BDC CRIME NEWS24
রয়টার্সের প্রতিবেদন-
অখ্যাত থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে: ডা. শফিকুর রহমানের অভাবনীয় উত্থান
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
এক সময়কার আড়ালে থাকা চিকিৎসক থেকে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার! রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বিস্ময়কর রাজনৈতিক উত্থানের গল্প। কীভাবে জেন-জি বিপ্লব আর রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু? বিস্তারিত পড়ুন নিচের প্রতিবেদনে।
দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের রাজনীতির নেপথ্যে থাকা এক চিকিৎসক এখন দৃশ্যপটের সম্মুখভাগে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, যিনি এক সময় কেবল কট্টর ইসলামপন্থিদের কাছে পরিচিত ছিলেন, তিনি এখন দেশটির আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার মোড়ে মোড়ে এখন তাঁর সাদা দাড়ি ও হাস্যোজ্জ্বল মুখসংবলিত বিলবোর্ড ও পোস্টার জানান দিচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে ডা. শফিকুর রহমানের এই উল্কাসম উত্থানকে বিশ্লেষণ করেছে।
আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে রাজপথ শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি, নিবন্ধন বাতিল এবং সর্বশেষ দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ফলে তারা কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়। ২০২২ সালে ডা. শফিকুর রহমান নিজেও গ্রেপ্তার হন এবং ১৫ মাস কারাবরণ করেন। তবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় দলটির ভাগ্য বদলে যায়।
রাজনৈতিক শূন্যতার সঠিক ব্যবহার বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যখন তারেক রহমান লন্ডনে এবং অনেক প্রভাবশালী নেতা আড়ালে ছিলেন, তখন ডা. শফিকুর রহমান সারাদেশে চষে বেড়িয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোস্তফা মনে করেন, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে মিডিয়া অ্যাটেনশন ও মাঠ পর্যায়ের সক্রিয়তা তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে নিয়ে এসেছে। এমনকি তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘দাদু’ হিসেবে পরিচিতি পেতে ‘গেম অব থ্রোনস’-এর আদলে তাঁর পোস্টারও দেখা গেছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচিতি ১৯৫৮ সালে মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডা. শফিকুর রহমান পেশায় একজন চিকিৎসক। রাজনৈতিক জীবন বাম ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে শুরু করলেও পরে তিনি ছাত্রশিবির ও ১৯৮৪ সালে জামায়াতে যোগ দেন। তাঁর স্ত্রী আমিনা বেগম এবং তাঁদের তিন সন্তানও পেশায় চিকিৎসক। তিনবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হলেও বর্তমানে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্ক ও নতুন সম্ভাবনা ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে ও নিজের দলকে আধুনিক, মধ্যপন্থি এবং দুর্নীতিবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা বললেও নারীর অধিকার ও কর্মঘণ্টা নিয়ে তাঁর কিছু মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, তাঁদের নীতি কোরআনভিত্তিক হলেও তা সবার জন্য কল্যাণকর ও যুক্তিসঙ্গত।
এক সময়ের মিত্র বিএনপির সঙ্গে এবার ভোটের মাঠে শক্তিশালী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত। জনমত জরিপ বলছে, দলটি তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করতে যাচ্ছে, যা একই সঙ্গে দেশের মধ্যপন্থি ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনই বলে দেবে ডা. শফিকুর রহমানের এই দৃশ্যমান জনপ্রিয়তা তাঁকে ক্ষমতার মসনদে বসাতে পারে কি না।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

No comments:
Post a Comment