুলা

সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায়

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর সেনা কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজুহাত ছিল—তারা নাকি জানতেন না। কমিশন এই দাবি তিনটি ভিত্তিতে বাতিল করেছে। কারণ, আটক রাখার সেলগুলো ছিল কমান্ডিং অফিসারদের অফিসের কাছেই। একই ভবন, সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিল। শব্দরোধী ব্যবস্থা না থাকায় নির্যাতনের শব্দ শোনা যেত। এমন অবস্থায় অজ্ঞতার দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত।

অনুসন্ধানকালে কমিশনের সামনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর স্বীকার করেছেন যে, হুম্মাম কাদেরের গুম নিয়ে তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সিটিআইবি ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে আটকদের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। এছাড়া জেআইসি ও টিএফআইতে পরিদর্শন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেনা নেতৃত্বের অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।

কমিশন বলছে, গুম একটি চলমান অপরাধ। যতক্ষণ একজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তার অবস্থান গোপন থাকে, ততক্ষণ অপরাধ চলতে থাকে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় ব্রিগেডিয়ার আজমি গুমের ঘটনায়। সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধু প্রাথমিক অনুমোদনদাতা নন, পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেলরাও দায়ী। কারণ, তারা অননুমোদিত আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

সেনাকাঠামোর দায় আড়ালের চেষ্টা

গুমকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাস দমন’-এর অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে কমিশন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধকালেও জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখা বৈধ নয়।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচক। এ কারণে এটি নিরাপত্তা নয় বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল।

দায় এড়ানোর কাঠামোগত কৌশল

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় সেনা আইনের আওতায় বিচার চাওয়া হয়, যা বাস্তবে দায় এড়ানোর কৌশল। কারণ, সেনা আইনে গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং কমান্ড দায়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই। ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনায় কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। র‌্যাব ও ইলিয়াস আলী গুম তদন্ত বোর্ডের বিপুল প্রমাণ ‘অনুপলব্ধ’ হয়ে গেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও দায় আড়াল করার নজির।

কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে গুমের ঘটনা ছিল ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্য, ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডার, গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায় আছে । সরাসরি জড়িত অথবা নীরবতার মাধ্যমে—সব স্তরই এ অপরাধ সম্ভব করেছে।

সূত্র: আমার দেশ

Monday, January 5, 2026

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম:

(তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৪

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যযুক্ত চর্চা, যার প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ‘জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার থেকে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনে করা এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর এক হাজার ৫৬৯টিকে জোরপূর্বক গুমের ‘সম্ভাব্য’ মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকৃত সংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনকে একটি ঐতিহাসিক কাজ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন।

গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস এবং সাজ্জাদ হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া। আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কমিশন জানায়, মোট এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরো ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’

বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে, এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।

প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাইপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑবিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা।

কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সে শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। নৃশংস এ ঘটনার মধ্য দিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেত না।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে, সেটার ডকুমেন্টেশন এ রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এ ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বেরিয়ে আসতে হবে। এ নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে, সে প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার শত শত ব্যক্তিকে হত্যা করে এ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী এবং মুন্সীগঞ্জেও গুম করা ব্যক্তিদের লাশ ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।

এদিন প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা জানান, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল, সে সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে কাজ করেছি। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করি সরকার আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, যেন গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।

অভিযোগের হিসাব-নিকাশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনে দায়ের হওয়া এক হাজার ৫৬৯টি যাচাই-বাছাইকৃত অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ২৮২ জন আইনবহির্ভূত হেফাজতের পর পুনরাবির্ভূত হয়েছেন। অপরদিকে ২৮৭ জনের মৃত্যুর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জন চিরতরে নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের দেহ ‘ক্রসফায়ার’ বা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রতি ছয়জনে একজন গুমের শিকার আজও নিখোঁজ। শিকারদের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই পুরুষ। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে নারী গুমের বিষয়ে অনেক কম রিপোর্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক টার্গেটিং স্পষ্ট

গুমের শিকারদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে চরম পক্ষপাতের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে (৯৪৮ জন), তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশই বিভিন্ন বিরোধী দল ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গুমের শিকার তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত মাত্র একজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনা রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৯ সালের ১০টি ঘটনা থেকে সংখ্যা বেড়ে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫-এ পৌঁছায়। ২০১৩ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষকালে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে গুমের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে গুমের অপব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে স্থায়ী গুমের বদলে আটক রেখে পরে ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কারা দায়ী

অভিযোগের ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। পুলিশ দায়ী ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) । ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম কম উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কঠোর গোপনীয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিকাররা সংস্থার নাম চিনতে পারেননি। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ অভিযোগে ‘প্রশাসনের লোক’ নামে অস্পষ্ট পরিচয়ের ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে বলে উল্লেখ আছে। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের মধ্যে যৌথ অপারেশনও লক্ষণীয়, যা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ইঙ্গিত দেয়।

জটিলতা ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এক হাজার ৬৮২টি অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে ১১৩টিকে জোরপূর্বক গুমের সংজ্ঞায় আনা যায়নি। একটি উদাহরণে বলা হয়, এক যুবকের চরমপন্থি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও র‌্যাব গোয়েন্দারা পরিবারকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করে। এর ফলে পরিবারটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তায় ভোগে। যুবকের বোন কমিশনকে বলেন, রাস্তায় আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখতে প্রতিটি পুরুষকে গভীরভাবে পরীক্ষা করি, যদি সে-ই হয়। এমনকি একটি গুমের মামলায় কবর খুঁড়ে ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্য একজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময়, ব্যাপকতা ও অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এ গুমের চর্চা কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও ছাড়পত্র ছাড়া টিকে থাকতে পারত না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় এ ব্যবস্থাকে সম্ভব করেছিল।

কমিশনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ যুগের জোরপূর্বক গুমগুলোকে বিকৃতি হিসাবে নয়; বরং শাসনের হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে বোঝা যায়।

তদন্ত কমিশনের এ প্রতিবেদন বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমকে একটি ভয়াবহ, সুসংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ থেকে মুক্তি পেতে জরুরি ভিত্তিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ জুন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তারও আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়, দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এছাড়া গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে রয়েছেনÑতারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সূত্র: আমার দেশ 

বিএনপির প্রার্থীগণ ইসিতে তথ্য গোপন করায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 বিএনপির প্রার্থীগণ ইসিতে তথ্য গোপন করায় ক্ষতিগ্রস্ত বিএনপি: (নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দল ও অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনের ওপর, ঢাক...