Friday, January 16, 2026

গুমের পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলত ৱ্যাব। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

গুমের পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলত র‌্যাব:

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬: ০৭

গুম-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ২০১২-১৩ সালে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটি সুসংগঠিত ও ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানী থেকে বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ সাতজনকে গুম করা হয়। একই সময় শিবিরের একাধিক নেতাকর্মীও নিখোঁজ হন। এসব ঘটনায় র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স ও সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের ভূমিকার পাশাপাশি তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে গুমসংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান, র‍্যাব-১–এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত হায়াত, র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল-আমিন নূর, তৎকালীন মেজর আবদুল্লাহ আল মোমেন, ক্যাপ্টেন এইচ এম সেলিমুজ্জামান, র‍্যাব-৭–এর তৎকালীন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ এবং টিএফআইয়ের তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ।

পাশাপাশি কমান্ড পর্যায়ে দায়ভার ছিল তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক এআইজি মো. মোখলেসুর রহমান, এডিজি (অপস) কর্নেল মজিবুর রহমান এবং র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা কর্নেল জিয়াউল আহসানের ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সরকারি নথি ধ্বংস এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কমিশন বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে তদন্ত চালালেও বহু ভুক্তভোগীর পরিচয় আজও অজানা রয়ে গেছে। একাধিক ঘটনায় নদীতে নামহীন লাশ ফেলে দেওয়ার ধরনও চিহ্নিত হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে একজন প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেই কর্মকর্তা কমিশনকে বলেন, রাতে কর্নেল জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যদের সহায়তায় একটি ‘গলফ অভিযান’ পরিচালনা করা হয়। সেখানে নাম না জানা ৪ জন ব্যক্তিকে প্রথমে গুলি, পরবর্তীতে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়। সেই গলফ অপারেশনে আমি উপস্থিত ছিলাম।

‘গলফ অভিযান’ বলতে তারা গুলি করে ‘টার্গেট’ ব্যক্তিকে হত্যা করা বুঝাতেন।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন ও তার সাত সঙ্গীর ঘটনায় একাধিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে পিকআপটি যৌথভাবে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স ও র‍্যাব-১ পরিচালনা করেছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত হায়াত কমিশনের কাছে লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন যে, তিনি অপারেশন সহজতর করতে একটি পেট্রোল টিম পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে দাবি করেছেন, চূড়ান্ত পরিকল্পনা কিংবা ভুক্তভোগীদের পরবর্তী ভাগ্য সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। পেট্রোল টিমের সদস্যরা পিকআপের সময় উপস্থিত ব্যক্তি হিসেবে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল-আমিন নূরকে চিহ্নিত করেছেন। যদিও মেজর মাহফুজ নূর পিকআপে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তার ভূমিকা কেবল মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

অনেক ভুক্তভোগীর পরবর্তী পরিণতি এখনো অজানা রয়ে গেছে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী এবং ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল শিবিরের সদস্য হাফেজ জাকির হোসেনের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কমিশন বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপহরণে জড়িত একজন সৈনিকের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসানের সাথে যুক্ত ছিলেন। মেজর আশরাফুল আবেদীন (মেজর নওশাদ) এবং তার দলের সঙ্গেও তিনি কাজ করছিলেন বলে কমিশনকে জানান।

হাফেজ জাকিরের অপহরণে একটি পিকআপ দলকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মেজর আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং ক্যাপ্টেন এইচ এম সেলিমুজ্জামান। এই দুই কর্মকর্তা পরবর্তীতে গুমে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম স্বীকার করেছেন যে, তিনি মেজর মোমেনের দলের একজন সদস্য ছিলেন। কমান্ড পর্যায়ে দায়ভার ছিল তৎকালীন এআইজি মোখলেসুর রহমান (র‍্যাব ডিজি), এডিজি (অপস) কর্নেল মজিবুর রহমান এবং র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানের ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক রাতজুড়ে অপারেশনে প্রায় পাঁচজনকে হত্যার তথ্য, নদীতে লাশ ফেলার পুনরাবৃত্তিমূলক ধরণ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিট ও কর্মকর্তাদের সনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। বেঁচে থাকা জয়নুল আবেদীনসহ অন্যান্য সাক্ষীদের তথ্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহীন আজাদ এবং র‍্যাব–৭ এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।

কমিশন বলছে, এই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে পিকআপ ও হত্যাকাণ্ডে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স, র‍্যাব-১ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন সরাসরি জড়িত ছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

Monday, January 12, 2026

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট মনিরুলের। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট মনিরুলের:

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৪

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান প্রায় শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের নভেম্বরে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল—এই দুটি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক হাজার কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

এছাড়া তার স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালিকার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক বলছে, পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন মনিরুল।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এই দুটি এনজিও রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের নামে বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ অনুদান আনে। কৌশলে ওই টাকা মনিরুল তার শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের প্রতিষ্ঠান এস এস এন্টার প্রাইজসহ নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করেন। এনজিও থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করে স্ত্রী, শ্যালক ও শালিকা ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সেই অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেন তিনি।

দুদক জানিয়েছে, মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে ওই টাকা মনিরুলের শ্যালক শাহীন, এস এস এন্টারপ্রাইজ, তানভীর ডেইরি ফার্মসহ বিভিন্ন নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ এবং মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন। ব্যাংকের নথিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে দুদক। শিগগিরই দুদক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে মামলা দায়ের করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন আমার দেশকে জানান, অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। অনুসন্ধানী কর্মকর্তা অনুসন্ধান শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

দুদক জানায়, এসবির প্রধান হওয়ার পর মনিরুল ইসলাম কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি এনজিও নিয়ন্ত্রণে নেন। এই দুই এনজিওতে জঙ্গি অর্থায়ন হয় অভিযোগ এনে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। কিন্তু, দায়িত্ব পালনকালীন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। তিনি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন বলেও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ১১ বছরে এই দুই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে বড় অঙ্কের অনুদান এসেছে। এস এস এন্টারপ্রাইজের লেনদেনের ধরন এবং প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এনজিও দুটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ জমা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) প্রতিষ্ঠানটির নামে ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. গাজী মো. জহিরুল ও প্রজেক্ট ইনচার্জ এ কে এম রফিকুল হক হিসাব পরিচালনাকারী বলে উল্লেখ আছে। এই হিসাবে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা এবং ৮৬৭ কোটি নয় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমান স্থিতি রয়েছে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির হিসাব হতে ড্রিম স্ট্রাকচার, মেসার্স এস এস এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স গোলাম রব্বানী অ্যান্ড কন্ট্রাক্টর, সাজা ট্রেডিং, সাদি এন্টারপ্রাইজ, রেক্সনা ট্রেডিং করপোরেশন এবং ডি ডি বিল্ডার্সের হিসাবে ছোট ছোট কিন্তু বারবার অর্থ পাঠানোর কথা উল্লেখ আছে। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কেএসআর ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল হতে এস এস এন্টারপ্রাইজের একটি হিসাবে ২৩ কোটি টাকা এবং আরেকটি হিসাবে ১৬ কোটি জমার বিষয়টি দেখা গেছে।

স্ত্রী ও শ্যালকের নামে ৩৫ ফ্ল্যাট

মনিরুলের স্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা জুলাই বিপ্লবের পর সচিবালয়ে যান। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তোপের মুখে তিনি বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি স্বামীর সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যান। সরকার তাকে ওএসডি করেছে। পরবর্তী সময়ে মনিরুলের স্ত্রী সায়লা ও শ্যালকের নামে ৩৫টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে দুদক। সায়লার নামে ২০২০ সালে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসির হিসেবে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা জমা হয় এবং প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলনও করা হয়। এছাড়াও তার সাড়ে ২৩ লাখ টাকার ৩টি ডিপিএস এবং সাড়ে ছয় কোটি টাকার দুটি এফডিআর তথ্য পেয়েছে দুদক।

শ্যালক-শ্যালিকার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন

মনিরুলের শ্যালক শাহীনের নামে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১১টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনে সাড়ে তিন কোটি টাকার দুটি এফডিআরসহ প্রায় সাত কোটি টাকার হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ২৮৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা জমা ও ২৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। তার শ্যালিকা টুম্পার নামে সাউথইস্ট ব্যাংকের মিরপুর শাখায় ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা হয়।

ধূর্ত মনিরুলের চালাকি

দুদকের হাত থেকে বাঁচার জন্য মনিরুল নিজের নামে অ্যাকাউন্ট না খুলে স্ত্রী ও শ্যালক-শালিকার নামে অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধভাবে টাকা স্থানান্তর করেছেন। এসবি প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে তার প্রভাবের কারণে দুদক তার আয় ও ব্যয় এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান চালাতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে কমিশন।

সস্ত্রীক মনিরুল ত্রিপুরায়, মেয়ে লন্ডনে

শেখ হাসিনার আমলে কর্মরত মনিরুলের একজন আস্থাভাজন এসপি (বর্তমানে পলাতক) জানান, ‘জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশ সদর দপ্তরে আটকা পড়েন মনিরুল। ফলে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে বিমানবন্দরের ভেতরের সড়ক দিয়ে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন। ২০১৪ সালের ১৬ আগস্ট ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে একটি প্রাইভেট কারে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যান। সেখান দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তিনি বর্তমানে ত্রিপুরার ধলাই জেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তবে তার মেয়ে লন্ডনে অধ্যয়নরত আছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ডিএমপিতে জঙ্গি নাটকের মূল হোতা ছিলেন মনিরুল। তার সময় কথিত ‘জঙ্গি অভিযান’ শুরু হয়। ভারতে পালিয়ে গিয়েও মনিরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। প্রায়ই তিনি দেশের সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে কটূক্তি করছেন। পাশাপাশি ভারতে পালিয়ে যাওয়া পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনার প্রশংসায় মত্ত রয়েছেন।

সূত্র: আমার দেশ 

Thursday, January 8, 2026

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার আমলে অনেক নারীকেও গুম করা হয়:

(গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩২

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ‘গুম’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। শুধু পুরুষ নয়, অনেক নারীও র‌্যাব ও অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুমের শিকার হন। গুম সম্পর্কিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তত ২৩ জন নারী গুমের শিকার হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

গত ৪ জানুয়ারি ‘জোরপূর্বক গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশন’ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নারী গুমের ঘটনা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের জন্য নয়, বরং নারীদের ওপর ভয় সৃষ্টি ও সামাজিক দমন প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। কমিশনের মতে, গুম হওয়া নারীর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। তবে ভয়, সামাজিক কলঙ্ক ও চাপের কারণে অনেক পরিবার গুমের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি।

গুমের প্রকৃতি ও নারীর উপস্থিতি

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম হওয়া নিখোঁজ নারীর সংখ্যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই কম ধরা হয়েছিল। পরিবারগুলো নারী গুমের রিপোর্টে কলঙ্ক, ভয় ও সামাজিক চাপের কথা উল্লেখ করে। অনেক নারী স্পষ্টভাবেই অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করেছিল। ফলে নথিভুক্ত সংখ্যা কম হলেও গুমের ঝুঁকিতে নারীদের উপস্থিতি ছিল বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

তদন্তে দেখা গেছে, গুম ছিল একটি সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার, যা মূলত র‌্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কমিশনের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম শেখ হাসিনা ও তার চারপাশের উচ্চপর্যায়ের জ্ঞাতসার ও নির্দেশনার বাইরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারত না, যা রাজনৈতিক দমন এবং ভয় প্রতিষ্ঠার একটি সুসংহত প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এক তরুণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করা হয়, তাকে এমন স্থানে রাখা হয়েছিল যা পরে ব্যারিস্টার আরমানের সেলের বাইরের করিডোরে পরিণত হয়েছিল। তাকে প্রতিবেশী সেলের সঙ্গে সংযুক্ত টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আটক অবস্থায় তিনি একটি সেলে নারীর কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং সেখানে লম্বা চুলের গুচ্ছ দেখতে পান। ওই নারী কমপক্ষে একদিন সেখানে আটক ছিলেন বলে তিনি ধারণা করেন। তবে তাদের কথা কোনো সরকারি নথিতে পাওয়া যায়নি, যা গোপন আটক কেন্দ্র পরিচালনার ইঙ্গিত দেয়। এ উদাহরণে উঠে আসে, কীভাবে একটি গুম ঘটনা অনেক অজানা গুমের ঘটনাকে আড়াল করতে পারে।

ধাঁচ পরিবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার

প্রতিবেদনে বলা হয়, সময়ের সঙ্গে গুমের ধরনে পরিবর্তন আসে। শুরুর দিকে গুমের পর মৃত্যু ও স্থায়ী অপহরণের হার বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে গুম প্রায়শই সীমাবদ্ধ হয়ে বন্দির পুনরাবির্ভাবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো।

২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের দীর্ঘ পর্যায়ের সূচনা করে। পরের বছরগুলোতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশি তৎপরতার মধ্যে বিভাজন প্রায় অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। একই প্রতিষ্ঠান ও অনেক ক্ষেত্রে একই কর্মকর্তারা উভয় ক্ষেত্রেই যুক্ত ছিলেন, ফলে অবৈধ পদ্ধতিগুলোও স্থানান্তরিত হতে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গুমের মামলাগুলো ২০১১ থেকে ২০১৬ এর মধ্যে বেশি ছিল এবং পরে হ্রাস পায়। ২০১৬ সালে র‌্যাবের এডিজি (অপস) মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রস্থান স্থায়ী গুমের ধারাবাহিক হ্রাসের সঙ্গে মিলে যায়। এর মানে এই নয় যে গুম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, বরং এটি বিবর্তিত হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাতের অভিযানে আটক, চোখ বাঁধা, মুখ বন্ধ করা, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো এবং পরবর্তী সময়ে নিহত হিসাবে ভুয়া রেকর্ড করার ঘটনা নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘ক্রসফায়ারে নিহত’, ‘মাদক কারবারি’ বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সরকারি নথিতে দেখানো হতো।

উপসংহার

একজন কর্মকর্তা বলেছিলেন, যদিও আটকদের মুখ দেখা বা কথা বলা সম্ভব হয়নি, তবে কিছু শারীরিক নির্দেশক দীর্ঘস্থায়ী বন্দিত্বের ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণস্বরূপ, পায়ের নখ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল, পা নরম ও কড়া ত্বকবিহীন মনে হচ্ছিল। বিপরীতে যারা নিয়মিত সুন্দরবনে চলাফেরা করত, তাদের ঘন গোড়ালি ও লবণাক্ত কাদার সংস্পর্শে স্থায়ী বৈশিষ্ট্য বিকশিত হয়েছিল। বেসামরিক সাক্ষীরাও একই পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে নিহত পুরুষদের মাদক পাচারকারী হিসেবে, নারায়ণগঞ্জে গ্যাং সদস্য হিসেবে লেবেল দেওয়া হতো। অন্যত্র দীর্ঘ দাড়িওয়ালা পুরুষদের ইসলামপন্থি চরমপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম কোনো বিচ্ছিন্ন বা দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা নয়। এর দীর্ঘ স্থায়িত্ব, ব্যাপ্তি ও অভিযোজিত রূপ প্রমাণ করে—উচ্চ রাজনৈতিক অনুমোদন ছাড়া এমন একটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে জোরপূর্বক গুম রাষ্ট্রীয় দমননীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের জ্ঞাতসারেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর ছিল।

সূত্র: আমার দেশ 

Wednesday, January 7, 2026

সেনাকাঠামোর সব স্তর গুমে জড়িত ছিল। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

সেনাকাঠামোর সব স্তর গুমে জড়িত ছিল:

(গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৩০

দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই অপরাধের দায় শুধু মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপারেশনাল ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ড, গোয়েন্দা নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা—সবার ওপর বর্তায় বলে কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

গত ৪ জানুয়ারি গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের প্রথম ধাপ ছিল চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার দেখানো ছাড়াই আটক রাখা। এসব কাজ মাঠ পর্যায়ের সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যরাই বাস্তবায়ন করেছেন। এই পর্যায়ের সদস্যরা নির্দ্বিধায় সরাসরি অপরাধে যুক্ত ছিলেন, কারণ তারা জানতেন যে, গ্রেপ্তারের কোনো আইনি কাগজ নেই, আটক ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে এবং পরিবার ও আদালতও অন্ধকারে ছিল। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের দায় প্রাথমিক ও প্রত্যক্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডারদের দায়

কমিশন বলছে, গুমের অপরাধ কেবল মাঠপর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউনিট কমান্ডার ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা আটক সেল সম্পর্কে জানতেন। এছাড়া নিয়মিত রোল কল ও প্রস্তুতির নির্দেশ দিতেন এবং পরিদর্শনের সময় আটক ব্যক্তিদের সেল দেখেছেন। সৈনিকদের সাক্ষ্যে এসেছে যে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঈদের দিনও আটক সেল পরিদর্শনে গেছেন।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই স্তরের সেনা কর্মকর্তারা শুধু জানতেনই না, বরং অননুমোদিত আটক রাখার কার্যক্রম চলমান রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাই এটি ইচ্ছাকৃত সহায়তা ও অনুমোদনের দায়।

গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটে দায়

কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ইউনিটে চোখ বাঁধার ধরন, আটক রাখার পরিবেশ, জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল ও মুক্তির পর মামলা দেওয়ার প্যাটার্ন প্রায় অভিন্ন ছিল। এক ইউনিট থেকে আরেক ইউনিটে আটক ব্যক্তিদের হস্তান্তরের সময়ও পদ্ধতিগত সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় এসেছে যে ডিজিএফআই এবং র‌্যাবের আলাদা সরঞ্জাম ও ভিন্ন ব্যবস্থাপনা ছিল। এ ধরনের সমন্বয় পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভব নয়, যা গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দায়ের প্রমাণ।

গ্যাসের সংকটে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় জ্বলছে না চুলাগ্যাসের সংকটে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় জ্বলছে না চুলা

সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায়

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর সেনা কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজুহাত ছিল—তারা নাকি জানতেন না। কমিশন এই দাবি তিনটি ভিত্তিতে বাতিল করেছে। কারণ, আটক রাখার সেলগুলো ছিল কমান্ডিং অফিসারদের অফিসের কাছেই। একই ভবন, সিঁড়ি ও লিফট ব্যবহার করে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ছিল। শব্দরোধী ব্যবস্থা না থাকায় নির্যাতনের শব্দ শোনা যেত। এমন অবস্থায় অজ্ঞতার দাবি বাস্তবতাবিবর্জিত।

অনুসন্ধানকালে কমিশনের সামনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর স্বীকার করেছেন যে, হুম্মাম কাদেরের গুম নিয়ে তিনি সরাসরি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। সিটিআইবি ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে আটকদের বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা হতো। এছাড়া জেআইসি ও টিএফআইতে পরিদর্শন করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সেনা নেতৃত্বের অবগত থাকার বিষয়টি প্রমাণ করে।

কমিশন বলছে, গুম একটি চলমান অপরাধ। যতক্ষণ একজন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তার অবস্থান গোপন থাকে, ততক্ষণ অপরাধ চলতে থাকে। এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় ব্রিগেডিয়ার আজমি গুমের ঘটনায়। সেনাবাহিনীর নিজস্ব কোর্ট অব ইনকোয়ারির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধু প্রাথমিক অনুমোদনদাতা নন, পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেলরাও দায়ী। কারণ, তারা অননুমোদিত আটকের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

সেনাকাঠামোর দায় আড়ালের চেষ্টা

গুমকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘সন্ত্রাস দমন’-এর অজুহাতে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল জানিয়ে কমিশন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কোনো জরুরি অবস্থায় বা যুদ্ধকালেও জোরপূর্বক নিখোঁজ রাখা বৈধ নয়।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচক। এ কারণে এটি নিরাপত্তা নয় বরং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার ছিল।

দায় এড়ানোর কাঠামোগত কৌশল

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় সেনা আইনের আওতায় বিচার চাওয়া হয়, যা বাস্তবে দায় এড়ানোর কৌশল। কারণ, সেনা আইনে গুম অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং কমান্ড দায়ের সুস্পষ্ট বিধান নেই। ব্রিগেডিয়ার আজমির ঘটনায় কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। র‌্যাব ও ইলিয়াস আলী গুম তদন্ত বোর্ডের বিপুল প্রমাণ ‘অনুপলব্ধ’ হয়ে গেছে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও দায় আড়াল করার নজির।

কমিশনের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে গুমের ঘটনা ছিল ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত ও সেনা-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। এতে মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্য, ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ডার, গোয়েন্দা ও বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সেনা কমান্ডের দায় আছে । সরাসরি জড়িত অথবা নীরবতার মাধ্যমে—সব স্তরই এ অপরাধ সম্ভব করেছে।

সূত্র: আমার দেশ

Monday, January 5, 2026

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম:

(তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন)

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৩৪

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যযুক্ত চর্চা, যার প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ‘জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার থেকে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনে করা এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর এক হাজার ৫৬৯টিকে জোরপূর্বক গুমের ‘সম্ভাব্য’ মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকৃত সংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনকে একটি ঐতিহাসিক কাজ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন।

গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস এবং সাজ্জাদ হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া। আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কমিশন জানায়, মোট এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরো ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’

বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে, এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।

প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাইপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑবিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা।

কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সে শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। নৃশংস এ ঘটনার মধ্য দিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেত না।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে, সেটার ডকুমেন্টেশন এ রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এ ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বেরিয়ে আসতে হবে। এ নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে, সে প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার শত শত ব্যক্তিকে হত্যা করে এ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী এবং মুন্সীগঞ্জেও গুম করা ব্যক্তিদের লাশ ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।

এদিন প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা জানান, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল, সে সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে কাজ করেছি। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করি সরকার আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, যেন গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।

অভিযোগের হিসাব-নিকাশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনে দায়ের হওয়া এক হাজার ৫৬৯টি যাচাই-বাছাইকৃত অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ২৮২ জন আইনবহির্ভূত হেফাজতের পর পুনরাবির্ভূত হয়েছেন। অপরদিকে ২৮৭ জনের মৃত্যুর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জন চিরতরে নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের দেহ ‘ক্রসফায়ার’ বা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রতি ছয়জনে একজন গুমের শিকার আজও নিখোঁজ। শিকারদের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই পুরুষ। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে নারী গুমের বিষয়ে অনেক কম রিপোর্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক টার্গেটিং স্পষ্ট

গুমের শিকারদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে চরম পক্ষপাতের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে (৯৪৮ জন), তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশই বিভিন্ন বিরোধী দল ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গুমের শিকার তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত মাত্র একজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনা রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৯ সালের ১০টি ঘটনা থেকে সংখ্যা বেড়ে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫-এ পৌঁছায়। ২০১৩ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষকালে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে গুমের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে গুমের অপব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে স্থায়ী গুমের বদলে আটক রেখে পরে ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কারা দায়ী

অভিযোগের ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। পুলিশ দায়ী ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) । ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম কম উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কঠোর গোপনীয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিকাররা সংস্থার নাম চিনতে পারেননি। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ অভিযোগে ‘প্রশাসনের লোক’ নামে অস্পষ্ট পরিচয়ের ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে বলে উল্লেখ আছে। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের মধ্যে যৌথ অপারেশনও লক্ষণীয়, যা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ইঙ্গিত দেয়।

জটিলতা ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এক হাজার ৬৮২টি অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে ১১৩টিকে জোরপূর্বক গুমের সংজ্ঞায় আনা যায়নি। একটি উদাহরণে বলা হয়, এক যুবকের চরমপন্থি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও র‌্যাব গোয়েন্দারা পরিবারকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করে। এর ফলে পরিবারটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তায় ভোগে। যুবকের বোন কমিশনকে বলেন, রাস্তায় আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখতে প্রতিটি পুরুষকে গভীরভাবে পরীক্ষা করি, যদি সে-ই হয়। এমনকি একটি গুমের মামলায় কবর খুঁড়ে ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্য একজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময়, ব্যাপকতা ও অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এ গুমের চর্চা কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও ছাড়পত্র ছাড়া টিকে থাকতে পারত না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় এ ব্যবস্থাকে সম্ভব করেছিল।

কমিশনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ যুগের জোরপূর্বক গুমগুলোকে বিকৃতি হিসাবে নয়; বরং শাসনের হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে বোঝা যায়।

তদন্ত কমিশনের এ প্রতিবেদন বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমকে একটি ভয়াবহ, সুসংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ থেকে মুক্তি পেতে জরুরি ভিত্তিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ জুন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তারও আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়, দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এছাড়া গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে রয়েছেনÑতারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, December 30, 2025

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান:

প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ২১

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত‍্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ব‍্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এসময় হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার জ‍্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র নামাজে জানাজার সময়সূচী পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে জাতি এক অভিভাবককে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি কারাবন্দী হন। ২০২০ সালে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রাপ্ত শর্তসাপেক্ষ মুক্তিতে ছিলেন বেগম জিয়া। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অসুস্থতার মধ্য দিয়েই সময় কাটে তার। মাঝে-মাঝে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিরোধী কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। এ বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। দফায়-দফায় তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও স্বল্প-উন্নতির মধ্য দিয়ে হাসপাতালের সময় পার করছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একদিন থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। সেদিন সাংবাদিকদের সামনে তার মেডিক্যাল বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বুকে ইনফেকশন, হার্ট এবং ফুসফুস আক্রান্ত হয়েছেন।

গতবছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফ করেন। ওই সময় তিনি এভারকেয়ারেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তিনি এ বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। চার মাস পর ৬ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি’র দেওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি দেশে ফেরেন। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। যাওয়ার আগে গুলশানের বাসায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কথা জেনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তখন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছিলেন।

‘খালেদা জিয়া’ শীর্ষক গ্রন্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব সৈয়দ আবদাল আহমেদ উল্লেখ করেন, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ির নয়াবস্তি এলাকায় তার জন্ম। দিনটি সম্পর্কে আবদাল আহমেদ লিখেন, ‘তখন শরতের স্নিগ্ধ ভোর। নতুন শিশুর আগমনে পরিবারের সবাই আনন্দিত।’

বিএনপির দলীয়সূত্র ও তার জীবনীগ্রন্থগুলো থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম। তার ডাকনাম পুতুল। পারিবারিকভাবে তার আরও ডাকনাম ছিল— টিপসি, শান্তি। বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বন্ধু চিকিৎসক অবনীগুহ নিয়োগী সদ্য প্রসূত কন্যাকে ‘শান্তি’ নামে সম্মোধন করেন।

পৃথিবী তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধশেষে মাত্র কয়েকদিনে পড়েছে; দিনকয়েক আগে জাপানে ঘটে গেছে আমেরিকার আনবিক বোমার হত্যাযজ্ঞ। ভারতসহ নানা দিকেই তখন শান্তি মিছিল; মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যেই নতুন জন্ম নেওয়া শিশুকন্যার নাম হয়ে উঠলো ‘শান্তি’। পরবর্তী সময়ে মেজোবোন সেলিনা ইসলামের রাখা ‘পুতুল’ নামটিই জড়িয়ে যায় খালেদা জিয়ার ডাকনাম হিসেবে।

প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ অবশ্য খালেদা জিয়ার জন্ম দিনাজপুরে হয়েছে বলে তার জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

খালেদা জিয়ার আদিবাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায়। তার বাবার নাম ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন (খুরশিদ জাহান হক চকলেট, সেলিনা ইসলাম বিউটি ও খালেদা খানম পুতুল) ও দুই ভাইয়ের (মেজর সাঈদ ইস্কান্দর ও শামীম ইস্কান্দর) মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। এদের মধ্যে এক বোন সেলিনা রহমান, ভাই শামীম ইস্কান্দর জীবিত আছেন।

রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান

স্বামী জিয়াউর রহমানের বধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েছেন খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে কিছু সেনা সদস্যের গুলিতে শাহাদাত বরণ করার পর বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়াপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরোনো ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া, তার দল বিএনপিও বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারপদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি; তিনি হন বিরোধীদলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আজমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়কুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। জোটে চারদল থাকলেও সরকারগঠনে বিএনপির সঙ্গে শুধু একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নেন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ফের বিরোধীদলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি, এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনও সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি।

‘আপসহীন নেত্রী’ পরিচিতি

সামরিক শাসন থেকে শুরু করে বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়েও বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও অনড় অবস্থানে ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করেননি। দল ও ক্ষমতার চেয়ে তার কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বড় ছিল। এই আপসহীন মনোভাবই তাঁকে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

দীর্ঘ অসুস্থতা ও শেষ জীবন

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা, যেমন—কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তিনি কারাবন্দী হন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে তিনি গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’তে অবস্থান করছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ একজন সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেত্রীকে হারালো, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শিখরে

স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে পরিবারকে বিপদে রেখেই দেশের জন্যে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। রণাঙ্গনে সন্মুখভাগে লড়াই করেছেন সেক্টর কমাণ্ডার হিসেবে। অন্যদিকে হানাদার বাহিনীর হাতে দুই সন্তান নিয়ে দুঃসহ বন্দীজীবন কাটিয়েছেন জিয়াপত্নী খালেদা জিয়া। সাদামাট গৃহবধূ হিসেবেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়েও নিজের ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়চেতা বৈশিষ্ট্যের কারণে এক সময় উপমহাদেশের রাজনীতির অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন বেগম খালেদা জিয়া।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে ৩০ মে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে শাহাদাৎ রবণ করেন। আধিপত্যবাদী শক্তির ক্রীড়নক কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যের ব্রাশফায়ারে শহীদ হওয়ার পর বিএনপির হাল ধরতে বাধ্য হন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি।

১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়াপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন সরকারের সময় দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় পুরোনো ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে রাখা হয়। এরপর ওই বছরের ১ এপ্রিল তাকে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

সংগ্রাম মুখর জীবনের এক প্রায় এক দশকের মাথায় খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরমধ্যে দ্বিতীয়দফার দায়িত্বকাল ছিল একমাস। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে খালেদা জিয়া হয়ে ওঠেন ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব। সকল পূর্বাভাস ভুল প্রমান করে দলকে জয়ী করতে সমর্থ হন খালেদা জিয়া। নিজেও পাঁচ পাঁচটি আসনে রেকর্ড ভোটে বিজয়ী হন। ওই বছরই পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারপদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি; তিনি হন বিরোধীদলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে অধ্যাপক গোলাম আজমের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ফের বিরোধীদলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেন তিনি। একইসঙ্গে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই সে বছর নির্বাচন থেকে বিরত থাকে। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, তখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে থাকায় সেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। এমনকি, এই নির্বাচনে জিয়া পরিবারের কোনও সদস্যই অংশগ্রহণ করেননি।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, December 28, 2025

সীমান্তে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে নাশকতার প্রস্তুতি। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

সীমান্তে অস্ত্র পাচারের নেটওয়ার্ক, নির্বাচনে নাশকতার প্রস্তুতিঃ

প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ১৭

 


দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র অনুপ্রবেশের তৎপরতা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থানরত কয়েকজন পলাতক রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসী এই অস্ত্র পাচারচক্রের নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। তাদের নির্দেশনায় সীমান্তজুড়ে সক্রিয় রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পদ্মা নদী ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা এই অস্ত্র চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে অতীতে রাজশাহী অঞ্চলের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সংশ্লিষ্টতা ছিল। মামলা ও তদন্তের চাপে তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। সেখান থেকেই তারা বাংলাদেশে থাকা অনুসারী ও সহযোগীদের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী সরকারের সময় স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের ছত্রছায়ায় যারা অস্ত্র কারবারে যুক্ত ছিল, তাদের কেউ দেশে ফিরে সক্রিয় হয়েছে, কেউ বিদেশে থেকেই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, আবার কেউ কারাগারে থেকেও সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

সীমান্ত রুট ও নজরদারি

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার আশঙ্কায় বিভিন্ন চক্র দেশি-বিদেশি অস্ত্র মজুত করছে। এ পরিস্থিতিতে র‌্যাব-৫ সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে রয়েছে।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, অস্ত্রসহ যেকোনো অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক উদ্ধার ও অভিযান

গত ১৫ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনোহরপুর সীমান্ত থেকে বিজিবি চারটি বিদেশি পিস্তল, ৯টি ম্যাগাজিন ও ২৪ রাউন্ড গুলি জব্দ করে। বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুত এসব অস্ত্র জব্দ করা হয়।

এর আগে ২৬ অক্টোবর বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে আটটি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগাজিন, গুলি, গানপাউডার ও প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চালানটি ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিল।

এছাড়া ১৬ আগস্ট রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই মোন্তাসেরুল আলম অনিন্দ্যকে আটক করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি এয়ারগান, একটি রিভলবার, ছয়টি দেশি অস্ত্র, একটি টেজারগান, চারটি ওয়াকিটকি ও একটি বাইনোকুলার। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী ও নওগাঁ এলাকায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে একাধিক বিদেশি ও দেশি অস্ত্র জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে।

অস্ত্রের উৎস ও পাচার কৌশল

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দ করা অস্ত্রের গায়ে ‘জাপান’ বা ‘ইউএসএ’ লেখা থাকলেও অধিকাংশই ভারতের বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি। গ্রেপ্তার হওয়া বহনকারীদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, বিদেশি নাম লেখা থাকলে অস্ত্রের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। এসব অস্ত্র প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় মজুত করে পরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পাচারকাজে সবজি ও ফলের চালান ব্যবহার করা হয়, আর বহনকারীদের বেশিরভাগই কিশোর ও যুবক।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক নেতারা বাংলাদেশে তাদের পুরোনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। দেশে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী অস্ত্রের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, চালান পৌঁছে দেওয়া এবং অর্থ লেনদেনে সহায়তা করছেন।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সীমান্তের আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের কারণে এই অপরাধচক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবৈধ অস্ত্রের মজুত আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা সীমান্ত দিয়ে গানপাউডার ও অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে। এসব অস্ত্র বিভিন্ন হাত ঘুরে রাজধানীসহ দেশের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। সূত্রের দাবি, ভারতের কলকাতাসহ রাজশাহী অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে কয়েকজন পলাতক সাবেক এমপি, মেয়র ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী এই সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

স্থানীয় একটি সূত্রের অভিযোগ, দেশে বসেই অস্ত্র পাচারের তদারকি করছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মানিক। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর খানপুর সীমান্তে দায়িত্বরত কয়েকজন বিজিবি সদস্য জানান, অধিনায়কের নির্দেশে আমরা কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছি।

চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর চর এলাকার কৃষক সোলায়মান হোসেন জানান, সম্প্রতি এলাকায় অপরিচিত যুবকদের চলাচল বেড়েছে। বিজিবি ইউসুফপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার সোলায়মান বলেন, সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়ন-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ যেকোনো অবৈধ সামগ্রী অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ রয়েছে। র‌্যাব-৫-এর একটি সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতার লক্ষ্যে অস্ত্র মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও সীমান্তে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের কারণে অস্ত্র পাচারচক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনকে ‘টার্গেট ইভেন্ট’ হিসেবে ধরে নিয়ে বিভিন্ন অশুভ শক্তি অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে। ভারতে বসে থাকা পলাতকরা এই সহিংসতার বাজার তৈরি করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে। স্থানীয়ভাবে তাদের দলের কিছু লোকের সমর্থন এই অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অবৈধ অস্ত্রের মজুত নির্বাচনি পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এ জন্য নির্বাহী বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে সীমান্তজুড়ে অস্ত্র পাচারের এই নেটওয়ার্ক শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, আসন্ন নির্বাচনি পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই হুমকি অপসারণে কার্যকর ও সমন্বিত অভিযানের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ আমার দেশ

Saturday, December 27, 2025

হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত, আছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা। (BDC CRIME NEWS 24)

BDC CRIME NEWS24

হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত, আছে নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা:

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩: ২২

পৌষের হাড়কাঁপানো শীত ও গভীর রাতের ঘন অন্ধকার উপেক্ষা করে শাহবাগে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে জনমানুষ। বিচারের দাবিতে উত্তাল শাহবাগ মোড়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ এক কাতারে অবস্থান করছেন। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন না—এমন শপথে অনড় রয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় সরেজমিনে দেখা যায়, কম্বল জড়িয়ে ও সামিয়ানা টানিয়ে শাহবাগ মোড়ে বসে আছেন আন্দোলনকারীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখর চারপাশ— ‘শাহবাগ না ইনসাফ’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘এক হাদির রক্ত থেকে লক্ষ হাদি জন্ম নেবে’।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশজুড়ে মানুষের ভিড় ও চারদিকে ব্যারিকেড দেখা যায়। মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও পাশের লেনে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করছে।

রাজধানীর রামপুরা থেকে দুই শিশু নিয়ে অবরোধে এসেছেন এক দম্পতি। দুচোখ ভেজা কণ্ঠে মা উমায়ের কুলসুম আমার দেশকে বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের কথাগুলো শুনলে ঘরে থাকা যায় না। উনি বিচার চেয়ে ওসিয়ত করে গেছেন। আমরা কিভাবে ঘুমাই?’

তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, ‘এই শীতে কষ্ট হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বিচার না পেলে এই কষ্টের মানে নেই। আমরা বিচার চাই। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না।’

শহীদ হাদি হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, রাত গড়িয়ে দিন এলেও অবরোধ চলবে। প্রয়োজনে দিন-রাত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের বিচার নিশ্চিত না করে আমরা যাব না। কোনো আশ্বাসে কর্মসূচি শেষ হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। বিচার শুরু হলেই আমরা কর্মসূচি তুলে নেব।’

অবস্থানে অংশ নেওয়া অনেককে আবেগে কাঁদতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, ‘আজ যদি হাদির বিচার না হয়, কাল যে কেউ হাদি হতে পারে। আমরা তা চাই না।’

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ। ভিসি চত্বর, টিএসসি ও শহীদ মিনার ঘুরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয় তারা। এতে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

পশ্চিমবঙ্গের ৩ জেলার হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধপশ্চিমবঙ্গের ৩ জেলার হোটেলে বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ

শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় সরেজমিনে দেখা যায়, অবস্থান কর্মসূচিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার স্লোগানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘হাদির মুখ বন্ধ করে দেওয়া মানে হাজারো কণ্ঠকে জাগিয়ে তোলা। আমরা বক্তৃতা দিতে আসিনি, ইনসাফ চাইতে এসেছি। হাদি ভাইয়ের রক্তের বিচার হতেই হবে।’

এদিন ইনকিলাব মঞ্চ তাদের তিন দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। দাবিগুলো হলো— দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং হত্যার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ নিশ্চিত করা।

অবস্থানে থাকা এক নারী আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমরা শুধু চাই—খুনের বিচার হোক। রাষ্ট্র যদি বিচার দিতে না পারে, তাহলে জনগণ রাস্তায় নামবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সূত্র: আমার দেশ 

Sunday, December 21, 2025

৬ ভাই-বোনের ‘হাদি পরিবারে’ কে কী করেন?

BDC CRIME NEWS 24

৬ ভাই-বোনের ‘হাদি পরিবারে’ কে কী করেন?

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫: ০৮

আলেম ও শিক্ষাবিদদের পরিবার জন্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির। ছয় ভাইবোনের এই পরিবারে প্রায় সবাই ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। ছোটবেলা থেকেই কুরআন -হাদিসের শিক্ষায় বেড়ে ওঠা ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন কর্মী। দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়ে তিনি এখন শহীদ।

শিক্ষাজীবনে ওসমান হাদি ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা থেকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবিকার তাগিদে প্রাইভেট পড়াতেন। সবশেষ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকার সন্তান ওসমান হাদি। তার বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার একটি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেজ ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

ওসমান হাদির তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির হোসেন নলছিটি ফুলহরি আবদুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং একটি মসজিদের ইমাম। মেজ বোনের স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান হাদি।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টা ৩৩ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারা দেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ জানাজায় উপস্থিতি হন। হাদির জানাজা পড়ান তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

সূত্র: আমার দেশ 

Tuesday, December 16, 2025

ঢাকায় ভয়ংকর ২০ শুটার এর পরিচয়। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

ঢাকায় ভয়ংকর ২০ শুটার এর পরিচয়:

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যতই ঘনিয়ে আসছে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে অপরাধজগৎ দাপিয়ে বেড়ানো ভয়ংকর শুটারদের ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর। এসব শুটার সচরাচর অপরাধজগতের অন্ধকার চোরাগলিতে থাকলেও মাঝেমধ্যেই ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে নিজেদের দুর্ধর্ষতার জানান দিচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে সম্পৃক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই অন্তত ২০ ভয়ংকর শুটারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীতেও রয়েছে ভয়ংকর কয়েক শুটারের প্রভাববলয়।

শুধু গত দেড় মাসের মধ্যেই অন্তত চারবার এই শুটারদের ভয়ংকর রূপ দেখেছে মানুষ। এর মধ্যে গত নভেম্বরে চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থীর গণসংযোগের মধ্যেই গুলি করে দুর্ধর্ষতার জানান দেয় অস্ত্রধারী। একই মাসে শুটারের আগ্নেয়াস্ত্রের নির্ভুল নিশানায় রাজধানীর পল্লবীতে প্রাণ যায় যুবদল নেতার। পুরান ঢাকায় শুটারের নিখুঁত নিশানায় প্রাণ যায় আরেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর। এর আগে আলাদা দুই ঘটনায় শুটারদের নিশানায় পরিণত হয়ে গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের ৩ সদস্য। সর্বশেষ গত শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দক্ষ এক শুটারের অস্ত্রের নিশানায় পড়েন। যে ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলার নড়বড়ে চিত্রের সঙ্গে অস্ত্রধারী শুটারদের ভয়ংকর রূপ সামনে নিয়ে আসে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে এমন নির্ভুল নিশানার বন্দুকবাজরাও নানা কারণে ততই আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ঘিরে এলাকাভিত্তিক ঘাপটি মেরে থাকা শুটাররাও তাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের অস্ত্রধারী ও শুটারদের ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকি। নির্বাচন ছাড়াও তাদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করি। তবে তপশিল ঘোষণার পরই সম্প্রতি কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটায় এবং সামনে নির্বাচন থাকায় আমরাসহ অন্যান্য বাহিনী এ ধরনের অস্ত্রধারী ও শুটারদের ব্যাপারে বিশেষভাবে কাজ করছি।’

আর পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ত্রধারী ও পেশাদার অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মোটা টাকায় ভাড়ায় খাটছে গ্যাংস্টারদের পালিত শুটাররা: রাজধানীর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে গত ১০ নভেম্বর সকালে ফিল্মি স্টাইলে টানা ১০ রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এক সময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ ওরফে মামুনের। এক মিনিটেরও কম সময়ে কিলিং মিশনটি সম্পন্ন করে শুটাররা নিরাপদে ঘটনাস্থল ছাড়ে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামুনকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায় ফারুক হোসেন ফয়সাল ওরফে কুত্তা ফারুক এবং রবিন আহম্মেদ ওরফে পিয়াস। হাসপাতাল গেটে ভিড়ে ভরা মানুষের মধ্যে এই দুই শুটারের অস্ত্র চালানোর ধরন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ (শারীরিক ভাষা) দেখে বিস্মিত হন খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিলারদের ব্যাকআপ টিমে ছিল পুলিশের তালিকায় থাকা আরেক শুটার আব্দুর রাজ্জাক রনি। যার নাগাল পাওয়া যায়নি এখনো।

মামুন হত্যায় জড়িত গ্রেপ্তার দুই শুটারকে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘ওই হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া বন্দুকধারীরা প্রত্যেকেই শার্প শুটার (অত্যন্ত দক্ষ)। একযুগ আগে গুলশানে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যায় জড়িত শুটারদের পরে এমন অভিজ্ঞ ও অব্যর্থ শুটারের দেখা মেলেনি। এ ধরনের বন্দুকধারীরা মূলত ভাড়ায় খাটে এবং হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের হত্যার চুক্তি নেয়। রাজনীতিক, শক্ত প্রতিপক্ষ গ্যাং স্টারদের মারার জন্য তারা পারস্পরিক সমঝোতা বা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকে।’

মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের ছয় শুটারে ভয়: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচনায় আসে ফোর স্টার গ্রুপের নাম। গত ১৭ নভেম্বর তাকে পয়েন্ট-ব্ল্যাংক রেঞ্জ (অস্ত্র ঠেকিয়ে) থেকে এলোপাতাড়ি গুলিতে হত্যা করা হয়। নাইন এমএম রিভলবার দিয়ে তিনজন শুটার তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ওই কিলিং মিশনে ফোর স্টার গ্রুপের সোহেল ওরফে পাতা সোহেল, মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম, সোহাগ ওরফে কাল্লু, রোকন ও জনি অংশ নেয়। তাদের মধ্যে রোকন এখনো অধরা।

মিরপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘ফোর স্টার গ্রুপে ঠিক কতজন শুটার রয়েছে, সেটির নিশ্চিত ধারণা নেই। তবে এই সন্ত্রাসী গ্রুপটির আরও অন্তত পাঁচজন দক্ষ শুটারের তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। এর মধ্যে জাকির অন্যতম। জাকির হলো সম্প্রতি ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করা মোক্তারের অনুসারী। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করছে ডিবি ও র্যাব।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিবরিয়ার কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শুটাররা প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল।

পুলিশকে গুলি করতেও কাঁপে না শুটার বাপ্পির হাত: দুর্ধর্ষ আরেক শুটার বাপ্পি। তাকে মো. আলী ওরফে ফিরোজ আলম ওরফে আহসানুল হক নামেও চেনে অপরাধ জগতের অন্ধকার চোরাগলির লোকজন। রাজধানীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শুরু করে সাভার ও আশুলিয়াতেও রয়েছে তার বিচরণ। খুচরায় ফেনসিডিল বিক্রির মাধ্যমে অপরাধজগতে হাতেখড়ি। এক পর্যায়ে পুরোপুরি মাদক কারবারে জড়িয়ে যায়। ফেনসিডিল ছেড়ে ইয়াবার কারবারে প্রবেশের পর নিজের মাদক সাম্রাজ্যের নিরাপত্তায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে শুরু করে।

বাপ্পিকে নিয়ে খোঁজ রাখেন পুলিশের এমন একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘৭ হাজার টাকা দিয়ে ২০১০ সালে মেহের আলী নামে একজনের মাধ্যমে পাবনা থেকে বাপ্পি নিজের জন্য একটি অস্ত্র আনায়। ২০২৫ সালের মধ্যে হয়ে ওঠেন শার্প (নিপুণ দক্ষতা) শুটার। এই বাপ্পি মাদক কারবারের সঙ্গে ২০১৪ সাল থেকে সমানভাবে চালিয়ে যায় অস্ত্র বিক্রি ও ভাড়ার কারবার। বাদল নামে একজন তার অন্যতম সহযোগী।’

চলতি বছরের জুনে এ বাপ্পির ভয়াবহ রূপ দেখেছিল খোদ পুলিশই। রাজধানীর পল্টনে গভীর রাতে ইয়াবার চালান নিয়ে সহযোগীদেরসহ পুলিশের মুখে পড়ে। রাতের অন্ধকারেই পুলিশকে নিখুঁত নিশানায় পরিণত করে গুলি চালায় তারা। এতে ডিবির তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনায় যশোর থেকে বাপ্পিসহ তার সহযোগী আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ও কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। যদিও এর ছয় মাস না যেতেই জামিনে মুক্ত হয়ে ফের গা ঢাকা দিয়েছে সে।

জবানবন্দিতে বাপ্পি জানিয়েছিল, বিভিন্ন মামলায় কয়েকবার কারাগারে গিয়ে একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। সেখান থেকেই মূলত অবৈধ অস্ত্রের অন্ধকার জগতে পা রাখে। ওই জগতে প্রবেশের পর চলতি জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি ও সরবরাহ করেছে অন্তত ৭০টি অবৈধ অস্ত্র।

কিশোর গ্যাং ও দলছুট শুটাররাও মাথাব্যথার কারণ: ইনকিলাব মঞ্চের শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় আলোচনায় এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের নাম। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনার পর তার দেশ ছাড়ার খবর মিলেছে। এর আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিল সে। যদিও সে সময়ে শুটার হিসেবে তার নাম আলোচিত ছিল না। তবে হাদিকে গুলির পর তাকেও ‘শার্প শুটার’ হিসেবে বিবেচনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। যদিও আদাবর-শ্যামলী এলাকায় ফয়সাল অস্ত্রবাজ হিসেবেই চিহ্নিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংসহ অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোতে অন্তত দশজন সক্রিয় শুটার রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো—কিলার পাপ্পু গ্রুপের সাইফুল, শরিফ ও বাবলা। অন্য একটি গ্রুপের আলোচিত শুটার কালু ও রাজু। মোহাম্মদপুরের অস্ত্রধারী ও শুটারদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা এ ধরনের বিষয়গুলোর প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি। এখনো সেরকমই। তবে এলাকাভিত্তিক অস্ত্রধারী ও শুটারদের কোনো তালিকা নেই। বিভিন্ন সময়ে সোর্সের মাধ্যমে আমরা তথ্য পেয়ে অস্ত্রধারী শুটারদের গ্রেপ্তার করেছি, এখনো করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

শুটারদের আছে নিজস্ব অস্ত্র ভান্ডার: গত সাত মাসে শুটারদের দুটি অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পেয়েছে ডিবি। এর মধ্যে সম্প্রতি যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে একটি অস্ত্র ভান্ডারের খোঁজ পায় ডিবি। পল্লবীর একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে কিবরিয়ার হত্যাকারী। এই অস্ত্র ভান্ডার দেখভাল করত মো. মোক্তার হোসেন। এ ছাড়া পুলিশকে গুলি করার ঘটনায় বাপ্পির ডেমরা ও আশুলিয়ার বাসা থেকেও বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অস্ত্র শুটার নিজের কাজে ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ভাড়াতেও দেওয়া হয়। এসব অস্ত্র ভাড়া করে এক গ্রুপ আর ব্যবহার করে আরেক গ্রুপ। ভাড়া যে দেয়, যে নেয় এবং যে ব্যবহার করে, অনেক সময় কেউই কাউকে চেনে না। এসব ক্ষেত্রে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া শুটারদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত অবৈধ অস্ত্রধারী ও শুটারদের অনুশীলন বা প্রশিক্ষণের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থাকে না। ঢাকাকেন্দ্রিক শুটার অনুশীলন করার জন্য বেছে নেয় গভীর রাত ও নির্জন নদীর মাঝখানের জায়গা।

অপারেশনের ধরনে নির্ধারিত হয় অস্ত্র ও শুটার ভাড়ার হার: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, মাত্র ছয়শ থেকে তিন হাজার টাকায়ও অনেক সময় শুটার ভাড়া পাওয়া যায়। তবে কাকে গুলি করা হবে, ভয় দেখানো হবে, নাকি হত্যা করা হবে—এসবের ওপর নির্ভর করে শুটারের ‘মজুরি’। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হওয়া অন্তত পাঁচজন শুটারের ভাষ্য থেকে এসব তথ্য মিলেছে।

এ প্রসঙ্গে ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলে টাকার পরিমাণ বাড়ে। হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আবার কখনো কখনো সম্পর্কের খাতিরে বিনা টাকায় কাজ করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে পরবর্তী সব ঝামেলা এড়ানোর দায়িত্ব থাকে অপর পক্ষের প্রতি।’

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অস্ত্রধারী ও শুটারদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এ বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিলে নির্বাচনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী মাঠে আমরা সংঘাত, সহিংসতা, পেশিশক্তির ব্যবহার, আধিপত্য বিস্তারের মতো ঘটনাগুলো দেখেছি। এমন প্রেক্ষাপটে অস্ত্রবাজদের, কিলারদের চাহিদা বাড়ে। এরই মধ্যে আমরা তেমন দু-একটি ঘটনা দেখেছি। সেক্ষেত্রে আমরা বলছি যে, আইন প্রয়োগের জায়গা থেকে যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে পারলে তখনই সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ব নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

অবৈধ অস্ত্রধারী ও শুটারদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর অস্ত্রধারী ও শুটারদের অপতৎপরতার বিষয়ে পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে অস্ত্রধারী ও পেশাদার অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পাশিপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

সূত্র: কালবেলা 

Saturday, December 13, 2025

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও এখন ইউএনও। (BDC CRIME NEWS24)

p>BDC CRIME NEWS24

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও এখন ইউএনও:

প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদায়নে, আওয়ামী লীগপন্থী বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিরা একই বিভাগে পদায়ন পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমলারা রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নে মনযোগ দিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব না।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে বড় রদবদল এনেছে অন্তর্বতী সরকার। নির্দলীয় ব্যক্তিদের পদায়নের লক্ষ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বিগত নির্বাচনে সহকারী রিটার্নি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন না করা, ৩৬তম ব্যাচের বেশিরভাগ কর্মকর্তাকে।

আরটিভির হাতে আসা তথ্যে দেখা যায়, সিলেট বিশ্বনাথের ইউএনও উম্মে কলসুম রুবি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছিলেন রাজধানীর ধানমন্ডি ও আমিনবাজারের এসিল্যান্ড। তার স্বামী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কাদের শিপু। গোলাপগঞ্জে ইউএনওর শাখী ছেপের স্বামী আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় সদস্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে, মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর দীর্ঘদিন পদায়ন ছিল ঢাকার মধ্যেই। কেরানীগঞ্জের সাবেক এই এসিল্যান্ড এখন শরীয়তপুরের ডামুড্যার ইউএনও। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত শিবানী সরকারও পদায়ন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ইউএনও হিসেবে। 

নাটোর সিংড়া উপজেলার ইউএনও পদায়ন পেয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের ছাত্রলীগের সাবেক পদধারী নেতা আবদুল্লাহ আল রিফাত। ছাত্রলীগের রাজনীতি করা জালালুদ্দিন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড থেকে ফরিদপুরের ইউএনও। 

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের বন্ধু ফারজানা ববি মিতু লৌহজংয়ের এসিল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করলেও এবার সেখানেই গিয়েছেন ইউএনও হিসেবে। বুয়েটে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত মো. কায়েসুর রহমান পদায়ন পেয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলায়।

এসব পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তাকে দোষারোপ করেছে জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স।

জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্সের আহবায়ক সালেহ মাহমুদ রায়হান বলেন, ইউএনও পদায়ন নিয়ে আমরা যেসব পোস্ট করেছি তার সবগুলোর তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। বিতর্কিত প্রায় ২০ জনের ওপরে পদায়ন হয়েছে। 

প্রশাসনে এমন অবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংকে দায়ী করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরি। তিনি বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে আমি তদবিরের একটা আখড়া হিসেবে মূল্যায়ন করি। আপনি কাজ করতে গিয়ে যখন নিজের এজেন্টা বাস্তবায়ন করবেন তখন আপনি ধরা খেলেন। পাশাপাশি আপনার এপিডি উইং ধরা খেলো, মন্ত্রণালয় ধরা খেলো।   

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান ঢাবি লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের। তিনি বলেন, দক্ষতা মূল্যায়ন করে যদি প্রশাসনকে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা হয় তাহলে আমার মনে হয় আরও বেশি ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে।

তবে জনপ্রশাসনের এসব ইস্যুতে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেন জনপ্রশাসন সচিব।

সূত্র: আরটিভি

Sunday, December 7, 2025

ক্ষমতার কেন্দ্র বাড়িগুলো এখন নিঝুম। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

ক্ষমতার কেন্দ্র বাড়িগুলো এখন নিঝুম:.

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। ক্ষমতার স্বাদ নিতে এই সময়ে শেখ পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যের বাড়ির সামনে দলীয় নেতাকর্মীসহ অনুগতদের ভিড়ের কমতি ছিল না।

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট একেবারে পাল্টে গেছে।

শেখ পরিবারের সদস্যদের বাড়ির সামনে নেতাকর্মীদের আগের সরব উপস্থিতি নেই। নেতাকর্মীদের পদচারণে মুখর বাড়িগুলোয় এখন সুনসান নীরবতা। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিরা ঢাকা, বরিশাল ও খুলনায় সরেজমিনে শেখ পরিবারের সদস্যদের বেশ কিছু বাড়ি ঘুরে এমন চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা

রাজধানীর ধানমণ্ডির লেকপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার বাড়ি।

বাড়িটিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরে কেউ থাকতেন না। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর বাড়ি হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় ছিল সেটি। নিরাপত্তার কারণে বাড়ির সামনের সড়কে চলাচল সীমিত ছিল। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ওই সড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না।

বাড়ির উল্টো পাশে ছিল একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। বর্তমানে ওই পুলিশ ক্যাম্প নেই। নিরাপত্তাব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে সুধা সদন নামের এই বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। বাড়িটি থেকে জিনিসপত্রও বের করে নিয়ে যায় তারা।

শেখ রেহানা

শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার বাড়িটি রাজধানীর গুলশানে। বাড়িটি এক হাজার এক টাকা মূল্যে সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া। বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল হওয়ায় এই বাড়িটির মালিক বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষ। বিশেষ আইনে ২০০৯ সালে দেড় বিঘা আয়তনের গুলশানের বাড়িটি বরাদ্দ পান শেখ রেহানা।

জানা যায়, শেখ রেহানা মাঝে মাঝে গুলশানের ওই বাড়িতে অবসর সময় কাটাতেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে তছনছ করা হয়। একসময় বাড়িটি ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে শুধুই নীরবতা। বাড়িটির নিরাপত্তায় বসানো তিনটি নিরাপত্তা চৌকি বর্তমানে ফাঁকা। আগে বাড়িটির সামনের যানজট কমাতে ছিল বাড়তি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এখন সেখানে নেই কোনো ট্রাফিক সদস্য। বাড়িটির সামনে কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আর বাড়ির মূল ফটকে ঝুলছে তালা। দূর থেকে ভেতরে দৃষ্টি দিলে বোঝা যায়, লম্বা সময় ভেতরে কেউ ঢোকেনি। বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় কয়েক স্তরের ঝরাপাতা জমে আছে।

শেখ সেলিম

রাজধানীর বনানীতে বসবাস করতেন শেখ পরিবারের আরেক সদস্য শেখ সেলিম। তার বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল ফটক বন্ধ। বাড়ির ভেতরে কেউ আছেন কি না জানতে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করা হলেও কারো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে সীমানা প্রাচীরের ওপর দিয়ে তাকিয়ে দেখা গেছে, বাড়িটির ভেতরে কেউ নেই। পাশের বাড়ির দারোয়ান হোসেন মিয়া জানান, বাড়িটিতে শেখ সেলিমের পরিবার থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর আর ওই বাড়িতে কেউ আসেননি। অভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িটিও হামলার শিকার হয়। কয়েক দিন আগে ময়লা-আবর্জনা সরানো হয়েছে। তবে ভেতরে এখন কেউ নেই।

বরিশালে ‘ভাইয়ের বাড়ি’

সেরাল। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে উঁচু প্রাচীরঘেরা দোতলা একটি বাড়ি। আনুষ্ঠানিক কোনো নাম না থাকলেও বাড়িটি বরিশাল বিভাগজুড়ে সবার কাছে পরিচিত ‘ভাইয়ের বাড়ি’ নামে। এটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বাড়ি। হাসানাতকে নেতাকর্মীরা ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন।

বরিশালে এলে তিনি গ্রামের এই বাড়িতে থাকতেন। তখন মধ্যরাত পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণে সরগরম থাকত বাড়িটি। রাস্তায় থাকত পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ক্ষমতার গত ১৫ বছর এই বাড়িতে বসে হাসানাত বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ইউপি চেয়ারম্যানরা আসতেন এই বাড়িতে। বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের পদ বণ্টন থেকে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বাড়িটি থেকে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই দেশ ছেড়ে চলে যান হাসানাত। সেই থেকে বাড়িটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

খুলনার আলোচিত ‘শেখবাড়ি’

ভোর হতে না হতেই চলাচল শুরু হতো মানুষ ও গাড়ির। প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা পালাক্রমে হাজির হতেন। ছিল নেতাকর্মীদের মুখর উপস্থিতি। বাড়িটি খুলনার আলোচিত ‘শেখবাড়ি’। নগরীর শেরেবাংলা রোডে বাড়িটির অবস্থান। মাঝেমধ্যে বাড়িতে থাকতেন শেখ আবু নাসেরের সন্তানরা। বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বিসিবির সাবেক পরিচালক শেখ সোহেল উদ্দিন এবং ব্যবসায়ী শেখ আব্দুল্লাহ রুবেল। তাদের পাশাপাশি বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়ও মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে আসতেন।

আলোচিত ওই ‘শেখবাড়ি’ বর্তমানে সনসান। নেই কোলাহল। গত ৪ ও ৫ আগস্ট কয়েক দফায় বাড়িটিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চলে। মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার যে আগুন জ্বলছিল ৪ ও ৫ আগস্ট সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বাড়িটির সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এখনো মানুষ নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করে।

তবে বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগের দুই মাস পর একদিন রাতের আঁধারে ভাঙা গেটটি কেউ টিন দিয়ে আটকে দিয়েছেন। ফলে এখন আর কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

সূত্র: যুগান্তর

মানহীন মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠছে গলার কাঁটা। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24

মানহীন মেডিকেল কলেজ হয়ে উঠছে গলার কাঁটা:

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯: ০৮

একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার অনেকটাই নেই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে। এখানে হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে নানা সমস্যায় জর্জরিত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ। বিক্রমপুর মেডিকেল কলেজের অবস্থাও ভালো নয়। এমন অনেক সমস্যায় জর্জরিত বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এসব মানহীন কলেজ দেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠছে।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মান তলানিতে। অবকাঠামো, শিক্ষক সংখ্যা, হাসপাতালের সংযুক্তি এবং শিক্ষার মান না থাকায় এ কলেজগুলো ভবিষ্যতে নিম্নমানের ডাক্তার তৈরি করবে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এসব কলেজ বন্ধ করা বা শিক্ষার্থীদের অন্য স্বীকৃত কলেজে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এসব কলেজ থেকে পাস করা ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের অনেকেই রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।

সরকারের তদন্তেও অনেক কলেজই মানহীন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে এসব কলেজ বন্ধের সুপারিশও করা হয়েছিল, যদিও পরে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কাজে ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থামেডিকেল টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্টদের কাজে ফেরার নির্দেশ, না মানলে ব্যবস্থা

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৭টি সরকারি ও ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিজিএমই) তথ্য অনুযায়ী, পুরো ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে গুরুতর শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষকের ছয় হাজার ৪৪৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে খালি রয়েছে দুই হাজার ৭০০টি, অর্থাৎ ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। ঘাটতি সবচেয়ে বেশি অধ্যাপক পর্যায়ে, যেখানে ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ পদ খালি।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের পর নির্মিত মাগুরা, নীলফামারী, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর, নওগাঁ ও নেত্রকোনা—এই ছয়টি মেডিকেল কলেজের মান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ কলেজগুলোর স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত নয় এবং নানা সংকটের সম্মুখীন।

রাজনৈতিক বিবেচনায় হাসপাতাল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলের কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তা কোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি ছাড়াই নেত্রকোনা, চাঁদপুর, নওগাঁ, নীলফামারী, মাগুরা ও হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যথেষ্ট জনবল বা গবেষণাগার নেই। ফলস্বরূপ, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে না।

এসব মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২০১৫ সালে প্রশাসনিক অনুমোদন পায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ। ক্লাস নেওয়ার জন্য স্থান না পাওয়ায় তখন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনুমোদন পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে তা চলছে সদর আধুনিক হাসপাতালে। শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলা নির্বাচন করা হয়েছে। হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কের পাশে সদর উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

অপর পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ২০১৮ সালে অনুমোদন পায় এবং পরবর্তী বছর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে নেত্রকোনা মেডিকেলের ক্লাস চলছে সদর হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষে। আট বছরেও নিজস্ব কোনো ভবন হয়নি কলেজটির। এরই মধ্যে গত বছর আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭০ করা হয়েছে । একই সঙ্গে রয়েছে শিক্ষক সংকটও। কলেজের গবেষণাগারে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি না থাকায় বইয়ের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। হাতেকলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

এদিকে চাঁদপুর মেডিকেলের জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি এখনো। সদর হাসপাতালের মাত্র আটটি কক্ষেই চলছে এই কলেজ। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের জায়গার সংকুলান হয় না। এক ব্যাচের ক্লাস চলাকালীন অন্য ব্যাচকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কলেজটির কোনো নিজস্ব হোস্টেলও নেই। একটি ভাড়া ভবনে করা হয়েছে আবাসনের ব্যবস্থা। প্রায় একই অবস্থা নওগাঁ, নীলফামারী ও মাগুরা মেডিকেল কলেজেরও।

শিক্ষার্থীরা যা বলছেন

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজে যা যা থাকা উচিত, তার অনেক কিছুই এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত। হাসপাতাল যেহেতু চালু হয়নি, তাই ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে দক্ষতার প্রশ্নও থাকে। হাসপাতাল চালুর জন্য বিভিন্ন চেষ্টা-তদবির করার পর এখনো স্পষ্টভাবে বলা যায় না, হাসপাতাল কবে চালু হবে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে গাফিলতি করছে প্রশাসন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মারপ্যাঁচ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর অপেশাদারিত্ব, ঢিলেমি ও সময়সাপেক্ষ কাজের কারণে হাসপাতাল চালুর অনিশ্চয়তা বাড়ছেই। বারবার তদারকি করার পরও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এই দুই শিক্ষার্থী জানান, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকসহ সব ধরনের স্টাফের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনেক রিসোর্স এখনো আনা হয়নি, কখন আসবে তা-ও নির্দিষ্ট নয়। একই সঙ্গে কলেজের একাডেমিক রিসোর্সেরও অভাব রয়েছে।

এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, হাসপাতাল পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষক ও একাডেমিক শিক্ষায় সমস্যা না থাকলেও সার্জারি, ইমার্জেন্সি, গাইনি, চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা রোগীর কাছে যেতে অন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে বাধা দিচ্ছে।

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের সুপারিশ করেছে। গত ৫ মে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন পেশ করা হয়। প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ৩২টি সুপারিশের মধ্যে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সমন্বিত ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করা উচিত। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, কলেজ সংখ্যা ও আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে তাদের অন্যান্য স্বীকৃত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দেশে ১১০টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৩৭টি সরকারি। এর মধ্যে নেত্রকোনা, চাঁদপুর, হবিগঞ্জ, নওগাঁ, মাগুরা ও নীলফামারী সরকারি মেডিকেল ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে পারছে না। প্রায় ২০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।

যদিও সরকার মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে পরে সরে আসে। পরিবর্তে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসব মেডিকেলে ভর্তির আসন সংখ্যা কমানো হয়েছে। ১০ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজের মোট ৩৫৫টি আসন কমিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আলোচিত ছয়টি মেডিকেলে আসন ৭৫ থেকে কমিয়ে ৫০ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ মেডিকেলের ৭৫টি আসন অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট ৭২২টি আসন কমানো হয়।

ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

মানহীন কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক রোগীর জীবন ও দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিপন্ন করতে পারে। সমাধান না করলে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে ডাক্তার তৈরির মান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক মুর্তজা শাহরিয়ার আমার দেশকে বলেন, ‘একজন মেডিকেল স্টুডেন্টের শেখার সময়ে ভালো শিক্ষক যেমন জরুরি, একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগী দেখে তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া অবজার্ভ করে শেখাটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদি এমন হয় যে, কোনো মেডিকেলে যোগ্য শিক্ষক সংকট আছে কিংবা সেখানে রোগীদের দেখে শেখার সুযোগ কম, তবে এমবিবিএস লেভেলে শিক্ষার্থীদের শেখাটা পূর্ণাঙ্গ হয় না। এমন হলে শিক্ষার্থীদের সেলফ কনফিডেন্স যেমন কম থাকে, তেমনি পেশাগতভাবেও দক্ষতার ত্রুটি হবে। উন্নত বিশ্বের মেডিকেল স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমরা যদি নিজেদের তুলনা করি, সেখানে আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই যে, দক্ষতা ও যোগ্যতার দিক থেকে যেন তাদের ও আমাদের মাঝে কোনো পার্থক্য না থাকে। এমন হতে হলে শেখার পরিবেশ মানসম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন চিকিৎসক আমার দেশকে বলেন, মানহীন মেডিকেল কলেজ থেকে যারা পাস করছেন, তাদের অনেকেই পেশাগতভাবে রোগী দেখার জন্য উপযুক্ত নন। মানহীন মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসকরা রোগীকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে অক্ষম হতে পারেন, যা রোগীর জীবন ও সুস্থতায় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রকৃত দোষী হলেন সে ব্যক্তিরা, যারা দুর্নীতির মাধ্যমে এসব কলেজ অনুমোদন ও পরিচালনা করেছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আমার দেশ 

অখ্যাত থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে: ডা. শফিকুর রহমানের অভাবনীয় উত্থান। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 রয়টার্সের প্রতিবেদন- অখ্যাত থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে: ডা. শফিকুর রহমানের অভাবনীয় উত্থান প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯...