Monday, July 6, 2026

পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়ঃ

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮: ২৬

 


ভারতে পলাতক বাংলাদেশের তিন আলোচিত জেনারেল— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এখন কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।

পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী এবং ভারতের ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই তিন জেনারেলকে মোদি সরকার সম্প্রতি বেসামরিক এলাকা থেকে কলকাতার সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে। ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পলাতক তিন জেনারেলের মধ্যে মুজিব ও আকবর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। এরপর গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগের পর গত বছরের অক্টোবরে জেনারেল কবীর আহাম্মদও দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দল দমনসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত পলাতক এই তিন জেনারেল কলকাতার অভিজাত এলাকা সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তাদের এই বেসামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে হুগলি ব্রিজের পাশে অবস্থিত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই তিন জেনারেলের গতিবিধি সম্পর্কে অবগত কলকাতার নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে, তিন জেনারেলকে সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই ইঙ্গিতবহ।

কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। বিশেষ পাস ছাড়া সাধারণ মানুষের এখানে প্রবেশ এক প্রকার নিষিদ্ধ। পলাতক এই তিন জেনারেল নিয়মিতই যোগাযোগ রাখেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তারা। ভারতীয় ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে কীভাবে আবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়েই তৎপর এই তিন জেনারেল।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এই তিন জেনারেল নিয়মিতই বিশেষ করে ছুটির দিনে কলকাতা সিটি সেন্টার-২-এ অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সম্প্রতি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা গেছে এই তিন জেনারেলকে।

তিন জেনারেলের তৎপরতা এবং তাদের সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নানা অপরাধে জড়িত এই তিন জেনারেলকে ভারত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে তাদের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহারের জন্য।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধী জেনারেলের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা। একই সঙ্গে অপরাধীদের ভারত যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানানো।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তার যেসব সহযোগী ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। সেই ডেটাবেসে জেনারেল মুজিব, জেনারেল আকবর এবং জেনারেল কবীরের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, তিন জেনারেল কলকাতায় বসবাস করছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরও সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জেনারেল মুজিব। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানায়, জেনারেল মুজিব বরখাস্ত হওয়ার পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি শেখ হাসিনার খুবই বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। আর্মড ফোর্সেস এবং পুলিশে ‘র’-এর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

জেনারেল মুজিব বাংলাদেশে ‘র’-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে চিহ্নিত। বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর শ্যাডো রিক্রুটার হিসেবে কাজ করা স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামগ্রিক তদন্তে বেরিয়ে আসে সামরিক বাহিনীতে ‘র’-এর নেটওয়ার্ক ও জেনারেল মুজিবের সম্পর্ক। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে টানা ক্ষমতায় রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেন জেনারেল মুজিব ও তার নেটওয়ার্কের সদস্যরা।

জুলাই বিপ্লব চলাকালে সেনাবাহিনীতে ভারতপন্থি ক্যু করানোর জন্যও জেনারেল মুজিব আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রথমে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট এবং পরে হাসিনার পলায়নের পরদিন ৬ আগস্ট তিনি ক্যু করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের ‘রেসকিউ মিশন’ সফল করার ক্ষেত্রেও জেনারেল মুজিবের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

হাসিনা সরকারের পতনের পর জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন ঘোষণা করার জন্য তিনি কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদের সঙ্গে একাধিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে মিলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও আয়নাঘরে নির্মম নির্যাতনের মতো সব অপরাধের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি (মাস্টারমাইন্ড)।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর যে বর্বরতম হামলা হয়, তারও পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন মুজিব। র‌্যাবের জিয়াউল আহসানের সৃষ্টি হয়েছে মুজিবের হাতে। যদিও জিয়াউলের নাম নৃশংসতার জন্য যতটা আলোচিত হয়েছে, চতুর মুজিবের নাম ততটা হয়নি।

দুর্নীতির অভিযোগে লে. জে. মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের নামে থাকা ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকায় থাকা ১০টি প্লট জব্দের আদেশ দিয়েছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আরেক একান্ত অনুগত এবং ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গুম, খুনের সঙ্গে জড়িত দুটি ভুয়া নির্বাচনের মূল কারিগর লে. জে. (অব.) মো. আকবর হোসেন জুলাই বিপ্লবের পর কোনো এক সময়ে ভারতে পালিয়ে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এই তিন তারকা জেনারেল বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার মতো নানা অপরাধের অন্যতম হোতা।

জেনারেল মুজিবের মতো তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ডিপ স্টেট ‘র’-এর অনুপ্রবেশ ঘটানোর অন্যতম কারিগর। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এবং ২০১৮ সালের রাতের ভোটের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই বিতর্কিত জেনারেল। ২০১৪ সালের একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল। এমনকি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তখন ঢাকায় এসে নির্বাচনে যেতে এরশাদের ওপর চাপ দেন। তবে এরশাদ তাতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে দিল্লির নির্দেশে তৎকালীন ডিজিএফআই-প্রধান জেনারেল আকবর বাসা থেকে এরশাদকে জোর করে তুলে নিয়ে সিএমএইচে বন্দি করে রাখেন এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেন।

বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি এখন কলকাতায় বসে হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গুম ও নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ গত বছরের অক্টোবরে ভারতে পালিয়ে যান। জেনারেল কবীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেনা সদরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন সার্ভিং বা কর্মরত জেনারেল কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতের মতো বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিলেন তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন এবং উদ্বেগ তৈরি হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গুমের দায়ে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন জেনারেল কবীর। তিনি তখন কলকাতা যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৯ অক্টোবর জেনারেল কবীর বিশেষ ব্যবস্থায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দুটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন জেনারেল কবীর।

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জেনারেল কবীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় খুনি মে. জে. জিয়াউল আহসান এবং কদমবুচি জেনারেল হিসেবে পরিচিত মে. জে. মাহবুব রশিদের কোর্সমেট হওয়ার সুবাদে ডিজিএফআইয়ের সিটি আইবিতে পোস্টিং দেওয়া হয় জেনারেল কবীরকে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের পদ লাভ করেন তিনি। জেনারেল জিয়া, মাহবুব ও কবীর একসঙ্গে গুম-নির্যাতনের পাশাপাশি নানা দুর্নীতি ও অপরাধে জড়ান। নেত্রকোনার বাসিন্দা জেনারেল কবীর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের জিওসিকে মোবাইলে ফোন করে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দেন।

এদিকে তিন জেনারেলের পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া এবং সেখানে ভারতের পক্ষ থেকে তাদের বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি খুবই উদ্বেগের। বাংলাদেশের জেনারেলরা ভারতকে তাদের জন্য নিরাপদ মনে করেছেন।

তিনি বলেন, ভারত তাদের আরাম-আয়েশ করার জন্য আশ্রয় দেয়নি। নিজেদের স্বার্থে ভারত এই জেনারেলদের বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারে। এসব জেনারেল নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রফেসর এম শহীদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে বলেন, এই তিন জেনারেল নিশ্চিতভাবেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তারা ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। পলাতক এসব জেনারেল বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনেক স্পর্শকাতর তথ্য জানেন।

তিনি বলেন, আমাদের জেনারেলরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং ভারত তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। ভারত আসলে উসকানি দিচ্ছে। ভারত চাইছে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। ভারতে যেসব জেনারেল আশ্রয় নিচ্ছেন তারা যে ভারতের হয়ে এখানে নানা ধরনের অপরাধ করেছেন তা এখন প্রমাণিত। ভারত এই অপরাধী জেনারেলদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

অপরাধী জেনারেলদের ভারত যে আশ্রয় দিচ্ছে, সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকেই নজর রাখছে। সরকারের দায়িত্ব হলো বিষয়টি ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং এসব অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত শেষ করা। এটা করতে পারলে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়বে।

সূত্রঃ আমার দেশ

Tuesday, June 16, 2026

বেনজীর গ্রেপ্তারে পলাতক আ.লীগে আতঙ্ক বিরাজ করছে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

বেনজীর গ্রেপ্তারে পলাতক আ.লীগে আতঙ্ক বিরাজ করছে:

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০৮: ৩৫

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতির মামলায় বিদেশের মাটিতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের এই হাই-প্রোফাইল কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়াতেই বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতৃবৃন্দের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও হত্যা মামলার আসামি এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিসের প্রক্রিয়ায় থাকা নেতারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারা বর্তমান আশ্রয়স্থল ছেড়ে আরো নিরাপদ কোনো দেশে আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারিকৃত পলাতক আসামি বেনজীর আহমেদকে দুবাই সিটি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আবুধাবি সরকার ১২ জুন শুক্রবার বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নিশ্চিত করে। গত রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিতে এটা জানিয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানা গেছে, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মানিলন্ডারিংসহ বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদকের ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি পাঁচ মামলার তদন্ত চলমান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টে থাকা একাধিক ব্যক্তি বিদেশে গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ইতোপূর্বে ঘটলেও বেনজীরের মতো হাই-প্রোফাইল কোনো ব্যক্তির গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মাইলফলক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে রোববার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য, এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এদিকে বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী শিবিরে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত সাড়ে ১৫ বছরের খুন-হত্যা-নির্যাতনে অভিযুক্ত দলটির নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তারসহ বিচারের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে পরে বৈধ-অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিজেদের ‘আপাতত নিরাপদ’ ভাবতে শুরু করলেও বেনজীরের ঘটনা তাদের ঘুম হারাম করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা উৎকণ্ঠায় পড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে নাকচ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে দলের নেতাদের মধ্যে নতুন করে ভয় তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দলের যেসব নেতার নামে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও সাজা হয়েছে তাদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী, দুর্নীতিবাজ ও গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পলাতক সদস্যদের মাঝেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বর্তমানের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ছেড়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ভারতে অবস্থানরত নেতৃবৃন্দ এখনো নিজেদের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে করছেন। শেখ হাসিনাসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের ভারত সরকার যেভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তাতে তারা মনে করছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে মোদি সরকার তাদের পাশেই দাঁড়াবে। এদিকে ভারতকে ‘অপেক্ষাকৃত নিরাপদ’ মনে করা হলেও বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত মে মাসের শেষদিকে সেখানে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। অবশ্য, ভারতে গ্রেপ্তার হলেও তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের জন্য বড় বার্তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনা কেবল আওয়ামী লীগই নয়, যারা অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে আছেন তাদের সবার জন্যই একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পরই গ্রেপ্তার এড়াতে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের অনেকেই সুযোগ বুঝে ভারত ছেড়ে অন্যান্য দেশে গিয়ে অবস্থান করছেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক আমার দেশকে বলেন, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতার একটি নজির স্থাপন করেছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যেসব নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য এটি উদ্বেগজনক সংকেত। অনেক দেশ এখন অভিবাসন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার ও দুর্নীতির তথ্য যাচাই করছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরোয়ানা বা রেড নোটিস ইস্যু করা সম্ভব হলে গ্রেপ্তার এড়ানো কঠিন হতে পারে।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। এই গ্রেপ্তারে একটি শুভ লক্ষণ হচ্ছেÑআবুধাবি সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বাংলাদেশকে খবরটি জানিয়েছে। তবে, এই গ্রেপ্তারের মানেই তিনি ফিরে আসছেন সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এর জন্য একটি লম্বা প্রক্রিয়া রয়েছে। বেনজীর যে অপরাধী তার সব তথ্য-প্রমাণ নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিদেশে গ্রেপ্তারের পরে আবার মুক্তিও পেয়ে যায়। খুব করে আশা করব বেনজীরের ক্ষেত্রে সেটা হবে না। সরকারের উচিত হবে দ্রুত তথ্য-প্রমাণ দিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে তাকে ফিরিয়ে আনা।

বেনজীরের গ্রেপ্তারের পথ ধরে গণহত্যা, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির মাধ্যমে ফেরত আনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিশ্লেষক বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি অবশ্যই ইতিবাচক। এটা অন্যদের ক্ষেত্রেও হয়তো প্রভাব পড়বে। তবে আমরা যতটা ভাবছি বিষয়টি ততটা সহজ নয়। কারণ এগুলো নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মর্জির ওপর। অপরাধীর অপরাধের বিষয়ে দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করে কূটনৈতিক দেন-দরবার করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলেও তো ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে আনতে পারছে না। কারণ ভারত সরকার তাকে অতিথি করে রেখেছে। কেবল ভারত সরকার চাইলেই শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা সম্ভব। অন্য অপরাধীদের হিসাব-নিকাশও একই ধরনের হবে।

বেনজীরকে ফেরাতে নথিপত্র তৈরিতে তোড়জোড়

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক সময়ের প্রতাপশালী বিতর্কিত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে একাধিক সংস্থা নথিপত্র প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও দুদকের পক্ষ থেকে এসব নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে, আবার কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। কারণ এর আগে ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা পি কে হালদার, সন্ত্রাসী জিসান আহমেদকে আরব আমিরাত থেকে ফেরানো যায়নি। আবার সাত খুন মামলার আসামি নুর হোসেন, রাজন হত্যা মামলার আসামি কামরুল, নরসিংদীর সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকার এবং মতিঝিলের টিপু-প্রীতি হত্যা মামলার আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে বিদেশ থেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এখন বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মানিলন্ডারিং মামলায় বেনজীরকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকে ছয়টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। তাকে ফেরাতে দুর্নীতির সব নথিপত্র গোছাচ্ছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুবাই থেকে বেনজীরকে ফেরত আনতে আমরা নথিপত্র তৈরি করছি। দুদক জানায়, ঢাকার গুলশানের ১২৬ নম্বর রোডের একটি ভবনের দুটি ফ্লোরে চারটি ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। গত বছরের ডিসেম্বরে এই ফ্ল্যাটগুলো ক্রোক করে আসবাবপত্রসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় দুদক।

তবে গোপালগঞ্জের সাভানা রিসোর্টটি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। দুদক জানায়, ৭৪ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চারটি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিং মিলিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ অঢেল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. মাহমুদুল আরেফিন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দণ্ডিত বন্দিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেনজীর তো দণ্ডিত নন, এখন প্রশ্ন, তাহলে কী হবে? এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। এই চুক্তি কার্যকর তখনই হতো যদি বেনজীর আহমেদ দণ্ডিত হতেন। তিনি আরো জানান, যেহেতু বেনজীর ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, এখন ইন্টারপোলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে বসতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, ইন্টারপোলকে বিস্তারিত বিষয় জানানোর জন্য আমরা চিঠি প্রস্তুত করছি। বেনজীরকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনব।

সূত্র: আমার দেশের 

Monday, May 25, 2026

সেনা কর্মকর্তাদের বিচার কোন পথে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

সেনা কর্মকর্তাদের বিচার কোন পথে:

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৮: ৫০

ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-খুন-অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়া এখন চলমান। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিযুক্ত সেনাকর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এতে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিচার বানচালসহ নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বিচারকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীদের অনেকেই হয়রানির আতঙ্কে রয়েছেন।

সেনা অফিসারদের বিচার কোন প্রক্রিয়ায় হবে এ নিয়ে নানা বিতর্কের পর ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী মামলায় সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিচার শুরু হওয়াকে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু বিচারের শুরু থেকেই সামরিক অফিসারদের মাঝে বিভক্তি ছড়ানো, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার ও শেষাবধি তাদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণার অভিযোগ আসছে। এ প্রোপাগান্ডায় ভারতপন্থি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে নানা অপতথ্য।

বিচারের সূচনা ও অগ্রগতি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক ও বর্তমান সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগের সময় সংগঠিত বিভিন্ন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ ও বেআইনিভাবে র‍্যাবের টিএফআই ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসিতে আটক করে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। নানা জল্পনা-কল্পনার পর গত বছরের ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১ এ ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়।

এদিন অভিযুক্ত সেনা অফিসারদের বিশেষায়িত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তার আগে ৮ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেদিন দুটি গুমসহ তিনটি মামলায় দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। গুম সংক্রান্ত টিএফআই ও জেআইসি’র দুটি মামলা হচ্ছে বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়। অন্যটি হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায়।

গুমের মামলাগুলোর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী আমার দেশকে জানান, ডিজিএফআই সংক্রান্ত মামলাটিতে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতা ও গুমের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী, লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান, গুমের শিকার দুজন ব্যবসায়ীসহ পাঁচজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। টিএফআই সংক্রান্ত মামলাটিতে এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন আট বছর ধরে গুমের শিকার ও বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান, মাসরুর আনোয়ার, সফিকুল ইসলামসহ চারজন। মামলাগুলোতে আরো কয়েক ডজন গুমের শিকার ও সংশ্লিষ্টের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

অপপ্রচার ও ইন্ডিয়া ফ্যাক্টর

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, আসামিপক্ষ নানাভাবে মামলা কার্যক্রমে ধীরগতি ও জটিলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে শুরু থেকেই। বিচার প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানাভাবে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় নানা ডকুমেন্টস চাওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক অফিসারদের বিচার নিয়ে চিহ্নিত ভারতপন্থি মিডিয়া ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন ও মনগড়া খবর প্রচার করার অভিযোগ আসছে। যাতে বলা হচ্ছে, এসব সামরিক অফিসার পুরোপুরি নির্দোষ ও ঘটনার শিকার। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে এ সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষীদের সম্পর্কেও নানা ধরনের অপতথ্য ছড়িয়ে তাদের বিতর্কিত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ ও দোসররা অর্থায়ন করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে প্রকাশিত ইংরেজি মিডিয়া নর্থ-ইস্ট নিউজ তাদের বেশ কয়েকটি রিপোর্টে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক অফিসারদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে শতাধিক গুম-খুনে জড়িত সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বোন ও তারই আইনজীবী নাজনীন নাহারকে হাইলাইটস করা হয়। এ বছর ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত নিউজে গুমের মামলাগুলোর অন্যতম সাক্ষী লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানকে ভারতীয় স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী উলফার অস্ত্রের প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই নিউজ সাইটটি পরদিন ১৫ এপ্রিল শতাধিক গুম খুনে অভিযুক্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে নির্দোষ প্রমাণে তাকে ‘ঘটনার শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই প্রোপাগান্ডা গ্রুপের আরেক অংশ হিসেবে ইউটিউবার কাজী রুনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যানেলে সামরিক অফিসারদের বিচারে সাজানো সাক্ষী হাজির করা, জেরায় তাদের তথ্যের গরমিলসহ নানা বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করে কৌশলে সামরিক অফিসারদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। এভাবে বিভিন্ন ধরনের সাইট ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত গুম-খুনের এসব মামলাকে দুর্বল করার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠছে।

ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) কেন্দ্রে গুম ও নির্যাতনের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গত ১৯ জানুয়ারি সাক্ষ্য দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এ তার জবানবন্দিতে তিনি নিজের গুম হওয়ার ঘটনা, আটক অবস্থায় দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং জেআইসি সেলে কাটানো অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবানবন্দিতে তিনি জেআইসির এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি সামরিক কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী ও গুমের শিকার সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আসামিপক্ষ ক্রমাগত বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তবে সবচেয়ে যেটি আমি আশঙ্কা করছি সেটি হলো, এসব গুম-খুনের নেপথ্যের নায়করা যেন বিচারের আওতা থেকে বেরিয়ে না যায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সত্যকে স্বীকার করা, যাতে বাংলাদেশে আর গুম সংস্কৃতি ফিরে না আসতে পারে।

আমার দেশ-এর সঙ্গে কথা হয় ২০১৯ সালের ১৯ জুন গাজীপুর এলাকা থেকে গুমের শিকার ইসমাইল হোসেন বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতির। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পটপরিবর্তনের পর তিনি তার স্বামীর গুমের অভিযোগ করেন। র‌্যাব হেড কোয়াটারে কর্মরত সিগনার অফিসার রাসেল আহমেদ কবির, কায়সার এ হাবিবসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে এ অভিযোগ করেন। নাসরিন জাহান স্মৃতি জানান, এত মাস হয়ে গেল কিন্তু অভিযুক্ত র‌্যাব সদস্যদের কিছুই হয়নি। আমরা কোনো বিচার পাব বলে মনে হচ্ছে না। আমরা হতাশ। এটি যদি র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ না হতো তাহলে হয়তো মামলা এগুতো। এখন উল্টো আমরা ভয়ে রয়েছি। কারণ র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে আমরাই আবার গুমের শিকার হয়ে যাই কি না, সেই আতঙ্কে রয়েছি।

গুম সংক্রান্ত গঠিত বিএনপির গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুমের ঘটনাগুলোর অভিযোগের একটি তালিকা আমরা দিয়েছিলাম। এর আসামিদের তালিকায় ছিল র‌্যাব, আয়নাঘরে গুমে থাকা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু এগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়ায় এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা সন্তুষ্ট নয়।

২০১৬ সালের ২৫ জুন খুলনা শহরের পাওয়ার হাউজ এলাকা হতে র‌্যাব পরিচয়ে উঠিয়ে নেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সিফাতকে। তার ভাই মাহফুজ আমার দেশকে বলেন, আমার মেধাবী নিরপরাধ ভাইকে ১৭ দিন গুম রেখে বিভিন্ন কথিত জঙ্গি মামলায় ৪৩ দিন রিমান্ড রেখে নির্দয়ভাবে মেরে ফেলা হয়। ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন সংস্থায় আমরা অভিযোগ দায়ের করলেও রাষ্ট্র র‌্যাব সদস্যসহ অভিযুক্তদের কিছুই করেনি। আমরা পুরোপুরি হতাশ। আমাদের আশঙ্কা সেনা অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা জড়িত থাকায় এ বিচারটি এগোয়নি।

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবেই ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত অফিসাররা ছিলেন হুকুমের গোলাম, তারা নির্দোষÑ এভাবে মূল অভিযুক্তদের দোষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হচ্ছে। আমাদের বুঝতে হবে এসব অভিযুক্ত এবং নেপথ্যের কুশীলবদের কাছে প্রচুর লুটপাটের অবৈধ অর্থ রয়েছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে এ বিচারের ফোকাস থেকে জাতিকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টায় আছে।

অভিযুক্ত সামরিক অফিসারদের বিচার নিয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে আমার দেশকে জানান বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা চিরাচরিতভাবে তাদের মক্কেলের মামলা দেরি করতে চেষ্টা করতেই পারে। কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে পুরোপুরি সচেতন। মামলাগুলোতে অনেক আসামি হওয়ায় তাদের জেরায় প্রচুর সময় যাচ্ছে। মামলাগুলোর অগ্রগতিতে কোনো ধরনের বাধা বা চাপ রয়েছে কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বা অন্য কোথাও থেকে এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই। তিনি এ সংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতিতে আরো কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে সম্পর্কে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, টিএফআই সংক্রান্ত মামলায় মোট আসামি ১৭ জন, তাদের মধ্যে ১০ জন অফিসার কাস্টডিতে রয়েছেন। আর ডিজিএফএর মামলায় মোট ১৩ জন আসামির তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ মামলাগুলোর প্রধান আসামির তালিকায় আরো রয়েছেন পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকী প্রমুখ।

সূত্র: আমার দেশ

Sunday, May 17, 2026

বিভক্ত হেফাজতে ইসলাম, ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

বিভক্ত হেফাজতে ইসলাম, ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা:

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৮: ৫৯

নানা ইস্যুতে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত দেশের আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। কওমি মাদরাসাভিত্তিক এই অরাজনৈতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই নিষ্ক্রিয়। পতিত আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার এ আলেম সমাজের নেতারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশেও ঐক্যবদ্ধ ও পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরতে পারেনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৃষ্ট দূরত্ব ও জটিলতা এখনো কাটেনি। পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠনটির বিভাজন কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার সফলতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন রয়েছে। অবশ্য সব বিভাজন কাটিয়ে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে হেফাজত আগের মতোই ঐক্যবদ্ধ হবে বলে দাবি করছেন একাধিক নেতা। সংগঠনে বিভাজন কাটিয়ে শৃংখলা ফেরাতে নানাভাবে কাজ শুরু হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে সম্প্রতি হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের নামে অপবাদ ও অপপ্রচার চালিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠনটির ভোলা জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি মাদরাসায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। তাছাড়া সেখানে বিভাজন কাটাতে গঠিত সাব-কমিটি ১১ দলীয় ঐক্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দেশে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার লক্ষ্যে কওমি মাদরাসা শিক্ষকদের নিয়ে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক ও কওমি মাদরাসা বোর্ড-বেফাকের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। শুরুতেই সারা দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় এটি।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নেওয়া ইসলামবিরোধী নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের পরোক্ষ সমর্থনে শাহবাগে নাস্তিক ব্লগারদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরের সমাবেশটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কর্মসূচিটি সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে গণজোয়ার তৈরি করেছিল। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের সমাবেশে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর আওয়ামী আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর নির্মম হামলায় চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলাম। ওই ঘটনায় বহু নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। সে সময় শাহ আহমদ শফীকে নাজেহাল, জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। গৃহবন্দি করে রাখা হয় মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে।

একই সঙ্গে হেফাজত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতাকর্মীদের নামে মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ডসহ নানাভাবে দমন-পীড়ন চালায় ফ্যাসিবাদী সরকার। সংগঠনটিকেও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলে। তবে শাপলা হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতায় সারা দেশে হেফাজত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের কবজায় রাখতে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেফাজত থেকে প্রার্থী দেওয়া এবং মন্ত্রী-এমপি বানানোর প্রলোভন দেখানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাতে সাড়া না দিয়ে বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী বিরোধী শক্ত অবস্থানে ছিলেন হেফাজত নেতাকর্মীরা।

একইভাবে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও প্রকাশ্য কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি সংগঠনটি। যদিও ২০১৮ সালের নভেম্বরে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ আয়োজিত শোকরানা সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি এবং তাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দিয়ে বেশ সমালোচিত হন হেফাজত নেতারা। সমাবেশে শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতি নিয়ে সংগঠনটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। জুনায়েদ বাবুনগরীসহ অনেকে এতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তী সময়ে এই অসন্তোষ হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। অবশ্য কওমি সনদের স্বীকৃতি আদায়ের স্বার্থেই আল্লামা শফী তাতে যোগ দেন বলে তখন সংশ্লিষ্টরা ব্যাখ্যা দেন।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আল্লামা শফীর মৃত্যু-পরবর্তী হেফাজতে একের পর এক অস্থিরতা ও দমন-পীড়ন নেমে আসে। তার মৃত্যুর পর নভেম্বরে সম্মেলনের মাধ্যমে মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে (হাটহাজারী) আমির এবং ঢাকার বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল নূর হোসাইন কাসেমীকে হেফাজতের মহাসচিব করা হয়। এতে আহমদ শফীর অনুসারীরা স্থান পাননি। পরের মাস ডিসেম্বরে নূর হোসাইন কাসেমী মারা গেলে নায়েবে আমির খিলগাঁও মাদরাসার প্রিন্সিপাল নূরুল ইসলাম জিহাদী ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন।

তবে নতুন কমিটি গঠনের ছয় মাস পার হওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার ঘটনার পর পুলিশি দমন-পীড়নের মুখে পড়েন নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের ২৫ এপ্রিল হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জুনাইদ বাবুনগরী। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে জুনাইদ বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদীকে রেখে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়।

অন্যদিকে মোদিবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় হেফাজতের শীর্ষ অর্ধ শতাধিক নেতা গ্রেপ্তার হন। এ অবস্থায় নানামুখী চাপে কারারুদ্ধ ও আলোচিত রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে ৭ জুন জুনাইদ বাবুনগরী ও নূরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্ব ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তারা কারারুদ্ধ নেতাদের মুক্তিসহ হেফাজতকে সংগঠিত করার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

এদিকে ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট মারা যান জুনাইদ বাবুনগরী। হাটহাজারীতে তার জানাজার আগেই নতুন আমির নির্বাচিত হন মামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এরপর ২৯ ডিসেম্বর মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীও মৃত্যুবরণ করলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন আল্লামা সাজিদুর রহমান। পরের বছর ৫ জানুয়ারি পূর্ণ মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

সূত্র মতে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী হেফাজতের কমিটিতেও রদবদল করা হয়। এতে ফিরে আসেন ফ্যাসিবাদী আমলে বিলুপ্ত কমিটির নেতারা। তবে চব্বিশের বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের হেফাজত থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দুঃখপ্রকাশ করে ফেরার সুযোগ পান কয়েকজন।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে বেশ সোচ্চার হয় হেফাজত। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে শীর্ষ নেতাদের বহু ধারায় বিভক্তিতে সংগঠনটিতে ফের স্থবিরতা ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা প্রচারের বিষয়ে হেফাজতের আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান ছিল না। তবে ওই নির্বাচনে সংগঠনটির আমির ও মহাসচিবসহ অনেকে জামায়াত জোটকে ভোট দেওয়া হারাম ঘোষণা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বেশ তৎপর ছিলেন। অবশ্য তাদের বক্তব্য ব্যক্তিগত বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংগঠনটির অরাজনৈতিক আরেক অংশ নির্বাচনি মাঠে অনেকটা নীরব ছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নে হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুই অংশের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাদের মধ্যে হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী অন্যতম। তাদের অনুসারীরা সরাসরি বিএনপি জোটের পক্ষে তৎপর ছিলেন। যদিও তাদের কেউ বিজয়ী হতে পারেননি।

আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি সংশ্লিষ্ট হেফাজতের নেতারা নির্বাচনে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে। এদের মধ্যে হেফাজতের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, হেফাজতের ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অন্যতম। তাদের অনুসারীরা সবাই জামায়াত জোটের পক্ষেই অবস্থান নেন। নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুজন এবং খেলাফত মজলিস থেকে একজন এমপি নির্বাচিত হন।

বর্তমানে জমিয়ত সংশ্লিষ্ট ও হেফাজতের জামায়াত জোটবিরোধীরা সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আর অন্যরা বিরোধী দলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব আছেন। এ অবস্থায় আঞ্চলিক পর্যায়ে ও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কর্মসূচি পালন হলেও হেফাজতের কেন্দ্রীয় ব্যানারে দীর্ঘদিন কোনো অনুষ্ঠান দেখা যাচ্ছে না। এমনকি ৫ মে শাপলার হত্যাকাণ্ড নিয়েও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি। ঢাকায় মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত কর্মসূচিতেও হেফাজত আমির বা মহাসচিবকে দেখা যায়নি।

হেফাজতের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন হেফাজতের কোনো মিটিং হয়নি। আমরা আমাদের দল নিয়ে আছি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাবুনগরে হেফাজত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে মহাসচিবসহ বেশকিছু নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

পরে হেফাজতের দপ্তর সম্পাদক আফসার মাহমুদ নিজের ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি জানান, ওই সফরের উদ্দেশ্য ছিল– আমিরে হেফাজতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরামর্শ গ্রহণ, হুজুরের দোয়া নেওয়া এবং পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা আবু তাহের নদভীর কবর জিয়ারত।

এতে উপস্থিত থাকা অন্তত ১৫ শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে এ কথা উঠে আসে, নানা কারণে হেফাজতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের কিছু নেতা বিভিন্ন দলে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে—এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। একপর্যায়ে হেফাজত আমির নিজস্ব সাংগঠনিক অধিকার বলে পর্যালোচনার আলোকে কিছু সিদ্ধান্ত দেন।

সে অনুযায়ী ১১ দলীয় জোটে অংশগ্রহণকারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান এবং বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, যেহেতু এটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না, তাই কোনো প্রেস রিলিজ বা ছবিও ছিল না। কিন্তু তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনোভাবে প্রচারিত হয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় কিছু অপপ্রচার।

ওই বৈঠকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এতে উপস্থিত থাকা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শনিবার বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে বিভাজন হয়েছিল, তার সুন্দর সমাধানের জন্য সাব-কমিটি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই কমিটি কাজ শুরু করেছে। পরিস্থিতি ভালোর দিকেই যাচ্ছে বলে মনে করি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা হেফাজতকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছি, আমরা বিভক্ত হইনি।

নির্বাচনি অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে এতদিন কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং হয়নি জানিয়ে ইসলামাবাদী আরো বলেন, বর্তমানে অনেকে হজে যাচ্ছেন। কওমি মাদরাসাগুলোও এখন কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত। তাই হজের পর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে কোনো ইস্যু তৈরি হলে তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে।

হেফাজতের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে ইসলামাবাদী বলেন, এটা একদম ঠিক নয়। হেফাজত ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাল্লাহ।

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ বলেন, হেফাজতের অনেক নেতা রাজনৈতিক ভাইরাল নেতা হওয়ায় অনেকে মনে করেন, হেফাজত বিভক্ত হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন হেফাজত রাজনৈতিক দল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের যে মূল ভিত্তিতে হেফাজত গঠিত, সেই স্বকীয়তা যাতে অটুট থাকে, সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছিলাম। আমরা একমত হয়েছি যে, রাজনৈতিক ঐক্য হতে পারে, তবে হেফাজতের ধর্মীয় ঐক্য যেন থাকে। অন্য রাজনীতির প্রভাব যাতে হেফাজতে না পড়ে।

হেফাজতের বর্তমান অচলাবস্থা ও বিভক্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংগঠনটির নায়েবে আমির আল্লামা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, হেফাজত আমিরের উপস্থিতিতে সম্প্রতি হাটহাজারীতে বৈঠকে ইতিবাচক কিছু সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও ১১ দলীয় জোট সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি কমিটি হয়েছে। এসব কমিটি কাউকে বাদ দেওয়ার জন্য হয়নি। নির্বাচনের আগে এক ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হলেও এখন সবাই যাতে ভুল বোঝাবুঝি বাদ দিয়ে মিলেমিশে আগের মতো কাজ করতে পারি, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, হেফাজতের বিভাজন কাটাতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সাব-কমিটির বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। যে যে দলই করি না কেন, হেফাজতের ১৩ দফা ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। বর্তমানে বিভিন্ন শাখার উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলেও শিগগিরই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি আসতে পারে বলেও আভাস দেন তিনি। পবিত্র হজের পর কার্যক্রম জোরদারের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

হেফাজতের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মুহিউদ্দিন রব্বানী বলেন, বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি ছিল, এটা থাকবেই। আশা করি, ১৩ দফার ভিত্তিতে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের শীর্ষ দুই নেতার দুই মেরুতে অবস্থান থাকলেও ১৩ দফার ইস্যুতে আমরা সবাই এক হয়ে যাব, ইনশাল্লাহ।

এদিকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য গঠিত সাব-কমিটির প্রধান এ নেতা বলেন, পবিত্র হজের পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সূ্ত্রমতে, হেফাজতের সামনে উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে নেতাকমীদের নামে বহাল আওয়ামী আমলের ৮০টিরও বেশি মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কওমি আলেমদের নিয়োগ, শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার দ্রুত রায় ঘোষণা করা এবং সমকামিতা ইস্যুসহ আগের ১৩ দফা।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, May 12, 2026

ধরাছোঁয়ার বাইরে হাসিনার ফ্যাসিবাদী বিচারকরা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

ধরাছোঁয়ার বাইরে হাসিনার ফ্যাসিবাদী বিচারকরা:

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০৮: ৩৬

দেড় দশক ধরে দেশে খুন, গুম, হামলা, মামলা, দমন, পীড়ন ও লুটপাটের মাধ্যমে নাগরিকদের মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার হরণে পলাতক শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম সহযোগী বিচারকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের পর জনপ্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহু কর্মকর্তা জবাবদিহিতার আওতায় এলেও দায়ী বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে পুলিশ প্রশাসনসহ বেসামরিক প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। পাশাপাশি হাসিনার ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ হিসেবে চিহ্নিত বিচারপতি ও বিচারকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও জোরালো দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যেও বিচারকদের ‘অঘোষিত দায়মুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয়তবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারাসহ আইনজীবীদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত চার হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। সে সময়ে গুমের শিকার হন ৭০০ জন। বিভিন্ন মামলায় ৬০ লাখের বেশি লোক গায়েবি মামলার আসামি হন। কথা বলার স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশ করার স্বাধীন ও মৌলিক অধিকারগুলো হরণের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের নিকৃষ্টতম ইতিহাস রচিত হয়েছিল শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে। এসব অবিচারের পেছনের মূল কারিগর আদালতের বিচারকরা ছিলেন বলে দাবি আইনজীবী নেতাদের। তারা জানান, রাতের বেলায় লোডশেডিংয়ের মধ্যেও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রহসনের বিচারে সাজা দিয়ে নিরপরাধ হাজারো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর জীবন বিপন্ন করেন বিচারকরাই।

আইনজীবীদের দাবি, বর্তমানে অধস্তন আদালতগুলোতে নিযুক্ত দুই হাজার ১৮৫ বিচারকের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে নিয়োগ পেয়েছেন এক হাজার ৯৪১ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময় তারা বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের শাস্তি দিয়েছেন। এখন আবার তারাই গণহত্যার দায়ে কারাবন্দি অপরাধীদের জামিন দিতে ব্যাকুল হয়ে আছেন।

বিচার বিভাগের কঠোর সমালোচনা করেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। তারা জানান, উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে দেশের জেলা ও মহানগর আদালতের বিচারকদের অনেকেই প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। কেউ কেউ নিজেদের ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ বলেও গর্ব করেন। বিভিন্ন সময়ে গড়ে ওঠা হাসিনাবিরোধী আন্দোলন দমাতে আদালতই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন আসামিকে আটকের পর আইন মেনেই পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করে। অথচ আদালত তাদের বছরের পর বছর কারাবন্দি করে রেখেছে। শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় বিচার বিভাগের বলেও দাবি তাদের।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিচারকদের হাতে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশেনের এক কর্মকর্তা জানান, সে সময় বিচারকরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় রিমান্ড মঞ্জুর, জামিন না দেওয়া ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পথে ঠেলে দিয়েছেন। বিচারিক জুরিসডিকশনের বাইরে গিয়ে গভীর রাতে, লোডশেডিংয়ের সময়ও এজলাসে মোমবাতি জ্বালিয়ে সাক্ষী হাজির করার জন্য পুলিশকে বাধ্য করেন বিচারকরা।

পুলিশ ও জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশের দুঃসময়ে আমাদের বিচার বিভাগ ন্যায়বিচারের ধারা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। হয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন, নয়তো নতজানু অবস্থান নিয়েছিলেন। অভিযুক্ত বিচারকদের শাস্তি হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানও। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই হাসিনার ফ্যাসিজমের পৃষ্ঠপোষক বিচারকদের শাস্তি হওয়া জরুরি।’

আইনজীবীরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটক হওয়া আসামিকেও বেআইনিভাবে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন বিচারকরা। খাসকামরায় রিমান্ড ফেরত আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে অভিযোগ অস্বীকার করার পর বিচারকরা ‘পিটিয়ে হাড় ভেঙে’ নিয়ে আসার জন্য পুনরায় রিমান্ডে পাঠান। বিচারকদের বিরুদ্ধে এমন শত শত অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তারা।

খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে পুরস্কৃত পাঁচ বিচারপতি

দেশের বিচার ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত দুই মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তবে অতি তুচ্ছ ঘটনাকে পুঁজি করে দায়ের হওয়া মামলা দুটি পাঁচ বিচারপতির জীবনের বাঁক পরিবর্তনে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে বলে অভিমত মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তাদের মতে, খালেদা জিয়াকে সাজা দিলে পুরস্কার পাবেন, এমন প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এ মামলার কার্যক্রমে অংশ নেন। মামলাগুলো জামিনযোগ্য হলেও বিচারপতিরা বারবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে বন্দি রাখার শেখ হাসিনার ইচ্ছা পূরণে ভূমিকা রাখেন। তাদের অভিযোগ, এ দুটি মামলাই খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালন করে অভাবনীয় পুরস্কারে ভূষিত হওয়া পাঁচজন হলেনÑবিচারপতি ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (ননী), বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার, বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি মো. আকতারুজ্জামান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মহানগর বিশেষ দায়রা জজ আদালত ১২ বছরের সাজা দেয়। হাইকোর্ট এ সাজার মেয়াদ আরো পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করে দেয়। পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসনের নিকৃষ্টতর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আমার দেশকে জানান, হাসিনার সরকার পছন্দের লোকদের বিচারকের আসনে বসিয়ে ও পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়ে এ ফরমায়েশি রায় আদায় করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে পাঁচ বিচারপতিই অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন করে খালেদা জিয়ার মামলাকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করেছেন। বিচারের ইতিহাসে এমন কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করায় আলোচিত এ পাঁচ বিচারপতিকে শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানান খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী।

তারেক-জুবাইদাকে সাজা দিতে টানা শুনানি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে দুদকের মামলায় টানা সাক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট সাজা দেন তৎকালীন মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান। রায়ে দুটি ধারায় তারেক রহমানের ৯ বছর কারাদণ্ড ও জুবাইদা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা ওই বিচারপতিকে হাইকোর্টের বিচারপতি করার প্রলোভন দেখিয়ে টানা সাক্ষ্য নিয়ে রায় আদায় করেন বলে দাবি করেন তারেক রহমানের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেজবাহ।

অ্যাডভোকেট মেজবাহ বলেন, শুধু তারেক রহমান কিংবা জুবাইদা রহমানকেই নয়, বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় টানা শুনানি করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কখনো কখনো গভীর রাত পর্যন্ত সাক্ষী গ্রহণ করে বিচারকরা শাস্তি নিশ্চিত করে রায় লেখেন।

আইনজীবীরা জানান, ‘আমি-ডামি নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন সিএমএম রেজাউল করীমের কাছে ১৫৮টি মামলার তালিকা দিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ৭৯টি মামলায় দ্রুত শুনানি শেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এক হাজার ২৪৯ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল আমার দেশকে বলেন, এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য শেখ হাসিনার নির্দেশে এ মিথ্যা মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। যে বিচারকই এ মামলার নথিতে হাত দিয়েছেন, তিনিই সরকারের কাছ থেকে অবৈধ ও ‘আনডিউ’ সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, শুনানিতে আমরা মামলার মেরিট তুলে ধরে আদালতে প্রকাশ্যেই এসব কথা বলেছি।

রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে রায় লেখা হয়

আইনজীবীরা জানান, রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা বিএনপির একটি ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন ইকবাল হোসেন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও প্রোস্টেটের রোগে আক্রান্ত ৭১ বছর বয়সি ইকবালের বিরুদ্ধে ৫২টি মামলা ছিল। দুটি মামলায় ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত এবং আরেকটি মামলার শুনানি বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুনানি চলে। ওইদিন আদালত দুই ধাপে ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ওই সময় এমন সাতটি বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত যে, এগুলোর কার্যক্রম রাতেও হয়েছে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নাল আবেদিন মেজবাহ বলেন, আমার দুই দশকের ওকালতি জীবনে এমন রায় ও বিচার কার্যক্রম কখনো দেখিনি, যেটা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে দেখলাম।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে অনেক রাত পর্যন্ত মামলার শুনানি হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমাকেও আদালতে আসামিদের পক্ষে থাকতে হয়েছে। বিএনপি নেতাদের সাত শতাধিক মামলায় তিনি আইনজীবী ছিলেন বলে আমার দেশকে জানান।

আদালতের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবরে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৪-এর বিচারক। ওইদিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ রাত ৮টা ও অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

রফিকুল আলম মজনুর আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, পল্টন থানা পুলিশের দায়ের করা এক মামলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৪-এর বিচারক মঈনুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন দুপুর ১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। ওইদিন বিকাল ৫টার পর অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর এসিএমএম বিচারক সুলতান সোহাগের আদালতে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আদিলের আইনজীবী মামলার নতুন তারিখ চেয়ে আবেদন করলে তা খারিজ করে রাত ৮টা পর্যন্ত আরো পাঁচ সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আরো কয়েকজনকে একটি মামলায় রাত ৮টা পর্যন্ত শুনানিতে চার বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৪৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লাখ ৪১ হাজার ৬৩৬টি মামলা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে প্রতি বছর ১০ হাজার (প্রতিদিন ২৭টি মামলা হয়েছে)। শুধু ঢাকা বিভাগেই ওই সময়ের মধ্যে ছয় লাখ ১৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১৫ হাজার ৭৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫০টি মামলার আসামি ছিলেন হাবিবুন নবী খান সোহেল। তিন শতাধিক মামলার আসামি ছিলেন অসংখ্য নেতা। তাদের অনেককে রাত ৮টা, কখনো কখনো রাত ৯টা পর্যন্ত আদালতের কাঠগড়ায় থাকতে হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, রাতে হঠাৎ হঠাৎ লোডশেডিং বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিচারক তার সহকারীকে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিয়ে আসতে বলেছেন। কখনো কখনো মোমবাতির আলোতে লেখা হয়েছে শাস্তির আদেশ।

অধস্তন আদালতে আ.লীগ আমলের ১৯৪১ বিচারক

আইন মন্ত্রণালয় ও বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানিয়েছে, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখন বিচারকের সংখ্যা দুই হাজার ১৮৫ জন। এদের মধ্যে এক হাজার ৮৪১ জনই নিয়োগ পেয়েছেন বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে। এ সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরীক্ষায় দলীয় লোককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভাইভা বোর্ডে দলীয় লোককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। মাদরাসা ছাত্র হওয়ার কারণে বাদ দেওয়া হয় অনেককে।

বাংলাদেশ সচিবালয় ও জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্যমতে, বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের আমলে ১৪টি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মোট এক হাজার ৮৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিচারকদের মধ্যে ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ দেখতে চান না আইনমন্ত্রী

জুডিশিয়ারিকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে যেতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা এ দেশে আর শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ চাই না। আমরা চাই না কোনো বিচারকের নেতিবাচক আচরণের কারণে গোটা জুডিশিয়ারির ওপর মানুষের ক্ষোভ ফিরে আসুক।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ ও প্রশাসনের অনেকের চাকরি চলে গেছে ও অনেকে জেলে গেছেন। যারা সন্ধ্যার পর রাত ১২টা-১টায় মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধীপক্ষকে দমনপীড়নের জন্য বিচারকার্য সম্পাদন করেছেন, আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে—তা দেখতে চায় জনগণ। এটি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, কারা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কারণ জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাদের কাছে আমাদের জবাবদিহিতার বিষয় আছে।’

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, May 7, 2026

তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি:

 প্রকাশ: ১০:১৬, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬

তারেক রহমান। বিএনপি’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বর্তমানে রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বিলেতে ১৭ বছর কেমন ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কেনইবা তাকে বিলেতে যেতে হলো- তা নিয়ে অন্তহীন কৌতূহল।

কখন, কীভাবে ও কারা তাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা দীর্ঘ সময় ধরে অজানাই ছিল।

সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ১/১১-এর সময় ২০০৭ সনের ৭ই মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে। কারা গ্রেপ্তার করেছিলেন, কীভাবে করেছিলেন তার একটি বয়ান রয়েছে প্রাপ্ত অনুসন্ধানে।

এতে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাকে মইনুল রোডের বাসভবন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে কর্নেল (অব.) ইমরান এবং ডিজিএফআই-এর জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নিয়ে যান। জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের উপস্থিতিতে আর্মি হেড কোয়ার্টারে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মেজর ইমরানের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন রানার ও একজন ড্রাইভার নিয়ে তিনি মইনুল হোসেন রোডস্থ বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে উপস্থিত হন। এ সময় বাসভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি ছিল।

মেজর ইমরান বাসভবনের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাড়ির ভেতরে নিজ গাড়িতেই অবস্থান নেন।

আনুমানিক তিন ঘণ্টা পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে বের হলে মেজর ইমরান তাকে নিয়ে গাড়িতে উঠেন। নিয়ে যান নির্ধারিত গন্তব্যে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর মেজর ইমরানের সঙ্গে থাকা রানার তারেক রহমানের মুখ কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এ সময় তারেক রহমান জানালা খোলার জন্য অনুরোধ করেন।

কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মেজর ইমরান তা নাকচ করে দেন।

এরপর সিটিআইবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। সিটিআইবি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার নির্দেশেই অন্য কর্মকর্তারা বিশ্রী ভাষায় তারেক রহমানকে গালিগালাজ করেন। জেআইসিতেই তারেক রহমানকে তিন-চারদিন রাখা হয়। সেখানে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চোখ বেঁধে রাখা হয়। হাত বাঁধা অবস্থায় ঝুলিয়ে রেখে নির্যাতন করা হয়। দীর্ঘসময় একটানা তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। যা ছিল অমানবিক, বর্বরোচিত।

তারেক রহমানকে দুইবার জেআইসিতে আনা হয়। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে টানা কয়েকদিন জেআইসিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুর রব খান তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারের নির্দেশে তারেক রহমানের কাছ থেকে একটি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। যে জবানবন্দিতে তারেক রহমান তার ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়।

এই সময় কারা কারা উপস্থিত ছিলেন সেই তথ্যও বেরিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে। চারজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে এই জবানবন্দি আদায় করেন। এর মধ্যে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাহিদ হোসেন ও মেজর (অব.) মনির। নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে অনেকটা পঙ্গু করে ফেলা হয়।

স্বাভাবিকভাবেও তিনি হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তার ওপর নির্যাতনের একটি কাহিনী অনুসন্ধানী রিপোর্টে সন্নিবেশিত রয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ সম্পর্কে একটি জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে তারেক রহমানের নানি মারা যান। এ সময় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। সে সময় জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী প্রত্যক্ষ করেন, তারেক রহমান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। তখন তিনি জানার চেষ্টা করেন- কীভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারেন ডিজিএফআই-এর অফিসাররা তার ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। এতে তিনি বিচলিত হয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের কাছে জানতে চান- কেন এই নির্যাতন চালানো হয়েছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

জেনারেল মাসুদ তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে তার অনেক দূরত্ব তৈরি হয়। নির্যাতনের সময় তারেক রহমানকে কীভাবে রাখা হয়েছিল তার একটা বর্ণনা পাওয়া গেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, জেনারেল (অব.) এটিএম আমিনের নির্দেশে এই নির্যাতন চালানো হয়। তার নির্দেশে তারেক রহমানকে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

ওয়ারেন্ট অফিসার ফজলু জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার আমিন তাদেরকে বলেছেন- পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝুলন্তই থাকবে। এক পর্যায়ে সিলিং থেকে তিনি পড়ে যান এবং কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান। বছরের পর বছর তারেক রহমানকে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এসব ঘটনায় সাত পদস্থ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে অনুসন্ধানে।

এই অফিসাররা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী (তৎকালীন সিটিআইবি’র পরিচালক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্নেল জিএস সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছের চৌধুরী (তৎকালীন জেএসও-এক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুর রব খান (তৎকালীন জেআইসি অধিনায়ক সিটিআইবি), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. ফরিদ উদ্দিন (তৎকালীন জেএসও-১) এবং মেজর (অব.) মনির (তৎকালীন জেএসও-২, সিটিআইবি)।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। জেনারেল মইন তাকে অন্যত্র পোস্টিং দিয়েছিলেন। পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারেক রহমান তার নিকটাত্মীয় বলে জেনারেল মইন তাকে দূরে রেখেছিলেন- এটাও দাবি করেছেন জেনারেল মাসুদ। তারেক রহমানের সঙ্গে জেনারেল মাসুদের কেন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তারও বর্ণনা দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে। বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টকে কেন্দ্র করেই এই দূরত্ব তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে বলপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর আগে একটি অঙ্গীকারপত্র সই করিয়ে নেয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

বিদেশে বসেই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চাঁদাবাজি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

বিদেশে বসেই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ চাঁদাবাজি:

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১০: ৩৮

দিনে ব্যবসা, রাতে গুলির আতঙ্ক—চট্টগ্রামের বন্দরনগরীতে এখন এটাই বাস্তবতা। বিদেশে পালিয়ে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোটি টাকার চাঁদা দাবি করছে। দিতে অস্বীকার করলেই চলছে হামলা—পুলিশ পাহারাও ঠেকাতে পারছে না এই সংগঠিত সন্ত্রাসকে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ফজরের নামাজের কিছুক্ষণ পর চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় মুখোশধারী চার সন্ত্রাসী। তাদের হাতে থাকা পিস্তল, সাবমেশিনগান, চাইনিজ রাইফেল ও শটগান দিয়ে মুহূর্তেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। বাড়িতে তখন পুলিশের পাঁচ সদস্য পাহারায় থাকলেও হামলাকারীদের ঠেকানো সম্ভব হয়নি। একই বাড়িতে এটি ছিল চাঁদার দাবিতে দ্বিতীয় দফা হামলা।

এর আগে ২ জানুয়ারি বাড়িটিতে প্রথম হামলা চালানো হয়। কারণ একটাই—কোটি টাকার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি। ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ প্রথমে ১০ কোটি টাকা দাবি করে, পরে তা কমিয়ে ৫ কোটিতে আনে। অস্বীকৃতি জানালে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আসে—‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’। এরপরই শুরু হয় হামলা, তাণ্ডব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিদেশে বসে মুঠোফোনে হুমকি, হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা, সোর্স দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভিডিও সংগ্রহÑএভাবে এক অদৃশ্য অথচ নিষ্ঠুর সন্ত্রাসের জাল বিস্তার করেছে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের সবচেয়ে আলোচিত নামটি হলো সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’। সে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে পলাতক থেকেও চট্টগ্রামের অন্তত পাঁচটি থানার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। নির্মাণাধীন ভবনের ভিডিও সংগ্রহ করে সম্ভাব্য টার্গেট চিহ্নিত করে ফোনে নিজে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে চাঁদার দাবি জানায় সে। চলতি বছরের মার্চে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাইদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে এমন একাধিক ভিডিও ও কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, হাটহাজারী ও চকবাজার এলাকায় তার অন্তত অর্ধশত ‘সোর্স’ সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকার নির্মাণাধীন ভবন, ইটভাটা ও পরিবহন খাতÑ সবই এই চাঁদার জালে আটকা।

গত দেড় বছরে একাধিক গুলির ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট হাটহাজারীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে গুলি চালানো হয় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায়। এ ঘটনায় বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম আসে তদন্তে।

পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কালারপুরে নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসী ‘ছোট সাজ্জাদ’ শটগান নিয়ে প্রকাশ্যে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ করে। সিসিটিভিতে পুরো ঘটনা ধরা পড়লেও ভবন মালিকেরা মামলা করতে সাহস পাননি। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশে নির্মাণাধীন ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বড় সাজ্জাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়।

রাউজান থেকে বন্দর : সন্ত্রাসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

চাঁদাবাজির বিস্তার এখন চট্টগ্রামের প্রায় সব খাতেই। রাউজানে ৫ আগস্টের পর থেকে ৪৮টি ইটভাটা থেকে প্রায় এক কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। রাঙামাটি থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বন্দরে, যেখানে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছিলেন সাবেক নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

অপরাধ জগতের এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চারজনের নাম। হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসাÑসব মিলিয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে শীর্ষে আছে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাবশালী নাম সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ। ভারতে পলাতক ‘এইট মার্ডার’ মামলার মৃত্যুদণ্ড আসামি মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি চাঁদার দাবি জানায়। বড় সাজ্জাদ নিজে ফোন করে, না হলে পরিচিত নম্বর থেকে বার্তা পাঠায়। কাস্টমস কর্মকর্তারাও এই পদ্ধতিতে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন জানিয়ে বন্দর থানায় জিডি করেছিলেন।

এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টির বেশি মামলার পলাতক আসামি। ২০২৫ সালের মার্চে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরের বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি ও টার্গেটেড হামলার অভিযোগ রয়েছে।

বড় সাজ্জাদ বাহিনীর কথিত কিলিং স্কোয়াডের প্রধান মোহাম্মদ রায়হান এ তালিকার তৃতীয় ব্যক্তি। গত এক বছরে অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়ানো পলাতক রায়হানকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকাকে ঘিরে আরেক আতঙ্কের নাম হাবিব খান। বিদেশে অবস্থান করলেও সে অনুসারীদের মাধ্যমে এসব এলাকায় নিয়মিত চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের। বেশ কয়েকটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে তার আর্থিক নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ করার লক্ষ্যে মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির তথ্য জানাতে ‘হ্যালো সিএমপি’ অ্যাপও চালু করা হয়েছে।

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। স্মার্ট গ্রুপের মালিকের বাড়িতে পুলিশ পাহারার মধ্যে দ্বিতীয় দফা গুলির ঘটনা প্রমাণ করে, পুলিশ উপস্থিতিও সন্ত্রাসীদের থামাতে পারছে না। বড় সাজ্জাদকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা কিন্তু থেমে নেই। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে। বড় সাজ্জাদের বিষয়ে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদা না দিলে গুলি খেতে হবে আর দিলে মেনে নিতে হবে এই জুলুমÑএ দুয়ের মাঝখানে আটকা পড়েছেন তারা। অনেকে পুলিশের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ মামলা করলে পাল্টা হামলার আশঙ্কা থাকে। বন্দরনগরীতে এই নীরব সন্ত্রাস চলতে থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না, উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড়।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, May 6, 2026

জুলাই বিপ্লবের মামলার বিচার কোন পথে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

জুলাই বিপ্লবের মামলার বিচার কোন পথে:

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০৫: ৪২

জুলাই বিপ্লবে আবু সাঈদ হত্যা ও চানখাঁরপুল গণহত্যার মতো নৃশংস ঘটনার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এসব যুগান্তকারী রায়ের সমান্তরালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের জামিনে মুক্তি এবং সরকারের পক্ষ থেকে মামলা পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ বিচারপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৬ এপ্রিল জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী বিশেষ দূত ড. অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস আমার দেশকে বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামও গত ২২ এপ্রিল আমার দেশকে বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়া আমাদের কাছে অস্বচ্ছ মনে হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর চেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে। কেন চেঞ্জ করা হয়েছে সেটা আমরা জানি না। নতুন চিফ প্রসিকিউটর এসেছেন এবং আমরা এরকম কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাইনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত পাঁচ মাসে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এতে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৬ মার্চ আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

তবে বিচারের এই গতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির অনেক নেতা জামিনে মুক্ত হচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করছেন এবং কারামুক্তির পর বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে ফুল দিয়ে বরণের ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিকে ‘বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন জুলাই যোদ্ধারা।

গত ফেব্রুয়ারিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনকে ওহাইও ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ স্কলার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান নেতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘নতুন চিফ প্রসিকিউটরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জটিল মামলা সামলানোর অভিজ্ঞতার অভাব উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিতের পথে অন্তরায় হতে পারে।’

যদিও নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সব আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বলেন, ‘বিচারাধীন এবং নিষ্পত্তি হওয়া সব মামলা আমি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখব। তদন্তে কোনো ফাঁক থাকলে তা সংশোধন করে জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

সংশয়ের মেঘ জমেছে যেভাবে

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন।

পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর দায়ের করা কিছু মামলায় সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থের জন্য আসামি করা হয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি এসব মামলা করেছে, যা সরকারের নজরে এসেছে। এসব মামলা যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য বের করার প্রক্রিয়া চালানো হবে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল এবং নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়োগ বাতিলের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, কোনো শঙ্কার কারণ নেই। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে চাইব বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকুক এবং বাংলাদেশে পুনরায় এ ধরনের অপরাধ যেন ফিরে না আসে।’ তাজুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

জুলাইযোদ্ধা ও ভুক্তভোগীদের প্রতিক্রিয়া

এসব বিষয়ে এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব এবং বর্তমানে গণবিপ্লবী উদ্যোগ-এর প্রতিনিধি আরিফ সোহেল আমার দেশকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সামরিক এবং বেসামরিক অভিযুক্তদের বিচার বন্ধ হয়ে যাবে কিনা এই মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না। মনে হয় না এটা একেবারেই বন্ধ হবে, তবে এটি ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হতে পারে। অথবা যারা বিএনপির আনুকূল্য পেতে সক্ষম বা বিএনপির স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে, তাদের হয়তো রেহাই দেওয়া হবে। এর বাইরে যারা থাকবে, তাদের বিচার হয়তো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হবে। সুতরাং, বিচার বন্ধ হবে না, তবে রাজনৈতিক প্রভাবে ন্যায়বিচার নাও হতে পারে।’

২০২০ সালে গুমের শিকার প্রকৌশলী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণহত্যা মামলায় অনেক আসামি জামিন পেয়ে যাচ্ছে। সরকারে থাকা কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের অপরাধে নমনীয়তা দেখা যায়। জুলাইয়ে শহীদ হওয়া মানুষের রক্তের ক্ষতিপূরণ ছাড়া প্রহসনের বিচার মেনে নেওয়া যাবে না। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল, তাদের সাক্ষী ও ভুক্তভোগীরা এখনো জীবিত। কোনো ফাঁকফোকর দেখিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া যাবে না।’

ফেসবুকে লেখালেখির দায়ে গুম হওয়া জিয়া সাইবার ফোর্সের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘মামলা পুনরায় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গণহারে দায়ের হওয়া মামলায় নিরীহ মানুষ যেন ভুক্তভোগী না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা

গত পাঁচ মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে ২৪টি মামলায়। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৮টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২ এ ছয়টি মামলার অভিযোগ দাখিল হয়। বর্তমানে ২১টি মামলা বিচারাধীন।

চলমান মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা ৪৫৭। এর মধ্যে গ্রেপ্তার ১৬১ জন এবং পলাতক ২৯৩। এছাড়া জামিন পেয়েছেন একজন, মৃত্যুবরণ করেছেন একজন এবং খালাস পেয়েছেন একজন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি ও অন্যান্য সিভিলিয়ান ৭৪ জন, পুলিশ ৬৫ জন, সেনা ২০ জন এবং আনসার একজন।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, মামলা পুনঃযাচাই ও ট্রাইব্যুনালে রদবদল কি সত্যিই নিরীহ মানুষকে রক্ষার পদক্ষেপ, নাকি বৃহত্তর বিচার প্রক্রিয়ার ভেতরেই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে?

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, May 5, 2026

শাপলা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

শাপলা হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত:

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৩: ১৯

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একথা বলেন।

এর আগে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের দুই দিনের সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্যসহ কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত হয়েছিল বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

শনিবার বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে করা এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যতবার আমি হেফাজতে ইসলামকে কোনো বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখি, ততবার আমার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জন্য শাপলা চত্বরের গণহত্যা নিয়ে করা তদন্তের কথা মনে পড়ে। যখন সারা বিশ্ব সেই গণহত্যার মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিল, তখন আমি ঢাকাতে বিবিসির প্রাক্তন সংবাদদাতা মার্ক ডামেটের সঙ্গে সেই কঠিন কাজটি হাতে নিয়েছিলাম। আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলাম যে দুই দিনের সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্যসহ কমপক্ষে ৫৮ জন নিহত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে চলা তদন্তের সময়, রাস্তাঘাট চষে বেড়ানো, হাসপাতালের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং দাফনের প্রমাণ সংগ্রহ করা, মানুষকে মুখ খুলতে রাজি করানোর চেষ্টা করার সময়, আমি প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভীত ছিলাম।’

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে, আমি আগে কখনও আমার কাজের কৃতিত্ব দাবি করতে পারতাম না, কিন্তু যখনই আমি দেখি যে কোনও সহকর্মী সাংবাদিক আমার কাজকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন, তখন তা আমাকে সত্যিই আনন্দ দেয়।’

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, April 30, 2026

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার:

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৯

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই এবং তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং আবু বক্করের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদ-সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিমকে এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারকেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তারা। উদ্ধার করা সামরিক পোশাকগুলো আরসার বলে পুলিশের ধারণা। তবে ডিবির আরেকটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, 'তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।' উগ্রবাদীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটি বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সূত্র: ইত্তেফাক

Wednesday, April 29, 2026

বাংলাদেশে টিটিপি জঙ্গির উদয় হলো কোথা থেকে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

বাংলাদেশে টিটিপি জঙ্গির উদয় হলো কোথা থেকে:

মাহমুদুর রহমান 

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৫৭

কদিন ধরে টিটিপি নামধারী জঙ্গিদের গল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় শোনা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিগোপনীয় এক চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ফলেই বাংলাদেশে টিটিপির হঠাৎ উপস্থিতি এভাবে প্রকাশ পেয়ে গেছে। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে টিটিপির হয়ে লড়াই করতে গিয়ে সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার কথা মিডিয়ায় এসেছিল।

নিহতদের মধ্যে মাদারীপুরের ফয়সাল, গোপালগঞ্জের রতন ঢালি এবং সাভারের জুবায়েরের পরিচয় জানা গিয়েছিল। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়েও কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণের টিটিপি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের খবর সংবাদপত্রে পড়েছিলাম। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা অবশ্য প্রমাণিত হয়নি।

এদের সবাই নাকি উগ্র অনলাইন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়েছিল। সম্প্রতি পুলিশের নথি ফাঁসের মাধ্যমে দেশের মধ্যে টিটিপির উত্থানের যে খবর মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে তা সত্যি হলে অনেক বেশি বিপদের কথা। বলা হচ্ছে, টিটিপি নাকি বিমান বাহিনীতে পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করে ফেলেছে। এ তো ভয়ংকর সংবাদ! এসব খবর বিশ্বাস করব কি না বুঝতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, শেখ হাসিনা তার শাসনকালে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক ঝামেলায় পড়লেই দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আজ্ঞাবহ আওয়ামী পুলিশ নানান কিসিমের জঙ্গি নাটক নিয়ে হাজির হতো। ফ্যাসিস্ট শাসনের ন্যায্যতা উৎপাদনের জন্য সে সময় গ্রামের দরিদ্র মানুষজন ধরে এনে ইসলামি জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের চাঞ্চল্যকর ‘জাহাজবাড়ি’ অপারেশনের মতো এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন নির্বাচিত সরকারের তো সাবেক আমলের মতো জঙ্গিবাদের প্রোপাগান্ডার কোনো প্রয়োজন দেখি না। সুতরাং, এই আমলের গোয়েন্দা তথ্য আমাদের যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের নথি ফাঁস কীভাবে ও কাদের দ্বারা হলো, তারও একটি বিশদ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। কোনো দেশি বা বিদেশি সংস্থা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করার জন্য এ-জাতীয় খবর ছড়াচ্ছে কি না, সেটাও জানা দরকার।

এবার পাঠকদের টিটিপি সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছি। উগ্রবাদী পশতুন নেতা বাইতুল্লাহ মেহসুদ ২০০৭ সালে তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান নামে জঙ্গিগোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের প্রতিষ্ঠা থেকেই টিটিপি আফগান জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সুইসাইড হামলাসহ ভয়াবহ সব সন্ত্রাসী অপারেশন অব্যাহত রেখেছে। তারা নিজেদের দেওবন্দি তরিকার অনুসারী বলে দাবি করে থাকে। ২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা এবং ২০১৪ সালে পেশোয়ারের স্কুলে হামলা চালিয়ে ৮ থেকে ১৮ বছরের ১৩২ ছাত্রছাত্রীকে নির্মমভাবে হত্যার জন্য টিটিপিকেই দায়ী করা হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানে অসংখ্য সন্ত্রাসী ঘটনার দায় টিটিপি বিভিন্ন সময় স্বীকার করেছে।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে টিটিপির জঙ্গি তৎপরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই জঙ্গিদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধ বেধেছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টিটিপির প্রধান ঘাঁটি অবস্থিত। জঙ্গি সংগঠনটির বর্তমান নেতার নাম নুর ওয়ালি মাসুদ। এর আগের তিন শীর্ষ নেতা বাইতুল্লাহ মেহসুদ, হাকিমুল্লাহ মেহসুদ এবং মোল্লাহ ফাজলুল্লাহ যথাক্রমে ২০০৯, ২০১৩ এবং ২০১৮ সালে মার্কিন মিসাইল হামলায় নিহত হয়েছিলেন। আফগান তালেবানদের সঙ্গে পাকিস্তানের একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চমকপ্রদ পরিবর্তন ঘটেছে। এখন পাকিস্তানের জায়গায় ভারত তালেবান সরকারের মিত্রের স্থান দখল করে নিয়েছে। ঘটনার নাটকীয়তা বোঝানোর জন্য খানিকটা পুরোনো ইতিহাস বর্ণনা করা দরকার।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী কাবুল দখল করে নিলে পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আফগানরা ‘মুজাহিদিন’ বাহিনী গঠন করে এবং দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক দশকব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সেনাবাহিনী বিপুল ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নেরই পতন ঘটে যায়।

অপরদিকে দখলদার বাহিনীমুক্ত কাবুলে ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৯৬ সালে তালেবান নেতা মোল্লাহ ওমর ক্ষমতাসীন হন। ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান দখলের পর হামিদ কারজাইকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করে। ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে দুই দশক পর তালেবানরা ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়। দখলদার সোভিয়েত বাহিনী ১৯৮৯ সালে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কাবুল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত, এই দীর্ঘ ৩২ বছর ভারত আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী ‘নর্দার্ন অ্যালায়েন্স’কে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে। হামিদ কারজাই এবং পরবর্তী আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিল। অপরদিকে দিল্লি নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের প্রতিপক্ষ তালেবানকে সবসময় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করেছে। এখন পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নাটকীয়ভাবে পাল্টে গিয়ে ‘শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু’ নীতি অনুযায়ী, ভারতের হিন্দু কট্টরপন্থি সরকার আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থি তালেবানদের মিত্রে পরিণত হয়েছে। কট্টর হিন্দু এবং কট্টর ইসলামপন্থিরা তাদের উভয়ের শত্রু পাকিস্তানকে যৌথভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই নাটকীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এই পরিবর্তিত অবস্থার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে টিটিপির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির পেছনে সংগত কারণেই ইসলামাবাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কানেকশনের অভিযোগ জোরেশোরে উত্থাপন করেছে।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে যথাক্রমে টিটিপি এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি যে সন্ত্রাসী আন্দোলন চালাচ্ছে, তার পেছনে আফগানিস্তান এবং ভারতের সক্রিয় সমর্থন প্রদানের প্রবল সম্ভাবনার কথা অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাদের লেখা ও বক্তব্যে উল্লেখ করছেন। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের খুব সহজেই সীমান্তের ওপার থেকে সব ধরনের সরবরাহ প্রাপ্তির সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া পাকিস্তানে যেকোনো সন্ত্রাসবাদী অপারেশন শেষ করে অপরাধীরা সীমান্তের ওপারে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রেও ভারতীয় এবং আফগান গোয়েন্দাদের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ‘র’-এর এজেন্টদের ঘাঁটি গাড়ার অভিযোগ ইসলামাবাদ প্রায়ই উত্থাপন করে থাকে।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের দিকে নজর ফেরানো যাক। পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত টিটিপির সঙ্গে বাংলাদেশের টিটিপির সম্পর্কের বিষয়টি এখনো ঠিকমতো পরিষ্কার হয়নি। এটাও জানা যায়নি যে, বাংলাদেশে টিটিপি নামে কোনো জঙ্গি সংগঠনের আদৌ অস্তিত্ব আছে কি না, নাকি অভিযুক্ত পুলিশ ও বিমান বাহিনীর সদস্যসহ আরো কিছু বিপথগামী বাংলাদেশি তরুণ শুধু অনলাইনে মগজধোলাই হয়ে পাকিস্তানি তালেবানের সদস্য হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে কিছুদিন পরপর বিচিত্র সব নামের কথিত জঙ্গি সংগঠন আবিষ্কারের মাধ্যমে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর ইত্যাদি পদ্ধতিতে ভয়াবহ সব মানবাধিকার লঙ্ঘন জায়েজ করা হতো। টিটিপির গল্প তখন শোনা যায়নি। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ পুরোনো সেসব নাটকের মঞ্চায়ন আর দেখতে চায় না। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রচারণা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নানা উপায়ে তৎকালীন বিএনপি সরকারকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম। সারা দেশে একদিনে কয়েকশ বোমা বিস্ফোরণের রহস্যজনক ঘটনা আমাদের ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সংযোগ এবং নিবিড় পরিকল্পনা ব্যতীত দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একই দিনে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হওয়া সম্ভব ছিল না। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশকে একটি ইসলামি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে ওই বোমা হামলার ঘটনা ব্যবহৃত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মহলে এক-এগারোর ভারতপন্থি সেনা অভ্যুত্থান জায়েজ করার জন্য বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের গল্প বেশ কাজে লেগেছিল। পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে দেশব্যাপী একযোগে বোমা বিস্ফোরণের রহস্যের কিনারা করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তারা হয়তো থলের বিড়াল বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত ছিল। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি। সেই সন্ত্রাসী ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের চেহারা উন্মোচন করতে পারলে বর্তমানের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সহজ হবে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের যেকোনো জঙ্গি গল্প বিশ্বাস করার আগে সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে উদঘাটন এবং সেগুলো যথাযথ বিচারবিশ্লেষণ করা আবশ্যক। টিটিপিসংক্রান্ত অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেখবে বলে আশা করছি।

পাকিস্তানের টিটিপির সঙ্গে আফগান তালেবানদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রমাণিত। উপরন্তু এদের সঙ্গে ভারতের ‘র’-এর যোগসূত্র নিয়েও সর্বত্র আলোচনা রয়েছে। সুতরাং, বাংলাদেশে যদি সত্যি টিটিপির উত্থান ঘটে থাকে তাহলে এই জঙ্গিদের শুধু স্থানীয় বিপথগামী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বাংলাদেশে টিটিপি জঙ্গি সেল তৈরি হয়ে থাকলে সেটাকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের অনুরূপ বিদেশি কোনো আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের বাংলাদেশবিরোধী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

আর যদি কেবল অনলাইনে টিটিপির প্রচারণা দ্বারা আমাদের তরুণরা বিভ্রান্ত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে গণমাধ্যমের সহায়তা নিয়ে সরকারের উচিত জনগণকে বিশেষভাবে সতর্ক করা। তবে কাল্পনিক জঙ্গি হামলা নিয়ে সরকারি সূত্র থেকে অতিরিক্ত প্রচার সরকার এবং রাষ্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এ-জাতীয় প্রচারণার ফলে ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যকার বরখাস্তকৃত অপরাধীরা উৎসাহিত হয়ে দেশের অভ্যন্তরে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি।

সূত্র: আমার দেশ 

পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়ঃ প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮: ২৬   ভারতে পলাতক বাংলাদেশের তিন আলোচিত জেনারেল— ...