Tuesday, July 7, 2026

জুলাইয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসে অমর ১০ নারী-শিশু। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24 

জুলাইয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসে অমর ১০ নারী-শিশু

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮: ৫৬

জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস লিখতে গেলে শুধু রাজপথের ছাত্র-জনতার কথা বললে চলবে না, সমান গুরুত্ব দিতে হবে নারীদেরও। ওই বিপ্লবে তারা কখনো ছিলেন মিছিলের অগ্রভাগে, কখনো আহতদের সেবায় আবার কখনো তথ্যপ্রবাহের নীরব যোদ্ধা।

অনেকেই নিজ ফ্ল্যাটের বারান্দা কিংবা ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। আন্দোলন দমনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পুলিশের ছোড়া গুলি তাদেরও রেহাই দেয়নি।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মধ্যে ১০ নারী-শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী, দুজন কর্মজীবী, দুজন গৃহবধূ এবং একজন গৃহকর্মী। এসব হত্যাকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অমূল্য দলিল। ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে লেখা এক অবিনশ্বর ইতিহাস।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ হয় কিশোরী নাঈমা সুলতানা। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় সে। রাজধানীর উত্তরায় বাসার বারান্দায় শুকাতে দেওয়া কাপড় আনতে গিয়ে ১৯ জুলাই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সে। মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। বারান্দাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত। প্রতিবেশীরা হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিভে যায় একটি সম্ভাবনাময় জীবন।

অথচ পাঁচদিন পরই ছিল তার জন্মদিন। পরিবারের সবাই জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু জন্মদিনের কেকের বদলে ঘরে আসে কফিন।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। মা আইনুন নাহারের ভাষায়, ‘এই মাসেই আমি মেয়েকে পেয়েছিলাম, আবার এই মাসেই হারালাম। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার শেষ উচ্চারণ ছিল মা।’

জুলাই বিপ্লবের আরেক ট্র্যাজেডি রিয়া গোপ। তার পৃথিবী ছিল খেলনা, স্কুল আর পরিবারের ছোট্ট পরিসর। মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সি শিশুটি বুঝতেই পারেনি রাজপথের সংঘাত কতটা নির্মম হতে পারে। ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বাসার ছাদে খেলছিল সে। গোলাগুলির শব্দে বাবা তাকে কোলে নিয়ে নিচে নামতে উদ্যত হন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি গুলি এসে লাগে রিয়ার মাথায়। বাবার কোলেই ঢলে পড়ে সে।

তাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ছুটে বেড়িয়েছেন বাবা-মা। মাথায় অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাকে। কয়েক দিন পর না ফেরার দেশে চলে যায় ছোট্ট রিয়া। জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি শহীদ সে।

‘আব্বু, হাসিনা পলাইছে’

১৭ বছরের নাফিসা হোসেন মারওয়া ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই বন্ধুদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিল। বাবা ছিলেন চা-দোকানি। মেয়ের আন্দোলনে যাওয়া নিয়ে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতেন।

৫ আগস্ট দুপুরে বাবাকে ফোন করে নাফিসা বলেছিল, ‘আব্বু, হাসিনা পলাইছে।’ উত্তরে বাবা শুধু বলেছিলেন, ‘তাড়াতাড়ি বাসায় যা।’ কিন্তু তার আর ফেরা হয়নি। সাভারে লংমার্চে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় সে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়েটি উচ্চশিক্ষা শেষ করবে। সে স্বপ্ন থেমে যায় রাজপথেই।

আড়াই মাসের শিশু রেখে চিরবিদায়

মাত্র ২০ বছরের সুমাইয়া আক্তারের কোলজুড়ে ছিল আড়াই মাসের শিশু। ২০ জুলাই বিকালে বাসার পাশে চলা সংঘর্ষের শব্দ শুনে বারান্দায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখতে চেয়েছিলেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গ্রিল ভেদ করে আসা একটি গুলি তার মাথায় আঘাত হানে। রক্তে ভেসে যায় বারান্দা। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় কোনো যানবাহন পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সন্তান এখন বড় হচ্ছে নানির কাছে। মায়ের মুখটি সে কোনোদিন মনে রাখতে পারবে না।

সংসারের হাল ধরা মায়ের শেষ পথচলা

পাঁচ সন্তান আর পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে নিয়ে চলছিল সংগ্রামী শাহিনূর বেগমের সংসার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই নারী মাছের ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। জুলাই বিপ্লবের সময় ২২ জুলাই ফজরের নামাজ শেষে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বের হয়েছিলেন কাজলা সেতুর দিকে। রাজপথে তখনও থমথমে পরিস্থিতি। হঠাৎই গুলির শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় পড়েছিলেন। কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত অচেনা এক ব্যক্তি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ওই ব্যক্তির কথা বলতে গিয়ে শাহিনূরের মেয়ে বলেন, ‘আল্লাহ যেন ফেরেশতা পাঠিয়েছিলেন। না হলে আমার মা হয়তো রাস্তায়ই মারা যেতেন।’

ঢাকা মেডিকেলে দীর্ঘ এক মাস ৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য বহু মানুষের কাছে ধরনা দিয়েছেন। সবার চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।

তার মৃত্যুর পর শুধু একটি প্রাণই নিভে যায়নি; ভেঙে পড়ে একটি পরিবার। সন্তানদের পড়াশোনা থেমে গেছে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামী অসহায় হয়ে পড়েছেন।

গৃহকর্মীর রক্তেও লেখা জুলাইয়ের ইতিহাস

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের তালিকায় সবচেয়ে নীরব অথচ হৃদয়বিদারক গল্পগুলোর একটি মোসা. লিজা আক্তারের। ভোলার দরিদ্র পরিবার থেকে ঢাকায় এসেছিলেন জীবিকার সন্ধানে। রাজধানীর শান্তিনগরের একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। পাশাপাশি একটি মহিলা মাদরাসায় আরবি পড়তেন। জীবন বদলানোর ছোট্ট স্বপ্ন ছিল তার। ১৮ জুলাই বিকালে বাইরে গোলাগুলির শব্দ শুনে অন্যদের মতো তিনিও বারান্দায় দাঁড়ান। মুহূর্তেই একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় মাথায়। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ২২ জুলাই তিনি মারা যান।

লিজার পরিচয় কোনো আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে নয়; বরং একজন সাধারণ গৃহকর্মী হিসেবে। সে কারণেই তার মৃত্যু যেন আরো নির্মম বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়Ñসেদিন গুলি মানুষের পরিচয় দেখে আঘাত করেনি।

বেড়াতে এসে লাশ

নোয়াখালীর মেয়ে নাছিমা আক্তার ঢাকায় এসেছিলেন বড় ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে। পরিবারের কারো কল্পনায়ও ছিল না, কয়েক দিনের সফরই হয়ে উঠবে জীবনের শেষ সফর। ১৯ জুলাই বিকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে মনে করে তার দুই ভাতিজা ছাদে ওঠে। তাদের পেছন পেছন যান নাছিমাও। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছুটে আসে গুলি। গুলিতে আহত হন নাছিমা ও তার ভাতিজা। গুলি নাছিমার গলা ভেদ করে খাদ্যনালিতে আঘাত করেছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও একদিন পর তার মৃত্যু হয়।

পরিবারে সবার ছোট হওয়ায় ছিলেন সবার আদরের। গ্রামের বাড়িতে তার জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল। সে ঢল ছিল শুধু এক তরুণীর জন্য নয়; একটি অসমাপ্ত জীবনের জন্য।

থেমে যায় ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

রিতা আক্তারের বাবা ছিলেন রিকশাচালক। মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন যুদ্ধ করেও মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করেননি তারা। কারণ রিতা ছিল পরিবারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। ডাক্তার হয়ে বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করবেÑএমন স্বপ্ন নিয়েই মাধ্যমিক শেষে ঢাকায় পড়তে আসে সে। মিরপুরের একটি সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়।

৫ আগস্ট বাবা রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যান, মা যান কর্মস্থলে। সে সুযোগে রিতা যোগ দেয় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে মা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে থাকেন। অবশেষে গভীর রাতে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে গিয়ে জামাকাপড় দেখে শনাক্ত করেন মেয়ের নিথর দেহ। তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তার লাশ গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয়। সেই সঙ্গে মাটিচাপা পড়ে যায় দরিদ্র বাবা-মায়ের বহু বছরের স্বপ্নও।

নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন দাদি

১৯ জুলাই দুপুর। বাসার সামনে তখন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সাত বছরের নাতি মুসা আইসক্রিম খেতে চাইলে তাকে নিয়ে নিচে নামেন মায়া ইসলাম (৬০)।

এরপর দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গিয়েই ঘটে বিপর্যয়। একটি গুলি প্রথমে নাতির মাথা ভেদ করে এসে ঢোকে মায়ার তলপেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েক ধাপ উঠতেই সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরিবার প্রথমে বুঝতেই পারেনি তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সবার মনোযোগ ছিল ছোট্ট মুসাকে ঘিরে। পরে হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, একই গুলি নাতি ও দাদি-দুজনকেই বিদ্ধ করেছে। কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত হার মানেন মায়া। নাতির জন্য দাদির এই জীবন উৎসর্গের গল্প জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নির্মমতার হৃদয়বিদারক প্রতীক হয়ে থাকবে।

আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না

পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতেন মেহেরুন নেছা তানহা (২২)। বাবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে চাইতেন না, নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। তার আন্দোলনে নামার পেছনে ছিল ব্যক্তিগত বেদনা। মামাতো ভাই রাব্বি ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ভাইয়ের লাশ ঘিরে পরিবারের অসহায়ত্ব তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর আর ঘরে থাকতে পারেননি তিনি। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিদিন রাজপথে দাঁড়াতেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকত ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।’

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর মানুষ যখন আনন্দ মিছিল করছিল, তানহাও বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ছোট ভাইকে ফোন করে সতর্ক করেনÑনিরাপদ পথে ফিরতে। সেই ফোনকল শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত পরই জানালার সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় একটি গুলি এসে তার শরীরে আঘাত হানে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নিভে যায় তার প্রাণপ্রদীপ।

এই ১০ নারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে তাদের পরিচয় শুধু শহীদ হিসেবে নয়, প্রত্যেকেই একেকটি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকবেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু তাদের শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া নয়; তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা, পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের পরিচয় পৌঁছে দেওয়া। কারণ ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের গল্প নয়; ইতিহাস তাদেরও, যারা নিজেদের স্বপ্ন, ভালোবাসা, পরিবার এবং জীবন উৎসর্গ করে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে অবদান রেখে যান।

তাদের রক্তের ঋণ শুধু স্মরণে নয়; ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকারে পরিশোধ করতে হবে। সেটিই হবে জুলাইয়ের বীরকন্যাদের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা।

সূত্র: আমার দেশ 

No comments:

Post a Comment

জুলাইয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসে অমর ১০ নারী-শিশু। (BDC CRIME NEWS24)

BDC CRIME NEWS24  জুলাইয়ের রক্তাক্ত ইতিহাসে অমর ১০ নারী-শিশু প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮: ৫৬ জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস লিখতে গেলে শুধু রাজপথের ছা...