BDC CRIME NEWS24
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে 'BPEWS' এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ:
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সাধারণ মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে Bangladesh Private Employees Welfare Society (BPEWS) এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় যাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে, তাঁদের স্মরণে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ।
শ্রদ্ধাঞ্জলিতে উপস্থিত ছিলেন:
সভাপতি মোঃ হাবিবুর ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইজাবুল আলম, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি এ.এন.এম. ইকবাল আহমেদ, সদস্য সচিব মোঃ শাহাদাত হোসেন, সংগঠনের আইন উপদেষ্টা মাননীয় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফজলুল হক সেলিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
BPEWS বিশ্বাস করে:-
ভাষার মর্যাদা রক্ষা, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং পেশাজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা—এই তিনটি ভিত্তির উপরই একটি সচেতন ও শক্তিশালী সমাজ নির্মিত হয়।
সমিতির সভাপতি মোঃ হাবিবুর ইসলাম মোল্লা বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি শুধুই একটি দিন নয়; এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক।
একুশের ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য। আর, পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তায় কাজ করবে র্যাবও।
এদিকে ১৯৫২ সালের এইদিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের মধ্যে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার অন্যতম। তাই দিনটিকে শহীদ দিবস বলা হয়ে থাকে।
তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রকাশ ঘটে। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিকারে গুলি চালায়। এতে কিছু ছাত্র শহীদ হন। এ ঘটনায় নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন।
তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়। যা কার্যকর করা হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।




No comments:
Post a Comment