Wednesday, August 19, 2026

প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণেরঃ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩৪

 


ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠনের অঙ্গীকার। প্রশাসনকে রাজনীতিকীকরণের বাইরে রাখতে প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের আমলাতন্ত্রের খোলনলচে বদলাতে ইশতেহারে দলটি ‘মেরিটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এর মাধ্যমে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির মাপকাঠি ঘোষণা করা হয়। ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে কাউকে বঞ্চিত না করার প্রতিশ্রুতিও দেয় দলটি। একই অঙ্গীকার রয়েছে বিএনপির ৩১ দফার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের রূপরেখাতেও।

তবে গত ছয় মাসে নির্বাচনি এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে নিয়োগের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। হতাশা ব্যক্ত করে তারা বলেন, প্রশাসনে বহু প্রত্যাশার সংস্কার কার্যক্রম সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। সবকিছু চলছে আগের মতোই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল মঙ্গলবারও মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরো বেশি কাজের সুযোগ করে দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের অবস্থানের পরও রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুস, দুর্নীতি, ফাইল জিম্মি করে টাকা আদায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শতাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে আমার দেশ। তাদের অধিকাংশই বলেছেন, সেবা পেতে ঘুস দিতে হয়েছে। সুশাসন ও নাগরিক সেবা নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থার প্রধানদের মতেÑ সরকারি দপ্তরগুলোতে জনগণের হয়রানি ও অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার প্রবণতা আগের মতোই চলছে।

শিক্ষা খাতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসে ২৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ হয়। তাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দল এবং এর বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেখানে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে। তাদের দাবি, রীতি অনুযায়ী এসব পদে সাধারণত অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে এসবের কোনো কোনোটিতে রাজনৈতিক নিয়োগ হয়েছে। তবে এবারই ঢালাওভাবে একযোগে ১১টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে সরকার দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। নিয়োগপ্রাপ্তদের কারো কারো দলের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মনে করেন, যার কাজ তাকে দিয়ে করানোই উচিত। আমার দেশকে তিনি বলেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়, ঠিক তেমন প্রশাসনের পদগুলোতেও ঢালাওভাবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া ঠিক নয়। এটি প্রশাসনকে আরো বেশি করে বিতর্কিত করে তুলবে। এমনিতেই আমাদের জনপ্রশাসন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় আসে, প্রশাসন তার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল আশঙ্কা কাজ করে। এ অবস্থায় প্রশাসনকে রাজনীতির বাইরে রেখে সত্যিকারের জনবান্ধব করে গড়ে তোলা আবশ্যক।

ঢালাওভাবে একসঙ্গে এতগুলো সরকারি সংস্থার নেতৃত্বস্থানীয় পদে দলীয় ব‍্যক্তিদের নিয়োগ উদ্বেগজনক, তবে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু নয়, বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয়ও নয়Ñএমন মন্তব্য ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের। আমার দেশকে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো নজরদারি সংস্থার শীর্ষ পদ থেকে শুরু করে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ যত নিয়োগ দেওয়া বা অপসারণ করা হয়েছে, সব ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ আমলের মতো রাষ্ট্র-কাঠামোতে দলীয় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যের সংস্কৃতি অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছিল। অথচ বাস্তবে তার প্রয়োগে বড় ধরনের সদিচ্ছার ঘাটতি ও বিপরীতমুখী চর্চা দেখা যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদের পতন হয়েছে, কর্তৃত্ববাদী দলীয়করণের পরিবর্তন হয়নি। শুধু ‘উইনার টেইকস অল’ চর্চার পালাবদল হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, সরকার বদলালেও ঘুস, দুর্নীতি, অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো হেরফের হয়নি। ফাইল আটকে টাকা আদায় চলছে সেই আগের মতোই। ঘুস ছাড়া কোনো ফাইল নড়াচড়া তো দূরের কথা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলাও মুশকিল। তাদের মতে, রাজউক, সিটি করপোরেশন কার্যালয়, ভূমি অফিস, বিআরটিএ পাসপোর্ট অফিসগুলোসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি দপ্তরগুলোতে ঘুসের পরিমাণ আগের চেয়ে বেড়েছে। এমন চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনেও।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি জেলায় বিভাগীয় শহরের সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একজন সেবাগ্রহীতা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ভূমি অফিস থেকে ঘুস ছাড়া কেউ কোনো নথি নিষ্পত্তি করতে পেরেছেন, এমন নজির নেই। রিয়েল স্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছে আমার দেশ। ঘুস ছাড়া রাজউক থেকে রিহ্যাবের (রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন) সদস্যরা কোনো নকশা অনুমোদন করতে পেরেছেন, এমন একটি উদাহরণও নেই বলে দাবি করেন তারা।

মেধার মূল্যায়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক, আইনগত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন করা হবে বলে অঙ্গীকার রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের আগে সংসদীয় কমিটির শুনানি ও ভেটিং প্রক্রিয়া চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়।

১১ নম্বর দফায় প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে বলা হয়েছেÑ দক্ষ ও নিরপেক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি প্রশাসন ও পুলিশের সংস্কার হবে। বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে একমাত্র যোগ্যতাকে মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত যোগ্য জনবল নিশ্চিত হয়।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাইযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ ও শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। আর সেটি হলোÑএকটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ইশতেহারে গুরুত্বসহকারে এ-ও বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে রাজনীতিকীকরণ

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নগ্ন দলীয়করণের রেকর্ড হয়েছিল পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণহত্যায় সহযোগী উপাচার্যদের (ভিসি) সরিয়ে বা তাদের পদত্যাগের কারণে শূন্যপদে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও এসব উপাচার্যের দুয়েকজন জামায়াতপন্থি বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়হীন থাকলেও বাকি সবাই ছিলেন বিএনপির অনুসারী বা সক্রিয় সদস্য।

চার বছরের জন্য এসব উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুই বছর মেয়াদ পূরণেরও সুযোগ পাননি তারা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় শুরু হয় উপাচার্য পরিবর্তন। ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ২৮টিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকজনের সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে জড়িত, বাকিরা বিএনপির পেশাজীবী সংগঠনÑ জিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ বা শিক্ষক সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারার পদেও পছন্দসই লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ । এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবিসহ ভিন্ন বিভাগের শিক্ষককে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই নিয়োগ পাচ্ছেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব কারণে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া কিছু বিতর্কিত শিক্ষকও নিয়োগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের এক ঘণ্টার মাথায় তা বাতিল করা হয়। একই ধরনের অভিযোগে ২৩ দিনের মাথায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে।

