Monday, March 30, 2026

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লে. ক. আফজাল নাছের গ্রেফতার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লে. ক. আফজাল নাছের গ্রেফতার:

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০: ২৫

১/১১ সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. আফজাল নাছের (৬১) গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জানা গেছে, মো. আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হন। তিনি ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ে দায়িত্ব পালন করেন, যা ১/১১ সরকারের সময়কাল হিসেবে পরিচিত।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মুজির খিল গ্রামের বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানানো হতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ

গণভোটের অধ্যাদেশ উঠছে না সংসদে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

গণভোটের অধ্যাদেশ উঠছে না সংসদে:

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১: ৫৩

জাতীয় সংসদে বিল আকারে উঠছে না গণভোট। এর কার্যকরিতা এরই মধ্যে শেষ হওয়ায় এটাকে সংসদে বিল আকারে ওঠার প্রয়োজন নেই মনে করে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। যদিও এতে আপত্তি আছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনী আকারে প্রস্তাবে সুপারিশের বিরোধিতা করেছে কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে দলটির সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন। গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি।

রোববার রাতে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করেছে কমিটি। আগামী ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সদস্য, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সব বিষয়ে আালোচনা হয়ে গেছে। কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি—যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়ত বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। সেগুলো নিয়ে চিন্তা হলো পরবর্তী অধিবেশনে যেগুলো পাস করতে চাইব বিল আকারে আনব।

বিরোধীদলীয় ও সরকারি দলের সদস্যরা কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় যার যার বক্তব্য দিতে পারবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্র: আমার দেশ

কালবেলা পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী জানা যায়, "বাতিল অধ্যাদেশ পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন হবে": স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কালবেলা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০২:২৯ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করেছি। অনেকগুলো অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ ‍আরও জানান, কিছু কিছু অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আনা হবে। হাতে সময় কম থাকায় (আগামী ১০ তারিখের মধ্যে) সবগুলোর বিল আনা সম্ভব না। তবে যেগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সেগুলো পরবর্তী অধিবেশনে নতুনভাবে বিল আকারে আনা হবে বলোও জানান তিনি।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলীয় সদস্যদের মতপার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য এবং সরকারি দলেরও কয়েকজন সদস্য কিছু কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন। রিপোর্টে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তবে বিল যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপন করবেন, তখন সবাই যার যার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সংসদে বিল আকারে উঠছে না গণভোট, কারণ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে অধ্যাদেশগুলোর কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৩০ দিনের ভেতরে যে সমস্ত বিল বা অধ্যাদেশ আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো অটোমেটিক ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। তাতে অসুবিধার কিছু নেই। আমরা পরবর্তী সেশনে সেগুলো আবার বিল আকারে নিয়ে আসব। যেমন সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও—এগুলোর ভবিষ্যৎ ইফেক্ট আছে, তাই এগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে।

সংসদে একজন এমপিও কথা বলেননি : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত কথা বলবেন। আগামী ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে এটি করা হয়েছিল, সেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তাই এটাকে আবার অনুমোদন করে বিল আকারে নিয়ে এসে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশের কাজ তো শেষ। এটি কোনো সংবিধানের অংশ ছিল না। আইন প্রণয়ন হয়েছিল একটি গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য, সেই অধ্যাদেশ ব্যবহারও শেষ হয়েছে।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি, এম, নজরুল ইসলাম।বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

কালবেলায় প্রকাশিত দ্বিতীয় নিউজ, "বাতিলের তালিকায় উঠছে গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ-হচ্ছে না বিচার বিভাগের জন্য ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’

কবির হোসেন

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের পর জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জারি করে ১৩৩টি অধ্যাদেশ। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশসহ অন্তত ২০টি অধ্যাদেশের কপাল পুড়ছে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও বিষয়গুলো নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যেসব অধ্যাদেশ প্রথম অধিবেশনে পাস করা সম্ভব হচ্ছে না সেগুলো নতুন করে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫ ছাড়াও বাতিল করার সুপারিশের তালিকায় রয়েছে বিচার বিভাগের জন্য করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে দুভাগ করে করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ অধ্যাদেশ-২০২৫, অর্থ-সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স-২০২৫, অর্থ সংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।’

কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’ এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ-২০২৬সহ জুলাই সুরক্ষা’-সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তারা আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিনটি দিক বিবেচনায় যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রথমত, কিছু অধ্যাদেশ যেভাবে আছে, সেভাবেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিল আকারে এনে পাস করবে। দ্বিতীয়ত, কিছু অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ বিল উত্থাপন করা হবে। আর তৃতীয়ত, যেসব বিষয়ে একমত হওয়া যাবে না, সেগুলো এ অধিবেশনে ‘ল্যাপস’ (বাতিল) হয়ে যাবে; প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশনে নতুন বিল আকারে হিসেবে আসবে। সূত্র জানিয়েছে, ২০টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে একমত হতে পারেনি কমিটি। ফলে এগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাড়াহুড়ো করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সে কারণে স্পর্শকাতর এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে আরও খতিয়ে দেখে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে আপাতত এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার পরবর্তী সময়ে এসব অধ্যাদেশের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তা করবে। কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, যেসব অধ্যাদেশের বিষয়ে বিশেষ কমিটি ঐকমত্য হতে পারবে না, তা বাতিলের সুপারিশ করবে। সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে কত অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর এ ব্যাপারে জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাতিল অধ্যাদেশ পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওই বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত চলতি বছর ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থ পাচার, জনপ্রশাসন ও শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব, কর ও বাজেট, ব্যাংকিং, আর্থিক খাত ও নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা, মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সুশাসন বিষয়ে এসব অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের ৫৫৯ দিনে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেন।

সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে হলে সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে আইনে রূপান্তর করতে হয়। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। পরে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয় এবং কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। অধ্যাদেশগুলোর আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন পেতে হবে। যেগুলো অনুমোদন পাবে না, সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

সে অনুযায়ী গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন এমপি। এ সময় কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ দ্বিতীয় দিনের মতো বিশেষ কমিটির বৈঠক হয়।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার পর বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শুরু হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় বিশেষ কমিটির বৈঠক চলছিল। বৈঠকে মোট ২৬টি অধ্যাদেশ আলোচনার জন্য উঠেছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর আগে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে গতকাল রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হচ্ছে—সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো।

গণভোট অধ্যাদেশ

গত বছরের ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে সরকার। এতে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে গণভোটের বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ। এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে এ গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এর বৈধতায় রুল জারি করেছেন। সে কারণে সরকারও আপাতত এই অধ্যাদেশটি পাসের পক্ষে নন। যদিও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করে সরকার। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্পের এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা হলে তার অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি—এমন বিধান করা হয়। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান-সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে বলে এতে বলা হয়; কিন্তু বর্তমান সরকার এ অধ্যাদেশের কিছু নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করেছে। একক হাতে বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি চলে গেলে তা স্বৈরাচারী হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এ কারণে এটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশ করছে বিশেষ কমিটি। সংশোধিত অধ্যাদেশে আগের আইনে থাকা কমিশনের ‘চেয়ারম্যান’ পরিবর্তন করে নতুন আইনে ‘চেয়ারপারসন’ করা হয়। এ ছাড়া ‘সদস্য’ পরিবর্তন করে ‘কমিশনার’ পদ যুক্ত করা হয়। অধ্যাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য, পুলিশ, র্যাব, বিজিবির সদস্যসহ যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে এখন থেকে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে মানবাধিকার কমিশন, যা আগের আইনে ছিল না। এতে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মচারী কিংবা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালে কমিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো আইনানুগ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ বা সুপারিশ করতে পারবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই নির্দেশ বা সুপারিশ কার্যকর করবে। অধ্যাদেশে বলা হয়, লিখিত অভিযোগ ছাড়াও গণমাধ্যমে প্রচারিত বা প্রকাশিত প্রতিবেদন বা যে কোনো মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন ঘটনা তদন্ত করতে পারবে। কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তা কোনো রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কোনো পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন বা তথ্য-প্রমাণ তলব করতে পারবেন। পাশাপাশি কমিশন তার কার্যাবলি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ওই স্থান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের পূর্বানুমতি বা অবহিত করার প্রয়োজন হবে না। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কারাগার, হাজতখানাসহ যে কোনো আটক কেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজত, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে কমিশন। এ ছাড়াও কমিশনের আরও বেশ কিছু বিষয়ে ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ কমিশন ৫ সদস্যের করার বিধান করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ

গত বছরের ২১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর গেজেট জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশটির ব্যাপারেও একমত হতে পারেননি অংশীজনরা। ফলে এটি বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাছাইপূর্বক প্রধান বিচারপতি কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রণীত অধ্যাদেশ এটি। এই পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদানে একটি স্থায়ী কাউন্সিল থাকবে এবং এটির নাম হবে ‘সুপ্রিম জুডিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। সাত সদস্যের এই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হবেন প্রধান বিচারপতি। হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে কাউন্সিল। এ ছাড়া আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেবে। সংগৃহীত তথ্য এবং জমা পড়া আবেদন যাচাই-বাছাই করবে। কাউন্সিলের বিবেচনায় যথাযথ প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করবে। প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে। নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করবে। অতিরিক্ত বিচারকদের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারক নিয়োগ করা হবে। এজন্য কাউন্সিল সুপারিশ প্রণয়ন করে তা প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। চাইলে কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টের কোনো অতিরিক্ত বিচারকের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করতে পারবে। আবার কোনো অতিরিক্ত বিচারক স্থায়ী নিয়োগে অনুপযুক্ত হলে কাউন্সিল তাকে সুপারিশে বিরত থাকতে পারবে। শূন্যপদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত জ্যেষ্ঠদের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এজন্য নির্ধারিত নিয়োগযোগ্য বিচারকের সংখ্যার অতিরিক্ত যুক্তিসংগত সংখ্যক নামসহ একটি তালিকা সুপারিশ আকারে প্রণয়ন ও প্রধান বিচারপতির কাছে দেবে। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন।

দুদক (সংশোধন) অধ্যাদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশে কমিশনের সদস্য সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা এবং কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে চার বছর নির্ধারণ করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার এবং অন্তত একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কমিশনার থাকতে হবে। কমিশনের সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। তবে বিদ্যমান কমিশনের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকর হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়, এখন থেকে প্রতি ছয় মাস পরপর দুদককে তাদের কার্যক্রমের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দুদকের সব কর্মকর্তার জন্য সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতাও দুদককে দেওয়া হয়। এই অধ্যাদেশটিও সংসদীয় কমিটির বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রয়েছে।

রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে রাজস্ব খাতকে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করে গত বছরের ১২ মে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এর ফলে বিলুপ্ত হয় ‘এনবিআর’ ও ‘আইআরডি’ নামক প্রতিষ্ঠান। এটিকে এনবিআরের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথম বড় প্রশাসনিক বিভাজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সংসদীয় বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় রেখেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশ

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া (ট্যারিফ) যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে গত ২ জানুয়ারি ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের সুপারিশের তালিকায় রেখেছে সংসদীয় কমিটি। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘উপদেষ্টা পর্ষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের জন্য ফি, চার্জ, রয়্যালটি এবং ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে। এয়ার অপারেটরদের তাদের সব রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা (ট্যারিফ) কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তাকে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে সহায়ক হবে।

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ

গত বছরের ১৯ নভেম্বর মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার। অধ্যাদেশে বলা হয়, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের জন্য আগের আইনের বিধান অপ্রতুল। মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন সহজীকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার রোধ ও অবৈধ পাচার রোধ করতে আগের আইন রহিত করে একটি যুগোপযোগী অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন। নতুন এই অধ্যাদেশের ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনটা খুব সহজ হবে। আগে যেমন ছিল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য খুবই কাছের যেমন ভাইবোন, বাবা-মা থেকে নিতে পারতেন, এখন এটাকে একটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অঙ্গ দান করার ক্ষেত্রে পরিধি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ভাতিজা, ভাগিনা যুক্ত করা হয়েছে। তারাও অঙ্গদান করতে পারবে না। এর ফলে বাংলাদেশের অনেককেই এখন কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য আর বিদেশে যাওয়া লাগবে না। বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোও এই সার্ভিস দিতে পারবে। তবে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছে বিরোধী দল। ফলে এই অধ্যাদেশটিও বাতিলের তালিকায় থাকছে।

সূত্র: কালবেলা 

Saturday, March 28, 2026

দেশে ৩৮৪৯ চাঁদাবাজ, ৯০ ভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

দেশে ৩৮৪৯ চাঁদাবাজ, ৯০ ভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী:

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০: ২৯

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় মোট তিন হাজার ৮৪৯ চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকিরা সক্রিয় দেশের অন্যান্য জেলায়।

পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, হাটবাজার, বালুমহাল, বাস-টেম্পো স্ট্যান্ড, নৌঘাট, মাছ বাজার, ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার, সরকারি লিজকৃত জমিতে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাইকারি আড়ৎ এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কিংবা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটায় তারা।

পুলিশের তালিকাভুক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের পরিচয়ও বদলে ফেলে। একপর্যায়ে তারা নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চাঁদা আদায় করতে শুরু করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের কাছেও পৌঁছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কারা চাঁদা তুলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

গত ৪ মার্চও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পরই মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি পৃথক স্বচ্ছ তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে যশোর জেলার এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম রেঞ্জের এক এসপি জানান, চাঁদাবাজদের তালিকা প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। পুরোনো চাঁদাবাজরা কোথায় আছে সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সারা দেশের তিন হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকি দুই হাজার ৫৯৫ জন চাঁদাবাজ রয়েছে ৬৪টি জেলায়। এর মধ্যে গাজীপুরে ৩৪ জন, ঢাকায় ১৫৪, মানিকগঞ্জে ৩০, নরসিংদীতে ৪০, রাজবাড়ীতে ৪৫, ফরিদপুরে ৩৫, গোপালগঞ্জে ২০, কিশোরগঞ্জে ২৪, মাদারীপুরে ৩৪, মুন্সীগঞ্জে ১৮, নারায়ণগঞ্জে ৫০, শরীয়তপুরে ২৩, টাঙ্গাইলে ৩০, কুষ্টিয়ায় ২৪, মাগুরায় ২৩, মেহেরপুরে ১৭, নড়াইলে ৩৫, সাতক্ষীরায় ৩৮, বাগেরহাটে ৫৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৫, যশোরে ৬৫, ঝিনাইদহে ২২, খুলনায় ৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮, চাঁদপুরে ৪৭, চট্টগ্রামে ৬৭, কুমিল্লায় ২৬, কক্সবাজারে ৮৮, ফেনীতে ৪৩, লক্ষ্মীপুরে ২৯, নোয়াখালীতে ৩৪, নাটোরে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫, পাবনায় ৫৭, রাজশাহীতে ১৪, সিরাজগঞ্জে ১৮, বগুড়ায় ১৩, জয়পুরহাটে ১৮, নওগাঁয় ৫৪, সুনামগঞ্জে ১২, সিলেটে ৩৫, হবিগঞ্জে ৩৪ ও মৌলভীবাজারে ৪৫ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকা উঠে এসেছে।

এছাড়া পঞ্চগড়ে ৪৩ জন, রংপুরে ২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭, জামালপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৩৪, নেত্রকোনায় ৩২, শেরপুরে ২৩, দিনাজপুরে ৩৫, গাইবান্ধায় ৩৮, কুড়িগ্রামে ৩৩, লালমনিরহাটে ২২, নীলফামারীতে ৩৬, ঝালকাঠিতে ৬১, বরগুনায় ৪২, বরিশালে ৩৯, ভোলায় ৭৩, পটুয়াখালীতে ৮৮ ও পিরোজপুরে ৩৮ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় ৯২ জন, খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবনে ৬৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ভিত্তিতে এক হাজার ২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি ডাটা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী হাতিরঝিলে ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরে বাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, আদাবরে চার, মিরপুর ২৩, তুরাগে ১২, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ১৩, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৪, উত্তরখানে ১৭, দক্ষিণখানে ১২, বিমানবন্দরে ২৩, গুলশানে ১৪, খিলক্ষেতে ১৫, ভাটারায় ছয়, বাড্ডায় চার, বনানীতে ১৫, ভাষানটেকে পাঁচ, কাফরুলে চার, মিরপুরে ১২২, পল্লবীতে ৩৩, দারুস সালামে ছয়, শাহ আলীতে ১৬, রূপনগরে ১২, শাহবাগে ১৪, কলাবাগানে আট, নিউ মার্কেটে ৩৩, ধানমন্ডিতে ১২, রমনায় ১৪, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, পল্টনে ৩৭, শাহজাহানপুরে ২২, সবুজবাগে ২৪, মুগদায় ১৩, খিলগাঁওয়ে ২৩, রামপুরায় ২৩, কদমতলীতে ২৩, ডেমরায় ১২, যাত্রাবাড়ীতে ৩৪, লালবাগে ৪৫, গেন্ডারিয়ায় ছয়, শ্যামপুরে ৫৫, কোতোয়ালীতে ৩৩, সূত্রাপুরে ২৩, বংশালে ৩৪, চকবাজারে ৪৪, লালবাগে ৩৪ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ২৩ জনের নাম রয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এবং পুলিশের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চাঁদাবাজরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দিচ্ছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রহিম, সবুজ, আলী ও শরিফ চাঁদা তুলে থাকে। তারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তেজগাঁও এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় কারওয়ানবাজার এলাকায়। তেজগাঁও থানার ১০৫ জন চাঁদাবাজের ৪৫ জনই হচ্ছে কারওয়ানবাজারকেন্দ্রিক। এদের মধ্যে লাল মিয়া, সোহেল, আবির ও সুমনের নাম উল্লেখযোগ্য। এই এলাকায় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সবজির ট্রাক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ডিএমপি জানায়, খিলগাঁও মাছবাজার থেকে রহমান ও আজাদ নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা তোলে। তারা নিজেদের স্থানীয় যুবদলের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এছাড়াও বসিলার কাঁচাবাজারে জামিল এবং আহাদ নামে চাঁদা তুলে থাকে।

সূত্র জানায়, সদরঘাটকে কেন্দ্র করে হামিদ গ্রুপ নামে ২৪ জনের একটি গ্যাং চাঁদা তোলে। দেশের পট পরিবর্তন হওয়ার পর হামিদ ওই এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীর মাছ বাজার থেকে খালেক মণ্ডল ও তার গ্যাং চাঁদা তুলে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, শিগগিরই এই তালিকা তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন।

সূত্র: আমার দেশ 

Friday, March 27, 2026

এক-এগারোর কুচক্রী লে. জে. মামুন রিমান্ডে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

এক-এগারোর কুচক্রী লে. জে. মামুন রিমান্ডে:

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯: ১১

বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম কুশীলব প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ আইনের জালে ধরা পড়েছেন। গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে জুলাই হত্যা মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে আসামি খালেদ মামুনকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও নিপীড়নের জন্য দেশি অস্ত্রসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সন্দিগ্ধ আসামি মামুন মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ঘটনায় মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শেখ মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত শেষ পর্যন্ত পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২০২৫ সালের মে মাসেই তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তিনি মিরপুরের নিজ বাসভবনেই অনেকটা গৃহবন্দি ও আত্মগোপনের মতো অবস্থায় ছিলেন।

তার গ্রেপ্তারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বস্তির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও বেরিয়ে আসছে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। এক-এগারোর বিতর্কিত ভূমিকা থেকে শুরু করে আওয়ামী আমলের চরম অনুগত গোয়েন্দাপ্রধান হয়ে ওঠা মামুন খালেদের জীবন যেন এক চাতুর্য আর বিশ্বাসঘাতকতার মহাকাব্য। তার বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার বানানো, দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে চাকরিচ্যুত করা এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের শতকোটি টাকা লুটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে উচ্ছেদের নায়ক এবং গোপন বন্দিশিবির ‘আয়নাঘর’ সৃষ্টির অন্যতম হোতা।

এক-এগারোর কুশীলব ও রাজনৈতিক ভোল বদলের ভেল্কিবাজি

মামুন খালেদ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এমন এক ‘বহুরূপী’ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, যিনি ক্ষমতার প্রতিটি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের খোলস বদলে ফেলতেন। বিতর্কিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় মামুন খালেদ কর্নেল পদে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ডিজিএফআইয়ের ডাইরেক্টর (মিডিয়া) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে হুমকি ও অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি অঢেল অর্থের মালিক হন।

সূত্র জানায়, মামুন খালেদ ১৯৯৪-৯৬ সময়কালে ডিজিএফআইয়ে জিএসও-২ (স্পেশাল অপারেশন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামুন খালেদ ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। ওই সময় তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ওয়ান-ইলেভেনের সময়কালে গ্রেপ্তার হওয়া রাজনীতিবিদদের রিমান্ডের নামে জিজ্ঞাবাদসহ তাদের যেসব অডিও ভিডিও ছাড়া হতো, এই মামুন খালেদ তার নেপথ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক-এগারোর সরকারকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ওই সময় তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারীকে বিভিন্ন প্রজেক্ট পেপার ও সিডি তৈরি করে দিতেন বলে শোনা যায়। এমনকি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদকেও বিভিন্ন পরামর্শ দিতেন। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (গত সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া) এবং মইন ইউ আহমেদের আস্থাভাজন হয়ে তিনি পদোন্নতির সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠেন। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নিজেকে ‘খাঁটি আওয়ামী লীগার’ হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। এমনকি নিজেকে তৎকালীন প্রভাবশালী আওয়ামী নেতা শেখ হেলালের মামাবাড়ি সূত্রের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার পথ পরিষ্কার করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক-এগারো সরকারের সময় সাবজেলে থাকা দুই নেত্রীরই (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও পলাতক শেখ হাসিনা) আস্থা অর্জনের জন্য কৌশলী নাটক সাজিয়েছিলেন, যাতে যে কেউ ক্ষমতায় আসুক—তার পদোন্নতি নিশ্চিত থাকে।

আয়নাঘর ও ‘জঙ্গি নাটকের’ নেপথ্য নায়ক

শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক থাকাকালীন মামুন খালেদ সংস্থাটিকে একটি নিপীড়ক ও খুনি বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালার অন্যতম হোতা বলা হয়। তার হাত ধরেই আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে তিনি শতাধিক দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে চাকরিচ্যুত করেন ও জেলহাজতে পাঠান।

জানা গেছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এই মামুন খালেদ। ২০১২ সালে মেজর জিয়াকে গুম করার নেপথ্যে মামুন খালেদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদসহ বরেণ্য সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় আগাম তথ্য জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সেনা কর্মকর্তাদের আমানত লুট ও জলসিঁড়ি কেলেঙ্কারি

সাধারণ সেনা অফিসাররা মামুন খালেদকে চেনেন তাদের অর্থ আত্মসাৎকারী হিসেবে। জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি দুর্নীতির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘আশিয়ান সিটি’র মাধ্যমে ওই প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নজরুল ইসলামের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। মামুন খালেদ সর্বমোট তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন আশিয়ান সিটির সঙ্গে। তার মধ্যে দুটি চুক্তি হয় ২০১১ সালের ২০ মার্চ। অন্যটি একই বছরের ২৫ মে। এসব চুক্তিতে তার সহযোগিতায় ছিলেন সাবেক কয়েকজন জুনিয়র অফিসার।

মামুন খালেদ প্রথম চুক্তিতে অফিসারদের জন্য তিন হাজার বিঘা জমি কেনার চুক্তি করলেও ওই দিনই তা পরিবর্তন করে দুই হাজার ২০০ বিঘার চুক্তি করেন। বাকি ৮০০ বিঘা জমি নজরুল ইসলাম এবং মামুন খালেদ ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবার তৃতীয় চুক্তি করেন, যেখানে শুধুমাত্র দুই হাজার ২০০টি প্লটের কথা উল্লেখ আছে এবং অফিসারদের প্রত্যেককে পাঁচ কাঠা করে জমি দেওয়ার কথা আগে থাকলেও তিনি তাদের চার কাঠা করে দেওয়ার জন্য নতুন চুক্তি করেন। লাখ লাখ টাকা জমা দিলেও (নৌ ও বিমান বাহিনীর পাঁচ ১০৩ জন চাকরিরত, ৮৮৫ জন অবসরপ্রাপ্ত) হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তার কয়েকশ কোটি টাকা লোকসান হয়। অফিসারদের জমা দেওয়া এক হাজার এক কোটি টাকারও বেশি দিয়ে তিনি নিজের শ্বশুর ও শ্যালকের নামে একাধিক কোম্পানি গড়ে তোলেন।

জানা গেছে, তিনি ‘সাবলাইম’ গ্রুপের অধীন সাবলাইম নেটওয়ার্ক, সাবলাইম আইটি, সাবলাইম বাংলাদেশসহ অন্তত সাতটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন লুটপাটের অর্থ দিয়ে। এছাড়া ‘গ্রিন রেড লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি বাসভবনকে ব্যবসার ঠিকানা বানিয়ে ২০০ কোটি টাকার ফ্লাইওভারের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এরমধ্যে সাবলাইম নেটওয়ার্ক (রেজি. ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২), সাবলাইম আইটি (রেজি. ২৭ মার্চ ২০১২), সাবলাইম বাংলাদেশ (রেজি. ২৮ মার্চ ২০১৩), সাবলাইম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (রেজি. ১৯ ডিসেম্বর ২০১২), সাবলাইম বিজনেস (রেজি. ৮ ডিসেম্বর ২০১০), সাবলাইম রিসোর্স (রেজি. ৮ ডিসেম্বর ২০১০), সাবলাইম প্রোপার্টিজ (রেজি. ২৮ মার্চ ২০১১) উল্লেখযোগ্য। অর্থাৎ সবগুলো কোম্পানি তিনি ডিজিএফআইয়ে থাকাকালীন প্রতিষ্ঠা করেন।

জানা গেছে, মামুন খালেদ জলসিঁড়ি প্রজেক্টের একটি খরচের তালিকায় বায়বীয় কিছু খরচের কথা উল্লেখ করেন। এতে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের অর্থ দেওয়া বাবদ খরচ পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ফসলের ক্ষতি বাবদ তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা বাবদ পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা, অন্যান্য সংস্থার ব্যবস্থাপনায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা, পরিকাঠামো খরচ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, স্থানীয় কর্মীদের বেতন ৪৮ লাখ টাকা, শান্তকরণের জন্য অর্থ পরিশোধ এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা—সব মিলিয়ে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা খরচ দেখান।

অভিযোগ রয়েছে, মামুন খালেদ ডিজিএফআইয়ের পরিচালক থাকাকালীন জলসিঁড়ি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে (সাবেক সেনাপ্রধান) নাজেহাল করার লক্ষ্যে রূপগঞ্জে স্থানীয় লোকদের দিয়ে ২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন, যার মাধ্যমে কিছু সেনাসদস্য স্থানীয়দের হাতে মার খান এবং স্থানীয় কিছু লোক নিহত হন। এর ফলে ওই প্রকল্প তখন কিছুটা স্থবির হয় এবং এ ব্যাপারে মামুন খালেদের চক্রান্তে সব দোষ তৎকালীন কিউএমজির ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়। ওই সুযোগকে ব্যবহার করে তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কিছু সেনা কর্মকর্তার যোগসাজশে ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা করেন মামুন খালেদ। মামুন খালেদের চক্রান্ত তখন সফল হয়নি। তবে কিউএমজি ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে তখন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

শেয়ারবাজার ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য

মামুন খালেদের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তথ্য আরো ভয়াবহ। এক-এগারোর সময় ‘জাগো বাংলাদেশ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার নামে তিনি ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ। বিএনপি নেতা একরামের অফিস থেকে জোরপূর্বক ৪০ লাখ টাকার শেয়ার লিখে নেওয়ার অভিযোগ আছে, যার বর্তমান মূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি। তার বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওয়ান-ইলেভেনের মাত্র এক বছরে ১৭০ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল করিমের ওরিয়ন ল্যাবরেটরিজ, ইউনাইটেড এয়ার ও মোসাদ্দেক আলীর বিভিন্ন কোম্পানির কোটি কোটি টাকার শেয়ার তিনি নিজের ও আত্মীয়দের নামে লিখে নিয়েছিলেন। সালমান এফ রহমানকে আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানোর পুরস্কার হিসেবে তিনি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার গ্রহণ করেছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম চার বছরে শেয়ারবাজারে তার বার্ষিক টার্নওভার ছিল গড়ে ১৯০ কোটি টাকা।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মামুন খালেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গত দেড় দশকের অনেক গুম, খুন এবং দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ও ভুক্তভোগী সেনা কর্মকর্তারা।

বড় ব্যবধানে হেরেও কাবরেরার উপলব্ধি ‘আমরা তাদের খুব কাছাকাছিই ছিলাম’বড় ব্যবধানে হেরেও কাবরেরার উপলব্ধি ‘আমরা তাদের খুব কাছাকাছিই ছিলাম’

সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদের ফেসবুক পোস্ট

‘দেশনত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতি কেন অর্গানাইজ করলাম, এটাই ছিল অপরাধ’

ফেসবুক পোস্টে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বরেণ্য সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ উল্লেখ করেন, ‘লে. জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ ব্রিগেডিয়ার হিসেবে ১/১১-এর সময় ডিজিএফআইয়ের মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে লে. কর্নেল গোলাম মাওলাকে দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করিয়েছিলেন। চৈত্রের তীব্র গরমের মধ্যে একটি আলো-বাতাসহীন দম বন্ধ হওয়ার মতো ঘরে বন্দি করে রেখেছিলেন। আমার অপরাধ ছিল দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে গণমাধ্যমে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতির উদ্যোগ কেন আমি নিয়েছিলাম? সে কথা সংক্ষেপে তুলে ধরছি’ :

‘১/১১-এর সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিছিল-মিটিং ও লেখালেখি—সবকিছুর ওপর জরুরি আইনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কারাবরণ মেনে নিতে পারছিলাম না। কী করা যায়? আমি একজন সাংবাদিক, শুধু লিখে প্রতিবাদ করতে পারি। সেটা যতটুকু পারি করছি। কিন্তু কোনো কাজে আসছে না। মাথায় এলো ম্যাডাম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে সাংবাদিকদের স্বাক্ষর অভিযানসংবলিত বিবৃতির ব্যবস্থা করতে হবে। কাজটি করতে হবে খুব গোপনীয়তার সঙ্গে। কারণ অনেকের সংযোগ আছে আর্মিদের সঙ্গে। জানাজানি হয়ে গেলে পুরো পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যাবে। আমার খুব বিশ্বস্ত দুজন সাংবাদিক নেতার সঙ্গে কথা বলে তাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করলাম। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিবৃতির খসড়া তৈরি করলাম। বিবৃতির খসড়া যায়যায়দিন সম্পাদক শ্রদ্ধেয় শফিক রেহমান ভাইকে দেখালে তিনি তাতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের অবদানের কথাও সংযোজন করলেন। প্রতিটি মিডিয়া অফিসে একজন করে বিশ্বস্ত সহকর্মীকে দায়িত্ব দিলাম স্বাক্ষর সংগ্রহ করার জন্য। আর আমি নিজে সম্পাদক ও একুশে পদক বিজয়ী সাংবাদিকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করালাম। সম্পাদকসহ ৭০০ সাংবাদিক খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে স্বাক্ষর করলেন।

এরপর স্বাক্ষরযুক্ত কাগজগুলো ফটোকপি করে প্রতিটি অফিসের জন্য আলাদা আলাদা প্যাকেট করে সংবাদপত্র ও মিডিয়া হাউসগুলোতে পাঠালাম। সেখানে বার্তা প্রেরক হিসেবে আমার নাম লিখে স্বাক্ষর করলাম, যাতে কেউই সেটাকে ভুয়া না ভাবেন। কাজটি করেছিলাম খুব গোপনীয়তার সঙ্গে। ডিজিএফআই জেনে গেলে খবরটি ছাপার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করত। সেটা যাতে করতে না পারে সেজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে ৭০০ সাংবাদিকের বিবৃতি বার্তা সম্পাদকদের কাছে পাঠালাম কিছুটা রাত করে। আমার এ কাজে সাহায্য করেন সহকর্মী আলাউদ্দিন আরিফ, মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন সাংবাদিক সহকর্মী । মাহাবুব লন্ডনে ব্যারিস্টারি করে এখন সেখানে আইন পেশায় নিয়োজিত ।

এ বিবৃতির খবর ডিজিএফআই টের পায়নি। তাই গণমাধ্যমে খবর ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেনি। সংবাদপত্রে পরদিন খবরটি ডাবল কলাম ও সিঙ্গেল কলামে ছাপা হয়ে যায়। বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও খবরটি প্রচারিত হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সাংবাদিক সমাজ দাঁড়িয়ে গেছেন। চারদিকে সবাই খুশি। ডিজিএফআই বিপদে পড়ে যায়। বিশেষ করে মামুন খালেদ বিষয়টি জানতে পারেননি। ব্যর্থতার দায়ভার এসে পড়ে তার ওপর। জরুরি আইনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এমন দুঃসাহসিক ঘটনা কীভাবে ঘটল? ৭০০ সাংবাদিকের এ বিবৃতিতে এক নম্বর স্বাক্ষরদাতা ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য সাংবাদিক আতাউস সামাদ। এরপর শফিক রেহমান, আতিকুল আলম, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

পরদিন যা হবার তা-ই হলো। ডিজিএফআই থেকে আমাকে ডাকা হলো চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা বলে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, হয়তো জবাবদিহি করতে হবে। আমার সহকর্মী ও বন্ধু লে. রুশদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। রুশদকে বলা হলো কিছুক্ষণ পরে সভা হবে, আপনার থাকার দরকার নেই। তিনি চলে গেলেন। এরপর লে. কর্নেল গোলাম মাওলার অমানবিক নির্যাতনের শিকার হলাম। আমার বাবা একজন আলেমে দ্বীন ছিলেন। মসজিদের একজন খতিব ও পীর সাহেব হিসেবে সারাজীবন আদর্শ জীবনযাপন করেছেন, মানুষের কল্যাণ করে গেছেন। কিন্তু ওই আর্মি অফিসার আমার বাবাকে উদ্দেশ করে, এমন একজন আলেমে দ্বীনকে উদ্দেশ করে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন, আমার তখন মনে হলো এর চেয়ে আমার মরণ হলো না কেন? আমি ওই অফিসারকে বাবার পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেননি, গালি অব্যাহতই রেখেছিলেন। তেমনি সেদিন স্কুল থেকে ছেলেকে বাসায় নেওয়ার দায়িত্ব ছিল আমার। কিন্তু ডিজিএফআইয়ের অফিসে আটক থাকায় বাসায় বা স্কুলে খবর দিতে পারিনি। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটির কয়েক ঘণ্টা পর ছেলেটিকে বাড়ি পৌঁছায়। অফিস এবং আমার বাসা থেকে আমার খোঁজ শুরু হলে লে. রুশদ ভাই সাংবাদিকদের জানান এবং ডিজিএফআই অফিসে যোগাযোগ করেন। এরই মধ্যে বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর তারা রাতে প্রেস ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেন, এ খবর পেয়ে ডিজিএফআই রাতে অবশেষে আমাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

‘এত বছর পর আজ সেই মামুন খালেদ তাদের সেই ঘৃণ্য অপকর্মের জন্য ধরা পড়েছেন, খবরটি দেখে খুব ভালো লাগছে। পাপের জন্য কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত করুন মামুন খালেদ।’

আদালতে যা বললেন মামুন খালেদ

গতকাল শুনানির সময় মামুন খালেদ আদালতে দাবি করেছেন, আসিয়ানের নজরুলের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম।‎

আয়নাঘর প্রসঙ্গে জেনারেল মামুন বলেন, ‘আমার মেয়াদে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং এ বিষয়ে একাধিকবার শুনানিতে অংশ নিয়েছি’।

যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে মামলা সম্পর্কে ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান বলেন, ‘মামলার ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি বলেন, অবসর নেওয়ার পর আমি দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবন যাপন করছি। আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হইনি।’

মামুন আরো বলেন, ‘এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের ব্যাপারে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।’

মামুনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তারা বলেন, মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালে তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআইয়ের প্রধান করা হয়। জেনালে মামুনের সময়কালেই আয়নাঘর তৈরি করা হয়। যেখানে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

পিপি আরো অভিযোগ করেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তার নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এছাড়া জলসিঁড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও তোলেন পিপি। যে কারণে ইতোমধ্যে আদালত তার স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে জানান পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, March 15, 2026

৬ লাশ পোড়ানো মামলা: সাবেক এমপিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

৬ লাশ পোড়ানো মামলা: সাবেক এমপিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ:

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) এ রায় প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

৫৯১ পৃষ্ঠার এ রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও উপস্থাপিত প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এ মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামি প্রধান পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস ছিলেন। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তার জন্য তাদের দায় এসেছে। এছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রসিকিউশন না আনতে পারায় এবং যথাযথভাবে প্রমাণ করতে না পারায় অনেকের সাজা কমেছে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সাতজন হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

সাত বছরের সাজা পেয়েছেন দুজন। তারা হলেন- এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান। আর খালাস পেয়েছেন সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। তিনি এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

 সূত্র: আমার দেশ

গণভোটের রায় মানতে দ্বিধায় সরকার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

গণভোটের রায় মানতে দ্বিধায় সরকার:

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৩: ৫৭

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই এমনটা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময়ে গণভোট (‘হ্যাঁ’/‘না’) নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলে অবস্থানের অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। যার প্রভাব দেখা যায় গণভোটের ফলাফলেও। অনেক আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করলেও সেখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ হেরেছে।

অতি সম্প্রতি হাইকোর্টে গণভোটের বৈধতা নিয়ে মামলা করলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ ‘কেন গণভোট অবৈধ হবে না’ বলে রুল জারি করেছে। যা গণপ্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। হাইকোর্ট থেকে রুল জারির ক্ষেত্রে সরকারের মৌন সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদেরও বেশি সক্রিয় দেখা গেছে। সব মিলিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দলের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা পরিলক্ষিত হয়েছে। সংস্কার ইস্যুতে তাদের প্রকৃত অবস্থা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অবশ্য সরকার তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদে আলোচেনার মাধ্যমে তারা এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে চায়।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি দল ইতোমধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছে। সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথের পর একই দিনে একই ব্যক্তির হাতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের কথা ছিল। তবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ও তাদের মিত্র এবং স্বতন্ত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অবশ্য সেদিন জামায়াত ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের ৭৭ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি দুটি পদের জন্য শপথ নিয়েছেন। সরকারি দলের শপথ না নেওয়ার পাশাপাশি আজ রোববার আইনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান ভঙ্গ হতে চলেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে গতকাল শনিবার পর্যন্ত এ অধিবেশন ডাকা হয়নি। আজ বৈঠক অনুষ্ঠানেরও কোনো সম্ভাবনাও নেই। গতকাল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি সভা করে আজকের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক ডাকার আল্টিমেটাম দিয়েছে। বৈঠক ডাকা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকার প্রথমে সেক্টরভিত্তিক সংসদ কমিশন এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সম্পর্কিত ছয়টি কমিশন নিয়ে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। ওই কমিশন বিএনপির, জামায়াত ও এনসিপিসহ জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সিরিজ বৈঠক করে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে। বিএনপিসহ কয়েকটি দল কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ওই সনদে সম্মতিও জানায়। পরে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলো সনদে সইও করে। পরে ওই জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারি করেন। পরে ওই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কার কবে সেটাও স্পষ্ট করা হয়েছিল। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (পরিষদের ১৮০ কার্যদিবস) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত ভূমিকা পালন করবেন বলেও জুলাই আদেশে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তবে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি এখনো শপথ নেয়নি। ডাকা হয়নি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও। সব মিলিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সরকারের তরফ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের শপথের কোনো বিধান না থাকায় তারা ওই শপথ গ্রহণ করেনি। এ ধরনের শপথ গ্রহণ করতে হলে তা আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সংসদের বৈঠকে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আলোচনা ফ্লোরে (অধিবেশনে) হতে পারে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপির ভাবনা সংসদে জানানো। সংসদ সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

এর আগে সম্প্রতি আইনজীবীদের একটি অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর বিএনপি ধারণ করে এবং তা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রতিশ্রুতির বাইরেও বিএনপি যেসব ইশতেহার প্রণয়ন করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে হলে আগে জাতীয় সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোন ফর্মে শপথ হবে বা কে শপথ পড়াবেন, তা তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত থাকতে হবে।

এর আগে নির্বাচনের পরপরই ১৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করছে। তারা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধÑ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই গণভোটের বৈধতার বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ এবং গণভোট অধ্যাদেশের ধারা ৩ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না মর্মে দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা এবং গাজী মো. মাহবুব আলম। পরে গত ৩ মার্চ রিট দুটির শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ রুল জারি করে। রুলে জানতে চাওয়া হয়, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তা কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ৩ নম্বর তফসিল, যার অধীনে রাজনৈতিক দলগুলো ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, তা কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

রুল জারির পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট দুটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তোলা হয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে। বলা হয়, তাড়াহুড়া করে দুজন আইনজীবীর মাধ্যমে এ রিট পিটিশন দায়েরের পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের মধ্যে সরকারের ইন্ধন দেখা যাচ্ছে। সরকারের কিছু ব্যক্তি বিষয়টাকে আদালতে সাবজুডিশ ম্যাটার বলে সংসদকে যেন কোনোভাবে বাধিত করা না যায়, সেজন্যই এ কৌশল অবলম্বন করেছেন।

রুলের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া অ্যাডভোকেট শিশির মনির গতকাল আমার দেশকে বলেন, আইনি পদক্ষেপটি সরকার ফরমায়েশিভাবে নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপ। এ ধরনের পদক্ষেপ নজিরবিহীন। বিষয়টি জাতীয় সংসদের, সংসদের বিষয় রাজনৈতিকভাবে সেটেল্ড না করে আদালতের বারান্দায় আনাসাটা আত্মঘাতী। এতে গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সরকার এবং আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। রাজনৈতিক বিষয় রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে সময়মতো আলোচনার প্রসঙ্গ তুলবেন উল্লেখ করে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে, রাষ্ট্রপতির সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সেটা আমরা সংসদে জানতে চাইব। সরকারি দলের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা করণীয় ঠিক করব। আমরা চাইবÑএ সংসদ যত দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপ নেয়।

গতকাল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নিয়মানুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা, সেটি রোববার (আজ) শেষ হবে। অবিলম্বে যেন সরকার এ অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা নেয়। না হলে জাতির কাছে তারা ক্ষমা পাবে না। সরকারকে দায় নিতে হবে। রোববারের মধ্যে সংস্কার কমিশনের অধিবেশন না ডাকলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বললেও সরকার গঠনের পর সম্পূর্ণ ইউটার্ন নিয়েছে। এতে তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল আমার দেশকে বলেন, আইন অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সভার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপিসহ সবার এ সভা করাটা অনিবার্য দায়িত্ব। এক্ষেত্রে বিএনপির অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় যদি সভাটি না হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা আইনের ব্যত্যয়, প্রশ্নযোগ্য, আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য হবে। তবে আমি মনে করি, এ তারিখে না হলেও দ্রুততার সঙ্গে এটি হওয়া উচিত। একটি অভিনব ও নতুন অভিজ্ঞতার প্রশ্নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা অনুষ্ঠানে সরকারপক্ষের অবহেলা ও দুর্বলতাকে সহজভাবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে, এটি বড় ধরনের সাংবিধানিক কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয়। আশা করব বিএনপি অন্যদের সঙ্গে নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

তিনি বলেন, দৃশ্যত বলা যেতেই পারেÑবিএনপি দলীয়ভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয় স্বচ্ছ ও স্পষ্ট অবস্থান ধারণ করছে না। তবে এটা অস্বাভাবিক ও অবাঞ্ছিত নয় বলে মনে করি। কারণ, তারা সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক অবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেনি। তারা ঘোষিত ৩১ দফার আওতায় বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় থেকে তাদের সংস্কারের অঙ্গীকার ছিল। এক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে হলেও বিএনপির উচিত হবে গণভোটে ঘোষিত ও অনুমোদিত সবগুলো সংস্কার বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া। কারণ, তার দলের প্রধান তরেক রহমান ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কাজেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াটা নৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার।

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর মাহবুব উল্লাহ। আমার দেশকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বিএনপির প্রত্যাশা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। কিন্তু ভোটের পর দেখলাম জুলাই আদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিল না। সংস্কারের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির উচিত হবে, তারা কী করতে চায় সে বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, March 10, 2026

রাজশাহীতে এতিমখানায় বিপিইডাবলুএস (BPEWS) এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

রাজশাহীতে এতিমখানায় বিপিইডাবলুএস (BPEWS) এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল:

প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রাইভেট এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বিপিইডাবলু) রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগেz ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার রাজশাহীর পবা উপজেলার খিরশীন এলাকায় অবস্থিত গিয়াসউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে ইফতার ভাগাভাগি করার পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আহমেদ আর আই ওয়াহাব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট এমপ্লয়িজ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির ফাইন্যান্স সেক্রেটারি এ.এন.এম ইকবাল আহমেদ এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মিনহাজ ইসলাম মুন্না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিপিইডাবলু রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বুলবুল।

এছাড়াও ইফতার মাহফিলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটি এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।

Wednesday, March 4, 2026

মুক্তিযোদ্ধা কোটার চাকরিজীবীরা আতঙ্কে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

মুক্তিযোদ্ধা কোটার চাকরিজীবীরা আতঙ্কে:

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬

চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন জীবনে অনিশ্চয়তার অধ্যায় শেষ। কিন্তু এখন সেই নিয়োগই নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে ঢোকা ৯০ হাজার ৫২৭ জনকে নিয়ে চলছে বিস্তর যাচাই-বাছাই, যার প্রথম ধাপ শেষ হলেও এখনো চলমান চূড়ান্ত পর্ব। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৮ শতাংশের যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তবে ২০টি মন্ত্রণালয়ে ২৫৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি, ৬০ জনের তথ্যে মিলেছে গরমিল। সামগ্রিকভাবে কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের ১০ শতাংশের বেশি তথ্য অসম্পূর্ণ বা অসংগত বলে জানিয়েছে এ সংক্রান্ত কমিটি। বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য চাওয়া হলেও কোথাও ধীরগতি, কোথাও বা লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিয়োগ পাওয়াদের অনেকেই চাকরি হারানোর শঙ্কায় দিন পার করছেন। দীর্ঘ দেড় বছরেও যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে তাদের জীবনে।

কালবেলার হাতে আসা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এবং তিনটি কমিশনে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন ৯০ হাজার ৫২৭ জন। 

যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে চিঠি ইস্যু করলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও কমিশন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। তবে অনিয়ম করে যারা কোটায় চাকরি নিয়েছেন বা যথাযথ কাগজপত্র জমা দেননি, এমন চাকরিজীবীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

যাচাই-বাছাই কমিটিতে থাকা কর্মকর্তারা কালবেলাকে জানান, প্রাথমিক ধাপের যাচাই শেষ করে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। প্রথম ধাপে যাদের তথ্য অনুপস্থিত বা গরমিল পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিশনে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বেশিরভাগ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর তথ্য পাঠালেও প্রাপ্ত তথ্যের প্রায় ১০ শতাংশে ঘাটতি বা অসংগতি রয়েছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘কোটায় চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক কাজ শেষ করে এখন চূড়ান্ত যাচাই চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজারের মতো যাচাই সম্পন্ন হয়েছে, বাকিগুলোর কাজ প্রক্রিয়াধীন।’

জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যাচাই-বাছাই শুরু হলে কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া অনেকেই চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন স্তরে তদবিরও করছেন। কোটায় চাকরি পাওয়াদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও অনেকেই সময়মতো তা জমা দেননি। অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থান নিয়ে অধিকতর যাচাই কার্যক্রম চালালেও সময়ক্ষেপণের কারণে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

প্রাথমিক যাচাই শেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০টি মন্ত্রণালয়ের তথ্য কালবেলার হাতে এসেছে। এসব নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণি (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার), দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে ৫৭টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও তিনটি কমিশনে চিঠি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই ও এন্ট্রির পর পরিবীক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ২০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে মাত্র একটি মন্ত্রণালয়ের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। বাকি ১৯টি মন্ত্রণালয়ে ৬০ জনের তথ্যে গরমিল এবং ২৫৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় সঠিকভাবে যাচাই সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে জানান যাচাই-বাছাই কমিটির কর্মকর্তারা।

তথ্যের গরমিল ও তথ্য অনুপস্থিত থাকা চাকরিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর চারটি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠায়নি। এ ছাড়া গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আরও ১৬টি মন্ত্রণালয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

নির্বাচন কমিশনে কোটায় চাকরি পান ৭৯ জন; এর মধ্যে ৫ জনের তথ্যে গরমিল রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে কোটায় চাকরি নেন ৮১১ জন; এর মধ্যে ৪ জনের তথ্যে গরমিল এবং ৩৫ জনের তথ্য অনুপস্থিত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে কোটায় চাকরি পান ৩০৩ জন; যার মধ্যে ৮ জনের তথ্যে গরমিল ও ১৮ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোটায় চাকরি নেন ৮১৩ জন; এর মধ্যে ২ জনের তথ্যে গরমিল এবং ৬৪ জনের তথ্য অনুপস্থিত।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কোটায় চাকরি পেয়েছেন ৩৭ জন; এর মধ্যে ৩ জনের তথ্য নেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ২৭ জনের মধ্যে ১ জনের তথ্যে গরমিল এবং ১ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে ৭ জনের মধ্যে ১ জনের তথ্যে গরমিল রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে ৭৫ জনের মধ্যে ১ জনের তথ্যে গরমিল ও ১ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে ৭০ জনের মধ্যে ২ জনের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ৯৩ জনের মধ্যে ১ জনের তথ্যে গরমিল এবং ২ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ১০১ জনের মধ্যে ৫ জনের তথ্যে গরমিল ও ২৩ জনের তথ্য অনুপস্থিত। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ২৯ জনের মধ্যে ২৬ জনের তথ্য পূর্ণাঙ্গ থাকলেও ২ জনের তথ্যে গরমিল এবং ১ জনের তথ্য নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ৬০ জনের মধ্যে ১ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অনুপস্থিত।

অর্থ বিভাগে ১৮৯ জনের মধ্যে ৩ জনের তথ্যে গরমিল ও ২ জনের তথ্য নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ২০৭ জনের মধ্যে ৫ জনের তথ্যে গরমিল ও ৩১ জনের তথ্য অনুপস্থিত। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ১৭২ জনের মধ্যে ৪ জনের তথ্যে গরমিল এবং ৪৪ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৫৬ জনের মধ্যে ৭ জনের তথ্যে গরমিল ও ১ জনের তথ্য অনুপস্থিত। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ১০৬ জনের মধ্যে ১ জনের তথ্যে গরমিল ও ২১ জনের তথ্য অনুপস্থিত। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ১৯১ জনের মধ্যে ৮ জনের তথ্যে গরমিল ও ৬ জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। সংশ্লিষ্টদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে এসব মন্ত্রণালয়ে আবারও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে কোটায় চাকরি পান ৭ হাজার ৭৭৮ জন। তাদের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও সময়ক্ষেপণ করে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই; বরং সব তথ্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হলে তারাও তথ্য দিতে গড়িমসি করছে বলে যাচাই-বাছাই কমিটির এক কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান।

এদিকে বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার কিছু নাম ব্যবহার করে যারা চাকরি নিয়েছেন, তাদের চাকরিও বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া যেসব মুক্তিযোদ্ধার বয়স কম দেখানো হয়েছে এবং যাদের গেজেট বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে, তাদের গেজেট চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট কোটার চাকরিজীবীরাও জটিলতায় পড়তে পারেন।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব নেন। ওই দিনই তিনি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভায় স্বাধীনতার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় গ্রেড অনুযায়ী কতজন সরকারি চাকরি পেয়েছেন, সেই তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এবং প্রত্যেকের সরকারি চাকরির নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের পিতা/মাতা/পিতামহ/মাতামহের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট নম্বর সঠিক কিনা এবং যথাযথ সব কাগজপত্র জমা দিয়েছে কি না তা যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রণালয় কমিটি করে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত—এই দুই ধাপে অতি গোপনীয়তার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করছে। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাই শেষ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। গত ১৯ মাসে মাত্র ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে। প্রাথমিক যাচাই শেষ করে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ এগিয়ে চলছে।’

সূত্র: কালবেলা 

Saturday, February 28, 2026

আওয়ামী লীগ-বিএনপির রসায়ন। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

আওয়ামী লীগ-বিএনপির রসায়ন:

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৫

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয় খোলার চেষ্টা এবং সাবেক একাধিক সংসদ সদস্যের জামিন—এসব ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত মধ্যম সারির কিছু নেতার দেশে ফেরার খবরও শোনা যাচ্ছে। যদিও কোথাও কোথাও দলীয় কার্যালয় খুলতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

জুলাই বিপ্লবের দেড় বছরের মাথায় দলটির এই নড়াচড়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। কেউ কেউ এর পেছনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সমর্থন থাকার অভিযোগ তুলছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচনপূর্ব ‘বোঝাপড়ার’ অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হয়ে উঠছে। জামায়াতে ইসলামী এসব ঘটনাকে সরকারি দলের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে। এনসিপিও সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তবে বিএনপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তাদের ব্যাপারে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। সেই সঙ্গে ওই সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। অনেকে আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। বাকিরা চলে যান আত্মগোপনে। পরবর্তী সময়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার উসকানিতে এদেশে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল, অগ্নিসংযোগসহ নানা নাশকতা শুরু করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র-জনতার দাবির মুখে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সদ্যবিদায়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের মেয়াদকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ যখন যেখানে নাশকতার চেষ্টা করেছে, সরকার কঠোর হাতে দমন করেছে। পাশাপাশি জুলাইযোদ্ধাসহ ছাত্র-জনতাও তাদের উত্থান-চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ‘ফ্যাসিবাদের আঁতুরঘর’ খ্যাত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়।

সে সময় আইনি অঙ্গন থেকে শুরু করে কোথাও সুবিধা পাননি আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গণহত্যায় অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দিতেও অস্বীকার করেন অনেক আইনজীবী। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই অবস্থানে ছন্দপতন দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে দেশের অর্ধশতাধিক স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কার্যালয়ের তালা খুলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শেখ মুজিব ও হাসিনার ছবি টাঙানোর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়েও পতাকা উত্তোলন ও জয় বাংলা স্লোগান দিতে দেখা গেছে। গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল মহড়াও দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এমনকি গত ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার সামনেই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নামে শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অবশ্য বিএনপি নেতাদের সামনে অফিস খোলার ঘটনা যেমন ঘটছে, বিপরীতে কয়েকটি স্থানে অফিস খোলার খবর পেয়ে জুলাইযোদ্ধাদের পাশাপাশি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে এমন খবরও রয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলা এবং বিভিন্ন এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি অতিসম্প্রতি দলটির নেতাকর্মীদের একের পর এক জামিনে বেরিয়ে আসার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে সাবেক একাধিক এমপিসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা-উপজেলার পদধারী অনেক নেতা জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। গেল সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার জামিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভী রহমান। একই দিনে জামিন পেয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি ‘ইয়াবা বদি’খ্যাত আব্দুর রহমান বদি।

এর আগে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল ইসলাম জামিন পেয়েছেন। এছাড়া এ সময় দেশের বেশ কয়েকটি জেলার পদধারী নেতাদের জামিন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আখলাক হায়দার জামিনে বেরিয়ে আসার পর উপজেলা বিএনপির আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমেদ তার বাসায় মিষ্টি ও ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু নিজের নির্বাচনি এলাকায় গেলে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী ঘরানার ভোট প্রত্যাশায় অনেক প্রার্থীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ওই সময় তাদের দলীয় কার্যালয় খুলে দেওয়াসহ প্রকাশ্যে চলাফেরায় বাধা দেওয়া হবে না এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যায়। এর বিনিময় হিসেবে নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রকাশ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। এ সময় কোথাও কোথাও একই মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও ধানের শীষে ভোট দিলে ‘হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারসহ তাদের স্বাভাবিক জীবনে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় জামায়াতে ইসলামীও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি ‘নানা আশ্বাস’ ও প্রতিশ্রুতির খবর এবং নির্বাচনের পরে দলীয় কার্যালয় খোলা, প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করা এবং একের পর এক জামিন পাওয়ার খবর নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটাকে পর্দার আড়ালে ‘সমঝোতা’র অংশ মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রকাশ্যে আসার পেছনে সরকারি দলের অলিখিত সায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির আত্মপ্রকাশের সাহস যেভাবে বেড়ে চলেছে, সামনের দিনে সরকার চাইলেও তার লাগাম টানতে ব্যর্থ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দলটি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বর্তমানে মহড়া দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এদিকে নির্বাচনের পরে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনার অডিওবার্তায় নেতাকর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশনা নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এদিকে সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিতরা জয়ী হয়েছেন। এর কোনোটিতে সরাসরি প্যানেল দিয়ে আওয়ামী আইনজীবীরা জিতেছেন। আবার কোনোটিতে প্যানেল না দিয়েই আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা একাধিক পদে বিজয়ী হন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে কোনো প্যানেল না দিয়েও ১৫টি পদের আটটিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। ছয়টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবী। ওই নির্বাচনে প্যানেল দিলেও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের কেউ জয়ী হননি। একটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে জিততে না পারলেও সহসভাপতি, সম্পাদকীয় ও সদস্যপদে জয়লাভ করেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আওয়ামী লীগ সমমনা সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে বিএনপি প্যানেল পাঁচটি এবং জামায়াতে ইসলামী প্যানেল দুটি পদে জয় পেয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ ও সিলেট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আওয়ামী সমর্থকরা বেশ কয়েকটি পদে জয়লাভ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন, দলীয় কার্যালয় খোলা ও তাদের আনাগোনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জুলাইযোদ্ধাদের দল এনসিপি। ২৪ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকা অফিস খুলে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী বলেছে, একটি নিষিদ্ধ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দলের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ এখতিয়ার নেই।

সরকারি দলের ইন্ধনে আওয়ামী লীগ সক্রিয় হচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আরো কিছু নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে মুক্তি, নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। তাদের এ ধরনের বক্তব্যের সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ দলটি আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। শাসক দলের ‘ছাড় দেওয়ার মানসিকতা’ তাদের প্রত্যাশাকে উসকে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগের অফিস খুলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টিতে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দেশে আবার অতীতের মতো জুলুম-নির্যাতনের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

দেশবাসীর সামনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে এতে বলা হয়, দেশের শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ দেওয়া জাতির জন্য আত্মঘাতী ছাড়া আর কিছু নয়।

এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার পেছনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সবুজ সংকেত রয়েছে। অন্যথায় আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেতো না।

এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের যোগসাজশ হয়েছে এমন অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করে তিনি বলেন, প্রশাসনিকভাবে কার্যালয় বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হবে। ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায়ে সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খোলার বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, এটা আমরা চাইনি এবং যেহেতু আইনগতভাবে বলা আছে যে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সেভাবেই এটাকে দেখা হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা দেশে ফিরছেÑএ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কী জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল, আমরা সবাইকে নিয়ে রাজনীতি করি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

তিনি বলেন, বিএনপি বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। একদলীয় বাকশাল শাসন, যেটা বাংলাদেশের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো আওয়ামী লীগ চাপিয়ে দিয়েছিল, সেই ধ্যান-ধারণায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।

নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের অফিস খোলা ও নেতাকর্মীদের জামিনের বিষয়টি বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের নির্বাচনি সমাঝোতা কি না এমন প্রশ্নে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন আমার দেশকে বলেন, এমন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমি উপযুক্ত নই। আমি দলের মুখপাত্র না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালেয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল আমার দেশকে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বর্তমান শাসক দলের সঙ্গে কিছুটা ‘সমঝোতা’ আছে। তবে এটাকে আমরা ঘোষিত বা পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা বলতে পারছি না। কারণ কোথাও অফিস খুলে দেওয়ার সমর্থনের বিপরীতে কোথাও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিবাদ-প্রতিরোধও দেখছি।

আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, সমঝোতা যেটা দেখা যাচ্ছে, তা হচ্ছে এলাকাভিত্তিক ও স্থানীয়ভাবে। এটা কেন্দ্রীয়ভাবে বা সামগ্রিকভাবে হচ্ছে এই দাবি করার সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন প্রশ্নে এই অধ্যাপক বলেন, কোনো নাগরিকের জামিন দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তবে এখানে দেখতে হবে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল। তারা যদি যথাযথ ভূমিকা পালন করেন তাহলে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো শৈথিল্য ছিল কি না, তা বিবেচনার দাবিদার।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পরপরই নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে দলটির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ ছিল না।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, February 26, 2026

কওমি ঘরানায় প্রকট রাজনৈতিক বিভাজন। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

কওমি ঘরানায় প্রকট রাজনৈতিক বিভাজন:

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ২৮

‘কওমি’ শব্দটি উচ্চারিত হলেই এক জটিল ও বহুমাত্রিক বাস্তবতা সামনে চলে আসে। একদিকে বিস্তৃত মাদরাসা নেটওয়ার্ক, লাখো শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজের দৃঢ় সামাজিক প্রভাব; অন্যদিকে একই পরিসরের ভেতরে মতপার্থক্য, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানগত টানাপোড়েনও সমানভাবে দৃশ্যমান। সারা দেশে কওমি নেতৃত্বের বিস্তার থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ঐক্য গড়ে ওঠেনি; বরং বিভাজনই বেশি প্রকট। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এই বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে কওমি অঙ্গন ধর্মীয় শিক্ষা, বিস্তৃত মাদরাসা নেটওয়ার্ক ও ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক প্রভাবের জন্য পরিচিত। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ রক্ষা করা হলেও গত কয়েক দশকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন, রাজনৈতিক কৌশলের পার্থক্য, নেতৃত্বগত মতানৈক্য ও প্রজন্মগত ফারাকের কারণে সেই লক্ষ্য প্রায়ই হোঁচট খেয়েছে।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই বিভাজনকে তীব্রভাবে সামনে এনেছে। এগুলো হচ্ছেÑ ২০১৭ সালে দাওরায়ে হাদিস সনদের সরকারি স্বীকৃতি, ২০২০ সালে শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন, ২০২১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় কওমি অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় আসে।

কওমি শিক্ষাধারার শিকড় ভারতের দেওবন্দি শিক্ষাপদ্ধতিতে, যা উনিশ শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়। দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী কওমি প্রতিষ্ঠান হাটহাজারী মাদরাসা দীর্ঘদিন কওমিদের নেতৃত্ব ও প্রভাবের কেন্দ্র ছিল। সেখান থেকে শিক্ষাসমাপ্তকারী আলেমরা সারা দেশে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০১৩ সালে শাপলা গণহত্যার পর কওমি ঐক্যে ফাটল তৈরি হয়। ২০২০ সালে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু কওমি অঙ্গনে বড় শূন্যতা তৈরি করে। হাটহাজারী মাদরাসায় ছাত্রদের আন্দোলন, নেতৃত্ববিরোধী অবস্থান এবং কমিটি পুনর্গঠন পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। পরবর্তী সময়ে নতুন নেতৃত্বে আসেন জুনায়েদ বাবুনগরী। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতের আন্দোলন সহিংস উপায়ে দমন করেন তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।

এরপর ব্যাপক গ্রেপ্তার, মামলা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে হেফাজত রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে পড়ে এবং কার্যত দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি সমঝোতামুখী, অন্যটি আন্দোলনমুখী। এই সময় থেকেই কওমি রাজনীতির ভেতরে কৌশলগত মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়। কেউ সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চান, কেউ বাস্তববাদী সমঝোতার পক্ষে। নতুন দল গঠন, শাখা আত্মপ্রকাশ, জোট ও ভাঙনÑ সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আরো জটিল হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রখ্যাত আলেম, লেখক, মুফতি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হারুন ইজহার আমার দেশকে বলেন, ‘কওমিরা ঐতিহাসিকভাবে মূলতঃ সামাজিক শক্তি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের সাফল্য না থাকার কারণ সাংগঠনিক দুর্বলতা। হেফাজতে ইসলাম একসময় এক বিশাল ঐক্যের ভিত রচনা করেছিল। কিন্তু সাংগঠনিক অপরিপক্বতার কারণে সেই ঐক্য টেকেনি।’

কওমি দলের বিভাজন ও নেতৃত্বগত দ্বন্দ্ব

কওমি অঙ্গনের প্রধান দলগুলো হলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজাম-ই-ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট।

হেফাজতে ইসলাম মূলত কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা এবং ইসলামী নৈতিকতা সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করে। দলটি নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে না। আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে দলটি সম্প্রতি নানা বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে।

১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রধানত নির্বাচনি রাজনীতিতে সক্রিয়। তারা বিএনপি-বিরোধী অবস্থান নেয়, যা প্রায়শই জোটভিত্তিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। একই বছরের মধ্যে তাদের একটি আলাদা শাখা আত্মপ্রকাশ করে। এই বিভাজন মূল দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব বাড়িয়েছে। নেতাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও ভোট কৌশল নিয়ে মতবিরোধ দলকে প্রায়ই বিভক্ত অবস্থায় রাখে।

বাংলাদেশ নেজাম-ই-ইসলাম পার্টি ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক রাষ্ট্র কাঠামো বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করেছে। কিন্তু আধুনিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কখনো জোটে মিলিত হয়, কখনো পৃথক থাকে।

ইসলামী ঐক্যজোট মূলত ছোট কওমি দলগুলোকে সমন্বয় করার চেষ্টা চালায়। তবে জোট ও সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিরোধ তাদের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে মারকাযুল কুরআন ওয়াল হিকমাহ মাদরাসা পরিচালক, লেখক ও প্রকাশক মাওলানা ইসহাক খান আমার দেশকে বলেন, মতভিন্নতা, মতপার্থক্য ও বিভাজন এটা সব ঘরানার মধ্যেই কম-বেশি আছে। তবে কওমি ঘরানার মধ্যকার গতানুগতিক রাজনীতিকেন্দ্রিক যেসব বিভাজন দেখা যাচ্ছে তা দুঃখজনক। বিশেষত, যে কোনো মূল্যে প্রচলিত ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার জন্য ইসলামী আকীদা-আদর্শচ্যুত হওয়াটাও ইদানীং অনেকের কাছে সহজ হয়ে যাচ্ছে।

চার দশকের বিভাজন

১৯৮০-এর দশকে খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন প্রধানভাবে সক্রিয় ছিল এবং ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। তবে ১৯৯০–২০০০ সালের মধ্যে নতুন দল ও শাখা গঠন, বিশেষ করে খেলাফত মজলিসের আলাদা শাখা, দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি করে।

২০০০–২০১০ সালের মধ্যে হেফাজতের অগ্রযাত্রা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দলগুলোর কৌশলগত বিভাজন আরো দৃঢ় হয়। ২০১৩-২৫ সালের মধ্যে আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, রাজনৈতিক সমঝোতা বিভাজনের পালে আরো হাওয়া দেয়।

বিভাজনের মূল কারণগুলো হলো আদর্শিক পার্থক্য, কৌশলগত অবস্থান, নেতৃত্বগত দ্বন্দ্ব, প্রজন্মগত ফারাক ও প্রশাসনিক বিভাজন। ধর্মীয় নীতি, শিক্ষানীতি ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে মতবিরোধ, জোটে যোগদান বা স্বতন্ত্র নির্বাচনি পথ, নতুন প্রজন্ম ও প্রবীণ আলেমদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক ইত্যাদি সব মিলিয়ে কওমি রাজনীতির অস্থিতিশীলতা ও বিভাজনের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

পূর্বাচলে অবস্থিত মারকাযুস সুনান মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরের (পল্টন জোন) সহ-সেক্রেটারি মুফতি শফিকুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে ইসলামী দল শক্তিশালী হওয়ার কথা হলেও কওমিকেন্দ্রিক দলগুলো বাস্তবে ঐক্য গড়তে পারেনি। আদর্শ প্রায় অভিন্ন হলেও পরিবারতন্ত্র, নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, আঞ্চলিক ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক বলয়, শিক্ষক-পীর অনুসরণের প্রবণতা, নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব প্রভৃতি বিষয়গুলো বিভাজন গভীর করেছে। অপেশাদার ও ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি, জনজীবন থেকে দূরত্ব ও দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর প্রভাবও জনগণের কাছে দলগুলোর আস্থা আরো কমিয়েছে। ফলে জনগণের শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সমর্থন মেলে না; সামগ্রিকভাবে পারস্পরিক অসহযোগিতাই স্থায়ী বিভক্তির মূল কারণ। উদার মানসিকতা ও সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে উঠলে ঐক্য সম্ভব, নচেৎ এ বিভাজন অব্যাহত থাকবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে কওমি অঙ্গন দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার দাবি করলেও বাস্তবে বিভিন্ন আলেমের বক্তব্য স্থানীয় ভোটারদের প্রভাবিত করে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা যায়, ধর্মীয় অঙ্গন একক রাজনৈতিক ব্লক নয়; বরং বহুমাত্রিক। কেউ নীরব, কেউ সক্রিয়, কেউ সমঝোতামুখী, কেউ বিদ্রোহী মনোভাবাপন্ন। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের সময় হেফাজতের এক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘হারাম’ ঘোষণা করলে কওমি সমাজে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।😭

কওমি রাজনীতির ভেতরে শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। ২০১৭ সালে দাওরায়ে হাদিসকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ নামে কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠন করা হয়। তবে বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বোর্ডগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। কোনো অংশ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ চায়, অন্য অংশ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চায়। ফলে অন্তর্দ্বন্দ্ব বাড়ে।

এ ছাড়া ‘কওমি জননী’ বিতর্কও বিভাজনের একটি অধ্যায়। নারী শিক্ষা ও বোর্ড নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে প্রথাগত ও আধুনিকপন্থীদের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর এক শোকরানা মাহফিলে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া হয়, যা ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

বর্তমানে কওমি রাজনীতি বহুমাত্রিক ও বিকেন্দ্রীভূত রূপ নিয়েছে। একদিকে তারা ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাব ধরে রেখেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় একক অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কওমি সংগঠনগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেয়। কওমি ঘরানার প্রধান দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় ভোটের দুই দশমিক ৭০ শতাংশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুই দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং খেলাফত মজলিস শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পায়।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পায়। এতে বোঝা যায়, তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নির্বাচনে অংশ নিলেও শক্তিশালী একক নির্বাচনি ব্লক গঠন করতে পারেনি। ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত থাকায় সম্মিলিতভাবে বড় প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিএনপি ও অন্যান্য বড় দল সুবিধা পায়। বড় দলগুলো, বিশেষ করে বিএনপি হেফাজতকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা চালায়, যদিও হেফাজত আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল নয়।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কওমি সংগঠনগুলো ভোট শেয়ার, আসন এবং নির্বাচনি কৌশলের মাধ্যমে অংশ নিয়ে প্রভাব তৈরি করলেও তারা ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে বড় ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে কওমি অঙ্গনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও মতানৈক্য ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে থেকে যাবে।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, February 25, 2026

২৬ মার্চ ঘিরে প্রত্যাবর্তনের ছক নিষিদ্ধ আ.লীগের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

২৬ মার্চ ঘিরে প্রত্যাবর্তনের ছক নিষিদ্ধ আ.লীগের:

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬: ২০

আগামী স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে- এমন আভাস মিলছে বিভিন্ন সূত্রে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দিনটিকে ঘিরে সাংগঠনিক উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা দিবসের আবেগ ও জাতীয় চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনীতিতে ফেরার সুদূরপ্রসারী ও বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উদ্দেশ্য, ২৬ মার্চের প্রাক্কালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে রাজনীতির ময়দানে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেওয়া। তবে পুলিশপ্রধান ইতোমধ্যে বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া জুলাইয়ের পক্ষ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোও এ ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উইং খুবই সক্রিয়। তারা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও সরকারকে টার্গেট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা লুৎফর রহমান রিটনের একটি গানকে ‘জয় বাংলার গান’ নামে চিত্রায়ন করেছে। এতে মুজিবের মূর্তি ও ভাস্কর্য, গণভবন এবং ৩২ নম্বর ভাঙাসহ বিভিন্ন দৃশ্য রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে ‘অফিস খোলার’ গোপন মহড়া

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত বা সিলগালা হওয়া দলীয় কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত দেশের অন্তত ৩৯টি স্থানে প্রতীকীভাবে কার্যালয় খুলে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজশাহী, যশোর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার, গাইবান্ধাসহ অন্তত ১৫ জেলায় ঝটিকা মিছিল ও কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে।

কয়েক দিন আগে খুব ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ের ভাঙা গেটের সামনে মহিলা লীগের কয়েকজন সদস্য হাতে লেখা একটি ফেস্টুন ধরে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন। ছয়-সাতজন নারী স্বল্প সময়ের জন্য সেখানে অবস্থান করে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের নামে স্লোগান দিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। এর আগে গুলিস্তানের দলের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চুপিসারে কয়েক ব্যক্তি একটি পতাকা টাঙিয়ে দেন। পরে অবশ্য ওই পতাকা সেখানে আর দেখা যায়নি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হলেও প্রায় সব জায়গায়ই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার ক্ষোভের মুখে আবার বন্ধ হয়ে যায়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মার্চের আগে অন্তত একবারের জন্য হলেও প্রতিটি জেলা-উপজেলায় কার্যালয় খুলে উপস্থিতির বার্তা দিতে চায় আওয়ামী লীগ।

দিল্লির বার্তা ও ২৬ মার্চের মাস্টারপ্ল্যান

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২৬ মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পলাতক মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কৌশল হলো, দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়া। এরপর জেলখানাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের আবেগ জাগিয়ে তোলা এবং আদালতের বারান্দায় হাজির হওয়ার সময় গণমাধ্যমের একাংশকে ব্যবহার করে একটি ‘মজলুম’ ইমেজ তৈরি করা। এছাড়া জেলে থাকা নেতাদের ঘিরে নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত জেলখানায় গিয়ে দেখা করার মাধ্যমে দলীয় যোগাযোগ বাড়ানো। আদালতে বিচার চলাকালীন পরিবেশ এবং আদালত থেকে কারাগারে আনা-নেওয়ার পথে তৈরি হওয়া নানামুখী আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল আবেগধর্মী রিপোর্ট প্রকাশ করা ইত্যাদি।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ২৬ মার্চকে বেছে নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়া। তবে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত এবং নিবন্ধন বাতিল হওয়া একটি দলের এমন তৎপরতাকে আইনিভাবে অপরাধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সাদ্দাম ইস্যু ও মিডিয়া ট্রায়ালের ‘ভয়ংকর’ কৌশল

সম্প্রতি বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের ঘটনাটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশেষ নজরে এসেছে। বাগেরহাটের একটি উপজেলার ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি করা কয়েকটি গণমাধ্যমের পরিকল্পিত বয়ানের বিষয়ে সূত্রগুলো বলছে, সে সময় মূল ধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম এ বিষয়ে মজলুম ইমেজকে ব্যবহার করে সংবাদটি প্রচার করে। তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা ছিল। অথচ ওই সাদ্দাম তার নিজ এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, যাতে একপর্যায়ে ওই উগ্র ছাত্রলীগ নেতা ও একাধিক মামলার আসামি সাদ্দাম জামিন পেয়ে যান। অথচ কারা কর্তৃপক্ষ সে সময় জানিয়েছিল, উগ্রতার কারণে কারাগারেও সাদ্দামকে আলাদা স্থানে রাখতে হয়েছিল।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এই সাদ্দামকে ঘিরে গণমাধ্যমের একটি অংশ যেভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছিল, তাতে একপর্যায়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়। এতে বলা হয়, কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন না করায় তাকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া যায়নি। বরং সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় কারাগারে লাশ নেওয়া হয় সাদ্দামকে দেখানোর জন্য। আইনানুগভাবে তৎকালীন সরকারের কোনো ত্রুটি না থাকলেও গণমাধ্যমের একটি অংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচার ও অপপ্রচারের কারণে সরকারের জন্য কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে নেতারা জেলে গেলেও বহুমুখী কৌশলে আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান ও জনমত তৈরিতে রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলে কাজ করবেন ভারতীয় আশীর্বাদপুষ্ট কিছু টকশো বক্তা, কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু বয়ান উৎপাদনকারী।

বিদেশি লবিং ও কূটনৈতিক তৎপরতা

এদিকে, রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা হাইপ্রোফাইল নেতারা। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ভারত ও রাশিয়ার মতো দলের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তাদের মূল বয়ান হলো- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আওয়ামী লীগকে স্পেস দেওয়া না হলে ভারতের শক্তিশালী লবিস্ট গ্রুপকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বর্তমান সরকারকে ‘অগণতান্ত্রিক’ প্রমাণের চেষ্টা চালানো হবে। বহির্বিশ্বে ভারতের লবি কাজে লাগিয়ে খুব দ্রুত রাজনীতিতে ফিরতে চায় পতিত ও গণহত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ।

যা বলছে পুলিশ ও বিএনপি

আওয়ামী লীগের এ তৎপরতা নিয়ে সদ্যবিদায়ী পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা কর্মসূচি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ইস্যুটি সম্পূর্ণ আইনের আওতায় দেখা হচ্ছে।

সিদ্ধান্তহীনতায় সরকার

আওয়ামী লীগের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে- এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে। উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের এ গোপন পরিকল্পনার কথা একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছে। সরকার এখনো চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

আইনজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন বাতিল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলকে পুনরায় সক্রিয় করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিকল্প নেই। আদালতের রায় বা সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়া মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ও দেশীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত আইনের আওতায় এবং আগেই নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধনও বাতিল হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৬ মার্চের মতো আবেগঘন দিনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে জনমত আকর্ষণ করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লে. ক. আফজাল নাছের গ্রেফতার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24  ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লে. ক. আফজাল নাছের গ্রেফতার: প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১০: ২৫ ১/১১ সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ে দায়িত্...