Thursday, April 23, 2026

নির্যাতন সইতে না পেরে বলেছি, জাস্ট শুট মি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

নির্যাতন সইতে না পেরে বলেছি, জাস্ট শুট মি:

(ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা)

প্রকাশ: ০০:৩১, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

কথিত জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডে (এসএইচবি) অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হন জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। গ্রেপ্তারের পর ১০ মাসের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে। গ্রেপ্তারের আগে-পরের আদ্যোপান্ত নিয়ে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট র‌্যাবের একটি দল ‘মক্কেল’ পরিচয়ে নির্যাতন সইতে না পেরে বলেছি, জাস্ট শুট মিআমার বাসায় আসে।

পরে ‘জরুরি’ আলোচনার কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে যায়। গাড়িতে ওঠানোর পর কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এর পর কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তখন থেকে আমার সঙ্গে কী আচরণ করা হয়েছে তা বলার ভাষা নেই।

তবে এতটুকু বলে পারি, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যারিস্টার, সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য এবং সর্বোপরি নারীর সঙ্গে যেভাবে আচরণ করার কথা ছিল তার কোনোটাই করা হয়নি। যেভাবে মুহূর্তের মধ্যে আমাকে জঙ্গি তকমা লাগানো হয়, তা বলার ভাষা নেই। যখন আমাকে র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল তখন আমার ছেলে ও পরিবারের অন্যদের বারবার মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। র‌্যাব-৭ তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাকে বলি, যা করার আমাকে করেন।

পরিবারের কাউকে জড়াবেন না। টর্চারের একপর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে মিফতাকে বলি, ‘জাস্ট শুট মি’। বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীকে অনেকেই আইনি সহায়তা দিয়েছেন। কিন্তু কেন আপনাকে টার্গেট করা হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, বিএনপি নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করিনি।

উল্টো তাদের মামলার খরচ বহন করেছি। আমার এ কর্মকান্ড তখন ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। শুনেছি, আমার লড়াই করা মামলার তালিকা তৈরি করত সরকারি সংস্থাগুলো। এ ছাড়া হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। এসব কারণে আমি সরকারের রোষানলে পড়েছি। বিএনপি-হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের আইনি লড়াই আমার জীবনের কাল হয়েছে।

জঙ্গি সংগঠনের ‘অর্থদাতা’ হিসেবে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট কীভাবে তৈরি হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে শাকিলা ফারজানা বলেন, আমি ২০০৯ সাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে যত মামলা হয়েছে তার সিংহভাগের জামিন করিয়েছি। তখন জামিনের দক্ষতা নিয়ে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেই আমার কাছে ছুটে আসতেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা হয়। তারাও জামিনের জন্য আমার কাছে আসতে থাকেন। শুরু থেকে হেফাজতের নেতাদের দাবি ছিল- দুই মাসের মধ্যেই তাদের জামিন করাতে হবে। তাদের জামিনের জন্য ৩০০ থেকে ৩৫০টি পিটিশন উচ্চ আদালতে ফাইল করতে হয়। তারা আইনি খরচের জন্য কিছু অগ্রিম অর্থ দেয়। কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত সময়ে অনেকের জামিন করাতে পারিনি। জামিন করাতে ব্যর্থ হয়ে ‘সানজিদা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসেবে টাকাগুলো ফেরত দিই। মূলত, টাকা ফেরত দেওয়ার প্রমাণপত্র তৈরি করতে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করি। টাকা ফেরতের প্রমাণপত্র দিয়েই আমাকে র‌্যাব ‘জঙ্গির অর্থদাতা’ বানিয়ে দেয়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির এ নেত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির চট্টগ্রাম মহাসমাবেশকে ঘিরে একটি গায়েবি মামলা করে সরকার। এ মামলায় আসামিদের একজন ছিলেন মনিরুজ্জামান ডন। ওই মামলায় তার জামিন করাই আমি। এখন মনে হচ্ছে মনিরুজ্জামান ডন আমার কাছে জামিনের জন্য আসাটাই রহস্যজনক। ’ কারাগারের দিনগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘মিথ্যা’ অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে ছিলাম ১০ মাস আট দিন। প্রথম দিন আমাকে কারাগারে ৫৬ জনের একটি নারী ওয়ার্ডে রাখা হয়। যেখানে মাদক ব্যবসায়ী ও খুনের আসামি বন্দি ছিলেন। সারা রাত লোহার ফটক ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ভয়ে পেছনে থাকাতে পারিনি। সাড়ে তিন মাস পর সন্তানদের দেখতে দেওয়া হয় আমাকে। অপমানে আমার বাবা স্ট্রোক করেন। এই দীর্ঘ সময়টি ছিল খুবই করুণ। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। শাকিলা বলেন, আমি শুধু সংস্কৃতিমনা ছিলাম না। প্রাশ্চাত্য ধাচের মানুষও ছিলাম। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি আবৃত্তি করতাম, নাচতাম, গান গাইতাম। কিন্তু তাদের স্বার্থে আমাকে জঙ্গি তকমা লাগিয়েছে। শুধু জঙ্গি না। যা যা তকমা লাগানো দরকার ছিল তার সবই লাগিয়েছে তারা। সেভাবে আমি জঙ্গি হয়েছি। তখন আমার অনুভূতিই মরে গিয়েছিল। নিজের মধ্যে কোনো অনুভূতিই ছিল না। একটা মানুষকে কীভাবে ধ্বংস করা হয় তার জ্বলন্ত প্রমাণ আমি। আমার পেশা ও সংসার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার স্বামীর ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। যতভাবে শেষ করা যায়, তার সবটুকুই তারা করেছে। তার প্রতি হওয়া ‘অন্যায়ের’ বিচার সৃষ্টিকর্তার ওপর চেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি মামলা করব না। প্রাকৃতিকভাবে তারা শাস্তি পাচ্ছে। আরও পাবে। তারা জানে আমার সঙ্গে কী করেছে। কীভাবে আমাকে জঙ্গি সাজিয়েছে। তাদের স্বার্থে কী করেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সব ক্ষেত্রে ডিপ স্টেট সক্রিয় মাফিয়াচক্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

সব ক্ষেত্রে ডিপ স্টেট সক্রিয় মাফিয়াচক্র রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে:

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ১৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ছাত্র-জনতার এক দফার ভিত্তিতে ১৫ বছরের জেঁকে বসা ফ্যাসিস্ট হাসিনা শাসনের পতন ঘটেছে। সেই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছিল বৈষম্যহীন নতুন এক রাষ্ট্র গঠনের দীর্ঘমেয়াদি আকাঙ্ক্ষা।

কিন্তু সেই গণঅভ্যুত্থানের পর দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও দেশে ‘পুরোনো বন্দোবস্ত’ বা আগের শাসন কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম আমার দেশ-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এমন কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

নাহিদ ইসলামের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে আমলাতন্ত্রের সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই একটি অদৃশ্য ক্ষমতা বলয় বা ‘ডিপ স্টেট’ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা সুবিধাভোগী আমলা, ব্যবসায়ী বা মাফিয়া গোষ্ঠী ছিল, তারাই এখন বর্তমান কাঠামোর সুবিধা নিচ্ছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের যে মৌলিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল, তা আজ গভীর সংকটের মুখে।

ডিপ স্টেট ও পুরোনো বন্দোবস্তের প্রভাব

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই এনসিপির পথচলা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির এক বছর পূর্ণ হলেও তাদের রাজনীতির শুরু মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকেই। এই স্বল্প সময়ে দলটিকে নানা চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন দল হিসেবে জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয় এবং তিন শতাংশ ভোট পাওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। যদি আমরা আরো সুসংগঠিত হতে পারতাম, তবে এই অর্জন আরো বেশি হতো।’

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তিগুলো এবং তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ কখনোই চায়নি যে, নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি তৈরি হোক। পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক-বাহকরা সব সময় এনসিপি ও ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।

নাহিদ ইসলাম ‘ডিপ স্টেট’ বা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা অদৃশ্য ক্ষমতা বলয় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তার মতে, দৃশ্যমান সরকারের ভেতরেও আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, ব্যবসায়িক এলিট গোষ্ঠী, মাফিয়া এবং আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের সমন্বয়ে ক্ষমতার বিভিন্ন বলয় থাকে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী যারা ছিল—সে আমলা হোক, ব্যবসায়ী হোক বা মিডিয়ার লোক—তারা এখন বর্তমান সরকারেরও সুবিধাভোগী হতে চাইছে। তারা চায় না কোনো ধরনের সংস্কার হোক, কারণ সংস্কার হলে তাদের লুটপাটের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে চলে যাবে।’

তিনি বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, তারা যদি এই পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবে তা হবে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির স্ববিরোধী নীতি

বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি শুরু থেকেই তাদের অবস্থানে কনসিস্টেন্ট। তারা মনে করে, এই অভ্যুত্থান কেবল শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন, কিন্তু আমরা মনে করি এটি রাষ্ট্র সংস্কারের বৃহত্তর কর্মসূচি।’

তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপি সংস্কার মানতে চায় না এবং তারা ‘৭২-এর সংবিধানেই ফিরে যেতে চায়।

নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন, আন্দোলনের সময় চাপের মুখে বিএনপি অনেক বিষয়ে রাজি হলেও এখন ক্ষমতায় এসে তারা সেগুলো থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষ করে গণভোটের প্রশ্নে বিএনপির নীরবতা এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনিয়মিত সমর্থনকে তিনি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের ভারসাম্য

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আধুনিক রাষ্ট্রে নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য দেখতে চাই। কিন্তু এখন সংসদে দাবি করা হচ্ছে, সংসদই সার্বভৌম, যার মানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর অধীনে নিয়ে আসা।’

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যেমন বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল, বিএনপিও এখন সেই একই পথে হাঁটছে। বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের যে প্রস্তাবগুলো ছিল, বর্তমান সরকার ও বিএনপি সেগুলোর বিরোধিতা করছে। তার মতে, মানবাধিকার কমিশনকেও অকার্যকর করে রাখা হচ্ছে ২০০৯ সালের পুরোনো আইনের দোহাই দিয়ে। যে আইন বলবৎ থাকা অবস্থাতেই ইতিপূর্বে গুম-খুন ও জুলাই গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছিল।

গণমাধ্যম নিয়ে উদ্বেগ

দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে এমপি নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে এবং সামাজিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছদ্মবেশে নতুন নতুন মাধ্যম নিয়ে আসছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব মাধ্যমকে নিরপেক্ষ মনে হলেও মূলত এগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আমলের দোসররা বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তাদের প্রভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষ নেওয়া বা নির্বাচনের বিষয়ে সোচ্চার সাংবাদিকদের গণহারে ছাঁটাই করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নাহিদ ইসলাম মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করলেও এখন তা পুরোনো বৃত্তে ফিরে গেছে। গণমাধ্যমের মালিকানা ও মালিকদের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সংবাদপত্রে এবং টেলিভিশনগুলোকে আবারও সরকারের আজ্ঞাবহ হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে, যার ফলে বিগত শাসনামলের মতো সেই পরিচিত ‘সেন্সরশিপ’ নতুন করে ফিরে আসছে। তবে প্রচলিত ধারার গণমাধ্যমের এই নেতিবাচক পরিস্থিতির মাঝেও তিনি ডিজিটাল বা নিউ মিডিয়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, বেশ কিছু নতুন প্ল্যাটফর্ম বস্তুনিষ্ঠ থাকার চেষ্টা করছে, যা দেশের সাংবাদিকতার জন্য একটি ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্ম

এনসিপিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের (ছাত্রদল, শিবির এমনকি ছাত্রলীগ) কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে সমালোচনার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানুষের চিন্তায় বড় পরিবর্তন এনেছে। অনেক তরুণ এখন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতে চায়, যা তারা তাদের মূল দলগুলোতে পায় না।’

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠিত দলগুলোতে একজন তরুণকে ২০ বছর রাজনীতি করার পরও ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী কারো জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। এনসিপি সেই তরুণদের জন্য একটি স্পেস তৈরি করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক না কেন, তাদের রাষ্ট্র প্রকল্পের সঙ্গে একমত হওয়া এবং ট্র্যাক রেকর্ড পরিষ্কার থাকা বাধ্যতামূলক।

পররাষ্ট্রনীতিতে সরকারের দুর্বলতা

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সরকারের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকারের আলোচনাকে তিনি ‘অস্বচ্ছ’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ভারত গত ১৬ বছর বাংলাদেশে ফ্যাসিজমকে মদত দিয়েছে এবং এখন খুনিদের আশ্রয় দিচ্ছে। এই সমস্যার সুরাহা না করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করাটা ন্যায্যতা বা মর্যাদার ভিত্তিতে হচ্ছে না।’

ইরান ইস্যু বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থানকেও তিনি ‘পরাশক্তি নির্ভর’ বলে সমালোচনা করেন।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দর ইজারার প্রস্তাব প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, পোর্ট নিয়ে তো আমাদের এখানে যেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হয়েছে যে, পোর্টগুলোকে আধুনিকীকরণ করার বা ফরেন কোনো সংস্থার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছে, যাতে আমাদের পোর্টগুলো আধুনিক হয়। এখন পোর্টগুলোতে দেশীয় কোম্পানির নামে একটা দেশপ্রেম দেখানোর পক্ষে অনেকে বলছে।

ব্যাংক লুটেরাদের পুনর্বাসন

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের প্রটেকশন দিচ্ছে। মন্ত্রিসভায় ঋণ খেলাপিদের স্থান দেওয়া হচ্ছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষাকারী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে তৈরি হওয়া ‘অলিগার্ক মাফিয়াতন্ত্র’ ভাঙার পরিবর্তে সরকার তাদের পুনরায় ব্যাংকিং করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে উদ্বেগ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং এটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করার যে সংস্কৃতি শুরু করেছে, এই জাদুঘরটিও তার বাইরে নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রতিশ্রুতি ছিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাস করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জাদুঘর সংক্রান্ত বিলে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে একটি সংশোধনী আনা হয়েছে।

এই সংশোধনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেখানে আগে কথা ছিল বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা এই জাদুঘর পরিচালনার প্রধান দায়িত্বে থাকবেন, সেখানে নতুন সংশোধনীতে মন্ত্রীকে এর প্রধান করা হয়েছে।’

তিনি মনে করেন, সরকার হয়তো জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নিজস্ব দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে জাদুঘর উদ্বোধন বিলম্বিত করছে।

নাহিদ ইসলামের মতে, বিশেষজ্ঞদের বদলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন দলীয়করণেরই আরেকটি প্রতিফলন।

বিএনপির প্রতি সতর্কবার্তা

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে নাহিদ ইসলাম বিএনপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গণঅভ্যুত্থান চাই না, মানুষ জীবন দিক এটা আমাদের প্রত্যাশা না। কিন্তু যদি বিএনপি সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হয় এবং সংস্কারের পথ রুদ্ধ করে, তবে জনগণ আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়বে।’

তিনি মনে করেন, বর্তমান সরকার দুই মাসেই প্রচণ্ড অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। তেল সংকট, নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে না পারলে এই সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করতে পারবে কি না তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এনসিপি এবং ১১ দলীয় জোট বর্তমানে ধাপে ধাপে জনমত গঠন করছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না।

নাহিদ ইসলামের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি স্পষ্ট করে দেয় যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে আগামীর রাজনীতি কোনদিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, April 22, 2026

'কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার:

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১: ৪৯

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করলে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। খবর বাসসের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তরপর্বে লিখিত প্রশ্ন করেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী জানতে চান—ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ) মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করিয়া বলবেন কি, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই মোবাইল বা ক্যামেরা নিয়া ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে থাকে। এই প্রেক্ষিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী ধরনের প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দৃষ্টান্ত রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম লিখিত জবাবে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (গত ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সংসদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে)-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে তথ্য, ভিডিও, চিত্র বা যেকোনো উপাদান প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রচারের হুমকি প্রদান, বা ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক তা একটি অপরাধ।

ওই অপরাধের দণ্ড

ধারা ২৫(২) অনুযায়ী অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাক অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। ধারা ২৫(৩) অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। চাঁদা দাবির বিষয়টি ধারা ২২ (সাইবার স্পেসে প্রতারণা)-এর আওতায় পড়বে, যেখানে অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (গত ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সংসদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা বিল ২০২৬ পাস হয়েছে)-এর ধারা ৮ অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা রাখেন এবং বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করতে পারেন। ধারা ৯ অনুযায়ী, জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার, এই ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

ধারা ৩৫ অনুযায়ী, পরোয়ানা ব্যতিরেকেও জরুরি ক্ষেত্রে তল্লাশি, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ ও অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ক) আইনি কাঠামো সুদৃঢ়করণ: ধারা ৫ ও ৬ অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদধারী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। এই এজেন্সি বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ ও প্রচারজনিত অভিযোগ কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ক্রমান্বয়ে এই এজেন্সির লোকবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা হবে।

ধারা ৮(৩ ও ৪) অনুযায়ী, যেকোনো ক্ষতিকর কন্টেন্ট ব্লক বা অপসারণের পর ৩ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হবে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্লক করা সকল কন্টেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা

ধারা ৯ অনুযায়ী, কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও জাতীয় সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার-সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর কন্টেন্ট রিয়েল-টাইমে শনাক্ত করতে ক্লাউডভিত্তিক সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন যেমন: সিকিউরিটি অর্কেস্ট্রেশন, অটোমেশন অ্যান্ড রেসপন্স (সোয়ার), এন্ডপয়েন্ট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (ইডিআর), এক্সটেন্ডেড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (এক্সডিআর) ব্যবহার করা হবে।

ধারা ৯(৫) (ঙ) অনুযায়ী, গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য ও লগ আদান-প্রদানের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি

ধারা ১০ ও ১১ অনুযায়ী, এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে। ফলে ভিডিওর উৎস, ব্যক্তির পরিচয় ও ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।

ধারা ৩২ অনুযায়ী, তদন্তের সময়সীমা ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত রয়েছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

ধারা ৪৮ অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পরিচালিত এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা হবে।

ধারা ৪(২) অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই অপরাধ সংঘটিত হলেও এই আইন প্রযোজ্য হবে।

সূত্র: আমার দেশ 

Monday, April 20, 2026

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট: (BDC CRIMR NEWS24)

BDC CRIMR NEWS24 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট:

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৩৬

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে (কুসিক) গত ১৪ বছরে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী। উন্নয়নের পরিবর্তে হয়েছে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। লুটপাট করা হয়েছে হাজার কোটি টাকা। একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (এন এস গ্যালারি) দুই অর্থবছরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রায় ২৩১ কোটি টাকার ৩১টি কাজ পায়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন না করেই অনেক ক্ষেত্রে বিল তুলে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রাচীন কুমিল্লা সদর পৌরসভার সঙ্গে সদর দক্ষিণ পৌরসভাকে একত্রিত করে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুসিক। ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় এ সিটি করপোরেশন। প্রায় ১০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ নগরীতে অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা, ভ্রমণসহ অন্যান্য সেবা নিতেও প্রতিদিন আসেন আরো লক্ষাধিক মানুষ।

দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য কুসিকÑএমনটাই মন্তব্য করেছেন সংস্থার নবাগত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু । গত ১২ মার্চ কুসিকের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় গত চার বছরের হিসাব তুলে ধরেন তিনি। উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালের মার্চে কুসিকে অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (এন এস গ্যালারি) দুই অর্থবছরে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই প্রায় ২৩১ কোটি টাকার ৩১টি কাজ পায়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন না করেই অনেক ক্ষেত্রে বিল তুলে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো তদন্ত রিপোর্ট দেয়নি দুদক।

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার বছরে কুসিকের উন্নয়নের নামে খরচ করা হয় ৭৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। প্রায় হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়নে চোখে পড়েনি সিটি করপোরেশনে। গত ১৩ এপ্রিল এ ধরনের একটি হিসাব কুসিক প্রশাসক তুলে ধরার পর সবার চোখ কপালে ওঠে। নগরবাসীর প্রশ্ন কী উন্নয়ন হয়েছে কুমিল্লায়?

কুসিকের জন্য ২০২২ সালে প্রায় এক হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রকল্পে গত চার বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাস্তাঘাট ও কালভার্টের নামে খরচ করা হয়। প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হলেও যানজটে ঢাকাকে পেছনে ফেলার তালিকায় নাম উঠিয়েছে কুমিল্লা।

এছাড়া এলজিসিআরআরপি (কোভিড) ১৯ প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরচ করা হয় প্রায় ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এ সময়ে এত টাকা কোন খাতে খরচ করা হয়, তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউডিসিজিপি প্রকল্পে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কুসিক পায় ৭৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। শুধুমাত্র ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খরচ করা হয় ৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাপ্তি ১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ খাতে আগের প্রারম্ভিক ছিল ৫২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত খরচ করা হয় ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

কাদের পকেটে টাকা

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত ২০২২ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে কুসিকের মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২২-২৩ অর্থবছরেই ১৫৩ কোটি টাকা উন্নয়নকাজের নামে লুটপাট করা হয়। তারপর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ কুসিকের প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন তাহসিন বাহার সূচনা। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সূচনা সদর আসনের সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে। তার আমলেই কাজ হয় প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের মার্চে তার ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করা হয়। এ সময় কুসিকের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম।

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, বিগত সময়গুলোয় উদ্দেশ্যহীনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ায় লুটপাট হয়েছে। এখন পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নিতে পারলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বলা হয়, সবাই দুর্নীতির অভিযোগ ও বিরোধী স্লোগান তুলে আসলে দুর্নীতির নিজ ক্ষেত্র তৈরি করেন। এটাই আমাদের চর্চা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নষ্ট চর্চা থেকে বেরিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন করা না গেলে জবাবদিহিতা আসবে না। জবাবদিহিতা না এলে দুর্নীতির চর্চা চলতেই থাকবে। জনগণ বঞ্চিতই থেকে যাবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু আমার দেশকে বলেন, সবার সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া কুসিকের উন্নয়ন আসবে না। প্রশাসক একা বিপ্লব ঘটাতে পারবেন না। প্রশাসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার প্রচেষ্টা থাকলেই টেকসই সিটি করপোরেশন দেখতে পাব।

নবাগত কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু আমার দেশকে বলেন, গত চার বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে সিটি করপোরেশনে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। এত টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছেÑএ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কুসিক দুর্নীতির আখড়া ছিল। আমি গত ১৫ মার্চ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। শহরকে আমি এমনভাবে সাজাতে চাই, যেন সারা দেশের মানুষ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশংসা করে।

সূত্র: আমার দেশ 

Friday, April 17, 2026

আওয়ামী আমলে বিসিএসে নজিরবিহীন জালিয়াতি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

আওয়ামী আমলে বিসিএসে নজিরবিহীন জালিয়াতি:

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ২৮

আওয়ামী লীগ আমলে বিসিএসের ফলাফলে নজিরবিহীন জালিয়াতি করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে মেধার তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক বিবেচনা ও বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনে বহু ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া হয়। সব ধরনের নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অকৃতকার্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। নন-ক্যাডার তালিকা থেকে সরাসরি ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয় অন্তত ৬২ জনকে। সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে এমন জালিয়াতি আগে কখনো দেখা যায়নি বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তদন্ত শেষ হলে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা। এসব কর্মকর্তার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত জোরদারসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। ওই সব কর্মকর্তাকে বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

ওই জালিয়াতি তদন্তে অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় পিএসসির পক্ষ থেকে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি দীর্ঘদিনেও কার্যকর কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছে নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে। পাশাপাশি দুদকের তদন্ত তৎপরতা আরো জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখাও এ অনিয়মের বিষয়ে অবাক হওয়ার মতো নীরবতা পালন করছে।

জানা গেছে, বিসিএস বিধিমালা ও পিএসসির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোই ছিল আওয়ামী শাসনামলের ‘ওপেন সিক্রেট’। বিশেষ করে ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে নজিরবিহীন কারসাজির মাধ্যমে অবৈধ এ নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়। পিএসসির মূল সুপারিশের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা গেজেট প্রকাশ করে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, যা কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অবৈধ এসব কর্মকর্তা গত এক যুগে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, দখল করেছেন স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানেও গোষ্ঠীটি ফ্যাসিবাদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

রহস্যময় পৃথক গেজেট

সিভিল সার্ভিস বিধিমালা অনুযায়ী, পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশের পর ক্যাডার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে এই অসম্ভবই সম্ভব হয়েছে। ২৯তম বিসিএসে ২১ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে অনিয়মের যে বিষবৃক্ষ রোপণ করা হয়েছিল, তার পূর্ণ রূপ দেখা যায় ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে। সাধারণত বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের পর পিএসসি একটি সুপারিশ তালিকা প্রকাশ করে। যারা ক্যাডার পান না, যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে বা অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়। কিন্তু ৩০ ও ৩১তম বিসিএসের ক্ষেত্রে ঘটে তুঘলকি কাণ্ড। মূল গেজেট প্রকাশের কয়েক মাস পর দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই এবং প্রচলিত আইন ভেঙে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৪১ প্রার্থীকে প্রশাসন ও পুলিশের মতো লোভনীয় ক্যাডারে বসানো হয়। এই ৪১ কর্মকর্তার নিয়োগের পেছনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করে বলে জানা গেছে। ওই সিন্ডিকেটে তৎকালীন সিনিয়র সচিব আবদুস সোবহান সিকদারের নাম বারবার আলোচনায় আসছে। এখানে মেধার চেয়ে বড় যোগ্যতা ছিল দলীয় আনুগত্য, ভুয়া ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ ব্যবহার এবং মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন।

৩০তম বিসিএস : জালিয়াতির মহাঅধ্যায়

৩০তম বিসিএসের ক্যাডার/নন-ক্যাডার পদে চাকরি পাননি এমন মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে চাকরি দেওয়া হয় পুলিশ ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্যাডারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ১৮ নারী প্রার্থী ক্যাডার তো দূরে থাক, নন-ক্যাডার কিংবা অপেক্ষমাণ কোনো তালিকায়ও ছিলেন না।

জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৭ মে এই বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে দুই হাজার ২৬২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। নিয়মানুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সেখানেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু পিএসসির সুপারিশের আলোকে নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মাস পর ২৩ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নজিরবিহীনভাবে ১৮ নারীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে পৃথক গেজেট জারি করে।

ওই ১৮ জনের তালিকায় ছিলেন প্রশাসন ক্যাডারে নাসরিন আক্তার, রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী, সুবর্ণা রানী সাহা এবং পারভীন সুলতানা। পুলিশ ক্যাডারে যুক্ত করা হয় মোছা. সুলতানা রাজিয়া এবং শামীমা নাসরিনকে। এছাড়া অডিট, আনসার, পরিবার পরিকল্পনা ও তথ্য ক্যাডারেও এমন রহস্যময় নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় এমন আলাদা গেজেট প্রশাসনে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি করলেও শেখ হাসিনা সরকারের প্রচণ্ড দাপটের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

৩১তম বিসিএস : অনিয়মের রূপ

৩০তম বিসিএসের ধারাবাহিকতায় ৩১তম বিসিএসে জালিয়াতির মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর মূল গেজেট প্রকাশের সাড়ে ছয় মাস পর ২০১৩ সালের ১২ জুন হঠাৎ ২৩ জনের নামোল্লেখ করে আরেকটি গেজেট জারি করা হয়। তাদের নন-ক্যাডার তালিকা থেকে তুলে এনে সরাসরি ক্যাডার পদে বসানো হয়। এদের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে সর্বোচ্চ ১১ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ছয়জন নিয়োগ পান। প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে এইচএম সালাউদ্দিন মনজু, সাঈকা সাহাদাত, একেএম হেদায়েতুল ইসলাম এবং মোছা. আকতারুন নেছার মতো কর্মকর্তারা গত দেড় দশকে মাঠ প্রশাসনে বেশ ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

দাপট ও দুর্নীতির অভিযোগ

নিরাপত্তা সূত্র বলছে, এই অবৈধ কর্মকর্তারা শেখ হাসিনার শাসনামলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ‘পরীক্ষিত আওয়ামী লীগার’ হিসেবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে বসেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ঢোকা সাঈকা সাহাদাত কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) থাকাকালে ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। একই ভাবে একেএম হেদায়েতুল ইসলাম টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখানে কেবল অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দলীয় ক্যাডারদেরই পদায়ন করা হতো। শামীমা নাসরিন পুলিশের সিটি এসবিতে (নগর স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এবং হোসনে আরা হাসি হবিগঞ্জে আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেকেই মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক তকমা ও টাকার জোরে সম্মানজনক পদগুলো বাগিয়ে নেন।

দুদকের তদন্তে ধীরগতি

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯তম বিসিএসের ২১ কর্মকর্তার নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করলেও তেমন কোনো অগ্রগতির খবর নেই। ৩০ ও ৩১তম বিসিএসের ৪১ জনের ক্ষেত্রে এখনো তেমন কোনো জোরালো অগ্রগতির কথা জানা যায় না। অভিযোগ উঠেছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এ জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে এখনো টাকা ঢালছে।

সূত্র বলছে, এটি পুরোপুরি নথিনির্ভর বা ‘ডকুমেন্টস বেজড’ জালিয়াতি। পিএসসির মূল গেজেট আর অবৈধ পৃথক গেজেট পাশাপাশি রাখলেই অপরাধ প্রমাণিত হয়। তবুও অদৃশ্য কারণে তদন্তের গতি বাড়ানো হচ্ছে না। এই কর্মকর্তারা এখনো প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকায় তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদী এজেন্ডা ও অন্তর্ঘাতের শঙ্কা

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও এসব অবৈধ কর্মকর্তা বীরদর্পে প্রশাসনে কাজ করে গেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে এবং পুলিশ সদস্যদের বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে গোষ্ঠীটির বড় ধরনের ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা এখনো বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ হিসেবে প্রশাসনের ভেতর থেকে অন্তর্ঘাত চালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এদের অধিকাংশই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। তাদের কার্যক্রম নজরদারি করার কথা বলা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতি ও বিচার

সিভিল সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, জালিয়াতি প্রমাণ হলে শুধু চাকরিচ্যুতিই যথেষ্ট নয়; বরং গত এক যুগে তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যে বিপুল পরিমাণ বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন, তা ফেরত দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা বাধ্যতামূলক। ২৯, ৩০ ও ৩১তম বিসিএসে জালিয়াতির মাধ্যমে ঢোকা ৬২ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে করণীয় খতিয়ে দেখা যেতে পারে বলেও অভিমত নিরাপত্তা সংস্থার। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া যে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সংবিধানপরিপন্থী, তা নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও কোনো দ্বিধা নেই। পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশের পর নন-ক্যাডার তালিকা থেকে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়ার কোনো আইনগত বিধান নেই। এটি পিএসসির সুপারিশের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইনের ভাষায় ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য।

পিএসসির বর্তমান একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা আমার দেশ-এর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নন-ক্যাডার থেকে ক্যাডারে আত্তীকরণের কোনো সুযোগ নীতিমালায় নেই। এটি স্রেফ জালিয়াতিমূলক গেজেট ছিল, যার কোনো বৈধ ভিত্তি নেই।

খতিয়ে দেখছে সরকার

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তদন্ত শেষ হলে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিসিএস নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমার দেশ

Wednesday, April 15, 2026

পুলিশ গুলি করলে তায়িম মা মা বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।(BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

পুলিশ গুলি করলে তায়িম মা মা বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে: 

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ১৩

জুলাই বিপ্লবে যাত্রাবাড়িতে শহীদ ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন তায়িমের বাবা পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ময়নাল হোসেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম ভূইয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ি এলাকায় অংশগ্রহণ করেছিল। আমার জানা মতে সে ১৫-১৯ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত যাত্রাবাড়ি কাজলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।

গত ২০ জুলাই ২০২৪ আমার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম ভূইয়া দুপুর আনুমানিক ১২টায় তার বন্ধু শাহরিয়ারের কল পেয়ে বাসা থেকে চা খাওয়ার কথা বলে বের হয়। কিন্তু সে তার বন্ধু শাহরিয়ার এবং রাহাত কাজলা এলাকায় অবস্থান নেয়। আনুমানিক দুপুর ১টার সময় আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এ অবস্থানকালে আমার স্ত্রীর ছোট বোন শাহিদা আক্তার আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করে সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকি তুমি কাঁদো কেন? সে বলে, আমার আদরের সোনামনি তায়িমকে কাজলা ফুটওভার ব্রীজে গুলি করে ফেলে রেখেছে। এ কথা শুনে আমিও কান্নাকাটি শুরু করলাম। পরবর্তীতে আমার সহকর্মী আমাকে সান্ত্বনা দেয়। পরে আমি শাহিদা কে বলি, তায়িমের কি অবস্থা? সে বলল, একটি ভ্যানে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। আমি শাহিদাকে বললাম, তুমি তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাও। পরবর্তীতে আমার ছেলের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। কর্তৃপক্ষ আমাকে ১০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেন।

জবানবন্দিতে ময়নাল বলেন, আনুমানিক দুপুর ২টা ৪৫ থেকে ৩টার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছাই। সেখানে শাহিদার সঙ্গে আমার দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি আমার ছেলের কি খবর? সে বলল, সে কয়েকটি ওয়ার্ডে তায়িমকে খুঁজেছে, কিন্তু পায় নাই। পরবর্তীতে আমরা ২ জন একসঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং ইমার্জেন্সিতে খুঁজতে থাকি। কোথাও খুঁজে না পেয়ে আমরা অস্থির হয়ে যাই। এমন সময় একজন সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞাসা করে আপনি কি কাউকে খুঁজছেন? আমি বললাম ‘ভাই যাত্রাবাড়ি কাজলা এলাকায় আমার ছেলেকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমি কোথাও খুঁজে পাই নাই’। ওই সাংবাদিক আমার কাছে আমার ছেলের ছবি দেখতে চাইলে আমি আমার ছেলের ছবি দেখাই।

ওই সাংবাদিক বলল, ‘আমার মোবাইলে কিছু মৃত ব্যক্তির ছবি আছে, দেখেন সেখানে আপনার ছেলের ছবি আছে কিনা?’ তখন তার মোবাইল থেকে মৃত ব্যক্তিদের ছবি দেখালে আমি আমার ছেলেকে মৃত অবস্থায় সনাক্ত করি। তখন সে বলল, ‘মর্গে কিছু বেওয়ারিশ লাশ পড়ে আছে, সেখানে আপনি দেখতে পারেন।’

আমি মর্গের উদ্দেশ্যে রওনা করলে সিকিউরিটি আমাকে বাধা দেয়। আমি আমার পরিচয় দেই , ‘আমি একজন পুলিশ সদস্য। যাত্রাবাড়ি এলাকায় আমার ছেলেকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে। তার লাশ আমি খুঁজে পাচ্ছি না।’ তখন সিকিউরিটি আমাকে মর্গে যেতে দেয়। মর্গে গিয়ে দেখি প্রায় ২০/৩০টি লাশ পড়ে আছে। আমি বারবার আমার ছেলের লাশ খুঁজতে থাকি, কিন্তু খুঁজে পাই নাই। তারপর আরো বিভিন্ন মর্গে যাই, কিন্তু কোথাও খুঁজে পাই নাই।

ময়নাল আরো বলেন, পরবর্তীতে নতুন বিল্ডিংয়ের ইমার্জেন্সি মর্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে আমার ছেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। সেখানে আরো অনেক লাশ ছিল। আমার ছেলের লাশ পেয়ে আমি এবং আমার শ্যালিকা শাহিদা আক্তার দুজনে কান্নাকাটি করতে থাকি। সেখানে অনেক সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক আসে। আমার ছেলের লাশের ওপরে, বুকে, পেটে এবং পায়ে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখতে পাই। তখন আমি উপস্থিত সাংবাদিকদের কে বলি, ‘একটা মানুষ মারতে কয়টি গুলি লাগে?’ পরবর্তীতে মর্গ থেকে বের হয়ে আসি।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনস থেকে আমার দুজন সহকর্মী ইন্সপেক্টর নিজাম উদ্দিন ও এসআই দেলোয়ার আমার কাছে আসে এবং আমাকে শান্তনা দেয়। পরবর্তীতে আমার ছেলের লাশ নেওয়ার জন্য শাহবাগ থানায় গিয়ে কার্যক্রম শেষ করে আনুমানিক সন্ধ্যা ৮ টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়।

ইন্সপেক্টর নিজাম উদ্দিন ও এসআই দেলোয়ার আমাকে বলে, আমরা শাহবাগ থানায় গিয়েছিলাম, সুরতহাল এবং পোস্টমর্টেমের দায়িত্ব শাহবাগ থানার এসআই শাহদাতকে দিয়েছে। আমি এসআই শাহদাত কোথায় জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান যে, এসআই শাহদাত থানায় আছে।

আমার সহকর্মীরা আমাকে জানান, এসআই শাহদাত বলেছে সেদিন সুরতহাল ও পোস্টমর্টেমের সময় শেষ হয়ে গেছে, পরের দিন সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম হবে। তখন আমরা মর্গের সামনে প্রায় ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আমার সহকর্মীরাসহ রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এ যাই। আমার শ্যালিকা নিজ বাড়িতে যায় এবং আমি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এ অবস্থান করি।

আমার ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে তখন পর্যন্ত আমার স্ত্রীকে অবগত করানো হয় নাই, কারণ আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিল এবং এই সংবাদ শুনলে তার আরো অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

জবানবন্দিতে তায়িমের বাবা আরো বলেন, পরের দিন ২১ জুলাই ২০২৪ আনুমানিক সাড়ে ৮টার থেকে ৯টার সময় পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরাসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করি। মর্গে থেকে আমার ছেলের লাশ নিয়ে সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার জন্য পোস্টমর্টেম সেকশনে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় আনুমানিক সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯ টার সময় শাহবাগ থানা থেকে এসআই শাহদাত আসলে আমার সঙ্গে দেখা হয়। আমি তাকে আমার পরিচয় দেই এবং বলি ‘আমার ছেলেকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ করে মেরে ফেলেছে, দয়া করে দ্রুত সুরতহাল ও পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করেন।’ সে আমাকে দেখে কোন কথা না বলে অন্য একজনের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। পরবর্তীতে এসআই শাহদাত তার অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত কথাবার্তা বলেন এবং ব্যক্তিগত কাজ করতে থাকেন। এসআই শাহদাত অকারণে দেরি করতে থাকেন। আনুমানিক ১২টার সময় এসআই শাহদাত সুরতহাল করার জন্য যায়। সুরতহাল করার সময় পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্নগুলো না লিখে কিছু ছিদ্র ও কালো স্পট থাকার কথা লিপিবদ্ধ করেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, ‘আপনি পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা না লিখে স্পট থাকার কথা কেন লিখলেন?’ এসআই শাহদাত আমাকে বলল, ‘এটা উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না।’ এসআই শাহদাত আরো বলেন যে, ‘ছাত্র-জনতার আঘাতে ও গুলিতে আপনার ছেলে মারা গেছে।’ এই বলে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি অনেক চিন্তায় পড়ে যাই। আমার ছেলে মারা গেছে এবং চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আছে এবং ছেলের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, লাশে প্রায় পচন ধরে গেছে। এই চিন্তা করে আমি সুরতহাল রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই। সুরতহাল শেষে প্রায় ২/৩ ঘণ্টা হয়ে যাচ্ছে, পোস্টমর্টেম করাতে পারছি না। এসআই শাহদাত আমাদের কাছে ২/৩ বার আসলে তাকে অনুরোধ করি, আমার ছেলের ময়না তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দেন। কিন্তু এসআই শাহদাত কোন সহযোগিতা করেন নাই। পরবর্তীতে আনুমানিক বিকেল ৪টার সময় পোস্টমর্টেম করার জন্য নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে ছেলের পোস্টমর্টেম শেষে আমরা লাশ বুঝে পাই। পরবর্তীতে আমার ছেলের লাশ নিয়ে আমার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা সহ রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এ যাই এবং গোসল করানোর জন্য প্রস্তুতি নিই। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহকারী ইমাম এএসআই জাহাঙ্গীর ও তার ২ জন সহকর্মী এবং আমার ১ জন আত্মীয় মুফতি হায়দার বিন সাদের গোসল করায়। আমার ছেলের লাশের কোমড়ের বাম পাশে বড় একটি গর্তের দাগ দেখা যায়। আমি এবং আমার সহকর্মীরা এই দাগ দেখে বুঝতে পারি, এটা পিস্তলের গুলির দাগ।

গোসল শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ১ম জানাজা শেষ করে আত্মীয় স্বজনসহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা করি। রাত আনুমানিক ৯টার সময় গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় ২য় জানাজা শেষ করে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করি।

পুলিশ কর্মকর্তা ময়নাল বলেন, ২৮ জুলাই ২০২৪ আমি ঢাকায় আসি। তায়িমের বন্ধু রাহাত, শাহরিয়ারসহ অন্যান্যদের কাছে শুনতে পাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমার ছেলে তায়িম প্রত্যেক দিন আন্দোলনে যোগ দিত। তার বন্ধুদের কাছে শুনি, ঘটনার দিন ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল। ঘটনার সময় তায়িম ও তার বন্ধু শাহরিয়ার, রাহাত যাত্রাবাড়ি কাজলা ফুটওভার ব্রীজ এলাকায় লিটনের চায়ের দোকানের সামনে আন্দোলনের জন্য অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাকির হোসেন, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন, এসআই সাজ্জাদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন পুলিশ আমার ছেলে তায়িম ও তার বন্ধুদের কে চতুর্দিক দিয়ে ধাওয়া করলে কোন দিকে যেতে না পেরে আমার ছেলে ও তার বন্ধুরা লিটনের চায়ের দোকানে প্রবেশ করে এবং চায়ের দোকানের শাটার টেনে নিচে নামায়। পুলিশ সদস্যরা দোকানের শাটার খুলে আমার ছেলে ও তার বন্ধুদেরকে বের করে লাঠি, রাইফেলের বাট দিয়ে অনেক মারতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা আমার ছেলে ও তার বন্ধুদেরকে দৌড় দিয়ে চলে যেতে বলে। আমার ছেলে দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে এবং এসআই সাজ্জাদ গুলি করে। আমার ছেলে মা মা করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার বন্ধু রাহাত তায়িম কে পিছনের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে অনেকবার গুলি করে। আমার ছেলে মা মা করে কাদতে থাকে। একটি গুলি রাহাতের পায়ে লাগে। রাহাত তার জীবন বাচাতে আমার ছেলেকে ফেলে রেখে চলে যায়। আমার ছেলে সেখানে পড়ে থাকে এবং গড়াগড়ি করতে থাকে। পরবর্তীতে তায়িম এর আরেক বন্ধু শাহরিয়ার ও চা দোকানদার লিটন আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ইন্সপেক্টর জাকির, ইন্সপেক্টর মামুন, এসআই সাজ্জাদ বাধা দেয়। আমার ছেলে অনেকক্ষণ মাটিতে পড়ে থাকে এবং গড়াগড়ি করতে থাকে (এ সময় সাক্ষী কান্নায় ভেঙে পড়েন)।

পরবর্তীতে একটি ভ্যানে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার ছেলেকে প্রেরণ করে।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, April 12, 2026

সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও বিরোধী নেতার দুঃখ। (BDC CRIME NEWS24)

 BDC CRIME NEWS24

সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও বিরোধী নেতার দুঃখঃ

এম আবদুল্লাহ

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৩২

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ শুক্রবার সংসদ অধিবেশন পরিচালনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশে বলেছেন, ‘গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা।’ স্পিকারের এ মন্তব্যে ভীষণ দুঃখ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্পিকারের চেয়ার থেকে এমন বক্তব্য বা মন্তব্য আশা করেননি। কোন প্রেক্ষাপটে স্পিকার এমন মন্তব্য করলেন আর বিরোধীদলীয় নেতাই বা কেন এতটা দুঃখ পেলেন, সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। তার আগে গণতন্ত্রের সর্বজনীন সংজ্ঞায় দৃষ্টি দেওয়া যাক। যদিও গণতন্ত্রের সঠিক বা জুতসই সংজ্ঞা নিয়ে বহুমত রয়েছে। অবিশ্বাস্য হলেও ইংরেজিতে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত ও বর্ণনা করতে ২ হাজার ২৩৪টির মতো বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গণতন্ত্র মানে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণই ক্ষমতার মালিক। সাধারণভাবে বললে, গণতন্ত্রে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নেতা বেছে নেয়। দার্শনিক কার্ল পপারের ভাষায়—গণতন্ত্র মানে জনগণের শাসন, আর জনগণের শাসন করার অধিকার আছে। ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রের সবচেয়ে পপুলার সংজ্ঞা হচ্ছে, ‘জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন।’ কোনো রাষ্ট্র বা সমাজে গণতন্ত্রচর্চা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা বুঝতে তিনটি সূচকে নজর দেওয়া হয়—এক. জনগণের হাতে ক্ষমতা কতটুকু; দুই. রাজনৈতিক সমতা কতখানি; আর তিন. এমন সামাজিক রীতি, যা প্রথম দুটোকে সমীহ করে। সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আর আইনের শাসন গণতন্ত্রের মূলভিত্তি বলে মনে করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তুমুল বিতর্ক হয় আইন পাস নিয়ে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস করা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও অনেকগুলো অধ্যাদেশ নিয়েও গত সপ্তাহকালের বেশি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে বাহাস ও পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির শেষ দিনে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলা হয়, অধ্যাদেশ-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করে সরকার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আইন সংশোধন করেছে। আবার কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সবগুলো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন ও আলোচনার সুযোগ সরকার দেয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাস ভঙ্গ করে দিনদুপুরে ছলচাতুরীর মাধ্যমে বিল পাস করার অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার সংসদ অধিবেশনে প্রায় এক ঘণ্টার বিতর্ক চলে। শেষে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। এটি ছিল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের চতুর্থ দফা ওয়াকআউট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশটি হুবহু অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অধ্যাদেশটি হুবহু ঠিক রেখেই সংসদে বিলও তোলা হয়েছিল। তবে এ বিলে তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান। তার তিনটি সংশোধনী প্রস্তাবই গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশে পরিচালনা পরিষদের সভাপতির বিষয়ে বলা ছিল, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে নিযুক্ত শিক্ষা, ইতিহাস, সাহিত্য বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কোনো প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ একজন ব্যক্তি পর্ষদের সভাপতি হবেন। এ ধারায় সংশোধনী এনে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে পর্ষদের সভাপতি করার বিধান করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা ছিল—‘পরিষদের কোনো সদস্য যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন।’ এতে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, পরিষদের কোনো সদস্য বা সভাপতি যেকোনো সময় সরকারের উদ্দেশে পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারবেন; অথবা সরকার জনস্বার্থে যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করতে পারবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, পরিষদের সভাপতি মনোনয়নের তারিখ থেকে তিন বছর পদে থাকবেন এবং অনধিক এক মেয়াদের জন্য পুনর্মনোনয়নের যোগ্য হবেন। এটা বাদ দেওয়ার জন্য সংশোধনী প্রস্তাব দেন সরকারি দলের ওই সদস্য। এটিও গৃহীত হয়। অর্থাৎ তিন সংশোধনীই আনীত ও গৃহীত হয় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনায় সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। শুধু চব্বিশের অভ্যুত্থান নয়, শেখ হাসিনার ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের গুম, খুন, আয়নাঘর ও নিপীড়নের চিত্রও সেখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। পুরোনো গণভবনে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেটি উদ্বোধন করা হবে। এই জাদুঘরের সঙ্গে চব্বিশের অভ্যুত্থানের নায়কদের বাড়তি আবেগ-অনুভূতি জড়িত। শহীদ পরিবার ও অঙ্গ হারানো হাজারো জুলাইযোদ্ধার জন্যও এই জাদুঘরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্যান্য জাদুঘরের মতোই এটি পরিচালিত হবে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সবগুলোর পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী? কেন তাদেরই পরিচালনা পরিষদের প্রধান থাকতে হবে? অধ্যাদেশে যে বিধান রাখা হয়েছিল, তাতে পরিবর্তন কি খুবই জরুরি ছিল? এ প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়।

যদিও সংসদে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, সংশোধনীর বিষয়ে তিনি জানতেন না। মন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য নয়। কোনো বিলের বিষয়ে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার একটা সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় বিল উত্থাপনকারী মন্ত্রীর অবধারিতভাবেই জানার কথা। আবার সংসদে পাস হওয়ার সময় সংসদ সদস্যের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করারও সুযোগ ছিল। প্রস্তাব পাস করে পরে ‘জানি না, জানতাম না’ ধরনের বালখিল্য জবাব অগ্রহণযোগ্য। বিতর্কের মুখে আইনমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে আগামী বাজেট অধিবেশনে বিলটি আবারও সংশোধন করা যেতে পারে। এ ধরনের আশ্বাসেও বিরোধী দল আশ্বস্ত হতে চায়নি। বিশেষ কমিটিতে যেসব বিল অবিকৃত অবস্থায় পাসের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, তা অবিকৃতভাবেই পাস করা উচিত ছিল। তাতে বিরোধী দল সমঝোতা বা বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারত না। ভবিষ্যতে বিশেষ কমিটি বা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে কোনো বিষয়ে সমঝোতায় উপনীত হতে বিরোধী দল দ্বিধা বা অস্বীকৃতি জানালে তা সরকারকেই বেকায়দায় ফেলবে।

বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিষয়টি স্পিকারের নজরে আনেন। তিনি বলেন, বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য হয়েছিল ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদন করা হবে। এর একটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ। এটি বিল আকারে উত্থাপনের আধা ঘণ্টা আগে সংশোধনী দেওয়া হয়। সংশোধনী যে কেউ দিতে পারেন। বিরোধী দল চাইলে সবকটিতে দিতে পারত।

স্পিকারের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘কিন্তু সরকারি দল আজকে এটা আপনার সামনে, ...এটা কিন্তু রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করা হলো। কনসেনসাস ভঙ্গ করা হলো। তাহলে বিশেষ কমিটি যেটা করা হয়েছিল, সেই কমিটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তারা যেকোনো সংশোধনী আনতে পারে। কিন্তু বিলটি দিনদুপুরে, ছলচাতুরী করে, জোচ্চুরির মাধ্যমে পাস করে নেওয়া হয়েছে।

বিলটি নিয়ে দুপক্ষের তুমুল বিতর্কের মধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের ভূমিকার প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্পিকার হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্দেশে বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু হলে চলবে না, মিস্টার আবদুল্লাহ। দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ দ্য পার্লামেন্ট (এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা সংসদ)। এখানে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে, শুনতে হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল সবকটি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে আনা হবে। তিনি জানতে চান, পুলিশ সংস্কার কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন, দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—এগুলোর কী হবে? এগুলো নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জানতে চান, এ বিলগুলো আনা হবে কি না? বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যদি তারা বড় মনের পরিচয় দিয়ে ঐকমত্যের জায়গাটাকে রেসপেক্ট করেন, আমরাও রেসপেক্ট করার চেষ্টা করব।’ একপর্যায়ে বিরোধী দল ওয়াকআউট করতে উদ্যোগী হলে তখন স্পিকার মন্তব্য করেন, ‘গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনব্যবস্থা।’

এ বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কথাটায় আরো দুঃখ পেলাম। আপনার কাছে আমরা প্রথম দিনই জাস্টিস আশা করেছিলাম। আপনিও বলেছিলেন যে, আপনি জাস্টিস মেইনটেইন করবেন। কিন্তু আজকের দিনটা, এই সময় এসে আমরা জাস্টিস পেলাম না।’

বিরোধী দলের দুঃখ, কষ্ট ও জাস্টিস না পাওয়ার আক্ষেপ থাকবে; থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের বিচ্যুতিগুলো ধরিয়ে দেওয়া। সঠিক পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে চাপে রাখা। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে—সরকার অপ্রয়োজনেও কিছু সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেয়নি সরকার। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে অন্যতম—সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য অধিকার এবং রাজস্ব ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাদেশ । ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি হুবহু এবং ১৬টি সংশোধিত আকারে পাস হয়েছে। এক্ষেত্রে সংসদের এবারের অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিলের মধ্যে একাধিক অধ্যাদেশ রয়েছে।

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর মূল কথা ছিল দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। এটি দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা ছিল। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। যদিও সরকার বলছে, যে অধ্যাদেশগুলো পাস হয়নি, সেগুলো আরো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে আইনে রূপ দেওয়া হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ ১৬টি অধ্যাদেশ আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করার জন্য পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে পরামর্শ শেষে এগুলো পরে উত্থাপন করা হবে।’ সংসদে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো অধ্যাদেশ বাতিল হয়নি। আগামী বাজেট অধিবেশনে যাচাই-বাছাই করে এগুলো পাস করা হবে।’ আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে চাই। এখনই চূড়ান্তভাবে আশাহত হতে চাই না। গণতন্ত্রমনা মানুষের যাতে আশাভঙ্গ না হয়, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবে সরকার।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব যোগ্য নাগরিক আইনের কাছে সমান, আর তাদের আইন তৈরির প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ থাকে। যেমন, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে প্রত্যেকের ভোটের মূল্য একই। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এমন একটি শাসনব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হতে হয়, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করেন। সরকার তার কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। আর এ জবাবদিহিতাটা সরকারের মেয়াদান্তে ভোটের মাধ্যমে শুধু নয়, প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডে থাকা চাই।

স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন পর্যন্ত ভালো করছেন। প্রথমবারের মতো স্পিকারের আসনে বসে প্রথম দিন থেকেই সংসদ পরিচালনায় তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। চেয়ারে বসেই বিরোধী দলের প্রতি সুবিচার করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে হাসনাত আবদুল্লাহকে তিনি যেভাবে শাসানোর সুরে ‘শাহবাগ চত্বর’ দেখিয়েছেন, তা শোভন ঠেকেনি। শাহবাগ চত্বরে হাসনাত আবদুল্লাহদের জীবনবাজি রেখে বেপরোয়া ও দুর্বিনীত লড়াই স্পিকারকে আজকের আসনে বসিয়েছে। হাসনাতরা উদ্যত পুলিশের দিকে পাল্টা ঔদ্ধত্য দেখিয়ে টি-শার্ট খুলে বুকে গুলি করার জন্য হুংকার দিয়ে এগিয়ে না গেলে অভ্যুত্থান সফল হতো না; গণতান্ত্রিক সংসদও অধরা থেকে যেত। দেশ-বিদেশের কার্যকর সংসদগুলোর দিকে নজর দিলে রাজপথ বা জনসভার মাঠের চেয়ে সংসদে অনেক বেশি উত্তাপ দেখা যাবে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উত্তাপটা সংসদের চার দেয়ালের মধ্যে রেখে প্রশমনের প্রয়াস থাকলে সরকারই বেশি লাভবান হয়। শাহবাগ চত্বরের দিকে ঠেলে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেটা কোনো সরকারের জন্য সুখকর হয় না।

লেখক : কলামিস্ট, রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুগ্ম সম্পাদক, আমার দেশ

 

Saturday, April 11, 2026

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচন হয় যেভাবে। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচন হয় যেভাবে:

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০৭

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয় ভোটের কয়েকদিন আগে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।

এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন। যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকেন আর এর বিপরীতে নির্বাচিত হতেন; কখনো কখনো বিরোধী দলের নারী প্রার্থীরা কয়েকটা আসনে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকে ৩০০ আসনের মধ্যে আসনভিত্তিক আনুপাতিক হারে।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুসারে, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের ছয় জন যদি নির্বাচিত সাংসদ হন, তাহলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হবেন।

তখন ওই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই বিশেষ রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারবেন ওই প্রার্থী। এই নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য একটি দিনও নির্ধারিত রাখা হয়।

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও দলগুলো আসন সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো।

এবার কোন দল কতটি আসন পাবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। এর বাইরে বিএনপি জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে জয় পায়।

সেই হিসেবে বিএনপি জোট এই ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। আইন অনুযায়ী আসন সংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন হবে এবারও।

প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকায় অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি জোট। বাকি তিনটি আসনের ভোট ও ফলাফল চূড়ান্ত হলে বাড়তি আরো একটি আসন পেতে পারে।

এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।

সেই হিসেবে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্রে জোটবদ্ধ হলে তারা অন্তত একটি আসন পেতে পারেন।

যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সংসদে নারী আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং ৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। তবে ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না।

৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই সংসদেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হলে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনও ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে সরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়।

ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও এই নির্বাচন পরোক্ষভাবে হওয়ায় নারী ক্ষমতায়ণ কতখানি নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসলেই প্রকৃতভাবে নারীর ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব। না হলে এই নারী আসন শুধু অলঙ্কারিকভাবেই ক্ষমতায়িত হবে।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, April 9, 2026

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা:-

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩: ০১

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এএসআই আমির হোসেন, ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

বৃহস্পতিবার বেলা দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন— বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— আরপিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।

৩ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবির এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল ও সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া।

এ মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

পলাতক ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন— বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন (চন্দন), আরপিএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান, সাবেক উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান।

জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বিক্ষোভ মিছিল এগিয়ে এলে অসংখ্য সশস্ত্র পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেন। একপর্যায়ে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের পাঁচ সদস্য স্টিল ও কাঠের লাঠি দিয়ে আবু সাঈদের মাথায় আঘাত করেন এবং তার মাথা দিয়ে রক্ত বের হয়। সেদিন দুপুরে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন প্রথমে আবু সাঈদকে গুলি করেন । প্রথম গুলিটি যখন আবু সাঈদের পেটে লাগে, তখন তিনি হতবাক হয়ে যান এবং আবার বুক প্রসারিত করে সেখানে দাঁড়িয়ে যান। সে সময় সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় তাকে পরপর দুটি গুলি করেন। এতে আবু সাঈদ সড়ক বিভাজক পার হয়ে বসে পড়েন। আবু সাঈদকে আনতে গিয়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাওহিদুর হকের শরীরে প্রায় ৬০টি ছররা গুলি লাগে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সহযোদ্ধাদের বাহুডোরে আবু সাঈদ শহীদ হন।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের পর প্রসিকিউশনের পক্ষে জবাব দেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এরপর পাল্টা জবাব দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্কে এ মামলার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। এছাড়া বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। মামলার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত এসব ভিডিওতে আসামিরা কে কোথায় ছিলেন এবং তাদের কার্যকলাপ শনাক্ত করে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়।

এরপর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা। তারা তাদের মক্কেলদের বেকসুর খালাস আবেদন জানান।

গত বছরের ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাকে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন। ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, April 8, 2026

রিমান্ডে ১/১১-এর কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন লে. জে. খালেদের। ( BDC CRIME NEWS24)

 BDC CRIME NEWS24

রিমান্ডে ১/১১-এর কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন লে. জে. খালেদেরঃ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮: ৫৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায় ‘ওয়ান-ইলেভেন’ বা এক-এগারো। দীর্ঘ দুই দশক পর সেই অসাংবিধানিক শাসনের নেপথ্য কারিগরদের মুখোশ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি রিমান্ডে থাকা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক প্রধান লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের দেওয়া তথ্যে বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন চিত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এসব তথ্য এখন যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

মামুন খালেদের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’, প্রভাবশালী দুই সংবাদপত্র (একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি), সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তির অশুভ আঁতাত কীভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, রিমান্ডে মামুন খালেদ একাধিক সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট, তৎকালীন সেনাসমর্থিত সরকারের উত্থান, সে সময়ের ওই দুই প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম ইত্যাদি।

ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট : সেনানিবাস থেকে দাতা সংস্থা

রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক-এগারোর পরিকল্পনা হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৬ সালের শুরু থেকে দেশের প্রভাবশালী একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার শুরু করে। তথাকথিত ‘যোগ্য প্রার্থী’ বাছাইয়ের নামে এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে দেশব্যাপী সেমিনার এবং গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি করা।

মামুন খালেদ দাবি করেন, ওই সময় কিছু প্রভাবশালী মহল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নির্দিষ্ট দিকে নিতে কাজ করেছিল। তার ভাষ্যমতে, একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমালোচনার আড়ালে এমন একটি জনমত তৈরি করেছিল, যেখানে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এ প্রক্রিয়ায় ‘বিরাজনীতিকরণ’ ধারণাটি সামনে আনা হয় এবং সেটিকে জনপ্রিয় করতে সংবাদ পরিবেশন ও বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ওয়ার এগেইনস্ট টেরর’ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিল এই দুষ্টচক্র।

অভিযোগ উঠেছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তৎকালীন ঢাকা-প্রধানের সঙ্গে এ দুই পত্রিকা সম্পাদকের ছিল পারিবারিক ও গভীর সখ্য। এমনকি ১/১১-পরবর্তী সময়ে জেনারেল মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে প্রায় প্রতি রাতে সেনানিবাসে বৈঠক করতেন ওই দুই সম্পাদক, যেখানে পরবর্তী দিনের রাজনৈতিক ছক আঁকা হতো।

গোয়েন্দা ‘ফিড’ ও মিডিয়া ট্রায়ালের অন্ধকার অধ্যায়

এক-এগারো পরবর্তী দুবছর দেশের ওই প্রভাবশালী দুটি পত্রিকা কেবল সংবাদমাধ্যম হিসেবেই কাজ করেনি, বরং তারা ছিল ডিজিএফআইয়ের অঘোষিত মুখপত্র। গোয়েন্দা সেলে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা বানোয়াট ও কল্পিত তথ্যগুলোকে কোনোপ্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘বিশেষ প্রতিবেদন’ হিসেবে ছেপে দেওয়া হতো। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ১/১১-এর সরকার আসার পর আগের ধারাবাহিকতায় পত্রিকা দুটি এমন পরিবেশ তৈরি করেছিল, যাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রী, বিশেষ করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। পরিকল্পনাকে জনসমর্থনযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিবেদন, কলাম ও টকশোতে ধারাবাহিকভাবে একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রচার করা হয়েছিল।

বিদেশি কানেকশন ও চন্দন নন্দী ফ্যাক্টর

রিমান্ডে মামুন খালেদ জানান, ভারতীয় এজেন্ট চন্দন নন্দী ও তার বাবার সঙ্গে ওই দুই সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও দেশের একজন প্রবীণ আইনজীবী (আ.লীগের সাবেক মন্ত্রী), শেখ হাসিনা সরকারের একজন মন্ত্রী (দেশেই রয়েছেন) ও কয়েকজন তথাকথিত সুশীল সমাজের ব্যক্তির মাধ্যমে তারা বিদেশি শক্তির বার্তা ও পরামর্শ সেনাসমর্থিত সরকারের কাছে পৌঁছে দিতেন। সাধারণ মানুষের আস্থা ভাঙতে নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কল্পিত চিত্র এমনভাবে আঁকা হতো, যেন আদালত রায় দেওয়ার আগেই জনগণ তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে। রিমান্ডে থাকা নেতাদের ‘স্বীকারোক্তি’কে মসলাদার খবর হিসেবে উপস্থাপন করে তারা মূলত একটি ‘অসাংবিধানিক’ শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করার পথ সুগম করেছিলেন।

বিরাজনীতিকরণ ও ‘সংস্কারপন্থি’ কার্ড

সূত্র বলছে, পত্রিকা দুটি কেবল নেতিবাচক খবরই ছাপত না, বরং তারা রাজনৈতিক দলের ভেতর বিভেদ তৈরির কারিগর হিসেবেও কাজ করেছিল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও তথাকথিত ‘সংস্কারপন্থি’ নেতাদের ব্যাপকভাবে প্রমোট করা হতো ওই দুই পত্রিকায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের যখন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছিল, তখন এই পত্রিকাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিরাজনীতিকরণের নীলনকশা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল। রিমান্ডে খালেদ মামুন বলেছেন, বিভিন্ন সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেও কোনো সরকারই তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত করেনি, বরং তাদের সম্পদ ও প্রভাব ক্রমশ জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।

ইতিহাসের কাঠগড়ায় ‘সুশীল’ কলম

সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সময়ের তদন্ত ও রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যগুলো প্রমাণ করে, মুক্ত সংবাদপত্রের আড়ালে একপাক্ষিক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে কোনো রাজনৈতিক আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। ইতিহাসের আদালতে যখনই এক-এগারোর প্রসঙ্গ তোলা হবে, তখনই ওই দুই পত্রিকার নাম আসবে একটি অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রধান সহযোগী হিসেবে। সময়ের আবর্তে আজ এটি স্পষ্টÑসেদিন যা করা হয়েছিল তা সাংবাদিকতা ছিল না, ছিল স্রেফ একপাক্ষিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন। রিমান্ডে সাবেক দুই জেনারেল বলেছেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক কাঠামো বারবার এমন ‘ইনভিজিবল’ বা অদৃশ্য শক্তির হুমকিতে পড়বে। মামুন খালেদ বলেছেন, এক-এগারোর মাস্টারমাইন্ডদের বিচার হওয়া উচিত। রিমান্ডে মামুন খালেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত সংস্থাগুলো এখন আরো গভীর অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্রঃ আমার দেশ

Thursday, April 2, 2026

দেওয়ানবাগীর আধ্যাত্মিকতার আবরণে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

দেওয়ানবাগীর আধ্যাত্মিকতার আবরণে অবৈধ সম্পদের পাহাড়:

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

 


আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে মানবসেবা—এই দুইয়ের মিশ্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ। এর প্রধান কার্যালয় ‘বাবে রহমত’ রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত। সেখান থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম চালানো হয়। আধ্যাত্মিকতার আবরণে পরিচালিত হয়ে আসা দরবার শরিফটি ঘিরে নানামুখী আলোচনা রয়েছে। রয়েছে রহস্য, সঙ্গে বিতর্কও। রহস্য ভেদ করতেই কালবেলার পক্ষ থেকে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালানো হয়। এতে মিলেছে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য। দরবারকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ সম্পদই অপ্রকাশিত। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনে জড়িত দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীরের ছেলেরা। জমি দখল করে অনেককে করা হয়েছে এলাকা ছাড়া। দরবার শরিফটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিক সংস্কার এবং মানবসেবার ওপর গুরুত্ব দিলেও নিজেরাই উল্টো পথে হাঁটছে! সব তথ্য বিশ্লেষণ করলে ফুটে ওঠে প্রশাসনিক নীরবতার জটিল চিত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার সন্তানদের হাতে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার অদৃশ্য সম্পদের সাম্রাজ্য। রাজধানীসহ দেশের অন্তত ৩০ জেলায় বিস্তৃত জমি, ডজনখানেক ভবন ও বিদেশে আছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন নথিতে শতকোটি টাকার ব্যাংক লেনদেন ও ভুয়া বা কার্যক্রমহীন কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরেরও তথ্য মিলেছে। তিন ছেলের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এরই মধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)।

দলিলপত্র, ব্যাংক নথি, সম্পত্তির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে—দেওয়ানবাগ শরিফকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সম্পদের পরিধি বহুস্তরীয়। রাজধানী ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, জুরাইন, মিরপুর, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে খানকা, দরবার কমপ্লেক্স এবং ব্যক্তিগত মালিকানার জমি। সংশ্লিষ্ট নথিতে এসব সম্পদের বড় একটি অংশ প্রতিষ্ঠাতা পীরের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের নামে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। যদিও সূত্র বলছে, এসব অর্থের একমাত্র উৎস ভক্তদের দান। কিন্তু ভক্তদের সেই দানের টাকায় সম্পদ করা হয়েছে সন্তানদের নামে। তবে এসব সম্পদের একটি অংশের উৎস এবং ক্রয়ের অর্থের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থনৈতিক নথি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবগুলোতে কয়েক বছরে শতকোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর একটি অংশ বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোরই দৃশ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা কার্যকর অফিসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের প্রতিবেদনে এমন কিছু হিসাবের লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে নিবন্ধিত কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের সূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঢাকাকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য, ছড়িয়ে সারা দেশে: অনুসন্ধানে পাওয়া নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেওয়ানবাগ শরিফকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সম্পদের বড় অংশই রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীভূত। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার শরিফের আশপাশে রয়েছে অর্ধ ডজন ভবন ও কমপ্লেক্স। এ ছাড়া পুরানা পল্টন, মগবাজার, আরামবাগ, ফকিরাপুল, দক্ষিণ কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’ ও ‘বাবে সালাম’ নামের ভবন ও স্থাপনার তথ্য মিলেছে। এসব স্থাপনার পাশাপাশি ঢাকার মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, জুরাইন, মিরপুর, আমিনবাজার ও রাজারবাগ এলাকায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও স্থাপনা।

ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রংপুর, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে খানকা, জমি ও স্থাপনার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। সংশ্লিষ্ট নথিতে অন্তত ৩০টি জেলার বিভিন্ন স্থানে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ নথিভুক্ত সম্পদের চেয়ে বেশি হতে পারে।

দেওয়ানবাগী পরিবারের সঙ্গে খুবই সুসম্পর্ক—এমন কয়েকজনের সঙ্গেও আলাপ করে কালবেলা। তারা বলছেন, ভক্তরা সাধারণত কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রয়াত পীরের কবর পর্যন্ত যেতে পারেন। মূল ভবনে কাউকেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না। বিশেষ সম্পর্ক থাকলেই শুধু প্রবেশের অনুমতি মেলে। ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক কড়াকড়ি। কয়েক দফা তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। এ ছাড়া ভেতরে নানা ধরনের পশু পালন করা হয়। রয়েছে মরুভূমির প্রাণী উটের খামার। আছে বেশ কয়েকটি দামি গাড়ি। প্রয়াত পীরের প্রত্যেক সন্তানকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রয়েছে বিশেষ বাহিনীও।

কালবেলার অনুসন্ধান বলছে, রাজধানী ঢাকায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে দেওয়ানবাগীর সন্তানদের নামে। অন্তত এক ডজন বাড়ি ও অন্তত হাজার কোটি টাকার জমির প্রমাণ মিলেছে। এর বাইরে দেশের সাতটি মহানগর এলাকা এবং ৩০ জেলায় সম্পদ রয়েছে দেওয়ানবাগীর ছেলেদের। সব মিলিয়ে দেওয়ানবাগ পরিবারের সম্পদের আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

দেওয়ানবাগ শরিফের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার সন্তান রয়েছে সাতজন। দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পরে সব সম্পদ লিখে দেওয়া হয় সাত সন্তানের নামে। তারা হলেন সৈয়দ এ এফ এম নূর-এ-খোদা, সৈয়দ এ এফ এম কুদরত-এ-খোদা, সৈয়দ এ এফ এম ফজল-এ-খোদা, সৈয়দ এ এফ এম মঞ্জুর-এ-খোদা, সৈয়দা তাহমিনা সুলতানা, তাকলিমা সুলতানা ও তাছলিমা সুলতানা-এ-খোদা। নথি এবং তথ্য বলছে, সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সম্পদ এবং ব্যাংকের জমানো টাকা এই সন্তানদের মধ্যেই ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। দেওয়ানবাগের প্রধান পীর বেঁচে থাকতে তিনিই দরবার পরিচালনা করতেন। তার মৃত্যুর পরে সন্তানরা সবাই নিজেদের পীর দাবি করে যে যার মতো দরবার পরিচালনা করেন।

নথি বলছে, দেওয়ানবাগের কেন্দ্রীয় দরবার মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে অবস্থিত। এখানে প্রায় ১৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এখানে দখল করা কিছু জমিও রয়েছে। আছে কয়েকটি ভবনও। এসব জমি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপেক্ষের (রাজউক)। বিভিন্ন সময়ে এ জমি উদ্ধারে রাজউক তৎপর হলেও অদৃশ্য কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। গত পাঁচ বছরে অন্তত সাত-আটবার রাজউক এসব জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশ জারি করেছে দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও সেই উচ্ছেদ কখনো হয়নি।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমরা শিগগির উচ্ছেদ অভিযানে যাব। এর আগে অনেকবার তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় জমির দখল ছেড়ে যায়নি।

নথি বলছে, পুরানা পল্টন লাইন মৌজায় রয়েছে ৩২ দশমিক ৬৩ শতাংশ জমি। এখানে রয়েছে বাবে কুতুবুল আকতার, বাবে রহমত কমপ্লেক্স, বাবে রিয়াজুল জান্নাত ও বাবে সালাম ভবন। বড় মগবাজার মৌজায় রয়েছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। ওই জমির ২২ হাজার বর্গফুটের দুটি ফ্লোর রয়েছে দেওয়ানবাগীর সন্তানদের মালিকানায়। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আরও ৭৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমি। মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখান, আমিনবাজারের বিলামালিয়া মৌজা, মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা, জুরাইন, জলাবাড়ি, আমুলিয়া, রাজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এই সম্পদ। এসব জমিতে বিভিন্ন ভবন এবং মার্কেটসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় রয়েছে ১ হাজার ৬১৩ শতাংশ জমি। এই জমিতে বৃহৎ আকারের খানকা রয়েছে। স্থানটি একই সঙ্গে নানা ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১ হাজার ৩২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, রংপুরের পীরগাছায় ৪২৫ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ১০ শতাংশ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ১২ শতাংশ, গাজীপুরের জয়দেবপুরে ১০ শতাংশ ও রাজশাহীর শাহমখদুমে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে ৫২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ৬৪ দশমিক ১৮ শতাংশ, নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় ৩১ শতাংশ, শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে ২০ শতাংশ জমি রয়েছে।

এর বাইরে কুমিল্লা মহানগর এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬১ দশমিক ৫০ শতাংশ, চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ৬০ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৯ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ২২ শতাংশ, কিশোরগঞ্জে ৫ শতাংশ, নেত্রকোনায় ৫১ শতাংশ, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৬৭ শতাংশ, শেরপুরে ৫ শতাংশ, টাঙ্গাইলে ২৩ শতাংশ, পাবনায় ৮ শতাংশ, সিরাজগঞ্জে ১০ শতাংশ, বগুড়ায় ৫ শতাংশ, রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় আরও ৭০ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৩৯ শতাংশ, পঞ্চগড়ে ৫০ শতাংশ, জয়পুরহাটে ৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, লালমনিরহাটে ১০ শতাংশ, নাটোরে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, নীলফামারীতে ২ শতাংশ, পিরোজপুরে ২৫ শতাংশ ও পটুয়াখালীতে ৭ শতাংশ জমি রয়েছে। এসব জমির নথি পাওয়া গেলেও নামে-বেনামে দেওয়ানবাগীর সন্তানদের নামে আরও বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

তথ্য বলছে, দক্ষিণ কমলাপুরে বাবে মদিনা কমপ্লেক্স, ফকিরাপুলে বাবে রহমত দরবার কমপ্লেক্স এবং দক্ষিণ কমলাপুরে বাবে মাহদী ও মগবাজারে বাবে ফেরদৌস নামে ভবন রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আরও অন্তত ৮-১০টি ভবন রয়েছে। তবে কালবেলা নিজস্ব সূত্রে তথ্য যাচাই করে সত্যতা পেলেও এসব ভবনের নথি সংগ্রহ করতে পারেনি।

নথি বলছে—লন্ডনের ১১৭, হোয়াইটচ্যাপেলে (৩ তলা) দেওয়ানবাগ শরিফ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালু হয় ২০২১ সালে। কোম্পানিটির মালিক দেওয়ানবাগীর ছেলে কুদরত-এ-খোদা। প্রতিষ্ঠানটিতে মোহাম্মদ মহিউদ্দীন খান নামে একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিচালকও রয়েছেন। মহিউদ্দীন খানের আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ইংল্যান্ডে। তবে সেসব প্রতিষ্ঠানে কুদরত-এ-খোদার মালিকানা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান দেওয়ানবাগীর নাম অনুসারেই। যুক্তরাজ্যের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত ওয়ার্ল্ড আশেক-এ-রাসুল অর্গানাইজেশন, ইউকে। ২০১২ সালে চালু হওয়া কোম্পানিটি ১০১৫-এ স্টক পোর্ট রোডের ঠিকানা ব্যবহার করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখা যায়, প্রতি বছর তাদের বিপুল পরিমাণ লেনদেন রয়েছে। কুদরত-এ-খোদার ব্যবসায়িক ঠিকানা ১১৭, হোয়াইটচ্যাপেলে (৩ তলা) ঠিকানায় স্মল বিজনেস অ্যাকাউন্টিং সল্যুশন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানও নিবন্ধিত। তবে ২০১৩ সালে চালু হওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছেন মোহাম্মদ মহিউদ্দীন খান।

বাংলাদেশ থেকে পাচার করা টাকায় বিদেশে কোম্পানি খুলেছেন—এই ভাবনার প্রমাণ মেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে আরসাম কুদরত-এ-খোদার নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের ১২ অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হয়। যদিও দেশে কুদরত-এ-খোদার নিজস্ব কোনো ব্যবসা নেই। এর পরও তার নামে পরিচালিত ১২ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে ৭৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে ৭৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

নথি বলছে, কুদরত-এ-খোদার নামে দেশেও তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে। যদিও এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো অফিস নেই। নেই দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রমও। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—সিস্টেক ইউনিম্যাক্স লিমিটেড, আইন্যাক্স লিমিটেড ও টিকেট চাই লিমিটেড। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে খোলা অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই অর্থের পুরোটাই তুলে নেওয়া হয়েছে।

কেবল কুদরত-এ-খোদাই নয়, তার অন্য দুই ভাই এ এফ এম মঞ্জুর-এ-খোদা এবং এ এফ এম ফজল-এ-খোদার নামে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হয়। সেখানে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তুলেও নেওয়া হয়েছে সব টাকা। এ পর্যন্ত তিন ভাইয়ের নামে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

তথ্য বলছে, এরই মধ্যে আরসাম কুদরত-এ-খোদার নামে পরিচালিত ২৪টি সঞ্চয়ী, চলতি ও স্থায়ী আমানত হিসাবের লেনদেন বিএফআইইউ কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে, যেখানে এখনো জমা রয়েছে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২২ সাল পর্যন্ত এসব লেনদেন দেখা গেছে।

এ ছাড়া মতিঝিলে স্থানীয় মো. আব্দুল গফুরের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে উটের খামার, যার দাগ নং ৮৪১, ৮৪৩, খতিয়ান নং ৬৪। জমি দখলের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছে গফুরের পরিবার। বিভিন্ন সময়ে হয়েছে হামলার শিকার।

জমি দখলের বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় মৃত গফুরের ছেলে মাইদুল ইসলাম মিন্টুর। তিনি বলেন, ১৯৮৫ সালে আমার বাবা-মা তিনটি দলিলের মাধ্যমে মতিঝিলের উত্তর ব্রাহ্মণচিরণ মৌজায় এসএ ও আরএস রেকর্ডভুক্ত মালিক মোহাম্মদ ও ওয়াজ মোহাম্মদ গংয়ের কাছ থেকে ৮০.৫০ শতাংশ জমি কেনেন। তখন থেকেই আমরা ওই জমির দখলে আছি। পরবর্তী সময়ে আশপাশের কিছু জমি বিক্রি করা হয় এবং সরকার রাস্তা নির্মাণের জন্য ১১.৬০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে। এ বাবদ আমাদের ক্ষতিপূরণের চেকও দেওয়া হয়। পরে সিটি জরিপে আমাদের নামে ৪৮.৩২ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমরা নিয়মিত এই ৪৮.৩২ শতাংশ জমির খাজনাও পরিশোধ করেছি।

মিন্টুর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে দেওয়ানবাগের লোকজন বিভিন্ন জাল দলিল তৈরি করে, যোগসাজশের মাধ্যমে এবং বিগত সরকারের প্রভাবশালী আমলাদের সহায়তায় আমাদের পুরো জমিটি দখল করে নেয়। সেইসঙ্গে আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জমিটি নিয়ে আদালত থেকে স্ট্যাটাস কো জারি হওয়ার পরও তারা সেখানে নিজেদের ইচ্ছামতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

গোলাম কিবরিয়া শাজাহান নামে একজনের ১০ শতাংশের বেশি জায়গাও দেওয়ানবাগ দখলে নিয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। অনেক বছর ধরে সেই জমি নিয়ে মামলা চললেও জমিটি দেওয়ানবাগের দখলেই রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চাইলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। গোলাম কিবরিয়া শাজাহানের মৃত্যুর পরে তার সন্তানরা দেশ ছাড়েন।

এদিকে ‘অপকর্মের’ বিষয়ে সব কিছু জেনে যাওয়া ও তাদের কাছে পাওনা অর্থ দাবি করায় বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শরীয়তুল্লাহ বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি। নিজেকে দেওয়ানবাগ শরিফের ‘মুরিদ সন্তান’ দাবি করে তিনি বলছেন, তাকে দেওয়ানবাগে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। নিজের জীবনের নিশ্চয়তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

নথিপত্র বলছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ কুদরত-এ-খোদা ৫ কাঠা জমির একটি প্লট ক্রয় করেছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক কাঠা জমির হস্তান্তর ফি ১০ লাখ টাকা। সেই আলোকে পাঁচ কাঠা জমির হস্তান্তর ফি দিতে হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। তবে এ জমি আসলে কত টাকায় তিনি কিনেছেন, সেই বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এল ব্লকে (২৪৯০/এইচ) ৫ কাঠার আরেকটি প্লট কেনা হয়েছে। সেটিও কত টাকায় কেনা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কুদরত-এ-খোদার পক্ষে জমি হস্তান্তরের লেনদেন ও চুক্তিপত্র সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পাদন করেন কাজী সালাহউদ্দীন।

এর বাইরে ২৫২, মানিকদিতে ট্রিনিটি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। মানিকদির ওই সাত কাঠা জমিতে সাততলা ভবনের কাজ চলছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে এই জমি কত টাকায় কেনা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নথি বলছে, সিস্টেক ইউনিম্যাক্স, আইনেক্স আইডিয়া এবং গৃহ ঘড়ি নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে কুদরত-এ-খোদার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে ২ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান তিনটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এর অস্তিত্ব নিশ্চিত হতে পারেনি কালবেলা। এ-সংক্রান্ত কোনো ওয়েবসাইট কিংবা ঠিকানাও পাওয়া যায়নি। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে।

বিএফআইইউর তথ্য বলছে, আরসাম কুদরত-এ-খোদার ব্যক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামের পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নগদে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকার বেশি, যা দেওয়ানবাগ শরিফ এবং ধর্মীয় ভক্ত-অনুরাগী কর্তৃক প্রদান করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া নগদ জমা ব্যতীত এসব অ্যাকাউন্টে ইএফটির বা ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমেও বিপুল অর্থ জমা হয়েছে। তবে দেওয়ানবাগ শরিফের উন্নয়নে এসব অর্থ ব্যয়ের কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়নি। এসব অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে এফডিআর, জমি ক্রয় ও আবাসিক ভবন নির্মাণে।

দেওয়ানবাগ পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার জামাতা সাইদুর রহমান মাহবুবী। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবন ভাড়া নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন একটি খানকাহ শরিফ। নাম দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল আশেকে রাসুল অর্গানাইজেশন। সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে টার্গেট করে মৃত্যুর পর সরাসরি জান্নাতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এভাবে ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু সম্পদের মালিকই নন, সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক প্রভাবশালী বলয়ও। তার কর্মকাণ্ডে মিরপুরের অনেক মানুষ অতিষ্ঠ বলে স্থানীয়রা জানান।

জানা যায়, সাইদুর রহমান মাহবুবী নামের ওই কথিত পীরের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। অভিযোগ আছে, বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে তারা জিয়াউদ্দিন রিপন নামে এক বাড়ির মালিককে জুলাই অভ্যুত্থানের একটি হামলার মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠান। মিথ্যা অভিযোগে প্রায় তিন মাস কারাগারে থাকায় ভুক্তভোগীর পরিবার চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। জানতে চাইলে রিপনের স্ত্রী শারমিন জাহান কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের তিন বছর বয়সী শিশুটিও জানে না যে তার বাবা কারাগারে। সে মনে করে বাবা অফিসে গেছেন এবং একটু পরেই ফিরে আসবেন। আমি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও বিচার পাইনি। বিনা অপরাধে আমার স্বামী তিন মাস কারাভোগ করেছেন।’

ফ্ল্যাট বায়না করে পুরো বাড়ি দখলের চেষ্টা: রিপনের পরিবার জানায়, তারা কথিত পীর সাইদুর রহমান মাহবুবীর কাছে তাদের ভবনের দুটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও পীর পুরো টাকা পরিশোধ না করেই ফ্ল্যাট দুটি দখলে নেন। পরে টাকা চাইলে শুরু হয় নানা জটিলতা। অভিযোগ রয়েছে, তখন থেকেই রিপনের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হতে থাকে।

পরিবারটির দাবি, পরে তারা ফ্ল্যাট দুটি বিক্রি করতে না চাইলে পীরপক্ষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পুরো ভবন দখলের পরিকল্পনা করে। কয়েকবার লোকজন নিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে রিপনের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন রিপন।

বিস্তারিত জানতে সম্প্রতি সেই পীরের মিরপুর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। গেটের দারোয়ান প্রতিবেদকের নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে লিখে রাখেন এবং ছবি তুলে রাখেন। তিনি জানান, পীর এলে তার সঙ্গে কথা বলে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এরপর আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় সৈয়দ এ এফ এম মঞ্জুর-এ-খোদার সঙ্গে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানার পরে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান। পরে মঞ্জুর-এ-খোদার বিশেষ সহকারী পরিচয়ে একজন ফোন করে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। তার কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও তিনি আর উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে সৈয়দ এ এফ এম কুদরত-এ-খোদার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে তার মিডিয়া উইং যোগাযোগ করবেন বলে জানান। পরে দেওয়ানবাগ শরিফের মুখপাত্র তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের যোগাযোগ করেন প্রতিবেদকের সঙ্গে। তিনি লিখিত প্রশ্নের জবাবে কালবেলাকে বলেন, দেওয়ানবাগ শরিফ একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষের দানের টাকায় সম্পদ গড়া হয়েছে মর্মে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, এর সঙ্গে বাস্তবতার ন্যূনতম কোনো সংযোগ নেই। এ ছাড়া দেওয়ানবাগ হুজুরের সন্তানরা পৈতৃক সূত্রে বাড়িগুলোর মালিক হয়েছেন। বসুন্ধরার প্লট ক্রয়ের ক্ষেত্রেও পৈতৃক সূত্রে টাকা এবং জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রাপ্ত টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকার মানিকদিতে কুদরত-এ-খোদার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘গৃহগড়ি’ ডেভেলপার কোম্পানি হিসেবে এখানে তিনতলা বাড়ি নির্মাণ করছে।

তিনি বলেন, বিএফআইইউর জব্দকৃত অ্যাকাউন্ট নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া দেওয়ানবাগ হুজুরের তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে যে অর্থ লেনদেনের কথা বলা হয়েছে, এগুলো ডেবিট এবং ক্রেডিট মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সার্বিক লেনদেনের চিত্র। এই অ্যাকাউন্টগুলোর লেনদেনের বিষয়েও উত্থাপিত অভিযোগগুলো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

জোবায়ের বলেন, বর্তমানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের (সিসটেক ইউনিম্যাক্স, টিকেট চাই, ইনেক্স আইডিয়া) দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকলেও এক সময় ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান ছিল। কুদরত-এ-খোদা ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এবং বিদেশে অবস্থান করায় এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদেশে ব্যবসার বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের সব আইন অনুসরণ করে হোয়াইটচ্যাপলের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের নথিতে অর্থের উৎস সংযুক্ত রয়েছে।

জমি দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, মতিঝিলে রাজউকের জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ রাজউকের প্রতিটি নোটিশের বিষয়ে দেওয়ানবাগ শরিফ নিজেদের পক্ষে উচ্চ আদালত থেকে রায় পেয়েছে। শাহজাহান ও গফুরের জমি দখলের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ ছাড়া সারা দেশে থাকা জমিতে দরবার, খানকা ও জাকের মজলিস পরিচালিত হচ্ছে। ধর্মীয় স্থাপনা কোনো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার হয় না।

দেওয়ানবাগ পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার জামাতা সাইদুর রহমান মাহবুবীর দখলের বিষয়ে জোবায়ের বলেন, সাইদুর রহমানের নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর তার জীবদ্দশাতেই মেয়ে তাহমিনা ও জামাতা সাইদুর রহমানকে দরবার শরিফ থেকে বের করে দেন এবং সামাজিকভাবে ত্যাজ্য করেন।

সূত্র: কালবেলা 

দেওয়ানবাগীর আরও বিস্তারিত ভণ্ডামি জানতে এখানে ক্লিক করুন,

https://pmmrc.blogspot.com/2020/08/blog-post.html


নির্যাতন সইতে না পেরে বলেছি, জাস্ট শুট মি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 নির্যাতন সইতে না পেরে বলেছি, জাস্ট শুট মি: (ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা) প্রকাশ: ০০:৩১, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ কথিত জঙ্...