বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ।
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫: ৩৩
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম- একাধিক অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৮৩ কোটি টাকার ১১১টি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছে কমিটি। এসব আপত্তির কয়েকটি ঝুলে আছে ১৯৮২-৮৩ অর্থবছর থেকে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নাজিবুর রহমান, কামাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ওপর মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) প্রণীত এবং জাতীয় সংসদে পেশ করা অডিট প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিটির আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিমানের ১১১টি অডিট আপত্তিতে মোট ৭৮৩ কোটি টাকা জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য আমার দেশকে বলেন, ১৯৮২-৮৩ সালের অডিট আপত্তিও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩ কোটি টাকার আপত্তি নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে এ দাবির পক্ষে বৈঠকে কোনো প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করতে পারেনি বিমান কর্তৃপক্ষ। আগামী বৈঠকে নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র হাজির করতে বলা হয়েছে। বৈঠকে বিমানের টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির অর্থ যথাযথভাবে আদায় না হওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কমিটির সদস্যরা।
এদিকে, গত ১ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হন ৩৪ সংসদ সদস্য। লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া, যাত্রী হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে পরে তারা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
দীর্ঘ সময়েও ওই অভিযোগের জবাব না পাওয়ায় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক সংসদ সদস্য। এ সময় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অভিযোগের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বৈঠকে বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী যাতে অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিতে কঠোর নজরদারির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) আরো দক্ষ ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মপরিকল্পনা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং মিতব্যয়িতা নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কমিটির সদস্য কামাল হোসেন এমপি আমার দেশকে বলেন, গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানি না পাওয়া এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনায় যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সে বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বিমান কর্তৃপক্ষ কেন ওই অভিযোগের জবাব দেয়নি, বৈঠকে বিমানের এমডির কাছে তা জানতে চেয়েছি। জবাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র: আমার দেশ


0 Comments