একযোগে আট ভিসি পরিবর্তন

বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো একযোগে ঢাবিসহ আট পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়। একই দিনে পরিবর্তন করা হয় ইউজিসি চেয়ারম্যানও। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন করা ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্যদের মেয়াদ মাত্র দেড় বছর না যেতেই তা অনেকটা গণহারে পরিবর্তন হওয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহল ব্যাপক সমালোচনা করেছে। দলীয় লোকদের বসাতেই কোনো কারণ ছাড়া আগের ভিসিদের সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নিয়োগের সংস্কৃতির বিষয়ে বিশ্লেষক সাবিনা আহমেদ আমার দেশকে বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানগুলোতে দলীয় লোক নিয়োগের যে ধারা চলে আসছে, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংস্কৃতিÑ যাকে ‘বিজয়ীর সবকিছু দখল’ নীতির ক্লাসিক প্রকাশ বলা চলে। এটি নিছক ক্ষমতার অভ্যাস, যা ক্রমে প্রতিষ্ঠানকে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনেও দলীয়করণ

দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগুলো পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিংবডি গঠনে ভোটের মাধ্যমে শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের নিয়ম আছে। তবে নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে সেই নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। দলীয়করণের মাধ্যমে একের পর এক গঠন করা হচ্ছে অ্যাডহক কমিটি। এমনকি জরুরি অবস্থার নিয়ম কাজে লাগিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে বিশেষ পরিস্থিতি কমিটিও গঠন করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে গভর্নিংবডি নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও তা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও দলীয়করণসহ নানা জটিলতা বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দেশের সব দাখিল ও আলিম মাদরাসার মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটি বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জানানো হয়েছে। নিয়মিত কমিটির পরিবর্তে এভাবে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক গতি বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্যাকেটবন্দি প্রশাসনিক সংস্কারের সুপারিশ

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত আমলা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন আমলাতন্ত্রের ঔপনিবেশিক ও সামন্তবাদী মানসিকতা ও কাঠামো ভেঙে দেশপ্রেমিক, জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দক্ষ প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করে। এতে জনপ্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, শৃঙ্খলা বিধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশ তৈরির আগে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নাগরিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিমত নেয় মুয়ীদ কমিশন। রাজনৈতিক প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তির বাইরে থেকে সবক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা ও দক্ষতা যাচাইয়ের কথা বলা হয় কমিশনের প্রতিবেদনে। এ জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়া, জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কমিশন গঠন করারও সুপারিশ করে এ কমিশন। কমিশনের ওই সুপারিশ এখনো প্যাকেটবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মুয়ীদ কমিশনের সুপারিশের বিষয়ে গবেষক ও জনপ্রশাসন সংক্রান্ত অসংখ্য বইয়ের লেখক ফিরোজ মিয়া আমার দেশকে বলেন, দেশে বর্তমানে যে প্রশাসন রয়েছে সেটা জনবান্ধব নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির সর্বনিম্ন স্তরে নামানো হয়েছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও মানুষকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে এটি করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসনকে আওয়ামী ধারা থেকে বের করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনো ওই প্রশাসনিক কাঠামোই রয়ে গেছে। প্রশাসনকে দলীয় গণ্ডির ভেতর থেকে বের করে সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসন হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না ।

সূত্রঃ আমার দেশ

Saturday, August 8, 2026

নাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

নাশকতার পরিকল্পনা করছেন হাসিনাঃ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ০৭ 

ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা। দিল্লির লুটিয়েন্স জোনের সুরক্ষিত এলাকায় ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।

গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দিল্লিতে তার বাসায় দুই দফা বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এই চক্রান্তে যুক্ত করা হয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের পেশাদার অপরাধী ও ভাড়াটে কিলারদের। মাঠে নামানো হচ্ছে ভারতনিয়ন্ত্রিত ছদ্মবেশী জঙ্গি নেটওয়ার্ক; বিশেষ করে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশকে (জেএমবি)। ভারতে থেকে এই জেএমবির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আযমের ভাগ্নে।

এছাড়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলমান ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের বিরোধকে উসকে দিয়ে সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা। এতে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য পরিচয় গোপন করে সংঘর্ষে ঢুকে প্রাণহানি ঘটিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর ছক রয়েছে। তবে স্বধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি আমার দেশ।

কোনো ক্যাম্পাস বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটলে তার অভিঘাত শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় জমায়েত ঘটিয়ে তাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। গোয়েন্দা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং। তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানো। আর চতুর্থ স্তরে রয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা।

দিল্লির বাসভবনে গোপন বৈঠক

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ও ৩১ জুলাই দুই দফায় দিল্লির বাসভবনে হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে পলাতক আওয়ামী নেতা ও ঢাকার কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে ২২ জন উপস্থিত ছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি রঞ্জন সেন এবং ঢাকা মহানগরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা এবং সাবেক কয়েকজন কাউন্সিলর।

প্রথম দফায় ১২ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ১০ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডের মোস্তফা জামান (পপি), ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ রতন, মো. মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ (২৪ নং ওয়ার্ড), মো. মারুফ আহমেদ মনসুর (১০ নং ওয়ার্ড), মো. আনিসুর রহমান (২ নং ওয়ার্ড), সালাউদ্দিন আহমেদ (৭০ নং ওয়ার্ড), আহমেদ ইমতিয়াজ মান্নাফি (৩৮ নং ওয়ার্ড), বিপ্লব বড়ুয়া (আ. লীগের দপ্তর সম্পাদক), রঞ্জন সেন (কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি)।

দ্বিতীয় বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটির অন্যতম কিলার হিসেবে পরিচিত এবং জুলাইবিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর আলোচিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (৬ নং ওয়ার্ড), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান নাঈম (৪৯ নং ওয়ার্ড), মো. শরিফুর রহমান (৫১ নং ওয়ার্ড), মো. জাহিদুল ইসলাম মোল্লা (৪৬ নং ওয়ার্ড), সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম (৩২ নং ওয়ার্ড), শেখ সেলিম (৩৮ নং ওয়ার্ড), মো. ইসহাক মিয়া (১৭ নং ওয়ার্ড), ডিএম শামীম (৫০ নং ওয়ার্ড), জাকির হোসেন বাবুল (১৮ নং ওয়ার্ড) ও মো. জনির অংশ নেওয়ার কথা জানা গেছে।

জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দিয়েছে। জানা গেছে, হাসিনার সঙ্গে দুটি বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্রধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য—রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজির বিরোধের আবহে বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আতঙ্ক বাড়ানো এবং পরে এর দায় প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো। পাশাপাশি জুলাইবিপ্লবের নেতাদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা। সার্বিকভাবে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আতঙ্কিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই— পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে বয়ান তৈরি করা হবে কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে।

জেএমবিকে ঘিরে উগ্রবাদের নতুন ছক

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা উগ্রবাদী সংগঠন জেএমবিকে নতুন করে সক্রিয় করার চক্রান্ত চলছে। গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে পুরোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক জেএমবিকে কাজে লাগানোর ছক রয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল দায়িত্বে বসানো হয়েছে জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে এবং সাবেক এমপি মির্জা আজমের ভাগ্নে নাবিল আহমেদকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে নকল চাবি বানিয়ে কুমিল্লা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এই তরুণ জঙ্গি নেতা পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হলেও মামা মির্জা আজমের প্রভাবে ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জামিনে বের হয়ে ভারতে পাড়ি জমায়। গত তিন মাস ধরে দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থান করে সে অনলাইনে তরুণদের মোটিভেশনের মাধ্যমে সংগঠিত করছে।

এই ‘জেএমবি কার্ড’ খেলার প্রধান রূপকার হিসেবে কাজ করছেন ভারতে থাকা সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। উগ্রবাদের জাঁকজমকপূর্ণ বয়ান তৈরি, ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে তার সখ্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকায় তাকেই মূল সমন্বয়কের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে ছাতা বোমা এবং আশুলিয়ায় প্রেসার কুকার বোমায় উগ্রবাদীদের ব্যবহারের নেপথ্যে চক্রের যোগসূত্র দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে হঠাৎ র‌্যালি বা ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত বক্তব্যের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে এই মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ‘লাশ’ ফেলার নীল নকশা

রাজনৈতিক মহলে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি বিনষ্টের সবচেয়ে বিপজ্জনক ছকটি করা হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ঘিরে। সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের সূত্রপাতকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে নিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ।

গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ছাত্রলীগের বাছাই করা একটি ক্যাডার বাহিনীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে পাঠিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে ছদ্মবেশে ইন্ধন জুগিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুযোগ বুঝে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ‘লাশ ফেলা’র মাধ্যমে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির মধ্যে চরম বিভেদ তৈরি করার নির্দেশনা রয়েছে। এই রক্তাক্ত নীলনকশা বাস্তবায়নে অর্থের বিপুল জোগানের প্রধান উৎস হিসেবে নাম এসেছে ভারতে পলাতক গাজীপুর সিটির সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের রুট হিসেবে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বসবাসরত যুবলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী কোটিপতি নেতাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের সুযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব সংঘর্ষে ঢোকার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাশকতার ছক

মাঠপর্যায়ে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন সেলগুলো সুনির্দিষ্ট ‘আগস্ট ক্যালেন্ডার’ মেনে মাঠে নেমেছে। ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল হামলা, যানবাহনে আগুন ও ভাংচুরের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও ভুয়া তথ্য প্রচারের নির্দেশনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১১-১৩ আগস্ট জনসমাগমস্থলে কুশলবিনিময়ের অজুহাতে ক্যাডার জড়ো করে ১৫ আগস্টে ধানমন্ডি ৩২ ও টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হতে পারে।

পেশাজীবী আন্দোলন ঘিরে চক্রান্ত

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র বলছে, কেবল ক্যাডার বা জঙ্গি নেটওয়ার্কই নয়, পেশাজীবীদের স্বাভাবিক আন্দোলনকেও সরকার ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় চার লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া ও বদলি সংক্রান্ত প্রশাসনিক অসন্তোষকে পুঁজি করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা চলছে। গত ছয় মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামীপন্থি একটি শিক্ষক চক্র সাধারণ শিক্ষকদের খ্যাপিয়ে তুলে রাজপথে নামানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে। দেশব্যাপী আটটি বিভাগে পাঁচজন করে সমন্বয়ক নিয়োগ দিয়ে পুরো শিক্ষক সমাজকে ঢাকায় এনে রাজপথ অচল করার এই পরিকল্পনার নেপথ্যে কাজ করছেন শাহানা নামের এক বিতর্কিত শিক্ষক নেত্রী, যার লক্ষ্য শিক্ষক আন্দোলনকে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মতো সরকার পতনের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া।

৪০৪ শিক্ষকের টেলিগ্রাম বিপ্লব

সূত্রে আরো জানা গেছে, শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি গোপন গ্রুপ থেকে। হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০৪ শিক্ষক গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি এনক্রিপ্টেড সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা প্রতিনিয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরির দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। সাবেক ভিসি ও বিভাগের শীর্ষ পদে থাকা এই শিক্ষকরা ‘সিস্টেম আপডেট’ ও ‘মাহেন্দ্রক্ষণ সন্নিকটে’র মতো সংকেত ব্যবহার করে নিয়মিত ভার্চুয়াল গোপন সভা করছেন, যার স্ক্রিনশট ও তথ্য ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের হাতে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সম্প্রতি মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলার, পুনর্গঠিত জঙ্গি সংগঠন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং ছদ্মবেশী শিক্ষকদের চতুর্মুখী নাশকতার ছক বানচাল করতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো সারা দেশে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।

এদিকে উগ্রবাদী ও দুষ্কৃতকারীদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সারা দেশে ব্যবহৃত সরকারি যানবাহনের সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ আগস্ট পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, জিপ, পিকআপ, বাসসহ পুলিশের যে কোনো যানবাহনের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। ডিউটির সময় বা ডিউটি শেষে গাড়ি কোনোভাবেই অরক্ষিত রাখা যাবে না এবং সাময়িকভাবে থামলেও তা নিরাপদ স্থানে পার্ক করে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।

এছাড়া থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস কম্পাউন্ডে পার্ক করা যানবাহনের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানো এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় সদর দপ্তর।

পুলিশের মুখপাত্র, সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় সতর্ক। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে ও কিছু সময়ের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

সূত্রঃ আমার দেশ

Tuesday, August 4, 2026

৫৩৭ জনের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। ( BDC CRIME NEWS24)

 BDC CRIME NEWS24

৫৩৭ জনের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারঃ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

 


জুলাই বিপ্লবে রাজপথ যখন রক্তে রঞ্জিত, তখন বিভীষিকাময় আরেকটি অধ্যায় রচিত হচ্ছিল এ দেশের প্রতিবাদী প্রজন্মকে ঘিরে। স্বৈরাচারী হাসিনার পুলিশবাহিনীর বুলেটে বিদীর্ণ হয়েছিল শত শত স্বপ্নাতুর চোখ। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ২০ দিনে গুলিতে অন্তত ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারান। তাদের মধ্যে ৪৪ জন দুচোখেরই আলো হারিয়েছেন, আর ৪৯৩ জন হারিয়েছেন এক চোখের দৃষ্টি।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, দুই চোখের দৃষ্টি হারানো ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন ব্যবসায়ী, চারজন গাড়িচালক, চারজন চাকরিজীবী, দুজন শ্রমিক, একজন গৃহিণী এবং ১৫ জনের পেশাগত পরিচয় জানা যায়নি। তাদের অনেকের মাথায় এখনো গুলি রয়ে গেছে। কাউকে আবার লাশ ভেবে ফেলে রাখা হয়েছিল।

চোখে আঘাত পাওয়া এসব ব্যক্তির অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। বর্তমানে তাদের অধিকাংশই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সরকারি ভাতায় কোনোমতে জীবনযাপন করলেও অনেকের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের অভিযোগ, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।

গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, আন্দোলনের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ ৮৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯৩ জন স্থায়ীভাবে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।

প্রথম দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে থাকার সময় জরুরি বিভাগে রোগীর চাপের খবর পান। সেখানে গিয়ে দেখেন শতাধিক আহত ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অধিকাংশের বয়স ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। কেউ এক চোখ ধরে বসে আছেন, কেউ দুই চোখ। গুলিতে চোখ ছিদ্র হয়ে রক্ত ঝরছিল। অনেকের কর্নিয়া, স্কলেরা ছিদ্র ও চোখের অন্যান্য অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, সব আহতের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। অনেকেই হয়রানির আশঙ্কায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল নাম ও ফোন নম্বর দিয়েছিলেন।

আমাকে লাশের সঙ্গে ফেলে রাখা হয়েছিল

জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় চোখের দৃষ্টি হারালেও দেশের প্রতি নিজের অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি সাব্বির আহমাদ। চব্বিশের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজারে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেদিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাকে যখন ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আমাকে লাশের সঙ্গে ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে আল্লাহ আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন। দৃষ্টি হারালেও দেশের প্রতি ভালোবাসা কমেনি বলে জানান তিনি।

তার ভাষায়, এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সুইয়ের মাথায় যতটুকু জমি থাকবে, সেটুকুর আজাদি নিশ্চিত করা পর্যন্তও আমাদের লড়াই চলবে। তিনি বলেন, এ লড়াই শুধু থামার নয়। জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দেন সাব্বির।

ব্যক্তিগত জীবনের বেদনাও তুলে ধরেন তিনি। আড়াই মাস বয়সি একমাত্র সন্তানকে কখনো চোখে দেখেননি। স্পর্শ করেই সন্তানকে অনুভব করেন। তারপরও তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, শুনেছি আমার সন্তান খুবই সুন্দর হয়েছে।

দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও স্বপ্নে নিজেকে পাহাড়-প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়াতে দেখেন বলে জানান সাব্বির। তবে ঘুম ভাঙার পর বাস্তবতা তাকে আবারও কষ্ট দেয়।

সরকারি ভাতা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা হাত পাততে চাই না। যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি রইল।

গুলিটা এখনো মাথার ভেতরেই আছে

২০ জুলাই বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান দুর্জয় আহমেদ। সেদিনের নৃশংসতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গুলিটা আমার চোখে লাগার আগে আরো দুজনের মাথা ভেদ করে আমার চোখের ভেতরে ঢুকে যায়। গুলিটা এখনো আমার মাথার ভেতরেই আছে।

দুর্জয় আহমেদের কণ্ঠে ঝরে পড়ল অভিমানে ভরা আর্তি। তিনি বলেন, দুই চোখের আলো হারানো ৪৩-৪৪ জন যোদ্ধা আজ সমাজে অনেকটা অবহেলিত। তাদের চলাফেরা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, জুলাই যোদ্ধারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা দেশের জন্য লড়েছেন এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মৃত্যুর অপেক্ষাই বেশি

৫ আগস্ট মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে দৃষ্টি হারিয়েছেন মিজানুর রহমান। দুই চোখে পাঁচটি অস্ত্রোপচারের পরও তার দৃষ্টি ফেরেনি। এক সময় নিজের আয়ে সংসার চালানো মানুষটি আজ পুরোপুরি অন্যের ওপর নির্ভরশীল। আগে এক প্রকৌশলীর গাড়ি চালিয়ে মাসে ৩২ হাজার টাকা বেতন পেতেন। বর্তমানে সরকারি ২০ হাজার টাকার ভাতায় চিকিৎসা, ওষুধ ও সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চোখের আলো হারিয়ে অন্ধকারেই কাটছে তার প্রতিটি দিন। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমাদের এখন চোখের আলো ফেরার চেয়ে হয়তো মৃত্যুর অপেক্ষাই বেশি।

আমাদের পরিবারের লড়াই এখন আরো বেড়েছে

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই চোখের দৃষ্টি হারান নিলু পারভিন। আরবি পড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিনি আহত হয়েছিলেন। তিনি আমার দেশকে বলেন, রান্নাঘরেও যেতে পারি না। সামান্য কাজগুলোও আন্দাজ করে করে থাকে। বাকি কাজ আমার স্বামী করেন। দিনভর রিকশা চালিয়ে এসে সংসারের কাজেও সহযোগিতা করেন তিনি। দুই সন্তানকে ঠিকভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। আমার পরিবারের লড়াই এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সব আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবকিছু করবেন। আমাদের দুঃখ-কষ্ট কেউ বোঝে না; কেউ দেখে না। তারা আমাদের নিয়ে ভাবেও না। কিন্তু আমার রব নিশ্চয়ই উত্তম পরিকল্পনাকারী।

সময় এখন পুনর্বাসনের

দৃষ্টিশক্তি হারানো এই যোদ্ধারা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা চান, দল-মত নির্বিশেষে জুলাইয়ের ঘোষিত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাই একসঙ্গে কাজ করুক এবং রাষ্ট্র তাদের ত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিক। তাদের দাবি, এ রাষ্ট্র যেন জুলাইকে এবং জুলাই বিপ্লবী শহীদ, যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে ধারণ করে।

জুলাই শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করা জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর আমার দেশকে বলেন, জুলাইয়ে চোখে গুলিবিদ্ধ মানুষের সংখ্যা হাজার হাজার। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় এক হাজার আহতের মধ্যে ৪৪ জন দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন।

কী ধরনের গুলির আঘাতে এই জুলাইযোদ্ধারা দৃষ্টিহীন হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদের মধ্যে অধিকাংশই সেভেন পয়েন্ট সিক্সটি টু বুলেটে এবং বাকিরা প্যালেট (ছররা) গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শত শত আহত ব্যক্তি এখনো চোখের ভেতরে প্যালেট নিয়ে অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করছেন।

জুলাই ফাউন্ডেশনের সিইও আরো বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের বাহিনীর বুলেট হয়তো তাদের চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে; কিন্তু মনোবল ভাঙতে পারেনি। জীবনের আলো বিসর্জন দেওয়া এসব যোদ্ধা এবং তাদের মতো হাজারো যোদ্ধার পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও দেশের মানুষ এ দায়িত্ব পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

সূত্রঃ আমার দেশ

Tuesday, July 28, 2026

RAB বিলুপ্তির চিন্তা, বিচার চলবে অপরাধের । (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

র‌্যাব বিলুপ্তির চিন্তা, বিচার চলবে অপরাধেরঃ

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮: ৩২

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির চিন্তা করছে সরকার। ২০০৩ সালে পাস হওয়া এ সংক্রান্ত আইনটি রহিত করে র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবও তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিনেন্স, ১৯৭৯’ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অধীনে ‘এসআরএফ’ বা ‘এসআরবি’ নামে পৃথক একটি ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির যেসব সদস্য বা কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও মানবাধিকার লংঘনের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচার প্রচলিত ফৌজদারি আইনে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবনা তৈরির সময় জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস কমিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও গুম প্রতিরোধ কমিশনের প্রতিবেদন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই মানবাধিকার সমুন্নত রাখার স্বার্থে র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেন।

র‌্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবনার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (তৎকালীন বিডিআর) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনীটি শুরুর দিকে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে দেশবাসীর নজর কাড়ে। তবে, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনামলে বাহিনীটি নিপীড়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সেই সময়ে নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার, কক্সবাজারের আলোচিত একরামুলসহ বিরোধী দল ও মতের নাগরিকদের ক্রস ফায়ারে হত্যা, গুম ও খুনের শত শত ঘটনা রেকর্ড করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। খুব শিগগির এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো আশাও দেখছেন না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। র‌্যাব গঠনের আইন রহিতের বিল তৈরির সময় এসব যুক্তিকে পর্যালোচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত আইনে যা রয়েছে

‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রহিত করিয়া স্পেশাল রেসপন্স ফোর্সেস/ ব্যাটালিয়ন (এসআরএফ/ এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি ইউনিট গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণকল্পে আনীত বিল’ শিরোনামে তৈরি প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিনেন্স, ১৯৭৯-এর অধীনে গঠিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রহিত করিয়া স্পেশাল রেসপন্স ফোর্সেস/ব্যাটালিয়ন (এসআরএফ/এসআরবি) নামে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন, উহার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন।’

সংসদের আগামী অধিবেশনের জন্য প্রস্তুতকৃত এ বিলের (প্রস্তাবিত আইন) ২৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ (প্রস্তাবিত) আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠন সংক্রান্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইন, ২০০৩ দ্বারা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গঠনের বিষয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ ১৯৭৯ ও এর পরে অধ্যাদেশে উল্লিখিত যেসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল সেসব বিধান রহিত হবে।’

র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও সংস্থাটির সব সম্পদ, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, দায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, সব হিসাব বই, রেজিস্ট্রার, রেকর্ডপত্র ও এ সংক্রান্ত সব দলিল নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের প্রস্তাবিত নতুন ইউনিটের নিকট স্থানান্তর ও ন্যস্ত হবে। র‌্যাবের বিদ্যমান জনশক্তির বিষয়ে প্রস্তাবিত আইনের ২৮ (৪) নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, র‌্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বিধি বা প্রবিধান না হওয়া পর্যন্ত এ সংস্থাটির সব কর্মকর্তা ও আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী এ (প্রস্তাবিত) আইন দ্বারা গঠিত পুলিশের নতুন ইউনিটে সংযুক্ত হবেন।

পুলিশের নতুন এ ইউনিটের মহাপরিচালক প্রয়োজনে, প্রেষণে প্রেরিত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত কর্মকর্তা বা আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারীকে প্রেরণকারী সংস্থায় ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করতে পারবেন বলে আইনের প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে।

দায়ীদের বিচার চলমান থাকবে

প্রস্তাবিত নতুন আইন অনুযায়ী র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও এর সদস্যদের মধ্যে হত্যা, গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া যথাযথ আইন অনুযায়ী চলবে। এ বিষয়ে খসড়া আইনের ২৮(৮) নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘পূর্বতন (রহিতকৃত) আইনের অধীনে র‌্যাবের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনগত কার্যধারা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের নিকট চলমান থাকলে তা এমনভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয়নি।’

আদালত সূত্র ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, র‌্যাবের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের (ক্রসফায়ার) অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলছে। র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পুবাইলে তিনজনকে হত্যা এবং সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে তথাকথিত অপারেশনের নামে বহু হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় র‍্যাব-২ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। গুম ও নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গুমের মামলায় র‍্যাব-১১ কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং বিচারিক কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

আইনজীবীরা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় র‍্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সদস্যের বিরুদ্ধে গুম ও ক্রসফায়ারের অসংখ্য অভিযোগ জমা রয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত চলছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলায় ১৬ র‍্যাব সদস্যকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাসহ র‍্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ ওরফে রাজু এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার সুপারিশ

জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে র‍্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সুপারিশ পেশ করে বলা হয়, র‌্যাবকে বিলুপ্ত করুন।

এর আগে ওই বছরের ২৮ জানুয়ারি র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির ৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জুড়ে রয়েছে র‌্যাবের মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গুমের ঘটনার বর্ণনা। এতে বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত বিশেষায়িত ইউনিট র‌্যাব বিলুপ্ত করা সময়ের দাবি। সরকারের উচিত জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী র‌্যাব বিলুপ্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া। এই ইউনিট পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এবং বহুবার তারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছে।

জাতীয় গুম কমিশনের সুপারিশেও র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে বিপুল প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কার জরুরি। এর মধ্যে র‍্যাব বিলুপ্ত করা, সব নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিকভাবে সংশোধন করতে হবে।

র‌্যাব বিলুপ্তি বিএনপিরও অন্যতম দাবি

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। ওইদিন রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সুপারিশমালা তুলে ধরেন।

সাংবাদিকদের ওইদিন তিনি বলেছেন, র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের জন্য এই বাহিনীকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে বিএনপি। এটা মেডিকেল বিদ্যাতেও আছে, যখন একেবারে গ্যাংরিন হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, তখন কেটে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সে জন্য আমরা মনে করেছি, র‌্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই নিন্দিত হয়েছে। আর দেশে তো র‌্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র‌্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি। র‌্যাব বিলুপ্ত হলে র‌্যাবের দায়িত্ব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং থানা-পুলিশ যেন পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সূত্রঃ আমার দেশ

Saturday, July 25, 2026

হাসিনার সব দোসর পালালেও দেশে রয়ে যান চুপ্পু। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

হাসিনার সব দোসর পালালেও দেশে রয়ে যান চুপ্পু

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২: ৪৪

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। একে একে তল্পিতল্পা গুটিয়ে গা-ঢাকা দেন তার মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্য, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবং জাতীয় মসজিদের খতিবসহ শাসনকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ধারক-বাহকেরা। কিন্তু পটপরিবর্তনের পরও বঙ্গভবনের মসনদে থেকে যান শেখ হাসিনার মনোনীত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণদাবির মুখে দীর্ঘদিন টিকে থাকার চেষ্টা করলেও অবশেষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ইতি ঘটল তার বিতর্কিত অধ্যায়ের। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুসরণ করে নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।

আওয়ামী শাসনামলে নিয়োগ পাওয়া এই রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক দল ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণের দাবিটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র সংক্রান্ত তার স্ববিরোধী বক্তব্য এবং পতিত শাসনের প্রতি পরোক্ষ অনুরাগের অভিযোগ জনগণের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানে।

হাসিনার পালিয়ে যাবার পর পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়েদুল হাসান। অভিযোগ রয়েছে, তার উপর ভর করেই অনেক বিচারিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল শেখ হাসিনা। জুলাই বিপ্লবের পর গোপন স্থান থেকে হাসিনার পক্ষে বিচারিক ক্যূ করার অপচেষ্টা করেছিলো এই ওবায়েদুল হাসান। শেখ হাসিনার কসাই হিসেবে পরিচিত পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ গোয়েন্দা সংস্থার বড় বড় কর্মকর্তারাও পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। পালিয়ে যান হাসিনার নিয়োগ করা বায়তুল মোকাররমের খতিব গোপালগঞ্জের রুহুল আমিন। যিনি শেখ হাসিনাকে কওমি জননী উপাধি দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে তার পুরস্কারস্বরুপ তাকে বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়োগ দেয় শেখ হাসিনা। জুলাই বিপ্লবের পর একে একে হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ভারতে পালিয়ে যাবা খবর আসতে থাকে। শেখ হাসিনার শিক্ষামন্ত্রী ও ইসকন সংশ্লিষ্ট মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, পররাষ্টমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আব্দুল মোমেনসহ মন্ত্রীসভার প্রায় সব সদস্য পালিয়ে ভারতে চলে যায়।

এর মধ্যে অবশ্য কয়েকজন আটকে যান। গ্রেপ্তার হন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। শেখ হাসিনার লাঠিয়াল বিচারক হিসেবে পরিচিত বিচারক শাসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সিলেট সীমান্ত এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়েন। পালিয়ে ভারতে প্রথমে তারপর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, ডিএমপির অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ারদ্যার, এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক কমিশনার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমানসহ পুলিশ, সিভিল প্রশাসন এবং সামরিক প্রশাসনের শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনের প্রত্যক্ষ শেয়ারহোল্ডাররা।

বেশ কয়েক দিন ধরে চলা চরম রাজনৈতিক গুঞ্জনের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে তিনি ব্যক্তিগত কারণ ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এরপরই শূন্য পদে দায়িত্ব অর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বঙ্গভবনে অবস্থান করা ছিল পুরনো শাসনের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক অবশিষ্টাংশ। তার বিদায়ের মাধ্যমে সেই শাসন-কাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব ও অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারী দলগুলোর মতে, এই পদত্যাগ গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষারই একটি যৌক্তিক পরিণতি। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হলো। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং পরবর্তী সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দিকে। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন এবং স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ উপড়ে ফেলার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের এই ঘটনাটি সেই প্রক্রিয়ার একটি বড় এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, July 19, 2026

পলায়নের ঘটনায় হাসিনার নামে নতুন মামলার প্রস্তুতি। (BDC CRIME NEWS24)

 BDC CRIME NEWS24

পলায়নের ঘটনায় হাসিনার নামে নতুন মামলার প্রস্তুতিঃ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮: ২৪আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮: ২৫

পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হচ্ছে। এ মামলায় আসামি করা হবে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ছোট বোন শেখ রেহানাকেও। এতে তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন না করে দেশত্যাগের অভিযোগ আনা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত ২০১৩ সালের অভিবাসী আইনে মামলা দায়েরের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনার পলায়নকালীন ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ মামলায় ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে পালাতে সহায়তাকারীদেরও যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টা ৯ মিনিটে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশ ছাড়ার জন্য ঢাকার বীরউত্তম একে খন্দকার বিমানঘাঁটি (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটি) থেকে বিমানে ওঠেন। বিমানে ওঠার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও শেখ রেহানার সঙ্গে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেও তারা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই অবৈধভাবে দেশত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রচলিত আইন অমান্যের বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু বিমানবন্দর বা অনুমোদিত চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করেই বিদেশে যাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ও নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থান দিয়ে দেশত্যাগ করলে বিধান অনুযায়ী সেটা অবৈধ ও বেআইনি বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অনধিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে।

অবশ্য জুলাই গণহত্যায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির মামলায় আদালত শেখ হাসিনা ও শেখ

রেহানাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। বর্তমানে উভয়েই দণ্ডিত পলাতক আসামি। শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতের আশ্রয়ে থাকলেও রেহানার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই তদন্তকারী দলের কাছে। তবে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের নাগরিক শেখ রেহানা বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন। মাঝে মধ্যে তিনি ভারতে যাওয়া-আসা করেন।

নিজের সিদ্ধান্তেই বোনকে নিয়ে পালান হাসিনা

বাইরে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও ভারতে পলায়নের সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা নিজেই নেন বলে অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা গণভবনের (বর্তমানে জুলাই জাদুঘর) লেক রোডের গেট দিয়ে সড়কপথে গাড়িতে করে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে আসেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটিতে আসেন। লাগেজপত্র নিয়ে তিনি বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সের লকহিড সি-১৩০জে হারকিউলিস বিমানে (যার কল সাইন এজেএএক্স১৪৩১) চড়ে বসেন। পুরো প্রক্রিয়াটিই শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। দেশ ছেড়ে তিনি ভারতে আশ্রয়ের জন্য যাবেনÑএমন সিদ্ধান্তের কথা তিনি গণভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানান। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ীই তাকে ভারতে নেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পলায়নের জন্য গণভবন থেকে বের হওয়ার পর তিনি দেড় ঘণ্টার বেশি সময় পেলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি। এটি ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও জানান তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গণভবন থেকে ভারতের হিন্দন বিমানবন্দর পর্যন্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এ মামলায় সাক্ষী হচ্ছেনÑএমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তদন্তদলের এক সদস্য।

শেখ হাসিনার পলায়নের বিষয়ে তদন্তদল দুটি অডিও ক্লিপও আলামত হিসেবে নিয়েছে। একটি ৫ আগস্ট পলায়নের উদ্দেশে গণভবন থেকে বের হওয়ার পরপরই। শেখ রেহানাকে ওই সময় সালমান এফ রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা একটি নিরাপদ জায়গায় যাচ্ছি। আপনি এক সেকেন্ডও দেরি না করে বেরিয়ে যান।’ রেহানার ওই কথার প্রতিউত্তরে সালমান জানতে চেয়ে বলেন, ‘আচ্ছা, তোমরা অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছ? আপাও (শেখ হাসিনা) তোমার সঙ্গে গেছে?’ জবাবে রেহানা বলেন, ‘জি ভাই। আপনিও ইমিডিয়েটলি বের হয়ে যান। এখানে থাকা একদম সেফ না। এক মিনিটও দেরি কইরেন না।’ শেখ রেহানা ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের দুই মিনিট ৯ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনের অডিওর ফরেনসিক সম্পন্ন করেছে তদন্ত সংস্থাটি। ফরেনসিক প্রতিবেদনে তারা এটির সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে দেশে থাকতে পারবেন না বলে নিজের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কাছে। পলায়নের আগের দিন ৪ আগস্ট তার সঙ্গে টেলি কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা (আন্দোলনকারীরা) কারফিউ-টারফিউ কিছু মানছে না। আমি ঠিক করেছিলাম আজই রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। সবকিছু লিখে ঠিক করে রেখেছি। এভাবে ক্ষমতায় থাকা আর সম্ভব না।’ শেখ হাসিনার ওই কথার জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ইমার্জেন্সি জারি করে দেখেন না।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আর ইমার্জেন্সিতেও কাজ হবে না। তুমি আবার এটি বাইরে বলতে যেও না। এ দেশে আর থাকা সম্ভব না। এ দেশে আর না।’ শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের ওই কথপোকথনের ফরেনসিকও সম্পন্ন করেছে তদন্তদল। একটি প্রতিবেদনে অডিও ক্লিপটি হাসিনা ও হাছান মাহমুদের বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভারতেরও দায় দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

শেখ হাসিনা ও রেহানা ইমিগ্রেশন প্রসেস ছাড়াই বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এতে তিনি দুদেশের আইন ভঙ্গ করেছেন বলে জানান ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আমার দেশকে বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার হরণের পাশাপাশি শেখ হাসিনা একজন গণহত্যাকারী। এটি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে দেশে টিকতে না পেরে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেননি বলেই জানতে পেরেছি। এটি আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আইনানুযায়ী তার বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সালেহ উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, জুলাই বিপ্লবের মুখে পড়ে শেখ হাসিনা জনরোষ থেকে বাঁচতে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ছাড়াই ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট বোন রেহানাকেও একইভাবে সঙ্গে করে নিয়ে যান। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের মামলা হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আইনের পাশাপাশি ভারতের ইমিগ্রেশন আইনও ভঙ্গ করেছেন। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনোভাবেই ভারত শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে পারে না। তাকে আশ্রয় দিতে হলে আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী রিফিউজি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। ভারত তাকে কোন স্ট্যাটাসে গ্রহণ করেছে, সেটা তারাই বলতে পারবে। যদিও দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জয়স্ওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে আইনগত প্রসেসের মধ্যে রয়েছেন। তিনি (হাসিনা) নিজের ইচ্ছায় ভারত ত্যাগ করতে পারবেন না।’

পালিয়ে যাওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত প্রচলিত আইনে মামলা হওয়া জরুরি ছিল বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের অপর আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মেজবাহ। আমার দেশকে তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে দেরিতে হলেও সরকার এখন মামলার উদ্যোগ নিয়েছে, এটি আশার কথা।

শেখ হাসিনার অপরাধের বর্ণনা দিয়ে অ্যাডভোকেট মেজবাহ বলেন, শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের ঘটনা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার ও প্রকাশ করেছে। তার গণহত্যার বর্ণনাও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত এসেছে। এমন একজন গণহত্যাকারী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী জনরোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজে পালানোর আগে আত্মীয়স্বজনদের নিরাপদে দেশ থেকে বের করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তার দলের ও আত্মীয়দের মধ্যে আরো যারা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন না করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদের বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

হাসিনার পলায়ন ও পদত্যাগের ঘোষণা

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পলায়নের পর ওইদিন বিকালেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এখন একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব।

ওইদিন রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।’

পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করার কথা জানানো হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দুদিন পর ৮ আগস্ট শপথ নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার।

সেনাপ্রধানের মুখ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা প্রচারের আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার পলায়নের সংবাদ প্রকাশ হয়।

শেখ হাসিনা পালানোর এক মাস পর জানা যায়, অবস্থান ও যাত্রাপথ গোপন রাখার স্বার্থে তাকে বহনকারী ফ্লাইট এজেএক্স১৪৩১ উড়োজাহাজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি প্রথমে কলকাতার দিকে যায়। কারণ এটি দ্রুত বাংলাদেশের আকাশসীমা ছাড়তে চেয়েছিল। ঢাকা-দিল্লির যে আকাশপথ রয়েছে, সেটি দিয়ে গেলে উড়োজাহাজটিকে রাজশাহীর ওপর দিয়ে যেতে হতো। এতে বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজটিকে আরো কয়েক মিনিট থাকতে হতো।

ভারত সীমান্তে পৌঁছানোর পর সেটি দিল্লি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটির দিকে যায়। ভারতীয় গণমাধ্যমের মতে, উড়োজাহাজটি ঢাকার সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর হাসিনাকে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় একটি নিরাপদ বাড়িতে নেওয়া হয়।

হাসিনাকে নামিয়ে দেওয়ার পর বিমানটি রিফুয়েলিং করে এবং ফ্লাইট ক্রু ও সিকিউরিটি সার্ভিসেস ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের নিয়ে একই দিন ঢাকায় ফিরে আসে। জানা গেছে, হাসিনা-রেহানার পাশাপাশি ক্রু ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ওই বিমানের কেউই ঢাকা ছাড়ার আগে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেননি।

তদন্তকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতা যখন গণভবনে প্রবেশ করে, তখন শেখ হাসিনা উড়োজাহাজে। ওই সময়ই এটির ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে উড়োজাহাজের অবস্থান, গন্তব্য, উচ্চতা, গতি ও স্বয়ংক্রিয় জিওলোকেটরের তথ্য পাওয়া যায়। উড়োজাহাজটি যখন পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন এটির ট্রান্সপন্ডার পুনরায় চালু করা হয়।

অপরদিকে উড়োজাহাজটির জিওলোকেটর চালু করা হয় ঢাকা-কলকাতা রুটের ‘বিইএমএকে’ ওয়ে পয়েন্টে পৌঁছানোর পর। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটির কোড নম্বর দেয় ১৪৩১। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে প্রতিটি উড়োজাহাজকে চার সংখ্যার এমন আলাদা একটি কোড দেওয়া হয়। কোডটি হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজের ট্রান্সপন্ডারে ম্যানুয়ালি যুক্ত করা হয়। হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজের যাত্রাপথ ও বাংলাদেশের ভেতরে এটির অবস্থান গোপন রাখতেই বন্ধ রাখা হয় ট্রান্সপন্ডার।

হাসিনা-রেহানাকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। উড্ডয়নের পর শাহজালাল বিমানবন্দরের ট্রাফিক কন্ট্রোলার হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজের পাইলটকে একটি সতর্কতাবার্তাও পাঠান। এতে বলা হয়, একটি উড়োজাহাজ ঢাকার দিকে আসছে এবং এটি তাদের ঠিক উপরে আছে।

শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পরদিন ৬ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সে দেশের পার্লামেন্টে একটি বিবৃতি দেন। এতে তিনি শেখ হাসিনাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের জানামতে নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতে আছেন।’ পরে সংসদীয় কমিটির এক সভায় জয়শঙ্কর বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা জানতাম হাসিনার সরকার টিকবে না। তবে কিছু করার ছিল না। পরিস্থিতি আমাদের হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল।’

জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের কথা উল্লেখ করে ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লির কাছে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের বিষয়ে আশাবাদী বর্তমান সরকারও। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া পৃথক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শেখ হাসিনাকে দেশে এনে রায় কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, স্বৈরাচার হাসিনা একটি দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ওখান থেকে বড় বড় কথা বলছেন। আমরা তার প্রত্যাবর্তন চেয়েছি আইনানুগভাবে। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় পত্র দেওয়া হয়েছে, আমরা তাগাদাপত্র দিয়েছি। আমরা চাই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে ধারাবাহিকভাবে তাগাদা দিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সূত্রঃ আমার দেশ

 

Tuesday, July 14, 2026

ডিআইজি আনিসের ‘জঙ্গি নাটক’ ৯ বছর পর নির্দোষ চার পরিবার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

ডিআইজি আনিসের ‘জঙ্গি নাটক’ ৯ বছর পর নির্দোষ চার পরিবার:

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৮: ৩৭

যশোরে চার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘জঙ্গি’ নাটক মামলা দীর্ঘ ৯ বছর পর শেষ হয়েছে। জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর সম্প্রতি আদালত তাদের নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দিয়েছে। এ মামলায় ভুক্তভোগী তানজির আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, মেহেদী হাসান পাশা ও সাদ্দাম ইয়াসির সজলের জীবন ও ক্যারিয়ার তছনছ হয়ে গেছে।

তাদের অভিযোগ, এ মামলার নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছেন যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও পরবর্তী সময়ে রাজশাহীর ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তার নির্দেশে তরুণদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার পাশাপাশি আবু সাঈদ নামে বিএনপির এক কর্মীকে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত এ হত্যার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট যশোরে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আবু সাঈদের স্ত্রী পারভীন খাতুন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজিকে (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি যশোরের ধর্মতলা এলাকায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিতর্কিত কর্মকর্তা আনিসের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ‘পলায়নের’ অভিযোগে তাকে গত বছরের ৩০ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আনিস ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ যশোরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে আনিসের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। যশোরে কর্মরত অভিযুক্ত ডিবি ও থানাপুলিশের সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের সন্ধানও মেলেনি।

তানজিরের পরিবারের ওপর নির্যাতন

তানজিরের পরিবারের নারী-শিশুসহ কোনো সদস্যই বাদ যায়নি পুলিশের সাজানো মামলার হয়রানি থেকে। ভুক্তভোগী তানজির জানান, ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হানা দেয় ডিবি পুলিশ। তখন তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ তার বড়ভাইকে তুলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের তালিকা তৈরি করে পুলিশ তার দুই বোন এবং তাদের স্বামীদেরও সাজানো মামলায় আসামি করে।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের রমজানের এক রাতে পুলিশ আবারও তাদের বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ তাকে এবং তার মেজো বোনকে তিন বছরের বাচ্চাসহ ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ হয়রানি ও বন্দিদশায় জেলখানায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন তানজির। ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেলেও পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও ভয়ভীতি তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে।

পুলিশের মামলার অভিযোগে বলা হয়, তারা অভয়নগরের একটি মাদরাসায় গোপন মিটিং করছিলেন। মামলায় তানজির, তার ভাই, দুই বোন ও দুলাভাইসহ পরিবারের সাত সদস্যকে আসামি করা হয়। জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পরও পুলিশ জেলগেট থেকে পুনরায় তানজিরকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যায়। একই সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়, জামিন পাওয়ার পর তানজির পলাতক। পরবর্তী সময়ে ঢাকা থেকে তার বড়ভাই ও মেজো বোনকে ধরে নিয়ে প্রায় ৪৫ দিন আটকে রাখা হয়। শেষে পুলিশ তাদের দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়ে ‘স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ’-এর নাটক সাজায়। তারা দীর্ঘ হয়রানির শিকার হন। তানজির, তার ভাই, দুই বোন ও এক দুলাভাইকে কারাভোগ করতে হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের এ অমানবিক ভোগান্তির অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। হাসিনার পতনের পর আইনি লড়াই শেষে তানজিরের পরিবারের সদস্যরা সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

মহিউদ্দিনের পরিবারের বিভীষিকাময় দিন

চাঁচড়া পশ্চিমপাড়ার মো. মহিউদ্দিন এবং তার পরিবারও এ ‘জঙ্গি’ নাটকের শিকার। ২০১৬ সালে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি মামলা দিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসের নির্দেশে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিউদ্দিনের অভিযোগ, তার নববধূকে তুলে নিয়ে ডিভোর্স দিতে চাপ দেয় ডিবি পুলিশ। এমনকি মহিউদ্দিনের বাবাকেও গ্রেপ্তার করে একই জঙ্গি মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মহিউদ্দিনের বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ও স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সি মহিউদ্দিন সরকারি চাকরির সুযোগ হারিয়ে বর্তমানে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। আদালতের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণে এ পরিবারটিও মামলা থেকে বেকসুর খালাস পায়।

পাশাকে ক্রসফায়ারের হুমকি

২০১৫ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাশাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ১১ দিন ডিবি হেফাজতে চোখ বেঁধে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। পাশার অভিযোগ, পুলিশের চরম হুমকিতে তাকেসহ অন্যদের ‘জঙ্গি’ হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়।

তার ভাষায় ১৫-২০ জন পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করত। এক রাতে অভিযানের কথা বলে তাকে পুরো শহর ঘুরিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

তিনি জানান, জামিন পেলেও দীর্ঘ ৯ বছর তাকে পুলিশের কড়া নজরদারিতে থাকতে হয়। যশোরের বাইরে যাওয়া ছিল নিষিদ্ধ। নিয়মিত পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে অপরিচিত ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করত। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাকে সব মামলা থেকে খালাস দেয় আদালত।

আরেক ভুক্তভোগী সজলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তার স্ত্রী ও ছয় বছর বয়সি সন্তানকে তুলে নেয়। পুলিশের দুর্ব্যবহারে সে শিশু আজও ট্রমার শিকার। সজলের স্ত্রী তখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মামলাগুলোর আইনি দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কেন চলল? এমন প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী পাশার আইনজীবী মো. মাহমুদ কবীর কাকন বলেন, ‘তখনকার সরকারের চাপে পড়ে বিচারকের কিছুই করার ছিল না।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা। এরপর থেকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ডিআইজি আনিসকে। গোপালগঞ্জের সন্তান আনিসের স্ত্রী ফাতেমা তুজ্জহুরা শ্যামলী ছিলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি।

সূত্র: আমার দেশ 

প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 প্রতিশ্রুতি ছিল মেধাভিত্তিক-অভিযোগ দলীয়করণেরঃ প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩৪   ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে...