BDC CRIME NEWS24
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলা-
সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা:
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২২
জুলাই বিপ্লবে আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোসহ ৭ হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
সাইফুল ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন— আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চৌধুরী এবং যুবলীগ সদস্য যুবলীগের সদস্য রনি ভুঁইয়া।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন — ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এস পি আসাদুজ্জামান রিফন, এডিশনাল এস পি আব্দুল্লাহিল কাফি, এডিশনাল এস পি শাহিদুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান, ইন্সপেক্টর ( অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন আরজু (ডিবি)। সাত বছরের দন্তপ্রাপ্তরা হলেন— এস আই আরাফাত উদ্দিন, এ এস আই কামরুল হাসান। রাজসাক্ষী আফজালুলকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন— বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জুলাই বিপ্লবের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটি তৃতীয় মামলার রায়। তবে ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রথম রায়। এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও চাঁনখারপুল মামলার রায় ঘোষণা করে।
আশুলিয়ার মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে আটজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
পলাতক আসামিরা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ কর্মী রনি ভূইয়া।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত বছরের ২১ আগস্ট মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন’ করে বিচার শুরু আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে গুরুতর আহত হন একজন। মরণাপন্ন আহত ব্যক্তি ও পাঁচজনের মৃতদেহ প্রথমে একটি প্যাডেল ভ্যানে তোলা হয়। পরে ওই ভ্যান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়। একপর্যায়ে ওই গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি, আবুল হোসেন ও অজ্ঞাত একজন শহীদ হন।
সূত্র: আমার দেশ

No comments:
Post a Comment