Monday, January 5, 2026

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম:

(তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৪

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যযুক্ত চর্চা, যার প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ‘জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার থেকে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনে করা এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর এক হাজার ৫৬৯টিকে জোরপূর্বক গুমের ‘সম্ভাব্য’ মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকৃত সংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনকে একটি ঐতিহাসিক কাজ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন।

গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস এবং সাজ্জাদ হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া। আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কমিশন জানায়, মোট এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরো ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’

বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে, এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।

প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাইপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑবিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা।

কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সে শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। নৃশংস এ ঘটনার মধ্য দিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেত না।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে, সেটার ডকুমেন্টেশন এ রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এ ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বেরিয়ে আসতে হবে। এ নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে, সে প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার শত শত ব্যক্তিকে হত্যা করে এ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী এবং মুন্সীগঞ্জেও গুম করা ব্যক্তিদের লাশ ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।

এদিন প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা জানান, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল, সে সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে কাজ করেছি। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করি সরকার আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, যেন গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।

অভিযোগের হিসাব-নিকাশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনে দায়ের হওয়া এক হাজার ৫৬৯টি যাচাই-বাছাইকৃত অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ২৮২ জন আইনবহির্ভূত হেফাজতের পর পুনরাবির্ভূত হয়েছেন। অপরদিকে ২৮৭ জনের মৃত্যুর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জন চিরতরে নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের দেহ ‘ক্রসফায়ার’ বা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রতি ছয়জনে একজন গুমের শিকার আজও নিখোঁজ। শিকারদের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই পুরুষ। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে নারী গুমের বিষয়ে অনেক কম রিপোর্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক টার্গেটিং স্পষ্ট

গুমের শিকারদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে চরম পক্ষপাতের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে (৯৪৮ জন), তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশই বিভিন্ন বিরোধী দল ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গুমের শিকার তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত মাত্র একজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনা রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৯ সালের ১০টি ঘটনা থেকে সংখ্যা বেড়ে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫-এ পৌঁছায়। ২০১৩ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষকালে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে গুমের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে গুমের অপব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে স্থায়ী গুমের বদলে আটক রেখে পরে ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কারা দায়ী

অভিযোগের ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। পুলিশ দায়ী ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) । ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম কম উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কঠোর গোপনীয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিকাররা সংস্থার নাম চিনতে পারেননি। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ অভিযোগে ‘প্রশাসনের লোক’ নামে অস্পষ্ট পরিচয়ের ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে বলে উল্লেখ আছে। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের মধ্যে যৌথ অপারেশনও লক্ষণীয়, যা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ইঙ্গিত দেয়।

জটিলতা ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এক হাজার ৬৮২টি অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে ১১৩টিকে জোরপূর্বক গুমের সংজ্ঞায় আনা যায়নি। একটি উদাহরণে বলা হয়, এক যুবকের চরমপন্থি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও র‌্যাব গোয়েন্দারা পরিবারকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করে। এর ফলে পরিবারটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তায় ভোগে। যুবকের বোন কমিশনকে বলেন, রাস্তায় আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখতে প্রতিটি পুরুষকে গভীরভাবে পরীক্ষা করি, যদি সে-ই হয়। এমনকি একটি গুমের মামলায় কবর খুঁড়ে ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্য একজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময়, ব্যাপকতা ও অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এ গুমের চর্চা কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও ছাড়পত্র ছাড়া টিকে থাকতে পারত না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় এ ব্যবস্থাকে সম্ভব করেছিল।

কমিশনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ যুগের জোরপূর্বক গুমগুলোকে বিকৃতি হিসাবে নয়; বরং শাসনের হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে বোঝা যায়।

তদন্ত কমিশনের এ প্রতিবেদন বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমকে একটি ভয়াবহ, সুসংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ থেকে মুক্তি পেতে জরুরি ভিত্তিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ জুন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তারও আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়, দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এছাড়া গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে রয়েছেনÑতারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, December 30, 2025

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান:

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ২১

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত‍্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ব‍্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এসময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ‍্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র নামাজে জানাজার সময়সূচী পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে জাতি এক অভিভাবককে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি কারাবন্দী হন। ২০২০ সালে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রাপ্ত শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে ছিলেন বেগম জিয়া। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অসুস্থতার মধ্য দিয়েই সময় কাটে তার। মাঝে-মাঝে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিরোধী কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। এ বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। দফায়-দফায় তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও স্বল্প-উন্নতির মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সময় পার করছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। সেদিন সাংবাদিকদের সামনে তার মেডিক্যাল বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বুকে ইনফেকশন, হার্ট এবং ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছেন।

গতবছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন। ওই সময় তিনি এভারকেয়ারেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তিনি এ বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। চার মাস পর ৬ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি’র দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি দেশে ফেরেন। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। যাওয়ার আগে গুলশানের বাসায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কথা জেনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তখন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন।

‘খালেদা জিয়া’ শীর্ষক গ্রন্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ির নয়াবস্তি এলাকায় তার জন্ম। দিনটি সম্পর্কে আবদাল আহমেদ লিখেন, ‘তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। নতুন শিশুর আগমনে পরিবারের সবাই আনন্দিত।’

বিএনপির দলীয়সূত্র ও তার জীবনীগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম। তার ডাকনাম পুতুল। পারিবারিকভাবে তার আরও ডাকনাম ছিল— টিপসি, শান্তি। বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বন্ধু চিকিৎসক অবনীগুহ নিয়োগী সদ্য প্রসূত কন্যাকে ‘শান্তি’ নামে সম্মোধন করেন।

পৃথিবী তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধশেষে মাত্র কয়েকদিনে পড়েছে; দিনকয়েক আগে জাপানে ঘটে গেছে আমেরিকার আনবিক বোমার হত্যাযজ্ঞ। ভারতসহ নানা দিকেই তখন শান্তি মিছিল; মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই নতুন জন্ম নেওয়া শিশুকন্যার নাম হয়ে উঠলো ‘শান্তি’। পরবর্তী সময়ে মেজোবোন সেলিনা ইসলামের রাখা ‘পুতুল’ নামটিই জড়িয়ে যায় খালেদা জিয়ার ডাকনাম হিসেবে।

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ অবশ্য খালেদা জিয়ার জন্ম দিনাজপুরে হয়েছে বলে তার জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

খালেদা জিয়ার আদিবাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। তার বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন (খুরশিদ জাহান হক চকলেট, সেলিনা ইসলাম বিউটি ও খালেদা খানম পুতুল) ও দুই ভাইয়ের (মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর) মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। এদের মধ্যে এক বোন সেলিনা রহমান, ভাই শামীম ইস্কান্দর জীবিত আছেন।

রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান

স্বামী জিয়াউর রহমানের বধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে কিছু সেনা সদস্যের গুলিতে শাহাদাত বরণ করার পর বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়াপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরোনো ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া, তার দল বিএনপিও বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারপদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি; তিনি হন বিরোধীদলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আজমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়কুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। জোটে চারদল থাকলেও সরকারগঠনে বিএনপির সঙ্গে শুধু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ফের বিরোধীদলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি, এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনও সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি।

‘আপসহীন নেত্রী’ পরিচিতি

সামরিক শাসন থেকে শুরু করে বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও অনড় অবস্থানে ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করেননি। দল ও ক্ষমতার চেয়ে তার কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বড় ছিল। এই আপসহীন মনোভাবই তাঁকে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

দীর্ঘ অসুস্থতা ও শেষ জীবন

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, যেমন—কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি কারাবন্দী হন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’তে অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ একজন সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেত্রীকে হারালো, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শিখরে

স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে পরিবারকে বিপদে রেখেই দেশের জন্যে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। রণাঙ্গনে সন্মুখভাগে লড়াই করেছেন সেক্টর কমাণ্ডার হিসেবে। অন্যদিকে হানাদার বাহিনীর হাতে দুই সন্তান নিয়ে দুঃসহ বন্দীজীবন কাটিয়েছেন জিয়াপত্নী খালেদা জিয়া। সাদামাট গৃহবধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েও নিজের ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়চেতা বৈশিষ্ট্যের কারণে এক সময় উপমহাদেশের রাজনীতির অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন বেগম খালেদা জিয়া।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে ৩০ মে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে শাহাদাৎ রবণ করেন। আধিপত্যবাদী শক্তির ক্রীড়নক কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যের ব্রাশফায়ারে শহীদ হওয়ার পর বিএনপির হাল ধরতে বাধ্য হন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়াপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরোনো ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

সংগ্রাম মুখর জীবনের এক প্রায় এক দশকের মাথায় খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরমধ্যে দ্বিতীয়দফার দায়িত্বকাল ছিল একমাস। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে খালেদা জিয়া হয়ে ওঠেন ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব। সকল পূর্বাভাস ভুল প্রমান করে দলকে জয়ী করতে সমর্থ হন খালেদা জিয়া। নিজেও পাঁচ পাঁচটি আসনে রেকর্ড ভোটে বিজয়ী হন। ওই বছরই পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারপদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি; তিনি হন বিরোধীদলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে অধ্যাপক গোলাম আজমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ফের বিরোধীদলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি, এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনও সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, December 28, 2025

সীমান্তে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে নাশকতার প্রস্তুতি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

সীমান্তে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে নাশকতার প্রস্তুতিঃ

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ১৭

 


দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র অনুপ্রবেশের তৎপরতা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসী এই অস্ত্র পাচারচক্রের নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। তাদের নির্দেশনায় সীমান্তজুড়ে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পদ্মা নদী ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা এই অস্ত্র চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে অতীতে রাজশাহী অঞ্চলের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সংশ্লিষ্টতা ছিল। মামলা ও তদন্তের চাপে তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। সেখান থেকেই তারা বাংলাদেশে থাকা অনুসারী ও সহযোগীদের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের ছত্রছায়ায় যারা অস্ত্র কারবারে যুক্ত ছিল, তাদের কেউ দেশে ফিরে সক্রিয় হয়েছে, কেউ বিদেশে থেকেই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, আবার কেউ কারাগারে থেকেও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

সীমান্ত রুট ও নজরদারি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন চক্র দেশি-বিদেশি অস্ত্র মজুত করছে। এ পরিস্থিতিতে র‌্যাব-৫ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে রয়েছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, অস্ত্রসহ যেকোনো অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক উদ্ধার ও অভিযান

গত ১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনোহরপুর সীমান্ত থেকে বিজিবি চারটি বিদেশি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন ও ২৪ রাউন্ড গুলি জব্দ করে। বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুত এসব অস্ত্র জব্দ করা হয়।

এর আগে ২৬ অক্টোবর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, গুলি, গানপাউডার ও প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চালানটি ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিল।

এছাড়া ১৬ আগস্ট রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই মোন্তাসেরুল আলম অনিন্দ্যকে আটক করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি এয়ারগান, একটি রিভলবার, ছয়টি দেশি অস্ত্র, একটি টেজারগান, চারটি ওয়াকিটকি ও একটি বাইনোকুলার। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী ও নওগাঁ এলাকায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে একাধিক বিদেশি ও দেশি অস্ত্র জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে।

অস্ত্রের উৎস ও পাচার কৌশল

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দ করা অস্ত্রের গায়ে ‘জাপান’ বা ‘ইউএসএ’ লেখা থাকলেও অধিকাংশই ভারতের বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি। গ্রেপ্তার হওয়া বহনকারীদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, বিদেশি নাম লেখা থাকলে অস্ত্রের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এসব অস্ত্র প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় মজুত করে পরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পাচারকাজে সবজি ও ফলের চালান ব্যবহার করা হয়, আর বহনকারীদের বেশিরভাগই কিশোর ও যুবক।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক নেতারা বাংলাদেশে তাদের পুরোনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। দেশে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী অস্ত্রের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, চালান পৌঁছে দেওয়া এবং অর্থ লেনদেনে সহায়তা করছেন।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সীমান্তের আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের কারণে এই অপরাধচক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবৈধ অস্ত্রের মজুত আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা সীমান্ত দিয়ে গানপাউডার ও অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন হাত ঘুরে রাজধানীসহ দেশের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্রের দাবি, ভারতের কলকাতাসহ রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে কয়েকজন পলাতক সাবেক এমপি, মেয়র ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী এই সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

স্থানীয় একটি সূত্রের অভিযোগ, দেশে বসেই অস্ত্র পাচারের তদারকি করছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মানিক। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর খানপুর সীমান্তে দায়িত্বরত কয়েকজন বিজিবি সদস্য জানান, অধিনায়কের নির্দেশে আমরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছি।

চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর চর এলাকার কৃষক সোলায়মান হোসেন জানান, সম্প্রতি এলাকায় অপরিচিত যুবকদের চলাচল বেড়েছে। বিজিবি ইউসুফপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সোলায়মান বলেন, সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ যেকোনো অবৈধ সামগ্রী অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে। র‌্যাব-৫-এর একটি সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার লক্ষ্যে অস্ত্র মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সীমান্তে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের কারণে অস্ত্র পাচারচক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ‘টার্গেট ইভেন্ট’ হিসেবে ধরে নিয়ে বিভিন্ন অশুভ শক্তি অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। ভারতে বসে থাকা পলাতকরা এই সহিংসতার বাজার তৈরি করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে। স্থানীয়ভাবে তাদের দলের কিছু লোকের সমর্থন এই অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অবৈধ অস্ত্রের মজুত নির্বাচনি পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ জন্য নির্বাহী বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে সীমান্তজুড়ে অস্ত্র পাচারের এই নেটওয়ার্ক শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই হুমকি অপসারণে কার্যকর ও সমন্বিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ আমার দেশ

Saturday, December 27, 2025

হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত, আছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা। (BDC CRIME NEWS 24)

BDC CRIME NEWS24

হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত, আছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা:

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩: ২২

পৌষের হাড়কাঁপানো শীত ও গভীর রাতের ঘন অন্ধকার উপেক্ষা করে শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে জনমানুষ। বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ মোড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ এক কাতারে অবস্থান করছেন। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন না—এমন শপথে অনড় রয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় সরেজমিনে দেখা যায়, কম্বল জড়িয়ে ও সামিয়ানা টানিয়ে শাহবাগ মোড়ে বসে আছেন আন্দোলনকারীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর চারপাশ— ‘শাহবাগ না ইনসাফ’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘এক হাদির রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশজুড়ে মানুষের ভিড় ও চারদিকে ব্যারিকেড দেখা যায়। মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পাশের লেনে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করছে।

রাজধানীর রামপুরা থেকে দুই শিশু নিয়ে অবরোধে এসেছেন এক দম্পতি। দুচোখ ভেজা কণ্ঠে মা উমায়ের কুলসুম আমার দেশকে বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের কথাগুলো শুনলে ঘরে থাকা যায় না। উনি বিচার চেয়ে ওসিয়ত করে গেছেন। আমরা কিভাবে ঘুমাই?’

তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, ‘এই শীতে কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিচার না পেলে এই কষ্টের মানে নেই। আমরা বিচার চাই। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না।’

শহীদ হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, রাত গড়িয়ে দিন এলেও অবরোধ চলবে। প্রয়োজনে দিন-রাত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের বিচার নিশ্চিত না করে আমরা যাব না। কোনো আশ্বাসে কর্মসূচি শেষ হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। বিচার শুরু হলেই আমরা কর্মসূচি তুলে নেব।’

অবস্থানে অংশ নেওয়া অনেককে আবেগে কাঁদতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, ‘আজ যদি হাদির বিচার না হয়, কাল যে কেউ হাদি হতে পারে। আমরা তা চাই না।’

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। ভিসি চত্বর, টিএসসি ও শহীদ মিনার ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয় তারা। এতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

পশ্চিমবঙ্গের ৩ জেলার হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধপশ্চিমবঙ্গের ৩ জেলার হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় সরেজমিনে দেখা যায়, অবস্থান কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার স্লোগানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘হাদির মুখ বন্ধ করে দেওয়া মানে হাজারো কণ্ঠকে জাগিয়ে তোলা। আমরা বক্তৃতা দিতে আসিনি, ইনসাফ চাইতে এসেছি। হাদি ভাইয়ের রক্তের বিচার হতেই হবে।’

এদিন ইনকিলাব মঞ্চ তাদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলো হলো— দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং হত্যার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ নিশ্চিত করা।

অবস্থানে থাকা এক নারী আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমরা শুধু চাই—খুনের বিচার হোক। রাষ্ট্র যদি বিচার দিতে না পারে, তাহলে জনগণ রাস্তায় নামবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, December 21, 2025

৬ ভাই-বোনের ‘হাদি পরিবারে’ কে কী করেন?

BDC CRIME NEWS 24

৬ ভাই-বোনের ‘হাদি পরিবারে’ কে কী করেন?

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫: ০৮

আলেম ও শিক্ষাবিদদের পরিবার জন্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির। ছয় ভাইবোনের এই পরিবারে প্রায় সবাই ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই কুরআন -হাদিসের শিক্ষায় বেড়ে ওঠা ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন কর্মী। দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়ে তিনি এখন শহীদ।

শিক্ষাজীবনে ওসমান হাদি ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবিকার তাগিদে প্রাইভেট পড়াতেন। সবশেষ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার সন্তান ওসমান হাদি। তার বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার একটি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেজ ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

ওসমান হাদির তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির হোসেন নলছিটি ফুলহরি আবদুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং একটি মসজিদের ইমাম। মেজ বোনের স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারা দেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ জানাজায় উপস্থিতি হন। হাদির জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, December 16, 2025

ঢাকায় ভয়ংকর ২০ শুটার এর পরিচয়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ঢাকায় ভয়ংকর ২০ শুটার এর পরিচয়:

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যতই ঘনিয়ে আসছে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে অপরাধজগৎ দাপিয়ে বেড়ানো ভয়ংকর শুটারদের ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর। এসব শুটার সচরাচর অপরাধজগতের অন্ধকার চোরাগলিতে থাকলেও মাঝেমধ্যেই ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে নিজেদের দুর্ধর্ষতার জানান দিচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই অন্তত ২০ ভয়ংকর শুটারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীতেও রয়েছে ভয়ংকর কয়েক শুটারের প্রভাববলয়।

শুধু গত দেড় মাসের মধ্যেই অন্তত চারবার এই শুটারদের ভয়ংকর রূপ দেখেছে মানুষ। এর মধ্যে গত নভেম্বরে চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থীর গণসংযোগের মধ্যেই গুলি করে দুর্ধর্ষতার জানান দেয় অস্ত্রধারী। একই মাসে শুটারের আগ্নেয়াস্ত্রের নির্ভুল নিশানায় রাজধানীর পল্লবীতে প্রাণ যায় যুবদল নেতার। পুরান ঢাকায় শুটারের নিখুঁত নিশানায় প্রাণ যায় আরেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর। এর আগে আলাদা দুই ঘটনায় শুটারদের নিশানায় পরিণত হয়ে গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের ৩ সদস্য। সর্বশেষ গত শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দক্ষ এক শুটারের অস্ত্রের নিশানায় পড়েন। যে ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার নড়বড়ে চিত্রের সঙ্গে অস্ত্রধারী শুটারদের ভয়ংকর রূপ সামনে নিয়ে আসে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে এমন নির্ভুল নিশানার বন্দুকবাজরাও নানা কারণে ততই আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ঘিরে এলাকাভিত্তিক ঘাপটি মেরে থাকা শুটাররাও তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের অস্ত্রধারী ও শুটারদের ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকি। নির্বাচন ছাড়াও তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করি। তবে তপশিল ঘোষণার পরই সম্প্রতি কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটায় এবং সামনে নির্বাচন থাকায় আমরাসহ অন্যান্য বাহিনী এ ধরনের অস্ত্রধারী ও শুটারদের ব্যাপারে বিশেষভাবে কাজ করছি।’

আর পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ত্রধারী ও পেশাদার অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মোটা টাকায় ভাড়ায় খাটছে গ্যাংস্টারদের পালিত শুটাররা: রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে গত ১০ নভেম্বর সকালে ফিল্মি স্টাইলে টানা ১০ রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এক সময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ ওরফে মামুনের। এক মিনিটেরও কম সময়ে কিলিং মিশনটি সম্পন্ন করে শুটাররা নিরাপদে ঘটনাস্থল ছাড়ে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামুনকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় ফারুক হোসেন ফয়সাল ওরফে কুত্তা ফারুক এবং রবিন আহম্মেদ ওরফে পিয়াস। হাসপাতাল গেটে ভিড়ে ভরা মানুষের মধ্যে এই দুই শুটারের অস্ত্র চালানোর ধরন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (শারীরিক ভাষা) দেখে বিস্মিত হন খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিলারদের ব্যাকআপ টিমে ছিল পুলিশের তালিকায় থাকা আরেক শুটার আব্দুর রাজ্জাক রনি। যার নাগাল পাওয়া যায়নি এখনো।

মামুন হত্যায় জড়িত গ্রেপ্তার দুই শুটারকে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘ওই হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া বন্দুকধারীরা প্রত্যেকেই শার্প শুটার (অত্যন্ত দক্ষ)। একযুগ আগে গুলশানে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যায় জড়িত শুটারদের পরে এমন অভিজ্ঞ ও অব্যর্থ শুটারের দেখা মেলেনি। এ ধরনের বন্দুকধারীরা মূলত ভাড়ায় খাটে এবং হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের হত্যার চুক্তি নেয়। রাজনীতিক, শক্ত প্রতিপক্ষ গ্যাং স্টারদের মারার জন্য তারা পারস্পরিক সমঝোতা বা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকে।’

মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের ছয় শুটারে ভয়: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসে ফোর স্টার গ্রুপের নাম। গত ১৭ নভেম্বর তাকে পয়েন্ট-ব্ল্যাংক রেঞ্জ (অস্ত্র ঠেকিয়ে) থেকে এলোপাতাড়ি গুলিতে হত্যা করা হয়। নাইন এমএম রিভলবার দিয়ে তিনজন শুটার তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ওই কিলিং মিশনে ফোর স্টার গ্রুপের সোহেল ওরফে পাতা সোহেল, মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম, সোহাগ ওরফে কাল্লু, রোকন ও জনি অংশ নেয়। তাদের মধ্যে রোকন এখনো অধরা।

মিরপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘ফোর স্টার গ্রুপে ঠিক কতজন শুটার রয়েছে, সেটির নিশ্চিত ধারণা নেই। তবে এই সন্ত্রাসী গ্রুপটির আরও অন্তত পাঁচজন দক্ষ শুটারের তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। এর মধ্যে জাকির অন্যতম। জাকির হলো সম্প্রতি ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করা মোক্তারের অনুসারী। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করছে ডিবি ও র্যাব।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিবরিয়ার কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শুটাররা প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল।

পুলিশকে গুলি করতেও কাঁপে না শুটার বাপ্পির হাত: দুর্ধর্ষ আরেক শুটার বাপ্পি। তাকে মো. আলী ওরফে ফিরোজ আলম ওরফে আহসানুল হক নামেও চেনে অপরাধ জগতের অন্ধকার চোরাগলির লোকজন। রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শুরু করে সাভার ও আশুলিয়াতেও রয়েছে তার বিচরণ। খুচরায় ফেনসিডিল বিক্রির মাধ্যমে অপরাধজগতে হাতেখড়ি। এক পর্যায়ে পুরোপুরি মাদক কারবারে জড়িয়ে যায়। ফেনসিডিল ছেড়ে ইয়াবার কারবারে প্রবেশের পর নিজের মাদক সাম্রাজ্যের নিরাপত্তায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে শুরু করে।

বাপ্পিকে নিয়ে খোঁজ রাখেন পুলিশের এমন একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘৭ হাজার টাকা দিয়ে ২০১০ সালে মেহের আলী নামে একজনের মাধ্যমে পাবনা থেকে বাপ্পি নিজের জন্য একটি অস্ত্র আনায়। ২০২৫ সালের মধ্যে হয়ে ওঠেন শার্প (নিপুণ দক্ষতা) শুটার। এই বাপ্পি মাদক কারবারের সঙ্গে ২০১৪ সাল থেকে সমানভাবে চালিয়ে যায় অস্ত্র বিক্রি ও ভাড়ার কারবার। বাদল নামে একজন তার অন্যতম সহযোগী।’

চলতি বছরের জুনে এ বাপ্পির ভয়াবহ রূপ দেখেছিল খোদ পুলিশই। রাজধানীর পল্টনে গভীর রাতে ইয়াবার চালান নিয়ে সহযোগীদেরসহ পুলিশের মুখে পড়ে। রাতের অন্ধকারেই পুলিশকে নিখুঁত নিশানায় পরিণত করে গুলি চালায় তারা। এতে ডিবির তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনায় যশোর থেকে বাপ্পিসহ তার সহযোগী আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ও কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। যদিও এর ছয় মাস না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের গা ঢাকা দিয়েছে সে।

জবানবন্দিতে বাপ্পি জানিয়েছিল, বিভিন্ন মামলায় কয়েকবার কারাগারে গিয়ে একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। সেখান থেকেই মূলত অবৈধ অস্ত্রের অন্ধকার জগতে পা রাখে। ওই জগতে প্রবেশের পর চলতি জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি ও সরবরাহ করেছে অন্তত ৭০টি অবৈধ অস্ত্র।

কিশোর গ্যাং ও দলছুট শুটাররাও মাথাব্যথার কারণ: ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় আলোচনায় এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের নাম। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনার পর তার দেশ ছাড়ার খবর মিলেছে। এর আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিল সে। যদিও সে সময়ে শুটার হিসেবে তার নাম আলোচিত ছিল না। তবে হাদিকে গুলির পর তাকেও ‘শার্প শুটার’ হিসেবে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। যদিও আদাবর-শ্যামলী এলাকায় ফয়সাল অস্ত্রবাজ হিসেবেই চিহ্নিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংসহ অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোতে অন্তত দশজন সক্রিয় শুটার রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো—কিলার পাপ্পু গ্রুপের সাইফুল, শরিফ ও বাবলা। অন্য একটি গ্রুপের আলোচিত শুটার কালু ও রাজু। মোহাম্মদপুরের অস্ত্রধারী ও শুটারদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা এ ধরনের বিষয়গুলোর প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি। এখনো সেরকমই। তবে এলাকাভিত্তিক অস্ত্রধারী ও শুটারদের কোনো তালিকা নেই। বিভিন্ন সময়ে সোর্সের মাধ্যমে আমরা তথ্য পেয়ে অস্ত্রধারী শুটারদের গ্রেপ্তার করেছি, এখনো করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শুটারদের আছে নিজস্ব অস্ত্র ভান্ডার: গত সাত মাসে শুটারদের দুটি অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে ডিবি। এর মধ্যে সম্প্রতি যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে একটি অস্ত্র ভান্ডারের খোঁজ পায় ডিবি। পল্লবীর একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে কিবরিয়ার হত্যাকারী। এই অস্ত্র ভান্ডার দেখভাল করত মো. মোক্তার হোসেন। এ ছাড়া পুলিশকে গুলি করার ঘটনায় বাপ্পির ডেমরা ও আশুলিয়ার বাসা থেকেও বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র শুটার নিজের কাজে ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ভাড়াতেও দেওয়া হয়। এসব অস্ত্র ভাড়া করে এক গ্রুপ আর ব্যবহার করে আরেক গ্রুপ। ভাড়া যে দেয়, যে নেয় এবং যে ব্যবহার করে, অনেক সময় কেউই কাউকে চেনে না। এসব ক্ষেত্রে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া শুটারদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত অবৈধ অস্ত্রধারী ও শুটারদের অনুশীলন বা প্রশিক্ষণের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থাকে না। ঢাকাকেন্দ্রিক শুটার অনুশীলন করার জন্য বেছে নেয় গভীর রাত ও নির্জন নদীর মাঝখানের জায়গা।

অপারেশনের ধরনে নির্ধারিত হয় অস্ত্র ও শুটার ভাড়ার হার: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, মাত্র ছয়শ থেকে তিন হাজার টাকায়ও অনেক সময় শুটার ভাড়া পাওয়া যায়। তবে কাকে গুলি করা হবে, ভয় দেখানো হবে, নাকি হত্যা করা হবে—এসবের ওপর নির্ভর করে শুটারের ‘মজুরি’। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়া অন্তত পাঁচজন শুটারের ভাষ্য থেকে এসব তথ্য মিলেছে।

এ প্রসঙ্গে ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলে টাকার পরিমাণ বাড়ে। হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আবার কখনো কখনো সম্পর্কের খাতিরে বিনা টাকায় কাজ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে পরবর্তী সব ঝামেলা এড়ানোর দায়িত্ব থাকে অপর পক্ষের প্রতি।’

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অস্ত্রধারী ও শুটারদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এ বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলে নির্বাচনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠে আমরা সংঘাত, সহিংসতা, পেশিশক্তির ব্যবহার, আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনাগুলো দেখেছি। এমন প্রেক্ষাপটে অস্ত্রবাজদের, কিলারদের চাহিদা বাড়ে। এরই মধ্যে আমরা তেমন দু-একটি ঘটনা দেখেছি। সেক্ষেত্রে আমরা বলছি যে, আইন প্রয়োগের জায়গা থেকে যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলে তখনই সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

অবৈধ অস্ত্রধারী ও শুটারদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর অস্ত্রধারী ও শুটারদের অপতৎপরতার বিষয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে অস্ত্রধারী ও পেশাদার অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশিপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সূত্র: কালবেলা 

Saturday, December 13, 2025

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও এখন ইউএনও। (BDC CRIME NEWS24)

p>BDC CRIME NEWS24

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও এখন ইউএনও:

প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদায়নে, আওয়ামী লীগপন্থী বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একই বিভাগে পদায়ন পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলারা রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে মনযোগ দিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব না।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে বড় রদবদল এনেছে অন্তর্বতী সরকার। নির্দলীয় ব্যক্তিদের পদায়নের লক্ষ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বিগত নির্বাচনে সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন না করা, ৩৬তম ব্যাচের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে।

আরটিভির হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, সিলেট বিশ্বনাথের ইউএনও উম্মে কলসুম রুবি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছিলেন রাজধানীর ধানমন্ডি ও আমিনবাজারের এসিল্যান্ড। তার স্বামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদের শিপু। গোলাপগঞ্জে ইউএনওর শাখী ছেপের স্বামী আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় সদস্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে, মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর দীর্ঘদিন পদায়ন ছিল ঢাকার মধ্যেই। কেরানীগঞ্জের সাবেক এই এসিল্যান্ড এখন শরীয়তপুরের ডামুড্যার ইউএনও। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত শিবানী সরকারও পদায়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ইউএনও হিসেবে। 

নাটোর সিংড়া উপজেলার ইউএনও পদায়ন পেয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতা আবদুল্লাহ আল রিফাত। ছাত্রলীগের রাজনীতি করা জালালুদ্দিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড থেকে ফরিদপুরের ইউএনও। 

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বন্ধু ফারজানা ববি মিতু লৌহজংয়ের এসিল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করলেও এবার সেখানেই গিয়েছেন ইউএনও হিসেবে। বুয়েটে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত মো. কায়েসুর রহমান পদায়ন পেয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলায়।

এসব পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেছে জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স।

জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্সের আহবায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান বলেন, ইউএনও পদায়ন নিয়ে আমরা যেসব পোস্ট করেছি তার সবগুলোর তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। বিতর্কিত প্রায় ২০ জনের ওপরে পদায়ন হয়েছে। 

প্রশাসনে এমন অবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংকে দায়ী করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরি। তিনি বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে আমি তদবিরের একটা আখড়া হিসেবে মূল্যায়ন করি। আপনি কাজ করতে গিয়ে যখন নিজের এজেন্টা বাস্তবায়ন করবেন তখন আপনি ধরা খেলেন। পাশাপাশি আপনার এপিডি উইং ধরা খেলো, মন্ত্রণালয় ধরা খেলো।   

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান ঢাবি লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের। তিনি বলেন, দক্ষতা মূল্যায়ন করে যদি প্রশাসনকে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হয় তাহলে আমার মনে হয় আরও বেশি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

তবে জনপ্রশাসনের এসব ইস্যুতে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেন জনপ্রশাসন সচিব।

সূত্র: আরটিভি

Sunday, December 7, 2025

ক্ষমতার কেন্দ্র বাড়িগুলো এখন নিঝুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

ক্ষমতার কেন্দ্র বাড়িগুলো এখন নিঝুম:.

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতার স্বাদ নিতে এই সময়ে শেখ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যের বাড়ির সামনে দলীয় নেতাকর্মীসহ অনুগতদের ভিড়ের কমতি ছিল না।

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে গেছে।

শেখ পরিবারের সদস্যদের বাড়ির সামনে নেতাকর্মীদের আগের সরব উপস্থিতি নেই। নেতাকর্মীদের পদচারণে মুখর বাড়িগুলোয় এখন সুনসান নীরবতা। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা ঢাকা, বরিশাল ও খুলনায় সরেজমিনে শেখ পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছু বাড়ি ঘুরে এমন চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা

রাজধানীর ধানমণ্ডির লেকপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি।

বাড়িটিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরে কেউ থাকতেন না। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর বাড়ি হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় ছিল সেটি। নিরাপত্তার কারণে বাড়ির সামনের সড়কে চলাচল সীমিত ছিল। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ওই সড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।

বাড়ির উল্টো পাশে ছিল একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। বর্তমানে ওই পুলিশ ক্যাম্প নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে সুধা সদন নামের এই বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িটি থেকে জিনিসপত্রও বের করে নিয়ে যায় তারা।

শেখ রেহানা

শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার বাড়িটি রাজধানীর গুলশানে। বাড়িটি এক হাজার এক টাকা মূল্যে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া। বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় এই বাড়িটির মালিক বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষ। বিশেষ আইনে ২০০৯ সালে দেড় বিঘা আয়তনের গুলশানের বাড়িটি বরাদ্দ পান শেখ রেহানা।

জানা যায়, শেখ রেহানা মাঝে মাঝে গুলশানের ওই বাড়িতে অবসর সময় কাটাতেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে তছনছ করা হয়। একসময় বাড়িটি ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে শুধুই নীরবতা। বাড়িটির নিরাপত্তায় বসানো তিনটি নিরাপত্তা চৌকি বর্তমানে ফাঁকা। আগে বাড়িটির সামনের যানজট কমাতে ছিল বাড়তি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এখন সেখানে নেই কোনো ট্রাফিক সদস্য। বাড়িটির সামনে কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আর বাড়ির মূল ফটকে ঝুলছে তালা। দূর থেকে ভেতরে দৃষ্টি দিলে বোঝা যায়, লম্বা সময় ভেতরে কেউ ঢোকেনি। বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় কয়েক স্তরের ঝরাপাতা জমে আছে।

শেখ সেলিম

রাজধানীর বনানীতে বসবাস করতেন শেখ পরিবারের আরেক সদস্য শেখ সেলিম। তার বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল ফটক বন্ধ। বাড়ির ভেতরে কেউ আছেন কি না জানতে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করা হলেও কারো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সীমানা প্রাচীরের ওপর দিয়ে তাকিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির ভেতরে কেউ নেই। পাশের বাড়ির দারোয়ান হোসেন মিয়া জানান, বাড়িটিতে শেখ সেলিমের পরিবার থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর আর ওই বাড়িতে কেউ আসেননি। অভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িটিও হামলার শিকার হয়। কয়েক দিন আগে ময়লা-আবর্জনা সরানো হয়েছে। তবে ভেতরে এখন কেউ নেই।

বরিশালে ‘ভাইয়ের বাড়ি’

সেরাল। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে উঁচু প্রাচীরঘেরা দোতলা একটি বাড়ি। আনুষ্ঠানিক কোনো নাম না থাকলেও বাড়িটি বরিশাল বিভাগজুড়ে সবার কাছে পরিচিত ‘ভাইয়ের বাড়ি’ নামে। এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বাড়ি। হাসানাতকে নেতাকর্মীরা ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন।

বরিশালে এলে তিনি গ্রামের এই বাড়িতে থাকতেন। তখন মধ্যরাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণে সরগরম থাকত বাড়িটি। রাস্তায় থাকত পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ক্ষমতার গত ১৫ বছর এই বাড়িতে বসে হাসানাত বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যানরা আসতেন এই বাড়িতে। বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের পদ বণ্টন থেকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বাড়িটি থেকে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই দেশ ছেড়ে চলে যান হাসানাত। সেই থেকে বাড়িটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

খুলনার আলোচিত ‘শেখবাড়ি’

ভোর হতে না হতেই চলাচল শুরু হতো মানুষ ও গাড়ির। প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা পালাক্রমে হাজির হতেন। ছিল নেতাকর্মীদের মুখর উপস্থিতি। বাড়িটি খুলনার আলোচিত ‘শেখবাড়ি’। নগরীর শেরেবাংলা রোডে বাড়িটির অবস্থান। মাঝেমধ্যে বাড়িতে থাকতেন শেখ আবু নাসেরের সন্তানরা। বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বিসিবির সাবেক পরিচালক শেখ সোহেল উদ্দিন এবং ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল্লাহ রুবেল। তাদের পাশাপাশি বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়ও মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে আসতেন।

আলোচিত ওই ‘শেখবাড়ি’ বর্তমানে সনসান। নেই কোলাহল। গত ৪ ও ৫ আগস্ট কয়েক দফায় বাড়িটিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার যে আগুন জ্বলছিল ৪ ও ৫ আগস্ট সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বাড়িটির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এখনো মানুষ নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করে।

তবে বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগের দুই মাস পর একদিন রাতের আঁধারে ভাঙা গেটটি কেউ টিন দিয়ে আটকে দিয়েছেন। ফলে এখন আর কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

সূত্র: যুগান্তর

মানহীন মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠছে গলার কাঁটা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

মানহীন মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠছে গলার কাঁটা:

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯: ০৮

একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার অনেকটাই নেই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে। এখানে হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে নানা সমস্যায় জর্জরিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ। বিক্রমপুর মেডিকেল কলেজের অবস্থাও ভালো নয়। এমন অনেক সমস্যায় জর্জরিত বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এসব মানহীন কলেজ দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠছে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান তলানিতে। অবকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা, হাসপাতালের সংযুক্তি এবং শিক্ষার মান না থাকায় এ কলেজগুলো ভবিষ্যতে নিম্নমানের ডাক্তার তৈরি করবে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এসব কলেজ বন্ধ করা বা শিক্ষার্থীদের অন্য স্বীকৃত কলেজে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এসব কলেজ থেকে পাস করা ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের অনেকেই রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।

সরকারের তদন্তেও অনেক কলেজই মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে এসব কলেজ বন্ধের সুপারিশও করা হয়েছিল, যদিও পরে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কাজে ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থামেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কাজে ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৭টি সরকারি ও ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) তথ্য অনুযায়ী, পুরো ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে গুরুতর শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষকের ছয় হাজার ৪৪৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে খালি রয়েছে দুই হাজার ৭০০টি, অর্থাৎ ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। ঘাটতি সবচেয়ে বেশি অধ্যাপক পর্যায়ে, যেখানে ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ পদ খালি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের পর নির্মিত মাগুরা, নীলফামারী, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, নওগাঁ ও নেত্রকোনা—এই ছয়টি মেডিকেল কলেজের মান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ কলেজগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত নয় এবং নানা সংকটের সম্মুখীন।

রাজনৈতিক বিবেচনায় হাসপাতাল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলের কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তা কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি ছাড়াই নেত্রকোনা, চাঁদপুর, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা ও হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যথেষ্ট জনবল বা গবেষণাগার নেই। ফলস্বরূপ, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে না।

এসব মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২০১৫ সালে প্রশাসনিক অনুমোদন পায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। ক্লাস নেওয়ার জন্য স্থান না পাওয়ায় তখন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনুমোদন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে তা চলছে সদর আধুনিক হাসপাতালে। শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা নির্বাচন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কের পাশে সদর উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

অপর পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ২০১৮ সালে অনুমোদন পায় এবং পরবর্তী বছর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে নেত্রকোনা মেডিকেলের ক্লাস চলছে সদর হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষে। আট বছরেও নিজস্ব কোনো ভবন হয়নি কলেজটির। এরই মধ্যে গত বছর আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭০ করা হয়েছে । একই সঙ্গে রয়েছে শিক্ষক সংকটও। কলেজের গবেষণাগারে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় বইয়ের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। হাতেকলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

এদিকে চাঁদপুর মেডিকেলের জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি এখনো। সদর হাসপাতালের মাত্র আটটি কক্ষেই চলছে এই কলেজ। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের জায়গার সংকুলান হয় না। এক ব্যাচের ক্লাস চলাকালীন অন্য ব্যাচকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কলেজটির কোনো নিজস্ব হোস্টেলও নেই। একটি ভাড়া ভবনে করা হয়েছে আবাসনের ব্যবস্থা। প্রায় একই অবস্থা নওগাঁ, নীলফামারী ও মাগুরা মেডিকেল কলেজেরও।

শিক্ষার্থীরা যা বলছেন

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজে যা যা থাকা উচিত, তার অনেক কিছুই এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। হাসপাতাল যেহেতু চালু হয়নি, তাই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে দক্ষতার প্রশ্নও থাকে। হাসপাতাল চালুর জন্য বিভিন্ন চেষ্টা-তদবির করার পর এখনো স্পষ্টভাবে বলা যায় না, হাসপাতাল কবে চালু হবে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে গাফিলতি করছে প্রশাসন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মারপ্যাঁচ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর অপেশাদারিত্ব, ঢিলেমি ও সময়সাপেক্ষ কাজের কারণে হাসপাতাল চালুর অনিশ্চয়তা বাড়ছেই। বারবার তদারকি করার পরও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এই দুই শিক্ষার্থী জানান, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকসহ সব ধরনের স্টাফের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক রিসোর্স এখনো আনা হয়নি, কখন আসবে তা-ও নির্দিষ্ট নয়। একই সঙ্গে কলেজের একাডেমিক রিসোর্সেরও অভাব রয়েছে।

এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, হাসপাতাল পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষক ও একাডেমিক শিক্ষায় সমস্যা না থাকলেও সার্জারি, ইমার্জেন্সি, গাইনি, চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা রোগীর কাছে যেতে অন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে বাধা দিচ্ছে।

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের সুপারিশ করেছে। গত ৫ মে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ৩২টি সুপারিশের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সমন্বিত ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করা উচিত। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, কলেজ সংখ্যা ও আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে তাদের অন্যান্য স্বীকৃত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দেশে ১১০টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩৭টি সরকারি। এর মধ্যে নেত্রকোনা, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, মাগুরা ও নীলফামারী সরকারি মেডিকেল ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে পারছে না। প্রায় ২০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

যদিও সরকার মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে পরে সরে আসে। পরিবর্তে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসব মেডিকেলে ভর্তির আসন সংখ্যা কমানো হয়েছে। ১০ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজের মোট ৩৫৫টি আসন কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আলোচিত ছয়টি মেডিকেলে আসন ৭৫ থেকে কমিয়ে ৫০ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ মেডিকেলের ৭৫টি আসন অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৭২২টি আসন কমানো হয়।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

মানহীন কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক রোগীর জীবন ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিপন্ন করতে পারে। সমাধান না করলে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে ডাক্তার তৈরির মান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক মুর্তজা শাহরিয়ার আমার দেশকে বলেন, ‘একজন মেডিকেল স্টুডেন্টের শেখার সময়ে ভালো শিক্ষক যেমন জরুরি, একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগী দেখে তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া অবজার্ভ করে শেখাটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন হয় যে, কোনো মেডিকেলে যোগ্য শিক্ষক সংকট আছে কিংবা সেখানে রোগীদের দেখে শেখার সুযোগ কম, তবে এমবিবিএস লেভেলে শিক্ষার্থীদের শেখাটা পূর্ণাঙ্গ হয় না। এমন হলে শিক্ষার্থীদের সেলফ কনফিডেন্স যেমন কম থাকে, তেমনি পেশাগতভাবেও দক্ষতার ত্রুটি হবে। উন্নত বিশ্বের মেডিকেল স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমরা যদি নিজেদের তুলনা করি, সেখানে আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই যে, দক্ষতা ও যোগ্যতার দিক থেকে যেন তাদের ও আমাদের মাঝে কোনো পার্থক্য না থাকে। এমন হতে হলে শেখার পরিবেশ মানসম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন চিকিৎসক আমার দেশকে বলেন, মানহীন মেডিকেল কলেজ থেকে যারা পাস করছেন, তাদের অনেকেই পেশাগতভাবে রোগী দেখার জন্য উপযুক্ত নন। মানহীন মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকরা রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে অক্ষম হতে পারেন, যা রোগীর জীবন ও সুস্থতায় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রকৃত দোষী হলেন সে ব্যক্তিরা, যারা দুর্নীতির মাধ্যমে এসব কলেজ অনুমোদন ও পরিচালনা করেছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, December 4, 2025

ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা তাপসের অফিসে। (BDC CRIME NEWS25)

BDC CRIME NEWS25

ভারতীয় গোয়েন্দা নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা তাপসের অফিসে:

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ৩৯

পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা হত্যাযজ্ঞের তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে ঘুরেফিরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাতিজা ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নামই বেশি এসেছে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাপসের সংশ্লিষ্টতার আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করেছে। তদন্তের আগে গণমাধ্যমের রিপোর্টেও তাপস ছিলেন আলোচিত।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর পুরো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং সমন্বয়ের জন্য তাপসের অফিস ও বাসায় একাধিক বৈঠক হয়। তাপসের অফিসে এ রকম এক বৈঠকে বসেই ভারতীয় গোয়েন্দাদের নিয়ে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। ভারতীয় কমান্ডো ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত কমিশন তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ব্যারিস্টার তাপসের ফুপু। শেখ পরিবারের আরেকজন প্রভাবশালী সদস্য বর্তমানে পলাতক শেখ সেলিমও এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্ত কমিশন সাক্ষ্যপ্রমাণে নিশ্চিত হয়েছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজও এই পরিকল্পনার কথা জানতেন।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সহায়তায় ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের পাতানো নির্বাচনে হাসিনা ক্ষমতায় বসেন। এরপর পরিকল্পিত উপায়ে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের পর্যায়ক্রমে বিডিআরে পদায়ন করা হয়। এর আগে রৌমারী, বড়াইবাড়ী ও পদুয়া সীমান্তে বিডিআরের হাতে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ, সেনা মনোবল ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের বাসনা নিয়ে সুপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে কমিশন মনে করে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদুয়া ও রৌমারীর যুদ্ধ বিডিআরের ইতিহাসে শৌর্য, বীর্য ও বীরত্ব প্রদর্শনের অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা। ওই খণ্ডযুদ্ধে বিএসএফের যে শোচনীয় ও লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে, ভারত কখনোই তা মেনে নিতে পারেনি।

পিলখানায় সংঘটিত বর্বর হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এই কমিশনের প্রধান হলেন মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

তদন্ত কমিশনের ৩৬০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার তাপসের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে বিডিআর সদস্যদের একাধিক বৈঠক হয়। একটি বৈঠকে অফিসারদের জিম্মি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, পরে তা পরিবর্তন করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জনের একটি দল বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তাপসকে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী। এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন এবং তাপস তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্তের অনুমোদন নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।

সাধারণ বিডিআর সদস্যদের ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিডিআর বিদ্রোহ সৃষ্টি করার মাধ্যমে মূল পরিকল্পনা দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিডিআরের কিছু সদস্যের সঙ্গে শেখ তাপস, শেখ সেলিমসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বাসা, অফিস, মসজিদেও এ রকম কিছু বৈঠক হয় বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে বেরিয়ে এসেছে। বাস্তবায়ন ও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে বিপুল অর্থ বিতরণ করা হয়েছিল।

তদন্তে উঠে আসে, সংসদ সদস্য গোলাম রেজা ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানা এলাকায় আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকে দেখেছেন।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সূত্র বলেছে, বিদ্রোহ শুরুর পর ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূর স্ত্রীকে পিলখানায় ভারতীয় এনএসজি (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) সদস্যদের উপস্থিতির কথা জানান। তার স্ত্রী তাসনুভা মাহা জানান, তিনি বিডিআরের পোশাক পরা তিনজনকে হিন্দিতে গালাগাল করতে শোনেন। সেদিন পিলখানায় হিন্দি, পশ্চিমবঙ্গীয় টানে বাংলা এবং অচেনা ভাষায় কথোপকথন শোনার কথা একাধিক সাক্ষী জানিয়েছেন।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮২৭ জন ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জনের বহির্গমনের তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ১ হাজার ২২১ জনের বহির্গমনের তথ্য থাকলেও ৫৭ জনের আগমনের কোনো রেকর্ড ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। বিষয়টি আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিশন প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে। বিদেশি ভাষা শোনা, বহিরাগতদের পলায়ন, কল তালিকায় বিদেশি নম্বর, ক্যাপ্টেন তানভীরের শেষ কথোপকথনসহ বিভিন্ন তথ্যকে কমিশন প্রতিবেদনে ভারতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কমিশনের প্রতিবেদনের ৭২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিদেশি সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্টতা এবং এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের কারা-কীভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন, তার বিস্তারিত উঠে আসে।

ক. ২০০৮ সালের জুন মাসে, আনুমানিক ১ থেকে ৬ বা ৮ তারিখের মধ্যে, মেজর নাসির নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার বরিশালে ডিজিএফআইয়ের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুস সালামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুস সালামের সঙ্গে দেখা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় মেজর নাসির লে. কর্নেল সালামের সঙ্গে দেখা করেন এবং দুটি বই উপহার দিয়ে নিম্নলিখিত তথ্য দিয়েছিলেন—

“মেজর নাসির জানান, তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। একই এয়ারক্রাফটে তিনি আওয়ামী লীগের কিছু শীর্ষ নেতাকে দেখেছেন, যারা ভারতের বারাসাতে ‘র’-এর সঙ্গে বৈঠক করে ফিরছিলেন। সেখানে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা করেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, আগামী ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সেনাবাহিনী যেন নৈতিকভাবে দাঁড়াতে না পারে, সেভাবে আঘাত হানার পরিকল্পনা তারা করছে।” লে. কর্নেল সালাম সঙ্গে সঙ্গে ডিজিএফআইয়ের ডিরেক্টর সিআইবি ব্রিগেডিয়ার বারীকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন; কিন্তু তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো লে. কর্নেল সালামকে তিরস্কার করেছিলেন। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫৭)।

খ. ২০০৮ সালের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্ডিয়ান হাইকমিশনে টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথমবার সেখানে গেলে মেজর নাসিরকে তার ভিসার জন্য ডিফেন্স উইংয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরের দিন মেজর নাসির হাইকমিশনে আবার যান, রিসিপশনে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তারপর তাকে বলা হয়, আগে নিরাজ শ্রীবাস্তবের সঙ্গে দেখা করতে হবে। প্রথম সাক্ষাৎটি ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। দিল্লি থেকে আসা তরুণ কর্মকর্তা মেজর নাসিরকে বিস্কুট ও কফি অফার করেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অর্ধঘণ্টা আলোচনা করেন এবং মেজর নাসিরকে পরের দিন আসতে বলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আবেগপ্রবণ এবং পাকিস্তানের দর্শন অনুসরণ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের ডকট্রিন পাকিস্তানের সঙ্গে একই। এরপর তিনি মেজর নাসিরকে পদুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। মেজর নাসির বলেন, তিনি আমেরিকায় অবস্থান করার কারণে কিছু জানেন না। নিরাজ শ্রীবাস্তব বলেন, Padua-তে বিডিআর ১৬-১৭ জন বিএসএফ সদস্যকে হত্যা করেছে। এটি ছিল একটি গুরুতর উসকানিমূলক ঘটনা। তিনি বলেন, ‘Padua will not go unchallenged and unpunished.’ ২০০৮ সালে আরেকবার এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে মেজর নাসিরের দেখা হয়। তিনি মাসটি স্মরণ করতে পারেননি, তবে ঘটনাগুলো সবই ২০০৮ সালের মধ্যে হয়েছিল। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৯৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানা যায়, Mr. Niraj Srivastava ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে Minister পদবিতে নিয়োজিত ছিলেন। (সূত্র : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পত্র নম্বর : ১৯.০০.০০০০.৭৩০.২৮.৩৭.২৫-২৩১৯, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৫, সংযোজনী : ৫৩) 

গ. ঘটনা-পূর্ব ষড়যন্ত্রে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ এবং শেখ সেলিমের উপস্থিতিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ২৪ জনের একটি কিলার গ্রুপের সঙ্গে বৈঠক হয়। নায়েক শহীদুর রহমান তার ঘনিষ্ঠ তোরাব আলীর (অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী, পরে জেলখানায় মৃত) বরাতে বলেন, ‘ভারতীয়দের সঙ্গে বৈঠকের পরে পুরো পরিকল্পনা সাজানো হয় এবং সমন্বয় করার জন্য শেখ ফজলে নূর তাপসের বাসায় বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিল নানক, মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, লেদার লিটন এবং তোরাব আলী। সেখানে যখন জানানো হয় যে অফিসারদের হত্যা করা হবে, তখন তোরাব আলী সেখানে আপত্তি করেন। তিনি বলেন, অফিসারদের হত্যা করা যাবে না। তখন শেখ সেলিম তাকে মুরব্বি সম্বোধন করে বলেন, ‘আপনার তো বয়স হয়েছে। আপনার আর এর মধ্যে থাকার দরকার নেই। আপনার ছেলে (লেদার লিটন) আমাদের সঙ্গে থাকলেই হবে।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ৩০)।

ঘ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সকাল পৌনে ১০টা থেকে ১০টায় পিলখানা এলাকায় সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম কিছু ‘র’-এর সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই ‘র’-এর সদস্যরা সাক্ষী এমপি গোলাম রেজার রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার পূর্বপরিচিত ছিলেন। সাবেক এমপি গোলাম রেজা তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘এরপর আমি দ্রুত নর্দান মেডিকেল কলেজের দিকে যাই। সেখানে আলাউদ্দিন নাসিম, সাবেক এমপি মোর্শেদ, শেখ সেলিম এবং ‘র’-এর চার-পাঁচজনকে দেখলাম, যাদের আমি আগে থেকেই চিনতাম।’ (সূত্র : রাজনৈতিক সাক্ষী নম্বর : ০১)।

ঙ. ক্যাপ্টেন তানভীর হায়দার নূরের স্ত্রী তাসনুভা মাহা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর ক্যাপ্টেন তানভীরের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সময় ক্যাপ্টেন তানভীর তাকে পিলখানার ভেতরে ভারতীয় সংস্থা National Security Guard (NSG) of India-এর নাম বলেন। বেগম তাসনুভার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘২৫ তারিখ তানভীরের সঙ্গে যখন আমার শেষ কথা হচ্ছে, তখন আমি ছিলাম খাটের নিচে। বাচ্চাদের নিয়ে তখন আমি লুকিয়ে ছিলাম, সেখান থেকে আমি আবার ওয়ারড্রবের মধ্যে লুকাই, কারণ বুঝতে পারছিলাম পাশেই কোথাও বিডিআর সদস্যরা ঘোরাফেরা করছেন। তানভীরের সঙ্গে শেষ ফোনালাপে তানভীর আমাকে বলেন, লীগের নেতারা অন্য পোশাকে এসেছেন। ওর মুখে আমি এনএসজি নিয়ে কিছু কথা শুনেছি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না যে এনএসজি কী ও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। আমি দুবার তাকে জিজ্ঞেস করেছি, এনএসজি কী? তখন একপর্যায়ে তিনি বেশ বিরক্ত হয়ে বলেন, Indians! Indians’.

এছাড়া বেগম তাসনুভা মাহা বলেন, তিনি চুল বড় তিনজনকে বিডিআরের টি-শার্ট ও স্যান্ডেল পরা অবস্থায় দেখেছেন, যারা তাকে হিন্দিতে গালাগাল করেছে এবং তার সন্তানদের ‘পাকিস্তানি লাডলা’ বলেছে। (সূত্র : শহীদ পরিবার সাক্ষী নম্বর : ১২)।

চ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পিলখানার ভেতরে বিভিন্ন সময় হিন্দিতে, পশ্চিমবঙ্গের উচ্চারণে বাংলা ভাষায়, বাংলা নয় এমন ভাষা এবং ইংরেজিতে কথা বলতে শোনা গেছে। নায়েক শহীদুর, সিপাহি সেলিম, পিলখানা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মরহুম সিদ্দিকুর রহমান, সিপাহি শাহাদাত, সাক্ষী তাসনুভা মাহা (শহীদ ক্যাপ্টেন তানভীরের স্ত্রী) সিপাহি আব্দুল মতিন স্বচক্ষে হিন্দি ভাষী এবং বাংলা নয় এমন ভাষাভাষী বহিরাগত ব্যক্তিদের বিডিআরের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় ২৫ তারিখ হত্যাকাণ্ড চলাকালীন সময়ে এবং তার অব্যবহিত পরে পিলখানার অভ্যন্তরে দেখেছেন—

১. নায়েক শহীদুরের ভাষ্যমতে, “তখন সকাল প্রায় ১০.১৫ থেকে ১০.৩০-এর মতো বাজে। দেখি তিন নম্বর গেটের দিকে ৫-৬ জন ব্যক্তি বিডিআর সৈনিকের পোশাক পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে বলল—‘ইধার আও’। তাদের বলার ভাষাটা ছিল কমান্ড ভয়েসের মতো। আমি হতচকিত হয়ে যাই। আমি তাদের গালি দিয়ে বলি, ‘একটা গন্ডগোল হইসে, আর তোরা ভাষাও বদলায় ফেলসিস। আমার র‍্যাংক চোখে পড়ে না তোদের!’ তখন তারা নিজেরা কিছু কথা বলাবলি করছিল এবং সেগুলো হিন্দি ভাষাতেই বলাবলি করছিল। এদের মধ্যে অন্তত একজন বাঙালি ছিল। আমি বলতে শুনি, একজন আমাকে দেখিয়ে বলল, ‘হি ইজ এ ভেরি ক্লেভার ম্যান।” (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ৩০)।

২. সিপাহি সেলিম বলেন, ‘আমি গুলি করলেও সেগুলো তাদের গায়ে লাগেনি। এরপর আমি গড়িয়ে গড়িয়ে পাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে রাস্তায় যাই এবং সেখানে সেই অস্ত্রধারীদের দেখতে পাই। সেখানে দেখি যে তাদের মুখ বাঁধা থাকলেও তাদের চুল সিভিলিয়ানদের মতো লম্বা, বিডিআর কাটিং না এবং তারা হিন্দিতে কথা বলছে। সেখানে প্রায় এ রকম ৮-১০ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২০)।

৩. হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী পিলখানা মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী কামরুন নাহার শিরিন তার স্বামীর বরাতে বলেন, ‘আমাকে আমার স্বামী বলেছেন, এ রকম সময় উত্তরদিক থেকে একটি গাড়ি (পিকআপ) এসে দরবারের পশ্চিম গেটে দাঁড়িয়েছে। ওই গাড়ি থেকে প্রচুর সৈনিক অস্ত্রসহ নামে। এই সৈনিকদের হিন্দিতে এবং ইংলিশে কথা বলতে আমার স্বামী শুনেছেন। তারা অন্য সৈনিকদের গুলি করার জন্য কমান্ড করছিল। হিন্দি এবং ইংলিশে ওই সৈনিকরা কী কী বলেছে, সেটাও তিনি আমাকে বলেছিলেন কিন্তু এখন আমার মনে নেই।’ (সূত্র : বিডিআর সাক্ষী নম্বর : ০৩)।

৪. সিপাহি শাহাদাতের দেওয়া তথ্যমতে, ‘২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ থেকে ১১.৩০-এর মধ্যে আমি তিনজন ব্যক্তিকে ওই পথ ধরে দেয়াল টপকে পিলখানার বাইরে চলে যেতে দেখি। এদের পরনে বিডিআরের পোশাক পরিহিত থাকলেও, পায়ে বুট জুতা ছিল না। প্যারেড এবং বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে আমাদের সবার চুল জিরো সাইজ করা থাকলেও এদের চুল সিভিলিয়ানদের মতো ছিল। তবে এদের মুখ বাঁধা ছিল। যেটি আমার আরো দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তা হলো, তারা এমন একটি ভাষায় কথা বলছিল, যেটি মাঝে মাঝে আমার হিন্দি মনে হয়েছে, আবার মনে হয়েছে ঠিক হিন্দিও না। সেটি যে বাংলা ভাষা না, আমি নিশ্চিত। হিন্দি ভাষা আমি বলতে না পারলেও বুঝতে পারি। তারা একটি অদ্ভুত ভাষায় কথা বলতে বলতে চলে গেল। মনে হচ্ছিল হিন্দি আবার হিন্দিও না, এমন ভাষাতেও তারা কথা বলেছে।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২১)।

৫. সিপাহি আব্দুল মতিন বলেন, “মিছিলটি ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান করে এবং আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো লোকসংখ্যা ছিল। মিছিলের সঙ্গে মিশে দুজন ব্যক্তি উচ্চ স্বরে ‘জয় হিন্দ’ বলছিলেন। ওই দুজনের গায়ে বিডিআর পোশাক ছিল এবং তাদের হাতে এসএমজি অস্ত্র লক্ষ করলাম। তাদের পোশাক কেমোফ্লেজ গেজি ছিল এবং তাদের চেহারা ও ভাষা থেকে আমি বুঝলাম তারা স্থানীয় নয়, কারণ তারা হিন্দি ভাষায় কথা বলছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ২৪)।

ছ. লে. কর্নেল তাসনিম, মেজর মুনির, সিপাহি আইয়ুব হিন্দি ভাষা, পশ্চিমবঙ্গের টানে বাংলা ভাষা এবং বাংলা বা হিন্দি নয় অপরিচিত ভাষার কথোপকথন শুনেছেন—

১. লে. কর্নেল তাসনিম বলেন, “পরে রাত সাড়ে ৭টায় একটি পিকআপে দন্ডায়মান দুজন লোক সিগন্যাল সেক্টর অফিসের সামনে মেগাফোনে সৈনিকদের উদ্বুদ্ধ করতে লাগল। তাদের চুল কাঁধ পর্যন্ত লম্বা, ভাষা পশ্চিমবঙ্গের মতো। তারা বলছিল, ‘আর্মির বিরুদ্ধে লড়বো, ঐক্যবদ্ধ থাকো’। উল্লেখ্য, বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে শতভাগ বিডিআর সদস্যের চুল কাটা নিশ্চিত করা হয়েছিল।” (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫৪)।

২. মেজর সৈয়দ মনিরুল আলম বলেন, ‘রাতে দরবার হলের ফলস সিলিংয়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আমি নিজ কানে এমন ভাষা শুনেছি, যা বাংলা, হিন্দি বা চায়নিজ ছিল না, সম্ভবত চাকমা, তবে আমি নিশ্চিত না। এটা সাব-কন্টিনেন্টেরও কোনো ভাষা হতে পারে।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৯২)।

৩. সিপাহি আইয়ুব বলেন, ‘আমি স্মল আর্মস কোয়ালিফাইড, অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে আমার খুব ভালো ধারণা ছিল। তাই তৎক্ষণাৎ আমি ওদের অস্ত্র দেখেই বুঝতে পেরেছি যে এখানে বহিরাগত লোকজনও আছে। প্রচণ্ড গোলাগুলি করতে করতে দরবার হল ঘিরে ফেলেছিল। আমি দূর থেকে তাদের কিছু কথাও শুনেছিলাম। সেগুলো বাংলা ছিল কিন্তু আমার মনে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দিকের বাংলা টানে তারা কথা বলছিল।’ (সূত্র : কয়েদি সাক্ষী নম্বর : ১৭)।

জ. ক্যাপ্টেন শাহনাজ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ১৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে Search and Rescue Operation-এ অংশগ্রহণ করতে গিয়ে পিলখানা দরবার হলের কাঠে একটি ব্যবহার করা সাবমেশিন গানে (এসএমজি) নজলের সঙ্গে গেরিলা বাহিনীর স্টাইলে বাঁধা একটি বিদেশি স্লিং দেখেন। স্লিংটি ছিল সেনাবাহিনীর মতো জলপাই রঙের এবং তার ওপর Dark Olive রঙের বড় ইংরেজি হরফে ‘TIGER’ লেখা। তার জানা মতে, এ ধরনের স্লিং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অথবা বিডিআর ব্যবহার করে না। গঠন, স্লিংয়ের পুরুত্ব এবং স্লিংটি বাঁধার কৌশল দেখে তার কাছে মনে হয়েছিল এটি অন্য কোনো বিদেশি উৎসের হতে পারে। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ১০১)।

ঝ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে গোলাম রেজা (প্রাক্তন এমপি) পিলখানার ভেতরে ও বাইরে কিছু লোককে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখেন কিছু মানুষ ছোট ছোট টিনের ঘরে লাইফ জ্যাকেটগুলো খুলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দেখে এমপি গোলাম রেজার মনে হয়েছিল, তারা দেশের কেউ নয়। (সূত্র : রাজনৈতিক সাক্ষী নম্বর : ০১)।

ঞ. তোরাব আলীর মোবাইল ফোনে ভারত এবং সিঙ্গাপুরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনে ওই টেলিফোনের গ্রাহকদের পরিচয় জানার জন্য চিঠি লেখা হয়েছিল কিন্তু উত্তর পাওয়া যায়নি। (প্রাপ্ত সিডিআর মোবাইল রিপোর্ট দ্রষ্টব্য) মোবাইল ফোন ব্যবহাকারী সম্পর্কে ডিজিএফআই থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে অর্থবহ কোনো কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। (সূত্র : সংযোজনী : ৫৪)।

ট. বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে বিএসএফের যোগাযোগ হয়েছে এবং সেনাবাহিনী আক্রমণ শুরু করলে বিএসএফের সহায়তায় ভারতে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। (সূত্র : সেনা তদন্ত প্রতিবেদন, পৃষ্ঠা নম্বর : ৭৬৯)।

ঠ. ভারত বাংলাদেশে সামরিক অভিযান চালাবে বলে এসআইঅ্যান্ডটির শিক্ষার্থীদের মেজর জেনারেল তারেক এবং লে. জেনারেল মামুন খালেদ কর্তৃক হুমকি দেওয়া হয়েছিল। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৪৭)।

ড. তৎকালীন সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালী ১১ ডিভিশনের জিওসির কাছ থেকে এই মর্মে একটি তথ্য পান, ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করছে। তারা একটি প্যারাট্রুপার বাহিনীও প্রস্তুত রেখেছে এই জন্য যে, আমাদের সেনাবাহিনী যদি অভিযান পরিচালনা করে, তাহলে তারা শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৫) মেজর জেনারেল মুহম্মদ ফেরদৌস মিয়া, জিওসি ১১ পদাতিক ডিভিশনের ভাষ্যমতে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনা সমাবেশের তথ্যে এফআইইউ সম্ভবত এনএসআই এবং ডিজিএফআই কাছ থেকে শুনেছিল। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সৈন্য সমাবেশের তথ্য তিনি যদি শুনে থাকেন, তবে অবশ্যই তিনি সেটা সেনা সদরে জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ১৩)।

ঢ. তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মঈন উ আহমেদের ভাষ্যমতে, ‘আমি ‘ওড়া’ ‘ওড়া’ খবর পাচ্ছিলাম যে if anything goes wrong, এ রকমটি হতে পারে (সশস্ত্র বাহিনী সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে ভারত বাংলাদেশে সামরিক অভিযান চালাবে)। যদি তারা (ভারতীয় বাহিনী) আসত, তাহলে ১৯৭১-এর পর যেমন ফেরত চলে গিয়েছিল, এবার এলে আর ফিরে যেত না। এবার ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালালে Things would have been different। গবেষক অভিনাষ পালিওয়াল ও তার প্রবন্ধে এটাই বলেছেন। এটা আমাদের জন্য would have been very very bad। তিনি দুটো আর্টিকেল লিখেছেন এ বিষয়ে, দুটোই আমার কাছে আছে।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ০১)।

ণ. যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের বিখ্যাত স্কুল অব আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের (এসওএএস) শিক্ষক অভিনাষ পালিওয়াল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস কর্তৃক ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘India’s Near East : A New History’ গ্রন্থের ২৮৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন—

The recently elected prime minister Hasina, who also held the defence portfolio, felt threatened and couldn’t count on the army’s support. ‘She asked India for help … and that’s why we were there’, awaiting orders and ‘preparing for all eventualities when we touch down in Dhaka’, remembers Sandhu.o

“Shortly after the killings began, Hasina called her closest ally in New Delhi, top Congress leader and recently appointed finance minister Pranab Mukherjee. Upon hearing what was going on, Mukherjee promised ‘to be responsive’. The ‘SOS’ from Dhaka triggered the mobilisation of paratroopers, and prompted foreign secretary Shivshankar Menon to urgently engage with American, British, Japanese, and Chinese envoys to lobby support for Hasina.”

“Apart from Kalaikunda, paratroopers were mobilised in Jorhat and Agartala. If the order came, Indian troops would enter Bangladesh from all three sides. The aim was to secure the Zia International Airport (renamed Hazrat Shahjalal International Airport) and the Tejgaon airport. Subsequently, the paratroopers would wrest control of Ganabhaban, prime minister’s residence, and evacuate Hasina to safety. The Brigade commander overseeing the operation began distributing ‘first line’ ammunition meant for use during active combat.”

ত. অভিনাষ পালিওয়াল বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর উদ্ধৃতি দিয়ে একই পৃষ্ঠায় লিখেছেন—

“Pinak Ranjan Chakravarty, India’s high commissioner to Dhaka (2007-10) who has family origins in Bangladesh and called Hasina ‘Aapa’ (elder sister) out of respect, says that ‘we did put some forces on alert, and conveyed to Hasina that we’re worried about her safety.”

থ. বাংলাদেশের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মঈন উ আহমেদ জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সম্মুখে তার প্রদত্ত সাক্ষ্যে অভিনাষ পালিওয়ালের ওপরে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলো দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন এবং এই উক্তিগুলো রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

দ. অভিনাষ পালিওয়াল একই গ্রন্থের ২৮৭ পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘I was told by those who were closer to power that Gen. Moeen was asked not to use force otherwise Indian paratroopers will drop in Dhaka within one hour’, says Touhid Hussain, then Bangladesh’s foreign secretary.

এ বিষয়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন কর্তৃক প্রেরিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিম্নে উল্লিখিত উত্তর প্রদান করেন, the sentence that is quoted in Paliwal’s book is correct. While the BDR killing took place, I was attending a SAARC meeting in Colombo. Few months later, when I was already shunted out to Foreign Service Academy, I asked casually someone close to power, why the army chief did not take steps to save his officers. He said what I told Paliwal.

ধ. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে পিলখানায় বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে ফোন করেন এবং তার সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান। শেখ হাসিনাকে প্রণব মুখার্জি আশ্বাস দেন যে তাকে (শেখ হাসিনাকে) সব ধরনের সহায়তা করা হবে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শিবশংকর মেনন শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য যুক্তরাজ্য, চীন এবং জাপান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। (সূত্র : দ্য হিন্দু (ভারতীয়), ২২ নভেম্বর ২০২১ এবং আমার দেশ, ২৮ মার্চ ২০১১, সংযোজনী : ৫৫)।

ন. বাংলাদেশ পুলিশ ইমিগ্রেশন প্রশাসন শাখার তথ্য অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ আগমন এবং বহির্গমনের তথ্য নিম্নরূপ—

১. ২৪-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ আগমন : ৮২৭ জন আগমন করেছে, তার মধ্যে ৬৫ জনের বহির্গমনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

২. ২৪-২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন : ১২২১ জন বহির্গমন করেছে, তার মধ্যে ৫৭ জনের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়নি। (সূত্র : বাংলাদেশ পুলিশ ইমিগ্রেশন প্রশাসন শাখা স্পেশাল ব্রাঞ্চ স্মারক নম্বর : ৪৪.০১.০০০০.০৮৬.০০৪.২৫/১৩১১, তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, সংযোজনী : ৫৬)।

প. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের সহায়তায় বিডিআরকে পুনর্গঠন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে যাতে আধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী গড়ে তোলা যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিডিআরকে পুনর্গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশের সহায়তা নিতে কোনো সমস্যা নেই।’ (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ৬ মে ২০০৯ এবং bdnews24.com uploaded on 5 May 2009)।

ফ. ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে পিলখানার গেট খুলে যায় এবং ভেতর থেকে কয়েকটা মাইক্রোবাস বেরিয়ে আম্বালা পার হয়ে চলে যায়। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ (অব.) ভেবেছিলেন তার আটকে পড়া ফ্যামিলি ওই মাইক্রোবাসে চলে যাচ্ছে। দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ মাইক্রোবাসের দরজা ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে খুলে ফেলেন এবং মাইক্রোবাসটির ভেতরে আলো জ্বলে ওঠে। ভেতরে ছয়-সাতজন লোককে দেখতে পান তিনি। তাদের মাথা ওড়না বা চাদর দিয়ে মোড়ানো ছিল। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ তার স্ত্রী এবং বাচ্চার নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকেন এবং মাইক্রোর ভেতরের পেছনের প্রথম সিটে ট্র্যাক স্যুট পরা জলপাই বা ধূসর কালারের গেঞ্জি গায়ে একজন মোটা গোঁফের লোককে বসা অবস্থায় দেখেন। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই লোক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজকে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন ‘হু’? আবার জিজ্ঞেস করেন, ‘হু’? এরপর জিজ্ঞেস করেন ‘হু আর ইউ’? এরপর তিনবার চিৎকার করে বলেন, ‘ক্লোজ’ ‘ক্লোজ’ ‘ক্লোজ’। মুখ ঢাকা অবস্থায়ও লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ দুজনকে দেখে বুঝতে পারেন তারা পুরুষ লোক এবং বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং তার মনে হয়েছিল তিনি কোনো মিলিটারি পারসন। মাইক্রোবাসের গ্লাস কালো ছিল। লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজ সেকেন্ড বা থার্ড মাইক্রোবাসটাকে ধরেছিলেন। তার আগে আরো একটা বা দুটি মাইক্রোবাস চলে গেছে। গাড়িগুলো ১০টা বা সাড়ে ১০টা বা ১১টার দিকে বের হয়েছে। গাড়ির লোকজনকে অন্তত বাংলাদেশি লোক বলে লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজের মনে হয়নি।’ (সূত্র : সাক্ষী নম্বর : ৬৬)।

ব. ১৬ মার্চ ২০০৯-এ India Today-তে প্রকাশিত ‘More than a Mutiny’ নামক এক প্রবন্ধে সৌরভ শুকলা লেখেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ ভারত শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। ত্রিপুরায় একটি সম্মুখবর্তী বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে দুটি এবং কলকাতায় একটি কমান্ডো প্লাটুন, সে জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। (সূত্র : সংযোজনী : ৫৭)।

সূত্র: আমার দেশ 

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম: (তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন) প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৪ বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম...