Sunday, October 13, 2024

DGFI এর সেই আলোচিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) এর অপকর্মের ইতিহাস। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

DGFI এর সেই আলোচিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) এর অপকর্মের ইতিহাস:

কর্নেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) ২০১৪ সালে DGFI এ কর্মরত ছিলেন। তিনি নিজেকে তৎকালীন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এর ভাতিজা বলে পরিচয় দিয়ে সেই গোয়েন্দা সংস্থার হেড অফিসকে কোনঠাসা করে রেখেছিলেন। শেখ রেহেনার দেবর মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এর সাথে গভীর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি আরও ভয়ংকর রুপ ধারণ করে চলতেন। এই মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি আয়নাঘরের মূল পরিকল্পনাকারী। তারই পরামর্শে এই আয়নাঘর তৈরী করা হয়েছে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সাল পর্যন্ত DGFI এ এডমিন হেড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এর আয়নাঘরের একজন অন্যতম সহযোগী ছিলেন। Joint Interrogation Cell (JIC) এ নির্যাতনকারীর তিনি একজন অন্যতম। এছাড়া ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ ডিজিএফআই এর সকল শাখায় প্রতিনিয়ত বিএনপি জোটপন্থী নেতাকর্মীদের ধরপাকড় করা, অপহরন করা ও ঢাকায় এনে আয়নাঘরে বন্দী করার একজন অন্যতম হুকুমদাতা। তার সহযোগিতায় ও নির্দেশনায় ডিজিএফআই এর সকল শাখার অধিনায়কগণ হয়ে ওঠেন একেকজন হিংস্র হায়েনা। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭) DGFI এ এমনিভাবে চলতেন যে, তিনি যখন যা বলতেন অন্যান্য অফিসারগণ তা শুনতে বাধ্য হতেন। তার ভয়ে সকল অফিসার কথা বলতে পারতেন না। তিনি DGFI এ কর্মরত সিভিল স্টাফদের চরম বিদ্বেষী ছিলেন। এই কুলাঙ্গার সেসময় BNP জোটপন্থী বহু লোককে গোপনে ধরে এনে নির্যাতন করতেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে তিনি নিজেকেও ফ্যাসিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এছাড়া সেসময়ের কর্নেল আদিল চৌধুরী (বাড়ি সিলেট, পোস্টিং DGFI শাখা রাজশাহী) আওয়ামীলীগ এর পক্ষে BNP জোটপন্থী লোকদের অনেক ক্ষতিসাধন করেছেন। ২০১০ সালের পর থেকে DGFI এ যেসব অফিসার প্রেষণে এসেছে তারা প্রত্যেকই আওয়ামীলীগপন্থী এবং এরা প্রত্যেকেই শেখ হাসিনার নির্দেশে অপহরণ গুম খুন এর সাথে জড়িত।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে যেসব সিভিল স্টাফ নিয়োগ হতো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) ঘুষ বাণিজ্য করে অনেককে নিয়োগ দিতেন। সেসময় প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহা: আব্দুল মঈদ  এর সাথে তার একটা গভীর সখ্যতা ছিলো। সখ্যতা বলতে পরবর্তীতে জানা গেছে যে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা  মোহা: আব্দুল মঈদকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতির মধ্যে রেখে স্বার্থ হাসিল করে নিতেন। DGFI এ কর্মরত কোনো সিভিল স্টাফ এর সামান্যতম দোষ পেলেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতো, দোষ থাক আর নাই থাক এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহা: আব্দুল মঈদকে যদি বলতেন যে, একে চাকরি থেকে বহিস্কার করেন আজ্ঞাবহ প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহা: আব্দুল মঈদ তাই করতেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) এর নির্দেশে ২০১৪ সালে ১৭ জন চাকরিজীবীকে BNP জামাত আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে রিপোর্ট বানিয়ে চাকরিচুত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ির জাহিদ তার ভগ্নিপতি জামাত করে বলে খাগড়াছড়ি থেকে তাকে ধরে এনে হেড অফিসে আটক রেখে চাকরিচুত করা হয়। আরেক জনের বাড়ি গাইবান্ধা। তাকে BNP অধ্যুষিত এলাকার বলে তাকেও চাকরিচুত করা হয়। 

DGFI এ কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মালি আব্দুর রশিদ যিনি বয়স্ক ও চোখে কম দেখেন তাকে চাকরিচ্যুত করার টার্গেট করেন এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১)। একদিন হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে যে, সেই কর্মচারী অন্যের ট্রাঙ্ক থেকে ৫ হাজার টাকা চুরি করেছে। এরপর তাকে আটক করে গামছা দিয়ে তার চোখ বাঁধা হয় এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে গাড়িতে করে ঘুরিয়ে এনে DGFI এর একটি রুমে আটকে রাখা হয়। এরপর হত্যার হুমকি দিয়ে জোড়পূর্বক স্বীকারোক্তি লিখে নেয়া হয়। তাকে ঐদিনই চাকরিচ্যুত করা হয় এবং তার নিকট থাকা সকল কাগজ পত্র তথা তার নিয়োগ পত্র, তার ID কার্ড ছিনিয়ে নেয়া হয়। যারফলে পরবর্তীতে ডকুমেন্টস এর অভাবে সেই কর্মচারী আপিল করা, মামলা করা কিংবা কোনো দাবী পেশ আর করতে পারেনি। 

এভাবে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যে রিপোর্ট বানিয়ে এবং উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে নিজেকে ভালো অফিসার সাজিয়ে তিনি রাতারাতি কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে প্রমোশন নিয়েছেন ও ভালো ভালো জায়গায় পোস্টিং নিতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বর্তমানে LPR এ আছেন এবং বাংলাদেশই আছেন। বর্তমানে তিনি ভাবখানা এমন দেখাচ্ছেন যে, তিনি ধোয়া তুলসীর পাতা। তার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করলে সেই আগের মতোই তিনি দাম্ভীকতার সাথে কথা বলেন। এরাই মূলত শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১)কে আটক করে রিমান্ডে নিলে কথিত আয়না ঘরের অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি লোকজনকে ধরে এনে আয়না ঘরে  আটকে রেখে নির্যাতন করার সাথে জড়িত। এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বশির আহমেদ (BA-৩৬৭১) ঘুষ দুর্নীতিসহ বহু অপকর্মের সাথে জড়িত। তিনি কট্টরপন্থী একজন আওয়ামী অফিসার।  তাকে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

No comments:

Post a Comment

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়: (গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন) প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩২ শেখ...